মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৯ পি.এম
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু মন্তব্য করেছেন যে, শেখ হাসিনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলেছেন।
তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ ও অনিয়মের ফলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য মানসম্মত এবং নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর এ মজিদ উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বরকত উল্লাহ বুলু আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়; তাদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা প্রদান করা প্রয়োজন। শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীমা বরকত লাকি, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস এবং হাজিপুর এ মজিদ উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. আবু তাহের উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েল বাংলাদেশসহ একাধিক দেশ নিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করেছে।
আসন্ন ধর্মীয় ছুটির মৌসুমের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশের ভ্রমণের বিষয়ে নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে ইসরায়েল। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এনএসসি) এই অঞ্চলের দেশগুলোকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি ভ্রমণ নির্দেশনা জারি করেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই নির্দেশনায় ইসরায়েলি নাগরিকদের এসব দেশে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা পরিষদের দাবি, ইরান, হিজবুল্লাহ এবং হামাসের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার উসকানিমূলক প্রচারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষিতে আল-কায়েদা ও আইএসের মতো চরমপন্থি সংগঠনগুলো ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা এবং এশিয়ায় এককভাবে (লোন উলফ) হামলা চালানোর জন্য প্ররোচনা দিচ্ছে।
নিরাপত্তা পর্যালোচনায় ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে তুরস্ক, আজারবাইজান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানি কার্যক্রমের উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, জর্ডান, কাতার এবং মিসরকে ‘লেভেল ৪’ বা সর্বোচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে যাতায়াত এড়িয়ে চলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, ইসরায়েলিদের জন্য ইরাক, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া এবং লেবাননে সফর সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। পাশাপাশি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সৌদি আরব, সোমালিয়া, লিবিয়া এবং আলজেরিয়াকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকাভুক্ত করে নাগরিকদের সেগুলোতে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুন্দরবনের নিষিদ্ধ অঞ্চলে মাছ ধরার অপরাধে সাতজন জেলেকে আটক করেছে স্মার্ট টিমের বনক্ষীরা। সোমবার রাতে শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি স্টেশনের বাদামতলা অভয়ারণ্য খাল থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় জেলেদের কাছ থেকে মাছ ধরা জালসহ দুটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
আটক হওয়া জেলেদের মধ্যে আ. জলিল, জামাল গাজী, মনির গাজী, রিয়াদুল গাজী, মোশারেফ তালুকদার এবং জাকির হাওলাদার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাদের সকলের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অবস্থিত।
শরণখোলা রেঞ্জের স্মার্ট টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, সুপতি এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় বাদামতলা খালে মাছ ধরতে দেখা যায় জেলেদের। যেহেতু বামাদতলা খালটি অভয়ারণ্য ঘোষিত, সেহেতু সেখানে মাছ ধরার কারণে তাদের আটক করা হয়। তবে আটক জেলেরা বন বিভাগ থেকে বৈধ পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে জাল ও অন্যান্য মালামলসহ দুটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, বৈধ পাস থাকা সত্ত্বেও অভয়ারণ্যে প্রবেশ এবং মাছ ধরার অপরাধে আটক জেলেদের বিরুদ্ধে বন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সুন্দরবনের সব ধরনের অপরাধ দমনে বনরক্ষীদের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি স্মার্ট টিমের টহলও জোরদার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একই দিনে কাজাখস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দুটি অসাধারণ জয় এসেছে। চলমান অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপ হকিতে, মঙ্গলবার সকালে পুরুষ দলের ৪-২ গোলে জয় এবং বিকেলে নারী দলের ৪-০ ব্যবধানে জয় বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
পুরুষ দলের এই জয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুব বিশ্বকাপে খেলার জন্য বাংলাদেশের সমীকরণ কঠিন হয়ে পড়েছিল, কারণ টুর্নামেন্টে তারা টানা দুই ম্যাচে পরাজিত হয়েছিল। তবে কাজাখস্তানের বিরুদ্ধে এই জয় বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের বিশ্বকাপের আশা আবারও জাগিয়ে তুলেছে।
বাংলাদেশ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে। একের পর এক আক্রমণের মাধ্যমে কাজাখস্তানকে চাপের মধ্যে রেখেছে দলটি। বাংলাদেশের হয়ে গোল করেছেন শিমুল ইসলাম, মেহেদী হাসান অভি, তৈয়ব আলী এবং মুন্না ইসলাম।
এর আগে, টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক চীনের কাছে ৩-২ গোলে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৪-২ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। টানা দুই পরাজয়ে পয়েন্টশূন্য ছিল দলটি। কাজাখস্তানের বিপক্ষে এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছে।
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে। সেই ম্যাচের ফলাফল বাংলাদেশের পরবর্তী পর্বে প্রতিপক্ষ এবং অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নিয়ম অনুযায়ী, যুব এশিয়া কাপে ষষ্ঠ স্থান অর্জনকারী দলগুলো যুব বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। গত আসরে যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করেছিল।
অন্যদিকে, নারী দলও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। কাজাখস্তানকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে তারা টানা তৃতীয় জয় পেয়েছে। চ্যালেঞ্জার গ্রুপে বাংলাদেশ শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। শেষ ম্যাচে হংকংয়ের কাছে পরাজিত হলেও, পূর্ববর্তী তিন ম্যাচের জয়ের কারণে দলটির অবস্থানে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে করা অভিযোগে সমর্থন জানিয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো ইনফান্তিনোর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং কিছু বিতর্কিত ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
এই অভিযোগটি ‘রিবুট ফিফা’ নামের একটি প্রচারণার উদ্যোগে করা হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে শুরু হওয়া এই প্রচারণার উদ্দেশ্য ছিল ফিফার পরিচালনা ও শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে সংগঠনটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিযোগপত্র তৈরি করা।
মঙ্গলবার ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে নতুন করে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে দেওয়া চিঠিতে ‘ফেয়ার স্কয়ার’ নামের একটি অধিকারভিত্তিক সংগঠন কমিটিকে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ডে ফিফা সভাপতির ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দায়িত্বে ব্যর্থতা এবং দায়িত্বের প্রতি আনুগত্যের ঘাটতির প্রমাণ রয়েছে। অভিযোগের পক্ষে আটটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের ঘটনা রয়েছে। ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে তিনি ফিফাকে ওই লাল কার্ড পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন। এছাড়া ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক, ট্রাম্পকে ফিফার শান্তি পুরস্কার দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ ইনফান্তিনোর সম্পৃক্ততার বিষয়ও অভিযোগে স্থান পেয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও বলেছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করে ‘আমেরিকাকে মহান করার পাশাপাশি পুরো বিশ্বকে মহান’ করার বিষয়ে ইনফান্তিনোর বক্তব্যও তার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল, তবে ফিফার নৈতিকতা কমিটি এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নতুন অভিযোগটি নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্যের সমর্থন পেয়েছে।
এদিকে ফিফা অভিযোগগুলোকে সংগঠনটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফিফার ভাষ্য, সদস্য ফেডারেশনগুলোর সমর্থন না পাওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, ইঙ্গিত বা ভুল তথ্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো ফল অর্জনের চেষ্টা করা উচিত নয়।
চলমান বিতর্কের মধ্যেই আগামী বছর ফিফা সভাপতির পদে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ইনফান্তিনো। তার পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে উয়েফাসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ