০২:২৫ পি.এম
নিউজিল্যান্ডের পেসার ব্লেয়ার টিকনার স্ত্রী সারাহর ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর জীবন ও ক্রিকেটকে নতুনভাবে দেখতে শিখেছেন। এখন তাঁর কাছে ক্রিকেটের চেয়ে পরিবারই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠে হাসিমুখে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি, এবং ক্যারিয়ারের বাকি সময়টুকু নিজের মতো করে উপভোগ করতে চান।
২০২৪ সালের এপ্রিলে টিকনারের স্ত্রী সারাহর লিউকেমিয়া ধরা পড়ে। এরপর টানা আট মাস ধরে চলে তাঁর চিকিৎসা। ২৪ ডিসেম্বর ওই বছরের, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন সারাহ। বর্তমানে তিনি ক্যানসারমুক্ত অবস্থায় রয়েছেন।
ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে টিকনার নিজের জীবনের কঠিন সময় নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমার জীবনটা আসলে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। সারাহ ও আমার পরিবার সবকিছু পার করে এসেছে, এটা অসাধারণ। এখন আমি শুধু ক্রিকেট উপভোগ করতে চাই। আগের চেয়ে অনেক বেশি নিজের মতো থাকতে পারছি।”
আরও পড়ুন: রোনালদোকে নিয়ে ইনফান্তিনোর আবেগঘন বার্তা
ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে চাপ অনুভব করেছেন টিকনার। তবে স্ত্রীর চিকিৎসার সময় ক্রিকেটের বাইরের জীবন সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি পরিবর্তিত হয়েছে। এখন আর পারফরম্যান্সের চাপকে সবকিছু মনে করেন না তিনি। বরং মাঠে আনন্দ নিয়ে খেলার লক্ষ্য তাঁর।
টিকনারের ভাষায়, “আমি মুখে হাসি নিয়ে খেলতে চেষ্টা করি। ক্রিকেটের বাইরেও যে অনেক কিছু আছে, সেটি এখন আরও ভালোভাবে বুঝি। ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। কিন্তু দিন শেষে আমি আমার স্ত্রী ও মেয়ের কাছে বাড়ি ফিরব। তাঁদের সঙ্গে থাকতে পারাটাই আমাকে অনেক সুখী ও ভাগ্যবান করে। তাই ক্রিকেট আমার কাছে এখন কিছুটা কম গুরুত্বপূর্ণ।”
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে চমক দেখিয়েছেন এই পেসার। ভারতের বিপক্ষে অকল্যান্ডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১১ নম্বরে নেমে মাত্র ২৩ বলে ৩৪ রান করেন তিনি। জ্যাকব ডাফির সঙ্গে শেষ উইকেটে ৪১ রানের জুটি গড়েন টিকনার। মজা করে বলেছেন, ডাফির ওপর দিয়ে এবার তাঁর ব্যাটিং অর্ডারে উন্নতি হওয়া উচিত।
টিকনার বলেন, “মাঠে নামার আগে কয়েকটি কথা হয়েছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গতবার ওয়েলিংটনে আমি ভালো ব্যাটিং করেছিলাম, তাই ডাফিকে একটু খোঁচা দিয়েছি। ১০ নম্বরে উঠতে রাজি আছি। এরপর ধীরে ধীরে তিন নম্বরে যাওয়ার চেষ্টা করব।”
আরও পড়ুন: ভুটানের বিরুদ্ধে জয়ে দলের পারফরম্যান্সে খুশি কোচ ডুলি
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটনের সেই ম্যাচে বল হাতেও দারুণ পারফরম্যান্স করেছিলেন টিকনার। চার উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি অপরাজিত ১৮ রান করে নিউজিল্যান্ডকে দুই উইকেটের জয় এনে দেন। ম্যাচসেরাও হয়েছিলেন তিনি।
শনিবারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও বোলারদের জন্য সহায়ক উইকেটের প্রত্যাশা করছেন টিকনার। তাঁর আশা, ওয়েলিংটনের পিচে বাড়তি বাউন্স ও সিম মুভমেন্ট থাকবে। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কের তুলনায় হেনরি স্টেডিয়ামের মাঠের সীমানার বিন্যাসও আলাদা। সেখানে সোজা সীমানা বড়, আর দুই পাশের সীমানা তুলনামূলক ছোট। ফলে বিশেষ করে ইনিংসের শেষ দিকে বোলিংয়ের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন