০৫:১৬ পি.এম
শীতের আগমনী বার্তায় পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে চলনবিল অঞ্চল। বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে বিলের জলাভূমিতে। পাখির কলকাকলি এবং জলরশির মিতালিতে বদলে গেছে বিলের পরিচিত দৃশ্যপট। তবে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ পাখি শিকার। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে অতিথি ও দেশীয় পাখির উড়াউড়ি এবং কোলাহল মুখর করে তুলছে চলনবিলকে।
মৎস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত চলনবিলে শীতের শুরুতেই বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন শুরু হয়েছে। কাকডাকা ভোরে এ সকল পাখি খাবারের সন্ধানে নেমে পড়ে বিল-জলাভূমিতে। নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো যেন এক অপরূপ সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে।
সন্ধ্যা হলে ঝাঁক বেঁধে পাখির দল গাছে গাছে নিরাপদ আশ্রয় নেয়। বিলের অল্প পানিতে সাদাবক, গাংচিল, বালিহাস, পানকৌড়ি, ডাহুকসহ নানা প্রকার পাখির ডুব দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য এবং ঋষি বকের ধ্যান মগ্ন ছবি মানুষের মনে অনাবিল সুখানুভূতির সৃষ্টি করছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় যুব দিবসে শ্রেষ্ঠ আত্মকর্মীর সম্মাননা পেলেন জান্নাতুল নাঈমা!
চলনবিল এখন অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে এবং পাখির মিলন মেলায় রূপ নিয়েছে। তবে শিকারীরা বসে নেই। নানা উপায়ে সৌখিন ও মৌসুমি শিকারীরা পাখি শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে মারা পড়ছে পাখি।
পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলা বেষ্টিত চলনবিলে প্রকৃতির মাঝে সাদাবক, পানকৌড়ি, শামুকখোল, বালিহাসসহ অসংখ্য অতিথি পাখির ডানা মেলে উড়াউড়ি, কোলাহল, কলরব চোখে পড়ে। আর মাছে ভরপুর হাটু পানিতে প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির মিলন মেলায় যেন স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে চলনবিল জুড়ে।
চলনবিলের কৃষকের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদা বকপাখি চলনবিলের কৃষকের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। এ বছর এই বিলে হাজারো অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে। এর মধ্যে সাদা বক ও শামুকখোল পাখি বেশি চোখে পড়ছে। এই বক ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকারে আসে।
হালচাষের সময় সাদাবক দল বেঁধে পেছনে পেছনে পোকামাকড় খেতে ভিড় জমায়। তাছাড়া পাখি বিলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। তারা কাউকেও এই বিলের পাখি শিকার করতে দেন না।
আরও পড়ুন: মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলনে জিটিসির নতুন রেকর্ড
পরিবেশবাদী সংগঠন চলনবিল রক্ষায় আমরার সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম মধু জানান, শীত প্রধান দেশ থেকে প্রতি বছর এই সময় চলনবিলে নিজেদের আহার যোগাতে বক, বালিহাস, পানকৌড়ি, শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে আসে। প্রকৃতির মাঝে পাখ-পাখালির বিচরণ এবং ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। তবে কিছু লোভী শিকারি ফাঁদ পেতে সেই পাখি শিকার করে থাকে। এই বিলের পাখি রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাখি শিকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালিদ হাসান বলেন, চলনবিল জীববৈচিত্র্য ভরপুর একটি বিল। এই বিলের পাখি ও পরিবেশ রক্ষায় সকলকে সচেতন হতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন