বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:০১ পি.এম
সরকার সারাদেশে সারের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটিটি বাতিল করেছে।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২৪ আগস্ট তারিখে জারি করা ‘সার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করার জন্য মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠনের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে।
এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল কৃষি মন্ত্রণালয়কে সার সংগ্রহ, বিতরণ ও ডিলার নিয়োগ কার্যক্রম তদারকি করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের জন্য।
সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্ভূত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সরকার তখন এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।
তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী ‘অষ্টম বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন অ্যান্ড অফশোর এক্সপো-বিমক্স ২০২৬’ শুরু হয়েছে। এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য হলো দেশের সামুদ্রিক ও অফশোর শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের আয়োজনের অধীনে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন, রেল ও সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়জুল আলম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের রাষ্ট্রদূত ও প্রধান মাইকেল মিলার, ঢাকায় অবস্থিত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল, মিয়ানমার প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহী, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারি এবং গ্রুপ নটিকার চেয়ারম্যান শফিক ভূঁইয়া।
এই প্রদর্শনীটি জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার, জাহাজ মেরামত, সামুদ্রিক প্রকৌশল, অফশোর প্রযুক্তি, ড্রেজিং সরঞ্জাম এবং বন্দর ও লজিস্টিক পরিষেবার ওপর কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়েছে। এতে দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় সামুদ্রিক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তিবিদ এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেছেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’-এ জাহাজ নির্মাণ, মেরামত ও পুনর্ব্যবহার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, অফশোর প্রযুক্তি, ড্রেজিং, বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন তুলে ধরা হচ্ছে। প্রদর্শনীতে সাতটি দেশের ২০০টির বেশি স্টল রয়েছে। প্রদর্শনীটি ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ব্যবসায়িক দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোণার চল্লিশা বাজার কেন্দ্রীয় হাফিজিয়া মাদরাসায় ফজরের নামাজের পর উচ্চস্বরে সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াতের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় কওমি পরিষদ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, যিনি রাজধানীর গুলিস্তান পীর ইয়ামেনি জামে মসজিদের খতিব, এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী উল্লেখ করেন যে, একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং দুঃখজনক। তিনি বলেন, "মাদরাসায় কোরআন তিলাওয়াতকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধের ওপরও আঘাত।"
বিবৃতিতে তিনি চল্লিশা বাজার কেন্দ্রীয় হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ সাইফুল ইসলামসহ আহত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাত ছাড়াই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।"
কওমি পরিষদের সভাপতি আরও বলেন, দেশের কোনো মাদরাসা, মসজিদ কিংবা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া উচিত নয়। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এছাড়া, আহত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান কওমি পরিষদের সভাপতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবে বিমানবন্দরে চলমান হামলার কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী সমস্ত ফ্লাইট আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিমান কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে। এই ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।
এদিকে, সৌদি আরবে যাতায়াতের জন্য বিকল্প হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। যাত্রীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে প্রতি ফ্লাইটে আসনসংখ্যা ১৪৮টি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া, জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে, রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট স্থগিত থাকলেও যাত্রীদের জন্য জেদ্দা ও মদিনা হয়ে সৌদি আরবে যাওয়া এবং বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানায়, টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমানের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। স্থগিত ফ্লাইটের পরবর্তী সময়সূচি ও সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলা গানের পরিচিত ধারায় নতুনত্ব এনে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ। আধুনিক সংগীতের সঙ্গে লোকগানের সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি একটি স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেছেন। কেবল কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই নয়, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে বাংলা সংগীতে তাঁর অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। আজ ১৫ অক্টোবর, এই শিল্পীর জন্মদিন।
১৯৭৯ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া হাবিব ওয়াহিদ সংগীতের পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদ দেশের জনপ্রিয় পপসংগীতশিল্পীদের মধ্যে একজন। সংগীতের প্রতি আগ্রহ থেকে হাবিব ১৯৯৯ সালে লন্ডনের স্কুল অব অডিও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সেখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর সংগীতায়োজন ও প্রযোজনায় বিশেষ প্রভাব ফেলে।
২০০৩ সালে প্রকাশিত ‘কৃষ্ণ’ অ্যালবামের মাধ্যমে বাংলা গানে নতুন পরিচিতি পান হাবিব। লোকসংগীতের চিরচেনা সুরের সঙ্গে আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ও ইলেকট্রনিক সংগীতের ব্যবহার শ্রোতাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। হাসন রাজা ও শাহ আবদুল করিমের মতো লোকসংগীতের শিল্পীদের গানও তাঁর সংগীতায়োজনে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা পায়। তবে লোকগানের প্রচলিত পরিবেশনায় পরিবর্তন আনার কারণে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে।
হাবিবের অবদান কেবল নিজের গানেই সীমাবদ্ধ নয়। নতুন কণ্ঠশিল্পীদের পরিচিত করে তোলা এবং বিজ্ঞাপনের জিঙ্গলকে আধুনিক সংগীত প্রযোজনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। সংগীতশিল্পী ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাও দুজনের কাজকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ফুয়াদের ভাষ্য অনুযায়ী, একে অন্যের গান শুনে তাঁরা নিজেদের সংগীতায়োজন ও শব্দের মান উন্নত করার চেষ্টা করতেন।
চলচ্চিত্রের গানেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন হাবিব ওয়াহিদ। ২০১১ সালে ‘প্রজাপতি’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। পুরোনো লোকগানকে নতুনভাবে উপস্থাপন, আধুনিক সংগীত প্রযোজনার প্রসার এবং নতুন শিল্পীদের সামনে এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলা সংগীতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন এই শিল্পী। জন্মদিনে তাই তাঁকে ঘিরে শ্রোতাদের আগ্রহের পাশাপাশি স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা গানের আধুনিক ধারায় তাঁর অবদানের কথাও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ