০৮:১৬ এম
পবিত্র আশুরা স্মরণে রাজধানীতে শোক মিছিল ও মাতম করেছেন শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাতে পুরান পল্টনের হোসাইনী দালান ইমামবাড়ার সামনে সড়কে জড়ো হয়েছেন শত শত নারী ও পুরুষ।
শোকাবহ পরিবেশে তারা ‘ইয়া হোসাইন, ইয়া হোসাইন’ ধ্বনি দিতে থাকেন। অনেকের শরীরে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে রক্ত ঝরিয়ে মাতম করতে দেখা যায়।
পরে রাত ২টার দিকে উত্তর গেট থেকে হোসাইনী দালান ইমামবাড়া থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলটি পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় তিন বছর পেছাল
এ সময় তাদের হাতে কালো ব্যানার, লাল-সবুজ নিশান খচিত বেহেস্তা, পাঞ্জা আলম মাতমসহ নানা শোক নিদর্শন দেখা যায়। শিয়া সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তাদের মাতম ও শোকানুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, শুক্রবার সকাল ১০টায় পুরান ঢাকার হোসেনি দালান থেকে মূল তাজিয়া মিছিল শুরু হবে। বিভিন্ন ইমামবাড়া থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা সেখানে সমবেত হবেন। পরে মিছিলটি ধানমন্ডির জিগাতলা মোড় পর্যন্ত গিয়ে শেষ হবে।
হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী, মহররম মাসের দশম দিনই পবিত্র আশুরা। ইসলাম ধর্মে এই দিনটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। আসমান-জমিন, পাহাড়-পর্বত, সবকিছুর সৃষ্টি হয়েছিল এই দিনে। হযরত আদম থেকে শুরু করে সবশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত, প্রত্যেকের জীবনেই উল্লেখযোগ্য ঘটনা রয়েছে আশুরার দিনে।
হযরত আদমকে সৃষ্টি ও জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল এই দিনে, প্রলয়ঙ্করী মহাপ্লাবন শেষে নূহ (আ.) এর জোদি পাহাড়ে অবতরণের ঘটনাও আশুরাতেই ঘটেছিল। জালিম শাসক নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে ইব্রাহিম মুক্তি পেয়েছিলেন ১০ মহররম, এবং দীর্ঘ ৪০ দিন দজলা নদীতে মাছের পেটে থাকার পর ইউনূস (আ.) মুক্তি পান।
আরও পড়ুন: সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটিয়া অপসারণের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলো সরকার
মুসা ও বনী ইসরাইলকে আল্লাহ ফেরাউনের হাত থেকে মুক্ত করেন এই বিশেষ দিনেই। হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় গিয়েছিলেন মহররমের দশম দিনে। ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র হযরত হোসাইনের জীবন উৎসর্গ করা হয়েছে আশুরার একটি কালো অধ্যায় হিসেবে। এদিন ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে ৭৭ জন সঙ্গীসহ নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন ইমাম হোসাইন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন