বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৯ পি.এম
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর তীরবর্তী টগরবন্দ, গোপালপুর, বুড়াইচ, বানা ও পাচুড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বসতবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা, সড়ক ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে অন্তত ৩০০ পরিবার ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছে। একইসাথে একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও চরম হুমকির সম্মুখীন রয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, টগরবন্দ ইউনিয়নের টিঠা-পানাইল, ইকড়াইল, কৃষ্ণপুর, শিকারপুর, চরডাঙ্গা, চাপুলিয়া ও কুমুরতিয়া; গোপালপুর ইউনিয়নের দিগনগর, চর আজমপুর, কাতলাসুর ও সাতিয়ারগাতি; বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া; বানা ইউনিয়নের পণ্ডিতের বানা ও বেল বানা এবং পাচুড়িয়া ইউনিয়নের চরনারান্দিয়া, বাঁশতলা ও চান্দ্রাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের দাবী, চলতি মৌসুমে এসব এলাকায় প্রায় ২০টি পরিবারের বসতভিটা, গাছপালা ও ফসলি জমিসহ ২০ থেকে ৩০ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, চাপুলিয়ার পাঁচটি সরকারি আশ্রয়ের ঘর নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় সেখানে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাথার উপরে পলিথিন দিয়ে বসবাস করছে কয়েকটি পরিবার, আবার কেউ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, আবার কেউ নিজের শখের ঘর ভাঙতে ব্যস্ত রয়েছেন।
শিকারপুরের বাসিন্দা মুসা মিয়া (৬৫) বলেন, “এবার নদীর ভাঙন আমাদের উঠান পর্যন্ত চলে এসেছে। তড়িঘড়ি করে ঘরবাড়ি ভেঙে সরাতে পেরেছি। তাদের দাবি আর হয়তোবা দুই এক দিন গেলে ঘরের একটুকু খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু অনেক গাছপালা নদীতে চলে গেছে। এখন ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।” একই এলাকার কাছেদ মল্লিক (৭০) বলেন, “আমরা এখন সবসময় আতঙ্কে থাকি, কখন বসতভিটাটুকুও নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ পর্যন্ত আটবার নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা পরিবর্তন করেছি। এবার ভেঙে গেলে আমাদের মাথা গোঁজার মতো আর কোনো জায়গা থাকবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল শেখ (৩৫) বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ অঞ্চলের চার থেকে পাঁচশ পরিবার মধুমতির ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে পারে।” স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোরাদ হোসেন বলেন, “প্রতি বছরই প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার এবং ২০ থেকে ৩০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রতিবছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন জানাই। তারা এসে পরিদর্শন করে আশ্বাস দেন, কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো প্রতিকার পাইনি।”
তিনি বলেন, “বাজড়া, চর আজমপুর, চাপুলিয়া, চরদনাইড়, শিকিপাড়া, শিকারপুর, কুমুরতিয়াসহ প্রায় ১০টি গ্রাম নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ গোপালপুর-চরহাঙ্গা পাকা সড়কের প্রায় ৫০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চাপুলিয়া গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ৬৫টি ঘর, বাজড়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ এবং চর আজমপুর গ্রামের প্রায় ৩০টি বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। এদিকে এখনো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এনবিডিসি আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা, দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিকারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাজড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এনবিডিসি আলহেরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুর রব বলেন, “আলফাডাঙ্গার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই দাখিল মাদ্রাসাটি নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কিছু এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলেও কোথাও কোথাও বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা না হলে প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকা বাসীর দাবি, নদীভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ মধুমতির ভাঙন থেকে রক্ষা পাবেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুতই একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানিয়েছেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমানে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৬ কোটি টাকা। এই বরাদ্দকে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘যদি আমরা এই অর্থবছরে পুরোটা দিতে না পারি, তবে আগামী অর্থবছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ আমাদের সাংবাদিক ভাই-বোনদের জন্য অনুমোদন করা যাবে।’
ডিআরইউর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি সংগঠনটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
এর আগে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ অন্যান্য অতিথিরা ডিআরইউর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বক্তব্য প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক মন্তব্য করেছেন যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তন না হলে ভবিষ্যতে যে কোনো দল ক্ষমতায় আসুক, তা এক সময় স্বৈরশাসনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় শরীয়তপুর পৌরসভার মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শরীয়তপুর জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে লঙ্কায় গেলেই হনুমান হবে। যিনি ক্ষমতায় যাবেন, ৫-১০ বছর পর তিনিই হাসিনায় পরিণত হবেন। তাই, শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোগত পরিবর্তন অত্যাবশ্যক। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদ অনেকটাই আলংকারিক হয়ে আছে। জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে বাস্তবসম্মত কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব থেকে বিচার বিভাগকে বের করে আনতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা আবশ্যক। এর মাধ্যমে দলীয় প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো দলীয় পরিচয়ের বিচারপতি যেন জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা ছাড়া ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, যদি সব রাজনৈতিক দল এই দাবি থেকে সরে যায়, তবে প্রয়োজনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একাই জনগণের কাছে গিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবারও ফিরে আসার সুযোগ পাবে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির।
এ নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমেদ ওসমানী। এতে আরও বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান হেলাল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নূর হোসাইন নূরানীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানের ফলস্বরূপ মাদক, ডাকাতি ও জুয়া মামলায় মোট ১৯ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিকের নেতৃত্বে এই অভিযানটি সম্পন্ন হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় মাদক মামলায় ৯ জনকে আটক করা হয়।
এছাড়া, কাঁচপুর পুরাতন বাজার এলাকায় জুয়া আইনে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে আছেন— আমিরুল ইসলাম (৪৭), সোহেল (৪৫), শাহানুর (৩২), নুরুজ্জামান (৫০), শাকিল (২৫), খোরশেদ আলী (৩৫), আতিকুর (৩০), আজাদুল ইসলাম (৩০) ও আতোয়ার ইসলাম (২৭)।
অন্যদিকে, ডাকাতি মামলায় সোনারগাঁয়ের ঝাউচর এলাকার মামুন (৩৬) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদে গালাগাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
তিনি বলেন, ‘গতকালকে আমি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তাতে এই সংসদে কোনো ডিসেন্ট ভয়েস রেকর্ড করা যায় বলে আমার মনে হয়নি।’ সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, তার বক্তব্যের পর আশপাশের কয়েকজন সংসদ সদস্য তাকে ‘অকথ্য ভাষায় গালাগাল’ করেছেন।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘এটা কোনো সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না। সংসদে যে ধরনের আচরণ আমি লক্ষ করেছি, সেটা কোনো দেশের সংসদে হয় না।’
তিনি সতর্ক করেছেন যে, র্যাব বিলুপ্ত করে গঠিতব্য স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) যেন শুধুমাত্র নাম ও পোশাক পরিবর্তনের মাধ্যমে র্যাবের নতুন রূপ না হয়। অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি, নির্যাতন ও ভীত হতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন কোনো বাহিনীর আচরণ তিনি চান না।
রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দলীয়করণ ও প্রভাবমুক্ত রেখে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে পরিচালনার আহ্বানও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬-এর ওপর জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
এর আগে অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬ বিবেচনার জন্য নেওয়া হয়।
এই বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন রুমিন ফারহানা।
বক্তব্যের শুরুতেই আগের দিনের সংসদীয় পরিবেশ নিয়ে আপত্তি তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, বিলের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে গতকালকে আমি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তাতে এই সংসদে কোনো ডিসেন্ট ভয়েস রেকর্ড করা যায় বলে আমার মনে হয়নি এবং আমি কথা বলার পরে সংসদে যে ধরনের আচরণ আমি লক্ষ করেছি, সেটা কোনো দেশের সংসদে হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কথার যদি কোনো কাউন্টার বলার ব্যাপার থাকত, সেটা দাঁড়িয়ে বলা যেত। আমি বক্তব্য শেষ করার পরে বক্তব্য দেওয়া যেত। শুধু তাই নয়, মাননীয় স্পিকার, এই মহান সংসদে আমাকেই আশপাশের সংসদ সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন।
এটা কোনো সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।’
সংসদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘একটা সংসদে সরকারি দল থাকবে, বিরোধী দল থাকবে, সংসদে স্বতন্ত্র নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও থাকবেন। একেক জনের একেক রকম মত থাকতে পারে। সেটা প্রকাশ করার স্বাধীনতা প্রত্যেকের থাকা উচিত।’
নিজের অতীত সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এই সংসদে যখন আমি একা দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের ২০১৮ সংসদে বিএনপির পক্ষে কথা বলেছিলাম, তখনও আমাকে এ জঘন্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এরপরে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা ভোটের মাধ্যমে সংসদ আনলাম। সেখানে যদি ন্যূনতম কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে এই সংসদে বিরোধী দল সেজে শুধু না ভোট দেওয়ার জন্য থাকার কোনো দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।’
এরপর এসআরবি বিলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আজকে যে বিলটি এসেছে, সেটির ধারা-উপধারা অনুযায়ী, আমি একটা রিসার্চ পেপার রেডি করেছি। সেই পেপার যদি আমাকে দুটো মিনিট সময় দেন, আমি সেটা নিয়ে আলোচনা করতে পারি।’
পরে তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে র্যাব বিলুপ্তির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, র্যাবকে বিলুপ্ত করার ব্যাপারে শুধু বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ বাদ দিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোই যে কেবল ঐকমত্যে এসেছিল, তাই নয়। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা থেকে শুরু করে জাতিসংঘ পর্যন্ত এই সংস্থাটি বাতিলের জন্য প্রশ্ন তুলেছিল।’
নতুন বাহিনী গঠনের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আমার বিনীত বক্তব্য হচ্ছে, এর পরিবর্তে নতুন যে সংস্থা আমরা করতে যাচ্ছি, সেটি যেন কেবল পোশাক পরিবর্তনের মতো না হয়।’
অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর আচরণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিগত দিনে আমরা যে ধরনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা দেখেছি, নানাভাবে মানুষকে হয়রানি হতে দেখেছি, মানুষকে নির্যাতিত হতে দেখেছি, ভীত হতে দেখেছি—ভবিষ্যতে আমরা এ রকম আর কোনো সংস্থার আচরণ চাই না।’
দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করেছে। আমি আশা করব, অন্তত এই সংসদে যারা উপস্থিত আছেন, যে দলগুলো উপস্থিত আছে, তারা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে।’
রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ বাহিনী হোক, র্যাব হোক কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী হোক, তারা যাতে নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে দলীয়করণমুক্ত হয়ে, প্রভাব মুক্ত হয়ে যার যার মতো কাজ পরিচালনা করতে পারে। এ ব্যাপারটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে, সরকার দেখবে—আমি আশা করব।’
এ সময় রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পর স্পিকারও সংসদে বাকস্বাধীনতা ও পরস্পরের বক্তব্যে বাধা না দেওয়ার বিষয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরকারি দল বা বিরোধী দলের প্রত্যেক সদস্যের বক্তব্যের সময় অন্য পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হবে না—এটি তিনি আশা করেন।
এর আগে এসআরবি বিলের ওপর বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটির মাধ্যমে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
রুমিন ফারহানা বক্তব্যে উল্লেখ করেন, র্যাব বিলুপ্তির সিদ্ধান্তের পর নতুন যে বাহিনী গঠন করা হচ্ছে, সেটি যেন অতীতের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি না করে। নতুন বাহিনীসহ সব রাষ্ট্রীয় বাহিনী দলীয়করণ ও রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে আইন, নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ