শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩১ পি.এম
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য এবং পেশাগত অনিশ্চয়তা দূর করার জন্য বক্তারা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য একটি জাতীয় ন্যূনতম বেতন কাঠামো প্রণয়ন, নিয়োগ ও কর্মপরিবেশের লিখিত নীতিমালা এবং পেশাগত প্রশিক্ষণসহ ছুটি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে রুটস অ্যান্ড রুটস ফাউন্ডেশনের (আরএনআর ফাউন্ডেশন) আয়োজনে ‘কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য: একটি জাতীয় সংকটের রূপরেখা’ শীর্ষক উন্মুক্ত সেমিনারে বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন।
সেমিনারে ঢাকার উত্তরখানের জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলামের মহাপরিচালক মাওলানা তোফায়েল গাজালী মন্তব্য করেন, ‘মাদ্রাসা কারও বাবার সম্পদ নয়। যারা মাদ্রাসায় পড়ান, তারা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল কর্মী নন। তারা একটি প্রজন্মকে শিক্ষা দিচ্ছেন। তাই তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসার স্বায়ত্তশাসন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখে শিক্ষকদের বেতন, কর্মঘণ্টা, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি। মাদ্রাসার নামে স্বায়ত্তশাসন থাকবে, কিন্তু শিক্ষকরা মানবেতর বেতন পাবেন, এই ব্যবস্থা চলতে পারে না।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, কওমি মাদ্রাসার বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অত্যন্ত কম বেতনে দীর্ঘ সময় ধরে পাঠদান করে আসছেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের মাসিক বেতন এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা তার ন্যূনতম জীবনযাপন ব্যয় মেটানোর জন্যও যথেষ্ট নয়। অথচ এসব শিক্ষক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন শিক্ষা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করছেন।
তারা আরও বলেন, কওমি শিক্ষকদের বেতন ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। ফলে সমস্যাটির প্রকৃত আকার নির্ধারণ এবং কার্যকর নীতি প্রণয়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ জন্য দ্রুত একটি জাতীয় জরিপ পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
সেমিনারে মহিলা কওমি মাদ্রাসার নারী শিক্ষকদের বেতন ও কর্মপরিবেশ পৃথকভাবে জরিপ করে লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য দূর করতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আরএনআর ফাউন্ডেশনের প্রধান মাওলানা সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
সেমিনারে আলোচনা করেন, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী, ধানমণ্ডি তাকওয়া মসজিদের খতিব মাওলানা সাইফুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক আশরাফ মাহদী, বাংলাদেশ গ্রীণ পার্টির আহ্বায়ক রিদওয়ান হাসান, মীর হুজাইফা, হাফেজ কেফায়েত, আবদুস সাত্তার আইনী, আবদুল গাফফার, সাঈদ আবরার নদভী, আহমাদ গালিব, জাওয়াদ আহমাদ, রুহুল আমিন সাদী, আনছারুল হক ইমরান, শারাফাত শরীফ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের শিক্ষাগত ও নৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখছেন। তাদের পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা শুধু শিক্ষকদের স্বার্থের বিষয় নয়, এটি দেশের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
আরএনআর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কওমি মাদ্রাসার স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে শিক্ষক সমাজের বেতন বৈষম্য, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি বাস্তবসম্মত জাতীয় নীতিগত আলোচনা এখন সময়ের দাবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরখোলাবাড়িয়ায় রাস্তা থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ ইট তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে কুদ্দুসকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি আলহাজ খন্দকার নাসিরুল ইসলাম।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দিগনগর ঘাট থেকে ট্রলারযোগে মধুমতি নদীর ভাঙনকবলিত চরখোলাবাড়িয়া এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। পরে আল হেলা দাখিল মাদ্রাসার হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ দাবি জানান।
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, আমি পুলিশ প্রশাসনকে বলব, ইউএনওকে বলব,অনতিবিলম্বে কুদ্দুসকে গ্রেপ্তার করতে হবে।” তিনি বলেন, রাস্তা থেকে বিপুল পরিমাণ ইট তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
নদীভাঙনের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনারা আমাকে ভোট না দিলেও আমার মনটা আমার এলাকার মানুষের জন্য কাঁদে। মানুষের বাড়িঘর, চাষাবাদের জমি, বসতভিটা, সবকিছু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আপনারা যেমন চোখের পানি ফেলছেন, আমার চোখ দিয়ে হয়তো পানি পড়ছে না, কিন্তু আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চরখোলাবাড়িয়ার নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। পরদিন পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ভাঙন পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা করবেন বলেও জানান।
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, যা ভেঙেছে, তা তো ভেঙেই গেছে। কিন্তু সামনে আর ভাঙন রোধ করা যায় কি না, সেই চেষ্টার জন্য কাল থেকেই আমি লাগব।
এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “উপায় নাই ভাই, ধৈর্য ধরতে হবে। একমাত্র আল্লাহর কাছে আল্লাহর রহমত চাইতে হবে।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান খসরু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব, উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন, প্রচার সম্পাদক নিয়ামত হোসেন পারভেজ, পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান কদর, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লিটন মোল্যা, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম ও স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন মিয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা শাখা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটি শহরের বনরূপায় ইসলামিক সেন্টারের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও দেশপ্রেমে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার অফিস সম্পাদক জালাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফ্যাকাল্টি অব সোশ্যাল সায়েন্সের ডিন ড. এনায়েত উল্লাহ পাঠওয়ারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙামাটি পার্বত্য জেলা আমীর আব্দুল আলীম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ সম্পাদক নোমান হোসেন নয়ন, সোহরাওয়ার্দী হলের ভিপি নেয়ামতুল্লাহ আবরার এবং সংগঠনটির সাবেক দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সাফি।
বক্তারা বলেন, ভালো ফলাফল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও শুধু ফলাফলের মধ্যে সাফল্য সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। অর্জিত মেধা ও জ্ঞানকে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এনায়েত উল্লাহ পাঠওয়ারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তোমাদের হাত ধরেই আগামী দিনের দেশ গড়ে উঠবে। তাই ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের সময়োপযোগী করে তুলতে হবে।’
বক্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং সময়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বাবা-মা ও শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সৎ, নৈতিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার জন্যও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ও কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, আমন্ত্রিত অতিথি এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নয়াদিল্লি, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশের হাইকমিশনের উদ্যোগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে ‘ইলিশ ফেস্ট’।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘এ ফিশ কলড ইলিশ’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
আজ শনিবার হাইকমিশনের মৈত্রী মিলনায়তনে আয়োজিত এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন ভারতীয় রাজনীতিক, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক এম জে আকবর, সাবেক কূটনীতিক ও রাজনীতিক মণি শংকর আইয়ার, মানবাধিকারকর্মী ও সমাজচিন্তক সৈয়দা হামিদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত রণেন সেন এবং বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী আশিস নন্দীসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বইটির মোড়ক উন্মোচন শেষে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মু. রিয়াজ হামিদুল্লাহ মন্তব্য করেন, "ইলিশ বাংলাদেশের পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতির সঙ্গে মিশে আছে।"
তিনি আরও বলেন, "দেশে বর্তমানে ইলিশের পাঁচটি অভয়াশ্রম রয়েছে। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগে ইলিশের সংরক্ষণ ও উৎপাদন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।"
বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও খাদ্যরসিকতার অন্যতম অনুষঙ্গ ইলিশকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইলিশের বিভিন্ন পদের পাশাপাশি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও রন্ধনশৈলীর বৈচিত্র্য উপস্থাপন করা হয়।
এর মাধ্যমে ভারতের বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের সামনে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও আতিথেয়তা তুলে ধরা হয়। অতিথিরা ইলিশের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্যের নানা দিক উপভোগ করেন এবং এ আয়োজনের ব্যাপক প্রশংসা করেন।
এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উৎসবে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।" প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধ বন্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে কাজ করতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনার বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে ‘এক্সপ্লোর-২’ জাহাজে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। বিশেষ করে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার বন্ধে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি ট্যুর অপারেটরদেরও আহ্বান জানান, যেন পর্যটকদের মাধ্যমে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত না হয়।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, "সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত রেখেই এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, সুন্দরবনে এক দিনে সর্বোচ্চ কতজন পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন, তা নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ যাতে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী সুন্দরবনে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক, ওয়ানটাইম প্লেট ও গ্লাসের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা দেন। তিনি পর্যটকবাহী নৌযানগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর এবং ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থায় ট্যুর পরিচালনার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী সুন্দরবনে পর্যটকদের অবস্থানের সময় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন। তিনি দীর্ঘ সময় একই এলাকায় অবস্থানের পরিবর্তে ট্যুরের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি সুন্দরবনে পর্যটন বন্ধ থাকার সময়ে খুলনা ও বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্র ট্যুর প্যাকেজের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন।
মতবিনিময় সভায় ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সদস্যরা সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তারা প্রতিবছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখার সময়সীমা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
টোয়াসের সাধারণ সম্পাদক শাহ জামান পপুলসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ সময় সুন্দরবনে পর্যটন বন্ধ থাকায় ট্যুর অপারেটর, পর্যটকবাহী জাহাজের মালিক, গাইড, মাঝি এবং এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের আয় ও ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তারা নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পুনর্বিবেচনা, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে পরিকল্পিত ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস)- এর নেতৃবৃন্দ, ট্যুর অপারেটর সংগঠনের অন্যান্য সদস্য, সুধীজন এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ