ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভরা মৌসুমেও পদ্মা-যমুনায় ইলিশের সংকট, হতাশ জেলেরা


ভরা মৌসুমেও পদ্মা-যমুনায় ইলিশের সংকট, হতাশ জেলেরা

এবার ইলিশের ভরা মৌসুমেও পদ্মা-যমুনা নদীতে কাঙ্খিত ইলিশের দেখা মিলছে না। নদীতে জাল ফেলে হতাশ হয়ে ফিরছেন জেলেরা। দাদনের বেড়া জালে চিন্তিত দরিদ্র জেলেরা। ভাদ্র-আশ্বিন এই দুই মাস ইলিশের ভরা মৌসুম হিসেবে পরিচিত। এ সময় জেলের জালে ঝাকে ঝাকে চকচকে রূপালী ইলিশ ধরা পড়ার কথা। মাছের আড়তগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠার কথা ছিল।

কিন্তু এ বছর আরিচা ঘাটের যমুনা নদীর তীরে মাছের আড়তে ইলিশের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। স্থানীয় বাজারগুলোতেও ইলিশের চরম সংকট চলছে এবং দামও অনেক চড়া। যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কাঙ্খিত ইলিশ না পাওয়ায় জেলেরা দিন-রাত নদী চষে বেড়ালেও তাদের জ্বালানি খরচ উঠছে না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা। পদ্মা-যমুনার তীরবর্তী মাছের আড়তগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন আরিচা ঘাটের আড়তদার ও পদ্মা-যমুনা মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত জেলেরা।

ইলিশের এমন সংকটের পেছনে মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, নদী ভরাট হয়ে গভীরতা কমে যাওয়া, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে নির্বিচারে মাছ ধরা, নদীর তলদেশে খাদ্য সংকট এবং নদীর পানি দূষণসহ অন্যান্য কারণে ইলিশের সংকট দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কারাগারে ফিরলেন সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, পলক ও মামুন

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বর্ষাকাল চলছে। পদ্মা-যমুনায় পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। নদীতে মাছ শিকারি জেলে নৌকার আনাগোনা রয়েছে। কিন্তু এ দৃশ্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘশ্বাস এবং হতাশার কালো মেঘ। কারণ ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে কাঙ্খিত চকচকে রূপালী ইলিশ উঠছে না। দিন-রাত নদীতে জাল ফেলে ইলিশের দেখা মিলছে না। এতে জেলেদের জ্বালানি খরচসহ খোরাকিই উঠছে না। হতাশায় হাবু-ডুবু খাচ্ছেন ঋণগ্রস্থ্য জেলেরা।

এদিকে মৌসুমের শুরুতেই মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়েছিলেন যেসব জেলেরা, তাদের ঋণের বোঝা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এ প্রতিনিধিকে এমন তথ্যই জানিয়েছেন শিবালয় উপজেলার পদ্মা-যমুনায় মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত জেলেরা।

শুক্রবার সকালে আরিচা ঘাটের আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, পদ্মা-যমুনার অল্প কিছু মাছ উঠেছে। কাক ডাকা ভোরে জেলেদের নৌকা তীরে এসে ভীড়া দেখে আড়তদাররা আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু নদীতে টানা ১০-১২ ঘণ্টা জাল ফেলে দু’/একজন ১/২টি ইলিশ মাছ নিয়ে আসেন। বাকীরা কেউ শূন্য হাতে ফিরেন, না হয় অন্য মাছ নিয়ে আসেন। একটি জেলে নৌকায় ৩ থেকে ৫ জনের একটি টিম থাকে। এতে অনেক খরচ হয়। এর মধ্যে জ্বালানিসহ অন্যান্য খরচ তুলতে জেলেরা আড়তে এনে ইলিশ মাছের চড়া দাম হাঁকেন। চড়া দামে মাছ ক্রয়ের পরে পাইকাররাও চড়া দামে কিনে নিয়ে আবার চড়াদামেই বিক্রি করেন সাধারণ মানুষের কাছে।

আরিচা ঘাটের আড়ৎদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতবছর ১ কেজি ইলিশের দাম ছিল ১ হাজার টাকা। বর্তমানে সেই একই ইলিশের দাম ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগে পদ্মা-যমুনার প্রতি কেজি ইলিশ ৩৮শ’ থেকে ৪হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে খুলছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দ্বিতল সড়ক, টোল নির্ধারণ

শিবালয় উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, শিবালয়ের জাফরগঞ্জ পাল পাড়া থেকে বাল্লা মালুচি পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা ইলিশের বিশেষ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্ষার এ সময় শিবালয় উপজেলার পদ্মা-যমুনার উক্ত এলাকাজুড়ে ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। উপজেলায় নিবন্ধিত কার্ডধারী জেলে রয়েছে ৪ হাজার ২শ’ জন এবং এর বাইরেও আরো অনেক জেলে রয়েছে। শিবালয়ে পর্যাপ্ত মাছের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন অনেক কম। গত ২০২৪ -২০২৫ অর্থ বছরে শিবালয় উপজেলায় ৪শ’ ৯৯ মেট্রিন টন ইলিশ মাছ উৎপাদন হয়েছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বছরে দুইবার জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। গত অর্থবছরে মা ইলিশ সংরক্ষণের সময় ২ হাজার ১শ ১৪ জন জেলে পরিবারকে মাসে ২৫ কেজি করে দুই মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ঝাটকা সংরক্ষণের সময় ৬শ’ ৫০জন জেলে পরিবারকে প্রতি পরিবারকে ৮০কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এছাড়া, এসব জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে প্রকল্পের মাধ্যমে গরু, বাছুরসহ বিভিন্ন ধরনের উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এ বছর ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ার পিছনে প্রয়োজনের তুলনায় নদীর নাব্যতা কম, পানি দূষণ, অবৈধ জাল ব্যবহার, অতিরিক্ত মাছ ধরা এবং জলবায়ু পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য কারণ। নদীর নাব্যতা সংকট এবং ইলিশের খাদ্যের অভাবও মাছের উপর প্রভাব ফেলছে।

শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাট এলাকার আড়তদার হাজী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইলিশ গভীর পানির মাছ। স্রোতের বিপরীতে এরা চলে। নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে পদ্মা-যমুনায় দিন দিন ইলিশের বিচরণ কমে যাচ্ছে। ইলিশ শূন্য হয়ে পড়ছে পদ্মা-যমুনা। এতে অনেক আড়তদারদেরও বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের আড়ত বন্ধ হয়ে গেছে আবার অনেক আড়ত বন্ধ হওয়ার পথে। এই আড়তে আগে অনেক বেচাকেনা হতো, সেই তুলনায় এখন বেচাকেনা নেই বললেই চলে। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তা সবার কল্পনার বাইরে ছিল। জেলেদের জালে যেই ইলিশ ধরা পড়ছে, তা বিক্রি করে আড়তের ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য তাদের নেই। নদীতে এমন ইলিশ শুন্য থাকলে অনেক পরিবারের পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।

চৌহালির জেলে ইউসুফ আলী বলেন, আমরা নৌকায় ৬ জন জেলে মিলে নদীতে দিনরাত মাছ ধরি। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করে ইলিশ পাই ২ থেকে ৩ হাজার টাকার, কিন্তু আমাদের খরচ হয় তার থেকে অনেক বেশি। গত বছরের তুলনায় এই বছর নদীতে ইলিশ নেই বললেই চলে। গতবার নদীতে এক খেও দিলেই ১০-১২ হাজার টাকার ইলিশ পেতাম। এবছর তিন খেও দিলেও ১০ হাজার টাকার ইলিশ পাই না। দুই তিন বছর আগেও ইলিশের এ মৌসুমে ৩-৪ লাখ টাকা ইলিশ বিক্রি করতে পেরেছি, কিন্তু এবার প্রতিদিনের খরচ উঠানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আড়তদার থেকে হাজার হাজার টাকার দাদন নিয়ে নদীতে নেমেছি, এখন এই দাদনের টাকা কিভাবে পরিশোধ করব, এই চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য

আরিচা অঞ্চলের যমুনার জেলে অজিত হলদার বলেন, ভোর থেকে আমরা পাঁচজন জেলে এই দুপুর পর্যন্ত পরিশ্রম করে ছোট সাইজের ২টি ইলিশ পেয়েছি। বিক্রি করেছি ৪ হাজার টাকা। এতে আমাদের জ্বালানি খরচও ওঠেনি। বাড়িতে চাল-ডাল এখন কষ্ট করে কিনতে হয়। কীভাবে সামনে দিনে চলবে, তা ভাবলে ঘুম আসে না।

শিবালয় উপজেলার ছোটবোয়ালী গ্রামের জেলে প্রেমো হলদার বলেন, গতবছর দুই মাসে প্রতি নৌকায় ৩-৪ লাখ টাকা করে কামাই হয়েছিল। সেই তুলনায় এবছর নদীতে ইলিশ মাছ একবারেই নেই। এজন্যই আমাদের জেলেদের না খেয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নাই। কিন্তু আমরা রাত দিন ২৪ ঘণ্টা নদীতে মাছ ধরে সকালে আড়তে এসে মাছ বিক্রি করি ৩-৪ হাজার টাকা। এইজন্য অনেক জেলে মাছ ধরতে আসে না, অন্য কাজে চলে যাচ্ছে। এবছর দাদনের টাকাও পরিশোধ করতে পারবো না। ইঞ্জিন এবং নৌকার খরচ উঠানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, ইলিশ আসলে সমুদ্রের গভীর পানির মাছ। ইলিশ এই বর্ষা মৌসুমে ডিম ছাড়ার জন্য পদ্মা-যমুনায় আসে। কিন্তু ফারাক্কা বাধের কারণে নদীতে নাব্যতা সংকটে নদীর গভীরতা কমে গেছে। এছাড়া নদীতে অপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং নদীতে অসংখ্য ডুবোচর আছে। এতে নাব্যতা একেবারেই কমে গিয়ে গতিপথ দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের একটি ব্যাপার আছে। এছাড়া নদী দূষণ, পলিশন, কারেন্ট জাল দিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরা এবং নিষেধাজ্ঞার সময় অসাধু জেলেদের মাছ ধরাসহ নানাবিধ কারণে ইলিশ মাছ কমে যাচ্ছে। তবে এখনও যে সময় আছে, তাতে ইলিশ নদীতে আসবে।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনা কালকেই আসুক, আমরা রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


শেখ হাসিনা কালকেই আসুক, আমরা রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত মন্তব্য করেছেন, শেখ হাসিনা দেশে এলে তাকে দুইটি হাতকড়া নিয়ে রিসিভ করা হবে।

তিনি শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় উপজেলার রতনপুর গ্রামে অসহায় বৃদ্ধা গোলাপী বেগমের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তরের উপলক্ষে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের স্বার্থে লুটপাট করে এ দেশের সমস্ত কিছু নিয়ে গেছে। কিন্তু এখন তারা সেই লুটপাটের টাকা খেতে পারছে না। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসবে এবং ফাঁসি হবে।

তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে শোনা যায়, উঁকি দিয়ে বলা হয়, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাকি শেখ হাসিনা এখানে আসবে। এই কথাগুলো বিশৃঙ্খলা করার জন্য বলা হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আমলের যারা লুকিয়ে আছে, তারা যেন পুলকিত হয়, এ কারণে এ ধরনের কথা বলা হচ্ছে।

এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত আরও বলেন, আমরা বলছি, আপনি ৩১ ডিসেম্বর কেন, কালকেই আসেন। আমরা আপনাকে আইনের মাধ্যমে রিসিভ করব এবং সঙ্গে দুইটি হাতকড়া থাকবে।

বিমানমন্ত্রী বলেন, আপনি (শেখ হাসিনা) যে মানবতাবিরোধী অমানবিক আচরণ করেছেন বাংলাদেশের মানুষের ওপর, তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে। এই বিচার করার জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি। আমরা পার্শ্ববর্তী দেশকে অনুরোধ করেছি, অতিসত্বর শেখ হাসিনাসহ তার দোষররা যারা পলায়ন করে আছে, তাদেরকে আমাদের কাছে ফেরত দেওয়া হোক।

অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মান্নান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিপাইনের স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে একজন নিহত, আহত অনেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


ফিলিপাইনের স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে একজন নিহত, আহত অনেকে

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলিবর্ষণের ফলে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মিনদানো প্রদেশের দক্ষিণ কোতাবাতোর বাঙ্গা ন্যাশনাল হাইস্কুলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে। দক্ষিণ কোতাবাতোর গভর্নর রেইনালদো তামায়ো সাংবাদিকদের জানান, হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং আহত চারজনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে হামলাকারীর পরিচয় কিংবা সে নিহত বা আহতদের মধ্যে রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। অন্যদিকে, স্থানীয় কিছু গণমাধ্যম অন্যান্য কর্মকর্তাদের বরাতে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে।

ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাঙ্গা পৌরসভার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিক সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে ফিলিপাইন রেড ক্রসের একটি চিকিৎসা দল পাঠানো হয়েছে।

ফিলিপাইনের শিক্ষা বিভাগ এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্টাফদের নিরাপত্তাকে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে শান্ত থাকার এবং যাচাই না করা তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ফিলিপাইনে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা ও ব্যবহার তুলনামূলক বেশি হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা একেবারেই বিরল। এর আগে গত জুন মাসে দেশটির মধ্যাঞ্চলের একটি স্কুলে সহপাঠীদের গুলিতে ৩ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। সে সময় পুরোনো বিরোধ ও বুলিংয়ের জেরে ওই হামলা চালানো হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরা নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৫ দিনের মধ্যে বিচারক নিয়োগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


সাতক্ষীরা নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৫ দিনের মধ্যে বিচারক নিয়োগ

আইনমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ৫ দিনের মধ্যে সরকার সাতক্ষীরা নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিয়োগ প্রদান করেছে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মো: জাকারিয়া হোসেনকে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে গত ১৭ সেপ্টেম্বর পদায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রায় এক বছর ধরে বিচারক না থাকায় বিচার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল। বর্তমানে এই আদালতে প্রায় পাঁচ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার পাশাপাশি আদালতটি শিশু আদালত ও মানব পাচার সংক্রান্ত মামলার দায়িত্বও পালন করে। বিচারক না থাকায় এসব মামলার কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হচ্ছিল।

এদিকে, বিচারক নিয়োগের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। ওই আবেদনটি গত ২৩ আগস্ট করা হয়, যেখানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত একজন বিচারক পদায়নের দাবি জানানো হয়।

এরপর, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সফরে আসেন। পরদিন সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিচারকশূন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সংকট নিরসনে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

আইনমন্ত্রীর ওই আশ্বাসের মাত্র ৫ দিনের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আরো একজন বিচারক পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় সাতক্ষীরার বিচারাঙ্গনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের দাবির পর নতুন বিচারক নিয়োগ হওয়ায় এখন নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথ সুগম হলো। তবে, বিভিন্ন আদালতে আরো নয়জন বিচারকের পদ শূন্য থাকায় অতি দ্রুত সেসব পদে বিচারক পদায়নের দাবি আইনজীবীদের।

নবনিযুক্ত বিচারক মো: জাকারিয়া হোসেন ১৫ মার্চ ২০০৬ সালে সহকারী জজ হিসেবে বিচার বিভাগীয় চাকরিতে যোগদান করেন। এরপর তিনি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এদিকে, নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বিচারক মো: জাকারিয়া হোসেনের বিচার বিভাগীয় কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল সাতক্ষীরা থেকে। দীর্ঘ দুই দশক পরে তিনি আবারো সাতক্ষীরায় ফিরছেন নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাটগ্রামে ভারতীয় ষাঁড় উদ্ধার, ডিমলায় ইয়াবাসহ একজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


পাটগ্রামে ভারতীয় ষাঁড় উদ্ধার, ডিমলায় ইয়াবাসহ একজন আটক

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভারতীয় একটি ষাঁড় গরু উদ্ধার করা হয়েছে এবং নীলফামারীর ডিমলায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)।

বিজিবির সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পানবাড়ী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল পাটগ্রামের ক্যাম্পের পাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ডিএএমপি ৭/১৪-এস সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারত থেকে একটি ষাঁড় গরু নিয়ে আসার সময় বিজিবি কয়েকজনকে দেখতে পায়। টহল দলের চ্যালেঞ্জের মুখে তারা গরুটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ভারতীয় ষাঁড়টি উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিমলা উপজেলার ঠাকুরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় অভিযান চালায় বালাপাড়া বিওপির একটি টহল দল। এ সময় মুকুল রায় (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আটক মুকুল রায় ঠাকুরগঞ্জ গ্রামের মৃত শিবেন্দ্র রায়ের ছেলে। বিজিবি জানায়, পালানোর চেষ্টা করার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ছয়টি ইয়াবা ট্যাবলেট, পাঁচ গ্রাম গাঁজা ও নগদ ১ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, দুটি অভিযানে উদ্ধার হওয়া গরু ও মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪৩ হাজার ২১৭ টাকা। আটক মুকুল রায়কে উদ্ধার করা মাদকসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিমলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গরুটির বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ৫১ বিজিবির নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%