শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৬ পি.এম
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর কাদামাটিতে ভরা একটি সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দেশটির আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেপাল সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেত জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী এবং বিদেশি উদ্ধারকারীদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ উদ্ধারকারী দল লুহাইতো নামের ওই চীনা নাগরিককে সুড়ঙ্গের ২২৫ মিটার গভীর থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
উদ্ধার হওয়া ওই চীনা নাগরিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাজারাম বাসনেত জানান, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটিতে আরও উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
এদিন নেপালের বেত্রবতীতে কাদামাটিতে ডুবে থাকা একটি চারতলা ভবনের ওপরের তলা থেকে চান্দিকা শ্রেষ্ঠা (৬০) নামে এক নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) হিমবাহধসের পর সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের নয় দিন পর ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে সঞ্জয় শাহ এবং কবির মহারাজন রয়েছেন। জানা গেছে, সঞ্জয় শাহ নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী।
গত ২৬ আগস্ট নেপালে এই ভয়াবহ দুর্যোগ শুরু হয়। এতে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারীরা এখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে কাজ করছেন।
নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া সিমেন্টসহ ১২ জন পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ সব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, একই দিন ভোরে ভোরে হাতিয়া থানাধীন মেঘনা নদীতে কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়ার সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
কোস্ট গার্ড জানায়, শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালীর হাতিয়া থানাধীন মেঘনা নদীতে কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়ার সদস্যরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে ওই এলাকায় সন্দেহজনক দুটি বোটে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা ৫৯৫ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। এসব সিমেন্টের ২৯ হাজার ৭৫০ কেজি এবং আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা। একই সঙ্গে পাচারকাজে ব্যবহৃত দুটি বোটসহ ১২ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও বলেন, জব্দ করা সিমেন্ট, বোট ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, সমাজে যে কোনো অর্জনের স্বীকৃতি প্রদান করলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, সমাজের সব ক্ষেত্রে ‘আমি’র পরিবর্তে আন্তরিকভাবে ‘আমরা’ শব্দটি ধারণ ও ব্যবহার করা গেলে সমাজ আরও সুন্দর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) ১০ম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ও সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বিলসের প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন এবং অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এমপি।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সেখানে সমাজের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনোভাবে শ্রমিক। তাদের শ্রমের ধরন ও ক্ষেত্র কেবল ভিন্ন।
তিনি বলেন, সরকার প্রান্তিক শ্রমিক, অসহায় ও দুস্থ মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার থেকে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, ন্যায্য মজুরি কোনো করুণা নয়, বরং এটি শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য। তিনি বলেন, সাড়ে সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আস্থায় নির্বাচিত বর্তমান সরকার তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, টেকসই শিল্প ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং নিয়মিত ত্রিপক্ষীয় সংলাপ অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় সংস্কার এনে সব শ্রমিকের আইনি স্বীকৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, কর্মক্ষেত্রে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বক্তারা যেকোনো মূল্যে শিশুশ্রম সম্পূর্ণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান লাইব্রেরি ও বিলস তথ্যকেন্দ্র’ উদ্বোধন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাটে আবাদি জমিতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মরদেহ গুমের চেষ্টার অভিযোগে মামলার প্রধান অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মৃধা (৩৫)কে ফরিদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরে র্যাব-১০-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
গ্রেফতার রফিকুল ইসলাম মৃধা রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দঘাট থানার আইনুদ্দিন প্রামাণিক পাড়ার মৃত জলিল মৃধার ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে গোয়ালন্দঘাট থানার চর দৌলতদিয়া এলাকায় বসবাসকারী নবিরন নেছা (৫৫) বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করতে যান। সন্ধ্যার পর তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম মৃধার জমির পাশের আখক্ষেতের পানিতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নবিরন নেছাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশপাশে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রফিকুল ইসলাম মৃধার জমির আখক্ষেতের চারপাশে জিআই তার দিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগ, ওই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের তারের সংস্পর্শে এসেই নবিরন নেছার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহটি ধানক্ষেত থেকে টেনে আখক্ষেতে নেওয়া হয়। এমনকি মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে আখক্ষেতের পাশে গর্ত খননেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য র্যাব-১০-এর কাছে অধিযাচনপত্র পাঠান।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানাধীন বেপারীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের দাবি, অধিযাচনপত্র পাওয়ার মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
র্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, অপরাধ দমনে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে নড়াইলে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণের সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্টের আয়োজনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, শোভাযাত্রা, নূর মোহাম্মদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, গার্ড অব অনার প্রদান, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপন করা হয়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল দুপুর পর্যন্ত থেকে নূর মোহাম্মদ নগরে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
নড়াইল জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ স্কুল ও কলেজসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নূর মোহাম্মদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-জেলা পরিষদ প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আছাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহসান মাহমুদ রাসেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর ই আলম সিদ্দিকী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার টি. এম. রাহসিন কবির, বীরমুক্তিযোদ্ধা তবিবুর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মাদ শেখের ছেলে এস এম গোলাম মোস্তফা কামাল, নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ সরদার, সাজ্জাদুর রহমান রিপনসহ অনেক।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সূর্য্যসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। তার অবদান স্মরণ করে দেশ ও জনকল্যাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণের সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শাহাদাতববরণ করেন। এদিন পাকবাহিনীর গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলেও হাতে এলএমজি এবং আহত নান্নুকে কাঁধে নিয়ে শত্রুপক্ষের দিকে গুলি ছুঁড়তে থাকেন নূর মোহাম্মদ। হঠাৎ পাকবাহিনীর মর্টারের আঘাতে তার হাঁটু ভেঙ্গে যায়। তবুও গুলি চালাতে থাকেন তিনি। এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নূর মোহাম্মদ শেখ। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হন তিনি। লাল-সবুজের মাঝে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে আজো বেঁচে আছেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
এদিকে, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা, মতান্তরে জেন্নাতা খানম। বাল্যকালেই বাবা-মাকে হারান তিনি। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। তার দুই স্ত্রীর কেউই বেঁচে নেই। বর্তমানে এক ছেলে ও তিন মেয়ে আছেন। তারা নড়াইল ও যশোরে বসবাস করেন।
এই বীরশ্রেষ্ঠের গ্রামের নাম পরিবর্তন করে ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ করা হয়। সেই থেকে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে গ্রামটিতে। এখানে নির্মিত হয়েছে-বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। এছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ। ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ জাদুঘরটি উদ্বোধন হয়। এছাড়াও নূর মোহাম্মদের বসতভিটায় নির্মিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ