শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৮ পি.এম
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল এবং সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ ৭৩ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সরকারের কাছে তথ্য ও নথি চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।
জানা গেছে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের (ইউএনসিএসি) আওতায় ইউএই সরকারের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের তদন্তে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তথ্য ও নথি আদান-প্রদান করা হয়ে থাকে।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি কিনেছেন বলে তথ্য পেয়েছে দুদক। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও নিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আখতারুল ইসলাম জানান, দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে তদন্তকারী দল সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
দুদক ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট ৭৩ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে তাদের অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের সদস্য হিসেবে একটি বিশেষ দল তদন্তটি পরিচালনা করছে।
তদন্তাধীন ৭৩ ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন— সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এইচবিএম ইকবাল, চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, আহসানুল করিম, আনজুমান আরা শহীদ, হুমায়রা সেলিম, জুরান চন্দ্র ভৌমিক, মো. রাব্বি খান, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ ওলিউর রহমান, এসএ খান ইখতেখুরুজ্জামান, সৈয়দ ফাহিম আহমেদ, সৈয়দ হাসনাইন, সৈয়দ মাহমুদুল হক, সৈয়দ রুহুল হক, গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া, হাজি মোস্তফা ভূঁইয়া, মনোজ কান্তি পাল, মো. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, মো. মাহবুবুল হক সরকার, মো. সেলিম রেজা, মোহাম্মদ ইলিয়াস বজলুর রহমান, এসইউ আহমেদ, শেহতাজ মুনশি খান, একেএম ফজলুর রহমান, আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ, গুলজার আলম চৌধুরী, হাসান আশিক তাইমুর ইসলাম, হাসান রেজা মাহিদুল ইসলাম, খালেদ মাহমুদ, এম সাজ্জাদ আলম, মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী, মোস্তফা আমির ফয়সাল, রিফাত আলী ভূঁইয়া, সালিমুল হক ঈসা/হাকিম মোহাম্মদ ঈসা, সৈয়দ একে আনোয়ারুজ্জামান/সৈয়দ কামরুজ্জামান, সৈয়দ সালমান মাসুদ, সৈয়দ সাইমুল হক, আবদুল হাই সরকার, আহমেদ সামির পাশা, ফাহমিদা শবনম চৈতি, মো. আবুল কালাম, ফাতেমা বেগম কামাল, মোহাম্মদ আল রুমান খান, মাইনুল হক সিদ্দিকী, মুনিয়া আউয়ান, সাদিক হোসাইন মো. শাকিল, আবদুল্লাহ মামুন মারুফ, মোহাম্মদ আরমান হোসাইন, মোহাম্মদ শওকত হোসাইন সিদ্দিকী, মোস্তফা জামাল নাসের, আহমেদ ইমরান চৌধুরী, বিল্লাল হোসাইন, এমএ হাসেম, মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন চৌধুরী, নাতাশা নূর মুমু, সৈয়দ মিজান মোহাম্মদ আবু হানিফ সিদ্দিকী, সায়েদা দুররাক সিন্ডা জারা, আহমেদ ইফফজাল চৌধুরী, ফারহানা মোনেম, ফারজানা আনজুম খান, কে এইচ মশিউর রহমান, এমএ সালাম, মো. আলী হোসাইন, মোহাম্মদ ইমদাদুল হক ভূঁইয়া, মোহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ রোহেন কবির, মঞ্জিলা মুর্শেদ, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ চৌধুরী, মোহাম্মদ সারফুল ইসলাম, সৈয়দ রফিকুল আলম ও আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তবে চলমান তদন্তের কারণে এসব ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় প্রকাশ করেনি দুদক।
দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদ নিয়ে এই অনুসন্ধানের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনায়। ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালত দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।
সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ (সিফোরএডিএস) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির মালিকানায় ৯৭২টি সম্পত্তি ছিল। এসব সম্পত্তির নথিভুক্ত মূল্য প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত সিফোরএডিএসের এক গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন ডলার বলা হয়েছিল।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, এসব সম্পত্তির মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনায় এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহতে রয়েছে। বাংলাদেশিদের মালিকানায় অন্তত ১০০টি ভিলা ও পাঁচটি ভবনের তথ্যও পাওয়া যায়। এ ছাড়া চার-পাঁচজন বাংলাদেশির সঙ্গে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পত্তির যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাজ্য তীব্র অভিবাসন ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ‘বিপর্যয়ের’ মুখোমুখি হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশটি বর্তমানে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে’ অবস্থান করছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উদ্দেশ্যে এসব মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সমস্যা অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় অধিক গুরুতর। এছাড়া, দেশটির জ্বালানি ব্যয়ও প্রয়োজনের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বার্নহ্যামকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের দেশ সমস্যার মধ্যে রয়েছে।
আপনারা বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। আমি এটিকে একটি সন্ধিক্ষণ বলি। অধিকাংশ দেশের তুলনায় আপনাদের অভিবাসন সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর, একইভাবে জ্বালানি সমস্যাও গুরুতর।’
অবৈধভাবে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ অব্যাহত থাকলে দেশটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সংকটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ব্রিটিশ সরকারকে এই বিষয়টি বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে।এদিকে, স্কটল্যান্ডের উপকূলবর্তী দুটি তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের অনুমোদন নিয়ে সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় উত্তর সাগরের তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তার মতে, জ্বালানি সমস্যা সমাধান করা তুলনামূলক সহজ হলেও অভিবাসন সংকট মোকাবেলা আরো কঠিন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬ হাজার ৫১৩ জনের বেশি অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন।
তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৪৩ শতাংশ কম। সব মিলিয়ে ২০১৮ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত এ সময়ে দেশটিতে গড় অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে ৬৭ দশমিক ৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি ঠেকাতে ফ্রান্সকে সহায়তা হিসেবে যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত ১০০ কোটি পাউন্ডের (প্রায় ১৩৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার) বেশি অর্থ প্রদান করেছে। এর মধ্যে পাচারকারীরা আরো বেশি মানুষ বহনে সক্ষম ‘মেগা-ডিঙ্গি’ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে এবং পারাপারের জন্য অভিবাসীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ দ্বিগুণ করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকের একটি ফোনালাপে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। ওই কথোপকথনে ফুটবল, ম্যানচেস্টার ও ইরান যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হয়। আগামী বছরের জি২০ সম্মেলনে নিজের শহর ম্যানচেস্টারে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
তবে ট্রাম্প ও বার্নহ্যামের সম্পর্ক আগে এতটা উষ্ণ ছিল না। ট্রাম্প একসময় বার্নহ্যামকে ‘একটি শহরের মেয়র’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন এবং তাকে ‘অত্যন্ত উদারপন্থী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষপূর্ণ উগ্রপন্থী উপকরণ’ অনলাইনে ছড়ানোর অভিযোগ তুলে নীতিগত কারণে তার সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানানোর কথা বলেছিলেন বার্নহ্যাম। পরে অবশ্য তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদ এবং যুক্তরাজ্য-মার্কিন সম্পর্কের প্রতি সম্মান দেখাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরের অভয়নগরে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন আমজেদ গাজী (৫৪) ও আছিরন বিবি (৬৫) নামক দুই মোটরসাইকেল আরোহী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুর্ঘটনাটি ঘটে উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নে, মজুমদার ব্রান অয়েল মিলের সামনে, যশোর-খুলনা মহাসড়কে।নিহত আমজেদ মশরহাটী গ্রামের হাকিম গাজীর পুত্র এবং আছিরন বিবি লক্ষীপুর গ্রামের মৃত মালেক সরদারের স্ত্রী। উল্লেখযোগ্য যে, আছিরন বিবি আমজেদ গাজীর ফুফু হিসেবে পরিচিত ছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে যশোরগামী যাত্রীবাহী গড়াই পরিবহন বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। এ সময় মোটরসাইকেলটি বাসের সামনে ইঞ্জিনের পাশে আটকে গেলে বাসের চালক ও সহকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সহযোগিতায় আহত মোটরসাইকেল আরোহীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজনিন নিগার জানিয়েছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় একজন পুরুষ মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। গুরুতর আহত বৃদ্ধা নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, মাথায় গুরুতর আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই তাদের মৃত্যুর কারণ হয়েছে।নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ (এসআই) আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ‘যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুজন (পুরুষ ও নারী) আরোহী নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে গড়াই পরিবহনের বাস ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পলাতক চালক ও সহকারীদের আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিয়ম না মানার অভিযোগে ইরান আরও ১১টি জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে এসব জাহাজ যুক্ত হওয়ার ফলে কালো তালিকায় থাকা জাহাজের সংখ্যা বেড়ে ৫৬টিতে পৌঁছেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন জাহাজগুলোর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় বড় আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং পরিশোধিত জ্বালানি বহনকারী জাহাজ রয়েছে।
এর আগে ২৪ আগস্ট ইরান ৪৫টি ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। এসব জাহাজকে জরিমানা, জব্দ বা আটকের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।
ইরানের কর্তৃপক্ষ জানায়, তালিকাভুক্ত কোনো জাহাজের সঙ্গে পণ্য স্থানান্তর বা জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মতো কার্যক্রমে যুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট জাহাজকেও কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে।
এর আগে কালো তালিকাভুক্ত কিছু জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিএনওসি লজিস্টিকস অ্যান্ড শিপিং, এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ন্যাভিগেট ট্যাংকারস এবং সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানি বাহরির মালিকানাধীন ছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রথম দফার কালো তালিকা প্রকাশের পর অন্তত তিনটি ভারতীয় তেল শোধনাগার ও একটি বৈশ্বিক জ্বালানি কোম্পানি নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব জাহাজ ব্যবহার বন্ধের পরিকল্পনা করে।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। তবে যুদ্ধ শুরুর পর এ পথে জাহাজ চলাচল অনেকটাই কমে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের খোঁকড়া গ্রামের সন্তান জামিল হোসেন মুরসালিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে এক পরিচিত নাম। প্রায় ১৭ বছর ধরে দলীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে রাজনীতির মাঠে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত নেতা অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস-এর হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
দলের কঠিন সময়েও সক্রিয় থাকার কারণে মুরসালিনের নাম ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচিত। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতেও থাকতে হয়েছে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলীয় কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াননি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে যুগ্ম সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একই সঙ্গে তিনি পাবনা-০৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সহকারী ব্যক্তিগত (এপিএস) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, মুরসালিন একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পরিচিত। তার কাছে সহযোগিতা চাইতে গিয়ে কেউ খালি হাতে ফিরে যায় না বলেও তারা জানান।
দাপুনিয়ার খোঁকড়া গ্রামের মতো একটি প্রান্তিক এলাকা থেকে উঠে এসে সরাসরি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া অনেকের কাছেই একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ