মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৩ পি.এম
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে টিপিএলএফ যোদ্ধারা একটি কৌশলগত শহর দখল করার খবর পাওয়া গেছে।
ইথিওপিয়ার সেনাপ্রধান অভিযোগ করেছেন যে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়া, সুদান ও মিসর বিদ্রোহীদের সহায়তা করছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইথিওপিয়ান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ ফিল্ড মার্শাল বিরহানু জুলা শুক্রবার ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে টিপিএলএফকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরিত্রিয়া ও টিপিএলএফের জন্য সুদান এবং মিসরের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। এর মাধ্যমে সংঘাতে বাইরের দেশগুলোর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নির্দেশিত হচ্ছে বলে তিনি জানান। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রদান করেননি।
২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টিপিএলএফ এবং ইথিওপিয়ার ফেডারেল বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হয়। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি সই হয়। চুক্তির পর তিগ্রাইয়ের রাজধানী মেকেলেতে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের প্রতি অনুগত একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করা হয়।
তবে এরপরও দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মেকেলের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে টিপিএলএফ। এদিকে, টিপিএলএফ যোদ্ধারা উত্তরাঞ্চলীয় আফার অঞ্চলের কৌশলগত শহর এরেবতি দখল করেছে বলে এক কমান্ডার জানিয়েছেন। সোমবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি এ তথ্য জানান। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কমান্ডার নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন।
টিগ্রাই পিস ফোর্সের একজন কর্মকর্তা বিদ্রোহীদের হাতে এরেবতি শহরের নিয়ন্ত্রণ যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। টিগ্রাই বিদ্রোহীদের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে পরিচিত এই বাহিনী বর্তমানে আফার অঞ্চলে ফেডারেল সরকারের বাহিনীর সঙ্গে জোটবদ্ধ। তবে শহরটি দখলের সময় সেখানে বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ হয়নি বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা।
এদিকে, ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে সংঘর্ষের কারণে আহত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)।
সোমবার এমএসএফ জানায়, কোরেম ও আলামাতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ থেকে বেড়ে ৪২০-এর বেশি হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, গত সপ্তাহে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুহুল হাসপাতালে প্রায় ৩০০ জন আহত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে।
আফার পশুপালক উন্নয়ন সমিতির সহপ্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি ব্রাউনিং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে প্রায় দেড় লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এদিকে, ইথিওপিয়ার ফেডারেল সরকার টিপিএলএফের বিরুদ্ধে দেশকে অস্থিতিশীল করতে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টা করার অভিযোগ করেছে। ইরিত্রিয়ার আসাব সমুদ্রবন্দরে সরাসরি প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের প্রচেষ্টাকে ঘিরেও দুই দেশের মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তিগ্রাই অঞ্চলের সঙ্গে ইরিত্রিয়ার সীমান্ত রয়েছে। একই সঙ্গে সোমালিল্যান্ডের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য ইথিওপিয়ার উদ্যোগও সোমালিয়ার সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের দায় অন্য দেশের ওপর চাপানোর অভিযোগ করেছে ইরিত্রিয়া। দেশটির তথ্যমন্ত্রী ইয়েমানে মেসকেল এক্সে এক পোস্টে বলেন, সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য ইথিওপিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ ইরিত্রিয়া ও সোমালিয়ার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সুদানের মিলিশিয়াদের সহায়তার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ইথিওপিয়া প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে, ইথিওপিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী। এক বিবৃতিতে বাহিনীটির একজন মুখপাত্র দাবি করেন, বরং ইথিওপিয়াই সুদানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা মিলিশিয়াদের সমর্থন দিচ্ছে। তার এই বক্তব্য মূলত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) দিকে ইঙ্গিত করে। ২০২৩ সাল থেকে আরএসএফ সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। এর আগে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিগ্রাই সংঘাতে ইরিত্রিয়ার সেনারা ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে মিলে টিপিএলএফের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।
ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ওই সংঘাতে সহিংসতা, দুর্ভিক্ষ এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে প্রায় ৫ লাখ বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ব্রাজিল শেষ মুহূর্তে ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল। আজ মঙ্গলবার, তিন দিন পর, আবারও একই দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সেলেসাওরা। প্রথম ম্যাচের খারাপ পারফরম্যান্সের পর, দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাজিলের একাদশে বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
টুর্নামেন্টের পর দলকে নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্যে আনচেলত্তি অনেক পরিবর্তন আনতে চলেছেন। ডানপ্রান্তের ডিফেন্ডার ওয়েসলি চোটের কারণে দলে নেই। তার পরিবর্তে শেষ মুহূর্তে মোনাকোর ভান্দেরসনকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডান প্রান্তে তার শুরুতে একাদশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
দলের সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য আনচেলত্তি আরও কিছু পরিবর্তন করতে পারেন। আগের ম্যাচে যোগ করা সময়ে নাটকীয় সমতাসূচক গোল করা রায়ানকে শুরুর একাদশে জায়গা দেওয়ার কথা রয়েছে।
মাঝমাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আন্দ্রে সান্তোস দানিলোর জায়গায় ফিরতে পারেন। তিনি মাঠের মাঝখানে ব্রুনো গিমারেশের সঙ্গে জুটি বাঁধবেন।
এত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যেও, ব্রাজিলকে তাদের বড় তারকাদের ওপর ভরসা রাখতে হবে। ভিনিসিউস জুনিয়র ও রাফিনিয়া দুজনেরই শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। স্ট্রাইকার এনদ্রিকের পেছনে মাঝমাঠের সৃজনশীল ভূমিকায় রাফিনিয়া থাকবেন। অস্ট্রেলিয়ার জমাট ও নিচু রক্ষণ ভাঙার দায়িত্ব তার ওপরই বর্তাবে।
ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ
সুজা;
ভান্দেরসন, মারকিনিওস, গাব্রিয়েল, দে সান্তোস;
গিমারেশ, এ. সান্তোস;
রায়ান, রাফিনিয়া, ভিনিসিউস জুনিয়র;
এনদ্রিক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ ১১১ বছরের ব্যবধানে ইতালির জাতীয় দলের জার্সিতে একসঙ্গে মাঠে নামলেন দুই ভাই। উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে তুরস্কের বিরুদ্ধে পিও এস্পোসিতো এবং সেবাস্তিয়ানো এস্পোসিতোকে শুরুর একাদশে সুযোগ দেন আজ্জুরি কোচ রবার্তো মানচিনি। এই দুই ভাইয়ের মাধ্যমে এস্পোসিতো পরিবার বিশ্ব ফুটবলে একটি অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ইতালির সিনিয়র জাতীয় দলে তিন ভাইয়ের খেলার বিরল কীর্তি এখন শুধুমাত্র তাদের দখলে রয়েছে।
তুরস্কের বিরুদ্ধে ইতালির ৪-১ ব্যবধানের উড়ন্ত জয় নিশ্চিত করতে পিও এবং সেবাস্তিয়ানো শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। ১৯১৫ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আলদো চেভেনিনি ও লুইজি চেভেনিনি একসঙ্গে ইতালির শুরুর একাদশে খেলেছিলেন। এরপর এক শতকেরও বেশি সময় ধরে কোনো দুই ভাইকে আ্যজুরিদের একাদশে একসঙ্গে দেখা যায়নি। ২০০০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিলিপ্পো ইনজাঘি ও সিমোনে ইনজাঘি একসঙ্গে ১১ মিনিট মাঠে থাকলেও তারা মূল একাদশে ছিলেন না।
তবে ইনজাঘি কিংবা চেভেনিনিদের ছাড়িয়ে এস্পোসিতো পরিবার আরও বড় কীর্তি গড়েছে। পরিবারের বড় ভাই সালভাতোর এস্পোসিতো ২০২২ সালে মানচিনির অধীনেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ইতালির জার্সিতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। এরপর জাতীয় দলের নীল জার্সিতে নাম লেখান ছোট দুই ভাই সেবাস্তিয়ানো ও পিও। ফলে ইতালির ফুটবল ইতিহাসে প্রথম পরিবার হিসেবে তিন ভাইকে জাতীয় দলে খেলানোর অসামান্য গৌরব অর্জন করল এস্পোসিতোরা।
অন্যদিকে, তুরস্কের বিপক্ষে এই বড় জয়টি কোচ রবার্তো মানচিনির জন্যও ছিল বেশ স্বস্তির। ইতালির ডাগআউটে পুনরায় ফেরার পর এটি তার প্রথম জয়। ম্যাচের প্রথমার্ধেই আলেসান্দ্রো বাস্তোনি, দাভিদে ফ্রাত্তেসি এবং অভিষিক্ত মাইকেল কায়োদের গোলের মাধ্যমে ইতালি ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
বিরতির পর ফিরতি বলে নিখুঁত হেডে দলের চতুর্থ গোলটি সম্পন্ন করেন পিও এস্পোসিতো। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম ঘরের বাইরে অ্যাওয়ে ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জিতল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস মন্তব্য করেছেন যে, পশ্চিমা গণমাধ্যমের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ বা ‘Fourth Estate’ ধারণা এখন কার্যকর নয়। তার মতে, গণমাধ্যমের কাজ শুধুমাত্র তথ্য প্রদান করা নয়, বরং জনমতকে নির্দিষ্ট দিকে প্রভাবিত করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব গণমাধ্যম: নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন।
গ্রেগরি জে. সিমনস বলেন, পশ্চিমের গণমাধ্যম সম্পর্কে প্রচারিত কিছু আদর্শিক ধারণা, যেমন ‘চতুর্থ স্তম্ভ’, সম্পূর্ণরূপে নিরর্থক। উন্নত বিশ্বে কার্যকর কোনো ‘চতুর্থ স্তম্ভের’ ধারণা বর্তমানে মৃত।
তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিকল্প পরিসর তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রচলিত গণমাধ্যমের বয়ানকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে টাকার কার্লসন ও জাজ নাপোলিটানোর মতো ব্যক্তিদের উদাহরণ দেন তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সিমনস বলেন, পশ্চিমে ধারণা দেওয়া হয় যে গণমাধ্যমের কাজ তথ্য জানানো। কিন্তু বাস্তবে তাদের কাজ হচ্ছে তথ্য জানানো নয়, বরং জনমতকে প্রভাবিত করা।
তার ভাষ্য, গণমাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে জনমতকে এমন কিছু কর্মকাণ্ডের পক্ষে প্রভাবিত করতে, যেগুলোর নৈতিক, আইনি বা নীতিগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
যুদ্ধের ক্ষেত্রে তথ্য ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যেখানে তথ্যকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে একটি নির্দিষ্ট উপায়ে ভাবানো এবং সেই অনুযায়ী কাজ করানো হয়।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে সিমনস বলেন, যুদ্ধ শুধুমাত্র সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়; এর পাশাপাশি তথ্যের ক্ষেত্রেও লড়াই চলে। তার মতে, প্রতিপক্ষের বয়ান বা ‘ন্যারেটিভ’ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সংঘাতের ব্যাখ্যাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, "আপনি যদি পরিবেশের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে পারেন, তবে আপনি যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারবেন। আর যদি প্রতিপক্ষ আপনাকে সংজ্ঞায়িত করে ফেলে, তবে আপনি তাদের বর্ণনার কবলে বন্দী হয়ে পড়বেন।"
পশ্চিমা রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিমনস। তিনি বলেন, "কোনো সাম্রাজ্য বা সভ্যতার পতনের অন্যতম লক্ষণ হলো রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।" ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্ব সম্পর্কেও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেন।
পশ্চিমা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯০-এর দশকে পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের শিল্প উৎপাদন বিদেশে স্থানান্তর করেছিল, যার সুবিধা পেয়েছে চীন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরেশিয়া অঞ্চলে গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্তম্ভ হলো রাশিয়া, চীন ও ইরান।
পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যম সম্পর্কে সিমনস বলেন, পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যম নিজেদের কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়ার পাশাপাশি তথ্যকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কৌশলগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ উপন্যাসের তুলনাও করেন তিনি।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রসঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন সিমনস। এসব বিষয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি।
তার দাবি, কৌশলগত লড়াইয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ইতিমধ্যেই হেরে গেছে। এ পরিবর্তনের পেছনে বিকল্প গণমাধ্যম ও গ্লোবাল সাউথের গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে সিমনস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি নৌ ও বিমান বাহিনী। তার মতে, ইরানের মতো বড় ভূখণ্ডের একটি দেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের সামরিক সক্ষমতার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সংঘাত দুটি স্তরে পরিচালিত হচ্ছে। একটি হচ্ছে বাস্তব সামরিক যুদ্ধ এবং অন্যটি তথ্য ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মোট ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতসহ ৫টি রাজনৈতিক দল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ্ মাসুদ, ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুল আলীম নিজামী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ