বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪৮ এম
নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালের বেডে রোগী স্থান সংকুলান না হওয়ায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বন্দর কুড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজহারুল ইসলাম (৩১) স্ত্রীর প্রসবের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন, স্ত্রী ও নবজাতকের পাশে থাকতে পারবেন। কিন্তু হাসপাতালে অবস্থানকালে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। গত তিন দিন ধরে তিনি হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আজহারুলের পাশেই মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন দেওভোগ মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা মশিউর রহমান। তিনিও তিন দিন ধরে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মশিউর রহমান বলেন, "ওয়ার্ডে সিট নাই, তাই বারান্দায় মেঝেতে আছি। অসুবিধা হয়, অনেক গরম লাগে। কিন্তু কিছু করার নাই, চিকিৎসা তো করতে হইবো।"
সরেজমিনে দেখা গেছে, আজহারুল ও মশিউরের মতো অন্তত ১০ জন রোগী নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী একাধিক নার্স জানিয়েছেন, প্রতিদিন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। কিছু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন, আবার নতুন রোগী আসছেন। বর্তমানে ২৩ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। শয্যার অভাবের কারণে অনেক রোগীকে বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৯৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ১১৯ এবং জুলাইয়ে ৩৫ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৭৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক নাজমুল হাসান বিপুল বলেন, "বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। যে পরিমাণ রোগী আসছে, সে পরিমাণ শয্যা আমাদের নেই। তারপরও বারান্দা ও মেঝেতে জায়গা করে গুরুতর রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩৭৬ জন ডেঙ্গু রোগীকে আমরা চিকিৎসা দিয়েছি।"
ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে নির্দিষ্ট মৌসুমের বাইরেও মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে যথাযথভাবে মশারি ব্যবহার না করা। রোগীদের মশারি দেওয়া হলেও অনেকেই ব্যবহার করেন না। এতে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নারায়ণগঞ্জে নতুন করে ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৮৭ জন। অথচ ২০২৫ সালের পুরো বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩৯৮ জন। অর্থাৎ গত বছরের মোট আক্রান্তের সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই।
সরকারি হিসাবে চলতি বছর নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য। তবে জেলার কয়েকজন বাসিন্দা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নারায়ণগঞ্জের বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়ায় এসব ঘটনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর হিসাবে যুক্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের চেইনম্যান আবু ছিদ্দিক (৫৮) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় বসবাস করতেন।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকান্দা চৌধুরীপাড়া এলাকায় দুই গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের একজন আশা বেগম। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির মধ্যেই নাসিকের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ মোস্তফা আলী নিজেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নাসিকের আরেক মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিয়া ইসলাম জানান, সিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত মশক নিধন, ওষুধ প্রয়োগ ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে। পাশাপাশি অভিযান পরিচালনা করে জরিমানাও করা হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সারাদেশেই মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও বেশি। ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল ১০০ শয্যার হওয়ায় অতিরিক্ত রোগীদের শয্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু এ কারণে চিকিৎসা থেমে থাকতে পারে না। তাই যেভাবে সম্ভব, রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় র্যা বের (র্যাব-৫) সদস্যরা একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছেন, যা এক রাউন্ড গুলি ও ম্যাগাজিনসহ ছিল। র্যাবের সূত্র অনুযায়ী, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চারঘাটের মুক্তারপুর পাইকিংপাড়া এলাকার বিপ্লবের বালুঘাট সংলগ্ন একটি কলাবাগানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় ওই কলাবাগান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল (৭.৬৫ এমএম), এক রাউন্ড গুলি এবং একটি ম্যাগাজিন পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামতসমূহকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জিডি মূলে চারঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে তা স্থগিত করা হয়েছে। ক্রিস্টা গেইল পাইক ছিলেন টেনেসির একমাত্র নারী, যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছিল। গত দুই শতাব্দীতে ওই অঙ্গরাজ্যে কোনো নারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর হয়নি।
দেশের সুপ্রিম কোর্ট তার আপিল খারিজ করে দেওয়ার পর এবং গভর্নর ক্ষমা করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালত দণ্ডটি স্থগিত করে। বিচারপতিরা উল্লেখ করেছেন, মামলাটি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। স্থগিতাদেশ কতদিন পর্যন্ত বহাল থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
টেনেসিতে সাধারণত বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু এই পদ্ধতি দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে ক্রিস্টা চেয়েছিলেন সম্পূর্ণ নারীদের নিয়ে গঠিত ফায়ারিং স্কোয়াডের গুলিতে তার দণ্ড কার্যকর হোক।
১৮ বছর বয়সে এক সহপাঠীকে হত্যার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকে ৩২ বছর ধরে তিনি কারাগারে আছেন। সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী রূপসা পরিবহনের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন আব্দুস সামাদ (৪৫) নামের এক মোটরসাইকেল চালক। এ দুর্ঘটনায় আহত হন নুরুল ইসলাম নামের আরও একজন ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৯টার সময় কালীগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুস সামাদ ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বুজরুকমুন্দিয়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর বিশ্বাসের পুত্র। তিনি কালীগঞ্জ পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কুষ্টিয়াগামী দ্রুতগতির রূপসা পরিবহনের একটি বাস সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পৌঁছালে শহরের দিক থেকে আসা আব্দুস সামাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা নুরুল ইসলাম নামের অপর ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ জানান, খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌরসভায় কর্মরত আব্দুস সামাদের মরদেহ দেখতে পান।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় আহত অপর ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের জন্য ২৩টি হাতি হত্যার অনুমতি দিয়েছে বতসোয়ানা সরকার। প্রাণী অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হাতির বসবাস। বুধবার, দেশটি ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পরিবেশ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি অনুমতিপত্র প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ২৩টি হাতি ও অন্যান্য বন্য প্রাণী শিকারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব প্রাণী শিকার করে মাংস বিনামূল্যে বিতরণ করা যাবে। বতসোয়ানার হাতি সুরক্ষা সংগঠন এলিফ্যান্ট প্রোটেকশন সোসাইটির চেয়ারম্যান ওইতসে নাওয়া বিবিসিকে জানান, এই সিদ্ধান্ত বন্য প্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি বলেন, "হাতিদের আরো বেশি সুরক্ষা দরকার।"
নাওয়া আরও বলেন, উৎসবের খাবারের জন্য হাতি হত্যা করা হলে চোরাশিকার উৎসাহিত হতে পারে। এতে মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে সরকার অনুমতি দিলে হাতি হত্যা করা গ্রহণযোগ্য। তিনি উল্লেখ করেন, গুলি করে হাতিদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা হাতিদের সামাজিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্বাধীনতা দিবসের ভোজে হাতির মাংস পরিবেশন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে, দেশটিতে ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব চলছে, এবং রোগটির বিস্তার ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
উত্তর-পশ্চিম বতসোয়ানার পর্যটন শহর মাউনের প্রবীণ বাসিন্দা শেনাতশে মোনওয়েলা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, হাতির বদলে তার সম্প্রদায়ের জন্য মহিষ দেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, হাতির বিশেষ সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব রয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের মাংস বিতরণের ক্ষেত্রে বন্য প্রাণী ও গবাদি পশু রক্ষায় বতসোয়ানার ঐতিহাসিক ভূমিকা বিবেচনা করা উচিত ছিল। স্বাধীনতার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী গাবোরোনে কার্নিভাল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট ও ক্রীড়া আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ভোজেও বন্য প্রাণীর মাংস পরিবেশন করা হবে।
অনুমতি পাওয়া ২৩টি হাতি দেশের আটটি জেলার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত কতগুলো হাতি মারা হয়েছে, তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বতসোয়ানা সরকারের সঙ্গে বিবিসি যোগাযোগ করেছে। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় মানুষ হাতির মৃতদেহের চারপাশে জড়ো হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত হাতি থেকে মাংস কাটছিলেন। উত্তর বতসোয়ানার বন্য প্রাণীর জন্য পরিচিত চোবে জেলায় এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। এই এলাকা নামিবিয়া, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
ওই সংসদ সদস্য জানান, একটি স্কুলে স্থানীয় বাসিন্দারা হাতির মৃতদেহ থেকে সরাসরি মাংস সংগ্রহ করেছেন। তার মতে, এভাবে মাংস বিতরণ করলে সেখানে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হতে পারে। এতে বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমস্যায় পড়তে পারেন। তিনি মাংস ৫ বা ১০ কেজির প্যাকেটে প্রক্রিয়াজাত করে বিতরণের পরামর্শ দিয়েছেন, যা স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং সবার মধ্যে ন্যায্যভাবে মাংস ভাগ করা সহজ করবে।
সংসদ সদস্য সিমাসিকু মাপুলাঙ্গা ফেসবুকে হাতির মৃতদেহের পাশে মানুষের মাংস নেওয়ার ছবি প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতে মাংস বিতরণের ব্যবস্থা আরো সুশৃঙ্খল করার আহ্বান জানান। বতসোয়ানার কিছু এলাকায় হাতির মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। বিশেষ করে আইন মেনে শিকার করা প্রাণীর মাংস স্থানীয়ভাবে বিতরণ করা হলে মানুষ তা খেয়ে থাকেন। তবে এটি নিয়মিত খাবার নয়। বতসোয়ানায় বন্য প্রাণীর মাংসের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সাধারণত প্রাণীটি আইন মেনে শিকার করা হয়েছে—এটি প্রমাণ করতে পারলেই ওই মাংস বৈধভাবে রাখা যায়।
এবারের সিদ্ধান্তের পর বতসোয়ানায় বিপুলসংখ্যক হাতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়ে পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে। দেশটিতে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি হাতি রয়েছে। হাতির সঙ্গে বসবাসকারী স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, এসব প্রাণী ফসল ও সম্পত্তির ক্ষতি করে। কখনো কখনো মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। সরকারের দাবি, হাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষ ও বন্য প্রাণীর সংঘাত কমানোর একটি উপায় হলো নিয়ন্ত্রিত শিকার। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আয়ও তৈরি হয়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ান খামার সময়ে ২০১৪ সালে বতসোয়ানায় ট্রফি শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে পাঁচ বছর পর তার উত্তরসূরি মোকগোয়েতসি মাসিসির সময়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট দুমা বোকোর আমলেও শিকার চালু রয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি মাসিসিকে পরাজিত করেন। সরকার বলছে, শিকার থেকে পাওয়া অর্থ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও স্থানীয় উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হয়। পরিবেশ ও পর্যটনমন্ত্রী উইন্টার মোলৎসি গত বছর সংসদে জানিয়েছিলেন, বিশেষ হাতি শিকারের অনুমতি থেকে ২০২৫ সালে ১ কোটি ৫৬ লাখ পুলা আয় হয়েছে। এই অর্থ হাতি রয়েছে এমন এলাকার বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে।
তবে সংরক্ষণবাদী সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে, এভাবে হাতি শিকার দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কি না। অন্যদিকে, শিকার নীতির সমর্থকেরা বলছেন, হাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমস্যার দিকে আন্তর্জাতিক সমালোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ