ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাটের বাজারে কৃষকের মুখে হাসি, ভালো দামে স্বস্তি


পাটের বাজারে কৃষকের মুখে হাসি, ভালো দামে স্বস্তি

 

কুড়িগ্রামে চলতি মৌসুমে পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও বাজারে পাটের চাহিদা ও দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। বেসরকারি পাট ক্রয়কেন্দ্রগুলোর উপস্থিতি না থাকলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মজুদদাররা পাট কিনে গুদামজাত করছেন। মোকামের তুলনায় স্থানীয় বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতি মণে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইউএনও প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি ১১-দলীয় জোটের

পাটচাষিরা জানান, প্রতিবছরই পাট চাষে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এ বছর পুকুর ও খালের পানিতে স্বল্পতা থাকায় উঁচু এলাকার কৃষকদের দূরের জলাশয়ে নিয়ে পাট জাগ দিতে হয়েছে। এতে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বেড়েছে। তবে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের অববাহিকার কৃষকদের এ ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি।

নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের পাটচাষি মতিয়ার রহমান ৮ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। সময়মতো পাট ঘরে তুলেছেন তিনি। ধরলা নদীর পরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দেওয়ায় আঁশের রং ও মান ভালো হয়েছে। ফলে বাজারে পাটের ভালো দাম পাচ্ছেন বলে জানান এই কৃষক।

একই উপজেলার ভিতরবন্দ এলাকার চাষি নির্মল চন্দ্র ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। ভালো দাম পাওয়ায় ইতোমধ্যে কিছু পাট বিক্রি করেছেন তিনি। বাকি পাটের দাম আরও বাড়ার আশায় মজুদ রেখেছেন।

জেলা সদরের ব্রহ্মপুত্র নদঘেঁষা ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপুর হাটের পাট ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম বলেন, “নিজস্ব গুদাম না থাকায় ভাড়ায় গুদাম নিয়ে পাট কিনে মজুদ করছি। বেসরকারি কোম্পানিগুলো পুরোদমে পাট কেনা শুরু করলে দাম আরও বাড়তে পারে। তখন ভালো দামে বিক্রির আশায় পাট মজুদ রাখা হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ বছর যথাসময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকদের পাট জাগ দিতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে ভালো ফলন ও সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় এ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি কর্মকর্তাকে সাংবাদিকদের ফুলেল সংবর্ধনা: পেশাগত নীতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ পি.এম


সরকারি কর্মকর্তাকে সাংবাদিকদের ফুলেল সংবর্ধনা: পেশাগত নীতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

 

 
কোনো সরকারি কর্মকর্তার কর্মস্থলে যোগদান কিংবা বিদায় উপলক্ষে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়ার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। তবে সাংবাদিকতার সার্বজনীন নীতি ও পেশাদারিত্বের মানদণ্ডে এমন চর্চা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কুড়িগ্রামের কয়েকটি উপজেলায় এ ধরনের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যেই আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
 
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইন, ১৯৭৪-এর আওতায় সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার পেশাগত মানদণ্ড রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল প্রণীত ‘সাংবাদিকদের জন্য অনুসরণীয় আচরণবিধি, ১৯৯৩ (২০০২ সালে সংশোধিত)’ সাংবাদিকদের পেশাগত আচরণের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
 
আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, সাংবাদিকের ভূমিকা হওয়া উচিত নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক ও প্রশ্নকর্তার। সরকারি কর্মকর্তাকে ফুল দিয়ে বরণ বা বিদায় জানানোর মাধ্যমে গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মধ্যে অনভিপ্রেত ঘনিষ্ঠতার বার্তা তৈরি হতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনিয়ম, দুর্নীতি বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে পরবর্তীতে বস্তুনিষ্ঠ ও পক্ষপাতহীন সংবাদ পরিবেশনে পেশাগত সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
 
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ বলা হয়। ক্ষমতাশীলদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা বা Watchdog role পালন করা গণমাধ্যমের অন্যতম দায়িত্ব। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের নিয়মিত সংবর্ধনা দেওয়া সেই স্বাধীন নজরদারির অবস্থানকে দুর্বল করে গণমাধ্যমকে প্রশাসনের প্রশংসাকারী হিসেবে উপস্থাপনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
 
সাংবাদিকতা বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদসূত্রের সঙ্গে পেশাগত দূরত্ব বজায় রাখা সাংবাদিকতার অন্যতম শর্ত। কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা, বিশেষ সুবিধা কিংবা সহজে তথ্য পাওয়ার প্রত্যাশায় ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলে ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ দেখা দিতে পারে। ফুলেল শুভেচ্ছা বা সংবর্ধনার মাধ্যমে সাংবাদিক ও কর্মকর্তার মধ্যকার পেশাগত সীমারেখাও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
 
অনেক সময় অসাধু বা বিতর্কিত কর্মকর্তারা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে সংবর্ধনা নিয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা করতে পারেন। এতে সাধারণ মানুষের কাছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সৎ ও গণমাধ্যমের সমর্থনপুষ্ট—এমন ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে, যা প্রশাসনিক অনিয়ম আড়াল করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
 
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার প্রতি অতিরিক্ত অনুগত আচরণ সাধারণ পাঠক ও দর্শকদের মধ্যে সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা ও তথ্যের সততা নিয়ে সংশয় তৈরি করতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
 
তবে সরকারি কর্মকর্তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা বা সংবর্ধনা দেওয়াকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেছে—এমন নির্দিষ্ট আইন বা বিধানের উল্লেখ নেই। বিষয়টি মূলত সাংবাদিকতার পেশাগত আচরণ, নিরপেক্ষতা, স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং সংবাদসূত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখার নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
 
বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা পেশাগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো সৌজন্যমূলক অভ্যর্থনার আয়োজন করে থাকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পেশাদারিত্ব বজায় রাখা ও গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা অটুট রাখতে এ ধরনের চর্চা নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সম্পর্ক হওয়া উচিত পেশাগত দূরত্ব, সততা, জবাবদিহিতা ও বস্তুনিষ্ঠতার ভিত্তিতে—সংবর্ধনার নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‎পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হলেন প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎স্টাফ রিপোর্টার (রাঙামাটি)

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫০ পি.এম


‎পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হলেন প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া

‎পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও শিক্ষক প্রকাশ কুসুম বড়ুয়াকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
‎
‎মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও মুখপাত্র নির্মল বড়ুয়া মিলন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
‎
‎বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং প্রধান উপদেষ্টা ভদন্ত অজিতানন্দ মহাথেরোর অনুমতিক্রমে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-১২ অনুসারে প্রকাশ কুসুম বড়ুয়াকে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যক্রম রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে পরিচালিত হয়।
‎
‎সংগঠন সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই ২০২৫ সালে ‘বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যের অবসান চাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রায় এক যুগ পর রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।
‎
‎কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ভদন্ত অজিতানন্দ মহাথেরো, সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলন, সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া, সহ-সভাপতি জিনপদ বড়ুয়া ও শিক্ষক পংকজ কুসুম বড়ুয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বুলবুল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক খোকন কান্তি বড়ুয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিপুন বড়ুয়া জিকু, অর্থ সম্পাদক অপু বড়ুয়া, যুব বিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বাপ্পি, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জুয়েল বড়ুয়া, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক স্বাধীন বড়ুয়া নিশু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নেলী বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক পলাশ বড়ুয়া, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রুবেল বড়ুয়া এবং দপ্তর সম্পাদক দেবাশীষ বড়ুয়াসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
‎
‎এছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হিসেবে রুবেল বড়ুয়া (২), কাঞ্চন বড়ুয়া, হৃদয় বড়ুয়া, সাধন চন্দ্র বড়ুয়া, বাবুল বড়ুয়া, দেবপ্রিয় বড়ুয়া, নয়ন বিকাশ বড়ুয়া, তেমিয় বড়ুয়া, দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, প্রিয়তোষ বড়ুয়া, দিলীপ বড়ুয়া, আকাশ বড়ুয়া, মানিক বড়ুয়া, লিটন বড়ুয়া, রুপাল বড়ুয়া, মুক্ত বড়ুয়া, ডাঃ প্রকাশ চৌধুরী বড়ুয়া, তপু বড়ুয়া ও শান্তা বড়ুয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
‎
‎নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, তিন পার্বত্য জেলার সমন্বয় এবং বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বিধিনিষেধ দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের জন্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বিধিনিষেধ দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের জন্য

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে।

এই পদক্ষেপটি দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের বর্ণভিত্তিক বৈষম্যমূলক নীতির অভিযোগ তুলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়মিত সমালোচনার পর নেওয়া হয়েছে।

এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার ভূমি ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত আইনগুলোর প্রতি কঠোর সমালোচনা করে আসছেন।

এসব আইনের উদ্দেশ্য হলো, বর্ণবাদী শাসনের অবসানের প্রায় ৩০ বছর পরেও কৃষ্ণাঙ্গ জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য কমানো।

২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প দেশটিতে ‘শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা’ চলছে— এমন একটি দাবি উত্থাপন করেন।

তবে, এই দাবি ব্যাপকভাবে ভিত্তিহীন ও অসত্য হিসেবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছে এবং জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি২০ সম্মেলন বর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণ এমন একটি সরকারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যে সরকার আফ্রিকানার সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষমূলক নীতির পেছনে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে।’

রুবিও আরও জানান, নতুন ভিসা বিধিনিষেধ তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে, যারা দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘বর্ণভিত্তিক বৈষম্যকে উৎসাহিত করে, সহিংসতায় উসকানি দেয় অথবা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই জমি অধিগ্রহণে সহায়তা করে।’

ট্রাম্প গত বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য মার্কিন সহায়তা কমিয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে এবং ‘নির্যাতনের’ শিকার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিতে চাওয়া শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের জন্য বিশেষ সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সামগ্রিকভাবে কঠোর অবস্থান নিলেও আফ্রিকানার নামে পরিচিত শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ দিতে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছেন। এর আওতায় ইতোমধ্যেই হাজার হাজার আফ্রিকানার যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা একটি নতুন ও ‘উদার’ বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

দেশটি আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চহারে শুল্ক আরোপের কারণে কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বেকারত্বের হার ইতোমধ্যেই অত্যন্ত বেশি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের কানাডায় বিনিয়োগের আহ্বান কার্নির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের কানাডায় বিনিয়োগের আহ্বান কার্নির

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মঙ্গলবার কানাডাকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, যা বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের এক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়।

তবে তিনি এও স্বীকার করেছেন যে, বাণিজ্যযুদ্ধ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

কানাডার অর্থনীতিকে বহুমুখী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে কার্নি কানাডা ইনভেস্টমেন্ট সামিটের আয়োজন করেন। তিনি দাবি করেন যে, ক্রমবর্ধমান সংরক্ষণবাদী নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার অর্থনীতির অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।

সম্মেলনটি টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌম সম্পদ তহবিল, ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংক, চায়না ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন এবং আফ্রিকার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ও নাইজেরিয়ার ব্যবসায়ী আলিকো ডাঙ্গোটে-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে কার্নি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে কানাডায় ১ ট্রিলিয়ন কানাডীয় ডলার (৭২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই আমাদের লক্ষ্য।’ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে করছাড় এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

কার্নি আরও বলেন, বিশ্বের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত কানাডার রয়েছে। তিনি এসব খাতকে ‘কৌশলগত স্বনির্ভরতার’ মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল কম-নিঃসরণকারী আলবার্টার তেল এশিয়ার বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি পরাশক্তি হিসেবে আমরা কানাডার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাচ্ছি।’

তিনি জানান, কানাডার চারটি বৃহত্তম বিমানবন্দরে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। আগের সরকারগুলো এই বিতর্কিত পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করলেও কার্নির দাবি, এর মাধ্যমে সরকারের আয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের প্রধান নির্বাহী ল্যারি ফিঙ্ক সম্মেলনে বলেন, ‘কানাডা সরকার আজ যে পরিকল্পনাগুলো উপস্থাপন করেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করলে আমি বিশ্বাস করি আন্তর্জাতিক পুঁজি এসব সুযোগের দিকে আসবে।’

কানাডার কিছু পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টা পর দেওয়া উদ্বোধনী বক্তব্যে কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী থাকার কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় প্রতিবেশী থাকব এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে থাকবে।’

দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

কার্নি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূল হলে কানাডা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করবে। তবে সেটি হবে আরও ‘শক্তিশালী’ ও ‘স্বাধীন’ অবস্থান থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%