০৭:৪২ পি.এম
মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ ও অহিংসার দর্শন প্রচারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মহাত্মা গান্ধী গুডউইল অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, সাংবাদিক ও লেখক ফারুক মেহেদী। আজ রবিবার, মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত আলোচনা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথিরা তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট।
বিশ্বজুড়ে সহিংসতা, সংঘাত ও বিভাজনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে মহাত্মা গান্ধীর অহিংসা, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের দর্শন নতুনভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে আজও শান্তিকামী মানুষের পথপ্রদর্শক। এ অনুষ্ঠানটি তার জীবন ও আদর্শের তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী শান্তি ও সম্প্রীতির অগ্রদূত। তার আদর্শ আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা আমাদের কাছে অনেক বেশি। দেশে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চর্চা বাড়াতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
বিশেষ অতিথি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে অবস্থিত। তিনি ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে আশ্রমের পাহারাদার মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘গান্ধী আশ্রমকে ঘিরে ভবিষ্যতে আমরা একটি পর্যটন বলয় গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দিতে চাই। তিনি চিরঞ্জীব। তাঁর অহিংসার আদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার বাধে মন্তব্য করেন, বিভেদ ও সংঘাতের বিপরীতে শান্তি, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির চর্চাই মানবিক সমাজ নির্মাণের অন্যতম শর্ত। মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও কর্ম সেই চিরন্তন সত্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
সম্মাননা গ্রহণের সময় ফারুক মেহেদী বলেন, ‘পুরস্কার সব সময়ই আনন্দের। মহাত্মা গান্ধীর মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি সারা জীবন অহিংস ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসারে কাজ করেছেন, তার নামে আমাকে মহাত্মা গান্ধী গুডউইল অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। এটিকে আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিন বলে মনে করি।’
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিজনেস সাংবাদিকতার পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ অনুসরণ করে কাজ করার চেষ্টা করছি। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তার আদর্শ প্রচারেও কাজ করেছি। তার জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত আমার প্রামাণ্যচিত্র ‘শান্তির অগ্রদূত’ এ ক্ষেত্রে অন্যতম কাজ। আমাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার এ বি এম হামিদুল মেজবাহ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সিইও ও পরিচালক রাহা নবকুমার।
ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন ২ অক্টোবর। এ দিনটি জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব অহিংসা দিবস হিসেবেও বিশ্বজুড়ে পালিত হয়।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন