শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৯ পি.এম
মার্কিন প্রশাসন ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক তথ্য ফাঁসের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ‘জয়েন্ট স্টাফ’-এর প্রায় ৫০ জন সদস্যকে ‘লাই ডিটেক্টর’ বা মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষার (পলিগ্রাফ টেস্ট) মুখোমুখি হতে হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল বেসামরিক ও সামরিক কর্মীদের দ্বারা সাংবাদিকদের কাছে গোপনীয় তথ্য, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদ কমে যাওয়ার বিষয়ক তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।
গত মাসে পলিগ্রাফ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল যেখানে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা তখন ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে দাবি করেছিলেন, তাদের অস্ত্রের মজুদ প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট রয়েছে।
এনওয়াইটি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বা তদন্তমূলক পদক্ষেপ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের বিষয়টিকে তাদের বিভাগ ‘অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে এবং সে অনুযায়ী তদন্ত পরিচালনা করে’।
পার্নেল আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বজুড়ে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গোপনীয় তথ্যের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জয়েন্ট স্টাফের সদস্যসংখ্যা ১,৫০০ থেকে ২,০০০-এর মধ্যে এবং এতে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের কর্মী রয়েছেন। এই সদস্যরা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কমব্যাট কমান্ডের (যুদ্ধ-পরিচালনাকারী কমান্ড) সঙ্গে কার্যক্রমের কৌশল, নীতিমালা ও যুদ্ধ-পরিকল্পনা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
তদন্তের বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, এই কঠোর পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল কেবল তথ্য ফাঁসকারীদের শনাক্ত করা নয়, বরং ভবিষ্যতে যারা তথ্য ফাঁস করতে পারে তাদের নিরুৎসাহিত করাও। আইন ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তদন্তের ব্যাপ্তি অভূতপূর্ব; কারণ আধুনিক ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের ওপর কখনোই এমন ব্যাপক পরিসরে পলিগ্রাফ পরীক্ষা চালানো হয়নি।
ইরান সংশ্লিষ্ট সক্রিয় সামরিক অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে সংকট এবং সংঘাতের সামগ্রিক গতিপথ নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিষয়ে ব্যাপক সংবাদ প্রকাশের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদনহীন তথ্য ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার কর্মকর্তাদের তাগিদ দিয়েছেন।
কঠোর পদক্ষেপের আহ্বানের পাশাপাশি, গোলাবারুদের ঘাটতি এবং ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত পরিচালনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সমালোচনামূলক প্রতিবেদনগুলোকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ‘দেশদ্রোহিতামূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া ধারাবাহিকভাবে তথ্য ফাঁসের ঘটনা পেন্টাগনের ভেতরে গভীর অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করেছে। বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা এর জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ব্যবস্থাপনা শৈলীকে দায়ী করছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একটি ছোট বৃত্ত নিয়ে কাজ করা হেগসেথ তার দায়িত্বকালে অন্তত ৮০ জন জেনারেল, অ্যাডমিরাল ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন অথবা তাদের পদোন্নতি আটকে দিয়েছেন। হেগসেথের নেতৃত্ব নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের জেরে পেন্টাগন তথ্য ফাঁস সংক্রান্ত একাধিক তদন্ত শুরু করেছে। অথচ হেগসেথ নিজেই ‘সিগন্যাল’ অ্যাপের একটি গ্রুপ চ্যাটে স্পর্শকাতর ও গোপনীয় অভিযানের বিবরণ শেয়ার করার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
গত মাসে প্রতিরক্ষা বিভাগ যখন ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি স্বাধীন সামরিক সংবাদ প্রকাশনা এর প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশককে বরখাস্ত করে, তখন অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কর্মীরা জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করার কারণেই মূলত এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
এত সব মতবিরোধ ও উত্তেজনা সত্ত্বেও ট্রাম্প হেগসেথের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন এবং প্রকাশ্যে তার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে একে ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করেছেন।
সূত্র: আলজাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের সুপারিশ করেছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান। এই বৈঠকে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিলটি সংসদে পাসের জন্য সংশোধিত আকারে বৈঠক থেকে সুপারিশ করা হয়, যা পুঙ্খানপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার পর করা হয়েছে।
বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মঈনুল ইসলাম খান, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. সাইফুল আলম এবং সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
এছাড়া, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, তেল-গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের সংকটের অজুহাতে দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে লাখো শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এর ফলে শ্রমিকদের পরিবার-পরিজনের জীবন-জীবিকা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে, দেশের শিল্প ও অর্থনীতির জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের শ্রম ও ঘামে শিল্প-কারখানা সচল থাকে এবং জাতীয় অর্থনীতি এগিয়ে যায়। কিন্তু জ্বালানি সংকট, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে এর সবচেয়ে বড় আঘাত দেশের ওপর পড়বে। এতে দেশে বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে।
আজ শনিবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
বৈঠকে দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নেছার আহমেদ বলেন, শিল্প-কারখানা বন্ধের আগে সরকারকে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, অবিলম্বে শিল্প-কারখানাগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও বেতন-ভাতা সুরক্ষা এবং শিল্পখাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ সিদ্দিকুর রহমান, হারুন অর রশীদ, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম রফিকুল ইসলাম, ওবায়েদ বিন মোস্তফা, শাহ জামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের জাতীয় কাউন্সিল ৯ অক্টোবর
অনুষ্ঠানে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসাইন শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, সংগঠনের জাতীয় কাউন্সিল আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে।
কাউন্সিলে দেশের শ্রমিকদের অধিকার, কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা, শিল্প-কারখানার বর্তমান পরিস্থিতি এবং শ্রমজীবী মানুষের সার্বিক কল্যাণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি এসব বিষয়ে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারের আশুলিয়ায় আবাসিক ভবনের তালাবদ্ধ বাসা থেকে উদ্ধার তিন মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তিন মরদেহের মধ্যে দুটি স্বামী-স্ত্রীর।আরেকটি তাদের সদ্যজাত নবজাতকের।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে হজরত আলীর মালিকানাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নাজমা আক্তার, তার স্বামী আলমগীর হোসেন আলম, এবং তাদের নবজাতক সন্তান। নাজমা দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুরা পাকপাড়া এলাকার আতিয়ার রহমানের কন্যা।নাজমা আক্তার স্থানীয় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় সুইং হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আলমগীর আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে ভাসমান পান ও সিগারেট বিক্রি করতেন।পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুর থেকে ওই বাসা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে রাত দেড়টার দিকে পুলিশ বাসাটির তালা ভেঙে ভেতর থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে।আশুলিয়া থানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিন দিন আগে তাদের হত্যা করা হয়েছে। নাজমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার মৃত্যুর পর পেট থেকে নবজাতক বেরিয়ে আসতে পারে অথবা ঘটনার সময়ই সন্তানটি ভূমিষ্ঠ হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে আলমগীরের সঙ্গে নাজমার বিয়ে হয়।গত ৯ জুলাই তারা আশুলিয়ার ওই বাসা ভাড়া নেন। নাজমা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে বোন শাপলা আক্তারের সঙ্গে নাজমার সর্বশেষ কথা হয়েছিল।আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সিআইডির ফরেনসিক টিম ও ঢাকা উত্তর ডিবি পুলিশ।ওসি জানান, নাজমার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় ছিল ডিসেম্বর। কিভাবে এত আগে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো কিংবা নির্যাতনের কারণে এমনটি হয়েছে কি না, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা জানা যাবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, এই সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিলেটের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে ভারতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরের নির্দিষ্ট দিন ও সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ‘নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা’ নিয়ে অংশগ্রহণ করবেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এতে যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বর্তমানে অনেক দেশ একাধিক নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ যেখানে রয়েছে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশ যুক্ত হবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা জরুরি। দুই দেশের মধ্যে ‘হাজার সমস্যা’ থাকলেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সরকার জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ খাতে কী ধরনের দুর্নীতি ঘটেছে, তা দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান কেনার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বোয়িং কিনতে চাপ নেই। বাংলাদেশে চাহিদা থাকায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরো বোয়িং বিমান কেনা হবে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রপ্তানি নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার একটি সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। এখন ধাপে ধাপে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি পাঠানো হবে।
কলকাতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে থাকার সুযোগ না পাওয়া এবং রাস্তায় রাত কাটানোর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনার সুনির্দিষ্ট উদাহরণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতবিনিময়কালে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরী ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ