ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইউক্রেনকে দিয়ে নিজেদের ৩০০ সেনা হত্যা, এক রুশ কর্মকর্তাকে নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য


ইউক্রেনকে দিয়ে নিজেদের ৩০০ সেনা হত্যা, এক রুশ কর্মকর্তাকে নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

এক রুশ সেনা কর্মকর্তা, যিনি ২৬ বছর বয়সী, গোপনে নিজের দেশের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইউক্রেনকে যুদ্ধের পরিকল্পনা ও সামরিক গোয়েন্দা তথ্য প্রদান করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০০ জনেরও বেশি রুশ সেনা ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরে তিনি সম্মুখযুদ্ধের রেখা পার করে ইউক্রেনে পালিয়ে যান এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত একটি ইউনিটে যোগ দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তার নাম লেফটেন্যান্ট লেভ স্তুপনিকভ। তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে নিজের পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাকে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য সরবরাহ করতেন। তার কাছে সেনাদের চলাচল, যুদ্ধের পরিকল্পনা এবং নজরদারি ড্রোন ও নিরাপত্তা ক্যামেরার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ছিল।

তবে গোপনে ইউক্রেনকে সহায়তা করার সিদ্ধান্তের জন্য তাকে ব্যক্তিগত মূল্য দিতে হয়েছে। ইউক্রেনে পৌঁছানোর পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিলেও একপর্যায়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার স্ত্রী অভিযোগ করেন, তিনি রাশিয়ার পাশাপাশি দাম্পত্য সম্পর্কের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ২০২৩ সালে ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

যেভাবে ইউক্রেনকে হামলায় সহায়তা করেন

বুদিয়নি মিলিটারি একাডেমি অব দ্য সিগন্যাল কর্পস থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর স্তুপনিকভকে একটি ব্যাটালিয়নের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব ছিল ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি উগলেদার দখল করা। তার দায়িত্ব ছিল সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিটের যোগাযোগ সচল রাখা এবং নজরদারি ব্যবস্থার তথ্য তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু এর পরিবর্তে তিনি গোপনে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের কাছে রুশ সেনাদের অবস্থান ও পরিকল্পিত চলাচলের নির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করতেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব ইউক্রেনের এক হিমশীতল সকালে সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে সরে যাওয়ার জন্য স্তুপনিকভ পেটে ব্যথার ভান করেন। এর কিছুক্ষণ পরই ইউক্রেনীয় ক্ষেপণাস্ত্র তার দেওয়া অবস্থান লক্ষ্য করে আঘাত হানে।

ওই হামলায় রুশ কর্নেল গুসেইন মুসায়েভসহ ৬৮ জন রুশ সেনা নিহত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসায়েভ কিয়েভের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। হামলায় আরও ৬০ জন আহত হন।

আরও পড়ুন: ইসরাইলি নির্বাচনে উগ্রপন্থি বেন-গভিরের হাতিয়ার: মসজিদে জরিমানা ও বাড়িঘর উচ্ছেদ

হামলার পর ইউক্রেনের এক যোগাযোগকারী স্তুপনিকভকে বার্তা পাঠিয়ে জানতে চান, ‘বিস্ফোরণ হয়েছে? একটি ছবি পাঠাও।’ জবাবে স্তুপনিকভ লেখেন, ‘সেখানে শুধু মাংস।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের পক্ষে তথ্য সংগ্রহের বৃহত্তর একটি গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ ছিলেন স্তুপনিকভ। এ কার্যক্রমে রাশিয়ার এমন নাগরিকদের সহায়তা নেওয়া হয়, যারা ইউক্রেনকে সামরিক তথ্য দিতে আগ্রহী। হাজারো মানুষ—সেনাসদস্য থেকে শুরু করে গৃহিণী পর্যন্ত—এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইউক্রেনের গোয়েন্দা এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন বদলে দেয় তার অবস্থান। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরোধিতা থেকেই নিজের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্তুপনিকভ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর সময় ইউক্রেনের শহরগুলোর ওপর দিয়ে রুশ হেলিকপ্টার উড়তে এবং বোমা বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখতে পান তিনি। এসব দৃশ্য তাকে আতঙ্কিত করে তোলে।

স্তুপনিকভ বলেন, ‘তারা নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের ওপর বোমা ফেলছিল। এটা ছিল অশুভ।’ যুদ্ধ চলার মধ্যেও তার সহযোদ্ধারা কীভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যাচ্ছেন, তা বুঝতে পারছিলেন না তিনি। বাড়িতে স্ত্রী লিজার সঙ্গে সন্ধ্যায় রুশ বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভিডিও এবং ইউক্রেনের হাতে বন্দি রুশ যুদ্ধবন্দিদের সাক্ষাৎকার দেখতেন।

আরও পড়ুন: গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলা, যুদ্ধবিরতির পর নিহত ১৫২২

সামরিক একাডেমিতেও তার মতো চিন্তাভাবনার কয়েকজন ক্যাডেট ছিলেন। চোখাচোখির মাধ্যমে তারা একে অপরের মনোভাব বুঝতে পারতেন। তাদের কেউ কেউ একাডেমি ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আবেদনগুলো মাসের পর মাস ঝুলে ছিল।

নিজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে স্তুপনিকভ বলেন, ‘আমি আমার আবেগ প্রকাশ করতে পারতাম না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি জ্বলছিলাম।’

ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করেন মা। স্তুপনিকভের মা তাতিয়ানা ইয়ান্তসেনও পুতিনের বিরোধী ছিলেন। ৪৯ বছর বয়সী এই অফিসকর্মী পুতিনের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছিলেন।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, তার ছেলে সম্মুখযুদ্ধে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পর, তিনি দিমিত্রো কারপেঙ্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কারপেঙ্কো একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার, যিনি ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন। কারপেঙ্কো এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রুশ তথ্যদাতাদের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। ইউটিউবে রুশ যুদ্ধবন্দিদের ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেও তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু রুশ সেনা বাড়ি ফেরার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থের বিনিময়ে সামরিক তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনের সেনা ঘাঁটিতে হুথিদের হামলায় নিহত ২০

২০২৩ সালের অক্টোবরে কারপেঙ্কো ঘোষণা দেন, ইউক্রেনের যুদ্ধপ্রচেষ্টায় সহায়তার জন্য তথ্য দিতে আগ্রহী রুশ সেনাসদস্যদের ২ লাখ ৫০ হাজার রুবল বা প্রায় ২ হাজার ৭০০ ডলার দেওয়া হবে।

শেষ পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই স্তুপনিকভের পালানোর পরিকল্পনা করা হয়। এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে স্তুপনিকভ, কারপেঙ্কো ও ইউক্রেনীয় স্কাউটরা বিপজ্জনক সম্মুখযুদ্ধের রেখা পেরিয়ে যাওয়ার পথ নির্ধারণ করেন।

যেভাবে সম্মুখযুদ্ধের রেখা পেরিয়ে পালান। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাতে নিজের রুশ ইউনিট থেকে পালিয়ে উত্তরের দিকে ইউক্রেনীয় অবস্থানের দিকে রওনা হন স্তুপনিকভ। একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার থেকে সরাসরি ভিডিও সম্প্রচারের মাধ্যমে ইউক্রেনীয় অপারেটররা তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

প্রায় ৪০ মিনিট পর তিনি এমন একটি গাছের সারির কাছে পৌঁছান, যেখানে ইউক্রেনের ৭২তম ব্রিগেডের সেনারা অবস্থান করছিলেন। রুশ সামরিক পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে নিজেদের অবস্থানের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে ইউক্রেনীয় সেনারা সতর্ক হয়ে যান। একটি বাঙ্কার থেকে উঁকি দিয়ে তারা তার দিকে রাইফেল তাক করে সংকেত-শব্দ জানতে চান।

আরও পড়ুন: ইলন মাস্কের ঘোষণা: প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

স্তুপনিকভ পূর্বনির্ধারিত উত্তর দেন, ‘পিনাট শপ’। এরপর তাকে ইউক্রেনীয় হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তিনি রাশিয়ান ভলান্টিয়ার কর্পসে (আরভিসি) যোগ দেন। এই ইউনিটে জাতিগতভাবে রুশ সদস্যরা রয়েছেন, যারা পুতিনের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। বর্তমানে স্তুপনিকভ সেখানে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মা ও বোনের ইউক্রেনে যাওয়ার পরিকল্পনা

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্তুপনিকভের মা ও বোন একটি করে ব্যাকপ্যাক ও স্যুটকেস গুছিয়ে মলদোভা যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে ইউক্রেনে প্রবেশ করে কারপেঙ্কোর সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

এদিকে, কয়েক মাস ধরে রুশ সামরিক কর্মকর্তাদের ফোন সামলাচ্ছিলেন তাতিয়ানা। কর্মকর্তারা তার ছেলেকে জীবিত পাওয়া গেলে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর জন্য তাকে চাপ দিচ্ছিলেন। তাতিয়ানা তখন উদ্বিগ্ন মায়ের মতো আচরণ করে বলতেন, ছেলেকে খুঁজে বের করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

আরও পড়ুন: মুসলিমরা এখন নেতা বানাবে না, নিজেরাই নেতৃত্ব দেবে: ওয়াইসি

এক বছর পর কারপেঙ্কোর সঙ্গে দুই ঘণ্টার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন স্তুপনিকভ। এতে তার পক্ষত্যাগ এবং ইউক্রেনকে দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

তবে স্তুপনিকভের দাবি, তার কর্মকাণ্ড প্রায় এক দশক আগে সামরিক একাডেমিতে নেওয়া শপথের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা রক্ষার শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণ সেই নীতিগুলোই ধ্বংস করেছে বলে তিনি মনে করেন।

স্তুপনিকভ বলেন, ‘আমি কি আমার শপথের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি? আমি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা রক্ষার শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু পুতিন এই তিনটিই ধ্বংস করেছেন।’

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাগেশ্বরীতে সিজারের পর ১৯ বছরের প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১১ পি.এম


নাগেশ্বরীতে সিজারের পর ১৯ বছরের প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

নাগেশ্বরীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর ১৯ বছর বয়সী মীমের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনরা নাগেশ্বরী এ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসাসেবাকে দায়ী করছেন, কারণ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং পরবর্তী সময়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে।

স্বজনদের অভিযোগ, প্রসূতির স্বাভাবিক ডেলিভারি না করে ভয়ভীতি দেখিয়ে সিজার করানো হয়েছে। তারা আরও জানান, গর্ভাশয়ে ময়লা ও গর্ভফুলের অংশ রেখে প্রথম স্তরে সেলাই ফাঁকা রাখার কারণে অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মুমূর্ষু অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ্যাপোলো ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মীম নাগেশ্বরী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড সান্জুয়ারভিটার বাসিন্দা আল মামুন বাবুর স্ত্রী। জানা যায়, বৃহস্পতিবার রংপুরের ডক্টর্স ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মীমের মৃত্যু ঘটে। প্রসূতিকে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) নাগেশ্বরী এ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে অস্ত্রোপচার করার পর অবনতি হলে তড়িঘড়ি করে ভোররাতে (১৪ অক্টোবর) রোগীকে রংপুরে রেফার্ট করে এ্যাপোলো কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার স্বামী আল মামুন বাবু।

ক্লিনিকের রেজিস্ট্রারে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস রুমা, অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. শবনম খাতুন এবং তাদের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্লিনিকটির পরিচালক নুরুল ইসলাম (ডিএমএফ)।

প্রসূতির স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর মীমের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু রাত আড়াইটার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মৃতের পরিবারের দাবি, রংপুরে পুনরায় অস্ত্রোপচারের সময় তাদের জানানো হয়, আগের অস্ত্রোপচারে প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা ছিল। এ সমস্যার কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বেড়ে মীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে।

মীমের স্বামী আল মামুন বাবু বলেন, "ভুল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। অ্যাপোলো ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।"

এ বিষয়ে নাগেশ্বরী অ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শাহ আলম ও নুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আলামিন জানিয়েছেন, বিষয়টি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজার দেখভালে রয়েছে। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

গোলাম রসুল রাজা বলেন, "শুক্রবার বিকালে বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবেন বলেও জানান তিনি।"

নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ সুজন সাহা বলেন, "অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতি মায়ের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় সবাইকে সতর্ক হওয়া উচিৎ এবং প্রসূতিকে ভর্তি করানোর আগে ক্লিনিকের সক্ষমতা যাচাই-বাছাই করা জরুরি বলেও জানান তিনি।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

'হিটলার জেগে ওঠো' স্লোগানে ক্ষোভে ফুঁসছে ক্রোয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১২ পি.এম


ক্রোয়েশিয়ার শীর্ষ নেতারা হাজদুক স্প্লিটের সমর্থকদের নাৎসিপন্থী ও ইহুদিবিদ্বেষী স্লোগানের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যা আয়াক্সের বিপক্ষে উয়েফা কনফারেন্স লিগ ম্যাচের আগে ঘটে। ইসরায়েলের দূতাবাসও এ ঘটনায় বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্প্লিট শহরে মিছিলের সময় হাজদুক স্প্লিটের সমর্থকগোষ্ঠী টরসিদা "ইহুদিদের ধ্বংস করো", "অ্যাডলফ হিটলার জেগে ওঠো" এবং "উস্তাশারা এগিয়ে চলো" স্লোগান দেয়। উল্লেখ্য, উস্তাশা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ক্রোয়েশিয়ার নাৎসিপন্থী শাসনব্যবস্থা।

পুলিশ সহিংসতার অভিযোগে ম্যাচের আগে বেশ কয়েকজন সমর্থককে আটক করে। ম্যাচ চলাকালীনও টরসিদা সমর্থকরা গ্যালারিতে ফ্লেয়ার ও অন্যান্য আতশবাজি জাতীয় সামগ্রী ব্যবহার করলে খেলা ১০ মিনিটেরও বেশি সময় বন্ধ থাকে।

ঘটনার পর পুলিশ নাৎসিপন্থী স্লোগানের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে এবং সন্দেহভাজনদের আটক করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোরান মিলানোভিচ শুক্রবার এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে "অগ্রহণযোগ্য ও লজ্জাজনক" বলে অভিহিত করেন। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে ক্রোয়েশিয়ায় নাৎসিবাদ ও উস্তাশা মতাদর্শের গৌরবগাথার কোনো স্থান নেই।

জাগরেবে অবস্থিত ইসরায়েল দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, স্প্লিটে ঘটে যাওয়া গুরুতর ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায়।

রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচও ইহুদিবিদ্বেষী বার্তাগুলোর নিন্দা করে বলেন, এসব আচরণ ক্রোয়েশীয় সমাজের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ম্যাচে ২-১ গোলের জয় পাওয়া হাজদুক স্প্লিট এক বিবৃতিতে উয়েফা ও আয়াক্সের কাছে ক্ষমা চায়। ক্লাবটি জানায়, অতিথিরা এমন কিছু দৃশ্য দেখেছে যা তারা ইউরোপের স্মৃতিতে রাখতে চায় না।

ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে।

চরম জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের কারণে বহু বছর ধরেই ক্রোয়েশিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদপন্থী স্লোগান এবং উস্তাশা প্রতীক প্রদর্শনের ঘটনা বারবার দেখা গেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উস্তাশা শাসনব্যবস্থা শত-সহস্র জাতিগত সার্ব, ইহুদি, রোমা জনগোষ্ঠী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী ক্রোয়াটদের হত্যা ও নির্যাতন করেছিল।

২০১৫ সালে স্প্লিটে ইতালির বিপক্ষে ইউরো ২০১৬ বাছাই ম্যাচের আগে মাঠে স্বস্তিকা (নাৎসি প্রতীক) আঁকার ঘটনায় উয়েফা ক্রোয়েশিয়ার এক পয়েন্ট কেটে নিয়েছিল। তবে ওই ঘটনার অপরাধীদের কখনো শনাক্ত করা যায়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে নাৎসিপন্থী অতীতের প্রতি সহনশীলতা বেড়েছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ। তাদের দাবি, উস্তাশা প্রতীক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজার আনন্দ সবার ঘরে পৌঁছে দিতে চান আবু সুফিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১২ পি.এম


দুর্গাপূজার আনন্দ সবার ঘরে পৌঁছে দিতে চান আবু সুফিয়ান

চট্টগ্রাম, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে বলেছেন, বিএনপি অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের সুখ-দুঃখে সহযোগিতা করতে চায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো ব্যক্তি যেন অবহেলা, বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। দুর্গাপূজার আনন্দ আমরা সবার ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।

আজ শুক্রবার নগরীর আলকরণ ওয়ার্ডে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

আবু সুফিয়ান বলেন, আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার হলো- সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতির মাধ্যমে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। বিএনপি সব সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সহাবস্থানে বিশ্বাস করে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, শওকত আজম খাজা ও শিহাব উদ্দিন মুবিন এবং মহানগর বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু।

এতে সভাপতিত্ব করেন আলকরণ ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান। সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাম্বিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১২, উদ্ধার অভিযান চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৩ পি.এম


গাম্বিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১২, উদ্ধার অভিযান চলছে

পশ্চিম আফ্রিকার গাম্বিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের নিয়ে যাওয়া একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার রেড ক্রস এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

নৌকাটি ‘জিনাক কাজাতা’ গ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এই গ্রামটি আটলান্টিক মহাসাগরের একটি দ্বীপে অবস্থিত এবং স্থানীয়দের মতে, এটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান যাত্রা পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।

তীব্র স্রোত এবং জরাজীর্ণ ও অতিরিক্ত বোঝাই নৌযান ব্যবহারের কারণে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে এই দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

গাম্বিয়া রেড ক্রস সোসাইটি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জিনাক কাজাতার উপকূলে অভিবাসীবাহী আরেকটি নৌকা ডুবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ওই দুর্ঘটনায় ৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ১০০ জন নিখোঁজ ছিল।

মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও সেনেগালের উপকূলে সাম্প্রতিক সময়ে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীরা আরও দক্ষিণের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সমুদ্রযাত্রার দূরত্ব এবং ঝুঁকি—দুটিই বেড়ে গেছে।

দারিদ্র্য, সংঘাত ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে ইউরোপে আশ্রয় নিতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের জন্য ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইতালি ও গ্রিসের দিকে ভূমধ্যসাগরীয় পথও অভিবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৪ সালে আটলান্টিক মহাসাগরের এ দ্বীপপুঞ্জে অভিবাসীদের আগমন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সে বছর ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ সেখানে পৌঁছান। তবে স্পেনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%