বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৪২ পি.এম
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সুরতহাল প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান তৈরি করেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি শনাক্ত করেন নিহতের খালাতো ভাই জহির হাসান। মরদেহের মাথার চুল কালো এবং উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। কপাল স্বাভাবিক, মুখমণ্ডল গোলাকার। মুখ ও চোখ বন্ধ ছিল এবং ছোট ছোট কালো দাঁড়ি ও গোঁফ ছিল। হাত দুটি মাথার সামনাসামনি বাঁকা অবস্থায় ছিল।
নাক থেকে রক্ত বের হয়েছে, তবে শরীরের অন্য কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। শরীরের সব অঙ্গ স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে, তবে পেট ফোলা ছিল। হাতের মুষ্ঠি খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তার দ্বারা।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করেন টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে তার মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আজ দুপুরে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাহসিফ সৌরি তার মায়ের সঙ্গে শপিং শেষে বাড়িতে ফেরেন। কিছু সময় পর তিনি এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বের হন। ২৮ অক্টোবর তার শেষ মেসেজ ছিল- আসছি। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিসির অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে প্রায় শতবর্ষী চারটি যাত্রীবাহী প্যাডেল নৌযান ধ্বংসের সীমানায় পৌঁছেছে। বর্তমানে চারটি জাহাজের মধ্যে কেবল ‘পিএস মাহসুদ’ ইজারাদারের অধীনে রয়েছে, কিন্তু বাকি তিনটির বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সংস্থাটি। এই কারণে এগুলোর অস্তিত্ব এখন বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। সারাবিশ্বে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী নৌযানের সংখ্যা খুবই কম, যার মধ্যে চারটি বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত।
ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, দেশভাগের সময় ব্রিটিশ ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত আইজিএন ও আরএসএন কোম্পানির কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সে অন্তত ২৫টি বাষ্পীয় প্যাডেল জাহাজ নির্মিত হয়েছিল, যা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আওতাধীন ছিল। বিভিন্ন সময়ে বিক্রি ও হ্রাসের পর পিএস গাজী, পিএস কিউই, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা ও পিএস টার্ন অবশিষ্ট ছিল। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় পিএস মাহসুদ, পিএস অস্ট্রিচ ও পিএস লেপচায় আধুনিকায়ন শুরু হয়েছিল, যেখানে মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন সংযোজন করা হয়। ১৯৮২ সালে যাত্রী পরিবহনে যুক্ত হওয়ার পর হাইড্রোলিক গিয়ারে ত্রুটির কারণে মাত্র তিন হাজার ঘণ্টা চলার পর এগুলো স্থায়ীভাবে বিকল হয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় ফেলে রাখার পর ১৯৯৩ সালে মেকানিক্যাল গিয়ার সংযোজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত নৌযানগুলো ঢাকা-বরিশাল-খুলনা রুটে লক্ষাধিক যাত্রী পরিবহন করেছে। ২০০২ সালে নিজস্ব অর্থে পিএস টার্ন জাহাজটিতে নতুন ইঞ্জিন সংযোজন করা হয়। তবে বিআইডব্লিউটিসির রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে ২০১৯ সালের দিকে নৌযানগুলো আবারও ক্রমান্বয়ে বিকল হয়ে পড়ে। করোনা মহামারী শুরু হলে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।
গত বছর নৌযানগুলো পুনরায় মেরামত ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে পিএস মাহসুদ মেরামত করে ঢাকা-বরিশাল রুটে চালুর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু পরে তা দিবাকালীন ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেবে রূপান্তর করা হয়। প্রথম শ্রেণীতে ২৬০০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১৬৫০ টাকা এবং ডেক শ্রেণীতে ৬০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে গত বছর ২৮ নভেম্বর মাত্র ৩২ জন যাত্রী নিয়ে জাহাজটি ঢাকা ত্যাগ করে। এরপর নামমাত্র কয়েকটি ট্রিপ পরিচালনার পর সেটিকে ইজারাদারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে ক্রুদের বেতন বাদে মাসিক দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে একটি প্রতিষ্ঠান পিএস মাহসুদ দিয়ে ঢাকা ও আশপাশে পর্যটক সার্ভিস পরিচালনা করছে।
বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক-বাণিজ্য মো. আশিকুজ্জামান জানান, অবশিষ্ট তিনটি নৌযানও শিগগিরই ইজারা দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে নৌপরিবহন মন্ত্রীর ইচ্ছায় বেআইনি ও বিনা দরপত্রে ‘পিএস অস্ট্রিচ’ একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ইজারাদার ওই জাহাজের ওপরিকাঠামোর বেশিরভাগ অংশ ভেঙে ফেলেছে এবং নির্ধারিত ভাড়াও পরিশোধ করেনি। দীর্ঘদিন আটকা থাকার পর সম্প্রতি ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে জাহাজটি উদ্ধার করা হয়। বকেয়া আদায়ের মামলা চলমান থাকলেও সেই বিধ্বস্ত জাহাজটিও পুনরায় ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
অথচ গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সামনে ঘোষণা করেছিলেন যে, পিএস অস্ট্রিচসহ সব প্যাডেল নৌযান ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সাড়ে আট মাসেও এই বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষায় কোনো ইতিবাচক বা কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে পরিচালক-বাণিজ্য আশিকুজ্জামান দাবি করেছেন, মাহসুদ ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং বাকিগুলোও ইজারা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সত্যের সন্ধানে নিবেদিত সাংবাদিক আহমদ গিয়াস আর আমাদের মধ্যে নেই। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করার পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন আহমদ গিয়াস। তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক আজাদীতে কর্মরত ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সহকর্মীদের কাছে পরিচিত ছিলেন।
সাংবাদিক আহমদ গিয়াসের মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন সহকর্মীকে হারিয়ে শোকাহত তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেন।
তারা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে মরহুম আহমদ গিয়াসকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করার এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনকে এ শোক সইবার ধৈর্য ও শক্তি দান করার তাউফিক কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
“ভারত খুব শক্তিশালী। আপনি কি ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটি দেখেছেন? দেখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন ভারতের গোয়েন্দা ব্যবস্থার কতটা উন্নতি হয়েছে”– সীমান্তে চলতে থাকা ভারত-চীন সংঘাত পরিস্থিতি সম্পর্কে ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) প্রধান শত্রুজিৎ সিং কপূরের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এভাবেই জবাব দিয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের মন্ত্রী এবং বিজেপি বিধায়ক বালো রাজা।
বালো রাজা বলিউডের স্পাই-থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার উদাহরণ তুলে ধরে ভারতের গোয়েন্দা ব্যবস্থার সক্ষমতা বোঝাতে বলেন। তার এই বক্তব্য নতুন আলোচনা শুরু করেছে। কারণ, সম্প্রতি আইটিবিপি-র ডিজি অরুণাচল সীমান্তে চীনা সেনার সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর সংঘাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি চীনের সামরিক আধুনিকীকরণের সাথে পাল্লা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।
বালো রাজা, যিনি অরুণাচল প্রদেশের তিনবারের বিজেপি বিধায়ক, রাজ্য সরকারের নগরোন্নয়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং অসামরিক বিমান পরিবহন দফতরের দায়িত্বও পালন করছেন। তিনি গত মঙ্গলবার ইটানগরে সাংবাদিকদের সামনে প্রশ্ন তোলেন, কেন আইটিবিপি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর প্রধান এমন মন্তব্য করবেন, যা ভারতকে দুর্বল বলে প্রতিস্থাপন করতে পারে? তার বক্তব্য ছিল, ভারতের শক্তি এবং গোয়েন্দা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে, যা ‘ধুরন্ধর’ ছবিটি দেখলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গত ২২ অক্টোবর রাজস্থানের আলওয়ারে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে আইটিবিপি-র ডিজি শত্রুজিৎ সিং কপূর জানান, অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় ও চীনা সেনার মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তার মতে, জুলাই থেকে এই উত্তেজনা চলমান এবং সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় দুই দেশের বাহিনী মুখোমুখি অস্ত্র তাক করে রয়েছে।
কপূর আরও বলেন, ‘চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এবং বর্ডার ডিফেন্স রেজিমেন্ট (বিডিআর) সামরিক পরিকাঠামো ও আধুনিকীকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তাই চীনকে মোকাবিলা করতে ড্রোন এবং ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।’ তিনি জানান, আইটিবিপি-র প্রতিটি সীমান্তরক্ষী ব্যাটালিয়নে ড্রোন ইউনিট গঠন করা হয়েছে। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় অভিযানের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘শৌর্য’ কম্যান্ডোদেরও কাজে লাগানো হচ্ছে।
আইটিবিপি প্রধানের মন্তব্যের পর ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। গত ২৩ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, চীনা বাহিনী নিয়মমাফিক টহলদারি থেকে সরে এলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর পরিস্থিতি মাঝে মাঝে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তবে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ আগের মতোই রয়েছে। সীমান্তের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধান করা এবং দুই দেশের সেনার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘাত এড়ানোই আলোচনার লক্ষ্য। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মন্তব্য করেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং এলাকায় ভারতীয় সেনার টহলদারি নিয়ে অতীতে উদ্বেগ ছিল। তবে ওই অঞ্চলে চীনের নতুন দখলদারির অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অংশ অস্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে বালো রাজার ‘ধুরন্ধর’ মন্তব্য ভারত-চীন সীমান্ত নিয়ে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষকরা পাঁচ থেকে সাত দিন আগে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ধানের পিতৃ (ফাদার) ও মাতৃ (মাদার) জাত নির্বাচন করে টব বা বালতিতে চারা তুলে প্রস্তুত রাখেন। প্রশিক্ষণের প্রথম দিন, বুধবার, ধানের ব্রিডিং বা সংকরায়ন বিষয়ে একটি তাত্ত্বিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে নির্বাচিত ধানের শীষে ইমাসকুলেশন বা পুংকেশর অপসারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। দ্বিতীয় দিন, বৃহস্পতিবার সকালে, পলিনেশন বা পরাগায়ন কার্যক্রম হাতে-কলমে শেখেন ও বাস্তবায়ন করেন। ইমাসকুলেশন ও পরাগায়ন সম্পন্ন করা শীষগুলোকে বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত পরাগায়ন থেকে সুরক্ষিত রাখতে ট্রেসিং পেপারের ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামে কৃষকদের অংশগ্রহণে নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী হাতে-কলমে ব্রিডিং প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রশিক্ষণে কৃষকেরা ওই ধাপ অনুসরণ করে হাতে কলমে শেখেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে এলাকার আগ্রহী কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে কৃষকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং কৃষকদের মধ্যে সম্মিলিত উদ্যোগ ও ঐকমত্য গড়ে তোলা।
প্রশিক্ষণটি সম্পূর্ণ হাতে-কলমে পরিচালিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা ধানের নতুন লাইন উদ্ভাবনের বিভিন্ন ধাপ সরাসরি অনুশীলন করেন। চলতি আমন মৌসুমে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কৃষিবিদ সিরাজুল হক। এ সময় লোকজের সমন্বয়কারী পলাশ দাশ, কর্মসূচি কর্মকর্তা মিলন কান্তি মণ্ডল ও দিপংকর কবিরাজ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
প্রশিক্ষণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পরাগায়নের পরবর্তী ২৮ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এ প্রক্রিয়ায় সংকর বীজ সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বীজ থেকে উৎপন্ন পরবর্তী প্রজন্মের গাছ চাষ, জাত নির্বাচন ও পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
তাঁরা আরও জানান, নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণাপ্রক্রিয়া। এ জন্য প্রায় ১০টি মৌসুম ধরে মাঠপর্যায়ে চাষ, পর্যবেক্ষণ ও বাছাই কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন হতে পারে। ধারাবাহিক এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষকদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধানের জাত উদ্ভাবনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কৃষকদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণাধর্মী কৃষিচর্চা বাড়াবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের নিজস্ব উদ্যোগে ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের সক্ষমতা তৈরি এবং কৃষিতে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ