ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও স্বল্পসুদে ঋণ সম্প্রসারণে সরকারের নানা উদ্যোগ : শিল্পমন্ত্রী


লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও স্বল্পসুদে ঋণ সম্প্রসারণে সরকারের নানা উদ্যোগ : শিল্পমন্ত্রী

সরকার লবণ চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে লবণ চাষে সহায়তা দিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণ অন্যতম। জাতীয় সংসদে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য তুলে ধরেন।

আজ বুধবার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি তথ্য জানান। সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কক্সবাজারের ৩২ হাজার ৪১০ জন এবং চট্টগ্রামের ৭ হাজার ৭৪০ জনসহ মোট ৪০ হাজার ১৫০ জন লবণ চাষি ৬৭ হাজার ৭৫৭ একর জমিতে লবণ চাষ করে ১৯ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন করেছেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দর ঘুরে দেখলেন

তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয় যাচাই করে মাঠপর্যায়ে লবণের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে লবণ চাষিরা তাদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পান।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য লবণ আমদানির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সরকার লবণ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করছে।

তিনি বলেছেন, সোডিয়াম সালফেট বা ডাইসোডিয়াম সালফেটের নামে যাতে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করা না যায়, তা নিশ্চিত করতে শুল্ক ছাড়ের আগে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও জানান, সরকার লবণের আমদানি শুল্ক হার পর্যালোচনা করছে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত লবণের গুণগত মান উন্নয়নের জন্য নিয়মিতভাবে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর ইরানে হামলার পরিকল্পনা আটকে দেন ট্রাম্প

মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে লবণ চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে প্রতি মণ লবণের গড় মূল্য ৩৩৭ টাকা, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এ মূল্য ছিল ২৭১ টাকা।

লবণ চাষিদের আর্থিক সহায়তা বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) জামানতবিহীন ৫ শতাংশ সরল সুদে 'লবণ চাষিদের জন্য বিশেষ ঋণ কর্মসূচি' চালু করেছে।

তিনি বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ৬৭৭ জন লবণ চাষির মধ্যে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালার আওতায় তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রকৃত লবণ চাষিদের ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।

আরও পড়ুন: সিসিউতে ভর্তি ড. আব্দুল মঈন খান, দেখতে গেলেন সমাজ কল্যাণমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবার সামনে বেবি বাম্পে নজর কাড়লেন দীপিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


সবার সামনে বেবি বাম্পে নজর কাড়লেন দীপিকা

 

অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন—এ খবর প্রকাশ্যে আসে চলতি বছরের এপ্রিলে। এরপর থেকেই ভক্তদের আগ্রহ ছিল তার নতুন উপস্থিতি ঘিরে।

এবার একটি নতুন বিজ্ঞাপনে প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে দেখা গেল অভিনেত্রীর বেবি বাম্প।

প্রথম সন্তানের সময়ের মতো এবারও মাতৃত্বকালীন বিরতিতে যাননি দীপিকা। গর্ভাবস্থাতেই শাহরুখ খানের আসন্ন সিনেমা ‘কিং’-এর শুটিং শেষ করেছেন তিনি। এবার একটি পাঁচতারকা হোটেলের বিজ্ঞাপনে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হাজির হয়ে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন এই অভিনেত্রী।

ভিডিওতে দীপিকার আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত অভিব্যক্তি মুগ্ধ করেছে ভক্তদের। গর্ভাবস্থাতেও তার কর্মস্পৃহা এবং সৌন্দর্যের প্রশংসায় ভাসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কেউ তাকে ‘সুপারমম’ বলেও অভিহিত করেছেন।

জানা গেছে, অন্তঃসত্ত্বার চার মাসের সময় বিজ্ঞাপনটির শুটিং করেছিলেন দীপিকা।

ভিডিওটি প্রকাশের পর একজন লিখেছেন, ‘দুয়ার মা সুপারস্টার।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও কী স্মার্টলি কাজ করেছেন।’

চলতি বছরের এপ্রিলে দীপিকার দ্বিতীয়বার মা হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও শুরুতে বিষয়টি নিয়ে নীরব ছিলেন তিনি ও তার স্বামী রণবীর সিং। পরে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি শেয়ার করেন দীপিকা।

সেই ছবিতে তাদের মেয়ে দুয়ার হাতে দেখা যায় একটি প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট।

ক্যাপশনে দুটি ‘ইভিল আই’ ইমোজি ব্যবহার করে দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের সুখবর নিশ্চিত করেন এই তারকা দম্পতি।

দীপিকার সেই ঘোষণার পর অভিনন্দনের জোয়ার বয়ে যায়। সহকর্মী অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকার ‘অভিনন্দন’ জানিয়ে মন্তব্য করেন। অভিনেত্রী সামান্থাও একাধিক হৃদয়ের ইমোজি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রথম সন্তান কন্যা দুয়ার জন্ম হয়। এবার দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছেন এই তারকা দম্পতি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বমঞ্চে নারী ক্রীড়াঙ্গনের নেতৃত্ব দিতে আইডব্লিউজি গ্লোবাল সামিটে সারওয়াত সিরাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


বিশ্বমঞ্চে নারী ক্রীড়াঙ্গনের নেতৃত্ব দিতে আইডব্লিউজি গ্লোবাল সামিটে সারওয়াত সিরাজ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন আইডব্লিউজি গ্লোবাল সামিট অন উইমেন অ্যান্ড স্পোর্ট ২০২৬’ এ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন সারওয়াত সিরাজ শুক্লা, যিনি বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী।

আগামীকাল ৯ জুলাই থেকে ১১ জুলাই, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক সম্মেলনে অংশ নিতে তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।

এই সম্মেলনে ক্রীড়া সংগঠক, নীতিনির্ধারক, ক্রীড়াবিদসহ ১,২০০ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

সারওয়াত সিরাজ শুক্লা, যিনি বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং দেশের একমাত্র সরকারি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বিকেএসপি’-র পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন।

সম্প্রতি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক নারীর সুরক্ষা, সমতা ও অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এই কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দেশে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়ায় যোগাযোগ বাড়াতে সরকারের চলমান ‘নতুন কুঁঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্যোগ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি’ উইং গঠনের লক্ষ্যে তার সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা। এই সামিটে তার অংশগ্রহণ বাংলাদেশী স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

যুক্তরাজ্যে যাত্রার প্রাক্কালে সারওয়াত সিরাজ শুক্লা জানান, "বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। আইডব্লিউজির এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে আমাদের অর্জনগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নারী নেতৃত্ব ও আইনি সুরক্ষার আধুনিক কৌশলগুলো আমরা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাজে লাগাতে চাই।"

তিনি তিন দিনের এই সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন দেশের অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধিদের সাথে নেটওয়ার্কিং ও বিশেষ আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৪ পি.এম


রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের কারণে নিহত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৪ জন ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং ৪ জন হাসপাতালে মারা গেছেন।

এছাড়া, উদ্ধার করা ৫ শিশুকে ক্যাম্প ৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প ৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এবং ক্যাম্প ৬-এর আইআরসি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে আড়াইটার দিকে ঘটেছিল। হতাহতরা সবাই রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায়। এপিবিএন পুলিশ এবং রোহিঙ্গারা উদ্ধার অভিযানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।

কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ‘এ-থ্রি’ ব্লকে একটি মাদরাসায় পাহাড়ধসের এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ওই সময়ে ক্লাস চলছিল। ঘটনাস্থলে ৪ জন এবং হাসপাতালে ৪ শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত‍্যাবাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে ‘এ-থ্রি’ ব্লকে ওই মাদরাসায় হঠাৎ করেই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে রোহিঙ্গারা আরও পাহাড় ধসের আশংকা করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের তারকা চিহ্নিত সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেছেন।

মো. সেলिम রেজার প্রশ্ন ছিল, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা? থাকলে সেটি কী, এবং কবে নাগাদ এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত আমাদের এই সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

বিগত দিনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোপূর্বে ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার সফল কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সেসময়ে উদ্ভূত রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করেছিলেন। তাঁদের সুযোগ্য দিকনির্দেশনায় সেই সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দ্রুততম সময়ে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করতে পেরেছিলো।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়েও পূর্বের সেই নীতির আলোকেই আমরা টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছি। বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সকল ফ্রন্টেই অত্যন্ত জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।’

রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করার লক্ষ্যে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইউএন এইচসিআর (UNHCR) ইউ এন ওমেন (UN Women) এবং ওয়ার্ড ফুড (World Food), Programme (WFP)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহ পরিদর্শন করেন এবং মানবিক সহায়তা আরও কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।’

তিনি বলেন, ‘চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এই সফরের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর পাশাপাশি, গত সেপ্টেম্বরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণসমূহ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশ নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত। আর তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার লক্ষে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক ফ্রন্টে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি সকল পক্ষের সাথে সম্ভাব্য যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তাছাড়া মূলধারার কূটনীতির পাশাপাশি confidence building-এর ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রক্রিয়া প্রয়োগের বিষয়টি আমাদের বিবেচনাধীন। একই সাথে প্রত্যাবাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইকরণ বা ভ্যারিফিকেশনের কাজ নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন বা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রমও চলমান আছে।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর সমাধানের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশেই নির্ভর করে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ওপর।’

তিনি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সাথে সংলাপ জোরদার করেছি। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।’

বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ও মানবিক সংকট মোকাবেলায় অত্যন্ত সুচিন্তিত, বাস্তবধর্মী ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ক্যাম্পসমূহের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, স্বাগতিক কমিউনিটির সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকগণের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ অত্যন্ত সক্রীয় ভূমিকা পালন করছে।”

তিনি বলেন, “এর পাশাপাশি, ক্যাম্পসমূহে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান ও তাঁদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় কৌশলগত নীতিনির্ধারণ ও অধিকতর সমন্বয়ের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স’ সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করছে।”

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সসম্মানে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে বর্তমান সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%