প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাজ্য তীব্র অভিবাসন ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ‘বিপর্যয়ের’ মুখোমুখি হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশটি বর্তমানে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে’ অবস্থান করছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উদ্দেশ্যে এসব মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সমস্যা অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় অধিক গুরুতর। এছাড়া, দেশটির জ্বালানি ব্যয়ও প্রয়োজনের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বার্নহ্যামকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের দেশ সমস্যার মধ্যে রয়েছে।
আপনারা বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। আমি এটিকে একটি সন্ধিক্ষণ বলি। অধিকাংশ দেশের তুলনায় আপনাদের অভিবাসন সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর, একইভাবে জ্বালানি সমস্যাও গুরুতর।’
অবৈধভাবে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ অব্যাহত থাকলে দেশটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সংকটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ব্রিটিশ সরকারকে এই বিষয়টি বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে।এদিকে, স্কটল্যান্ডের উপকূলবর্তী দুটি তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের অনুমোদন নিয়ে সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় উত্তর সাগরের তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তার মতে, জ্বালানি সমস্যা সমাধান করা তুলনামূলক সহজ হলেও অভিবাসন সংকট মোকাবেলা আরো কঠিন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬ হাজার ৫১৩ জনের বেশি অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন।
তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৪৩ শতাংশ কম। সব মিলিয়ে ২০১৮ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত এ সময়ে দেশটিতে গড় অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে ৬৭ দশমিক ৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি ঠেকাতে ফ্রান্সকে সহায়তা হিসেবে যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত ১০০ কোটি পাউন্ডের (প্রায় ১৩৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার) বেশি অর্থ প্রদান করেছে। এর মধ্যে পাচারকারীরা আরো বেশি মানুষ বহনে সক্ষম ‘মেগা-ডিঙ্গি’ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে এবং পারাপারের জন্য অভিবাসীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ দ্বিগুণ করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকের একটি ফোনালাপে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। ওই কথোপকথনে ফুটবল, ম্যানচেস্টার ও ইরান যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হয়। আগামী বছরের জি২০ সম্মেলনে নিজের শহর ম্যানচেস্টারে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
তবে ট্রাম্প ও বার্নহ্যামের সম্পর্ক আগে এতটা উষ্ণ ছিল না। ট্রাম্প একসময় বার্নহ্যামকে ‘একটি শহরের মেয়র’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন এবং তাকে ‘অত্যন্ত উদারপন্থী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষপূর্ণ উগ্রপন্থী উপকরণ’ অনলাইনে ছড়ানোর অভিযোগ তুলে নীতিগত কারণে তার সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানানোর কথা বলেছিলেন বার্নহ্যাম। পরে অবশ্য তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদ এবং যুক্তরাজ্য-মার্কিন সম্পর্কের প্রতি সম্মান দেখাবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন