০২:০১ পি.এম
ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আসামি সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাতের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বহাল রেখেছে।
একইসঙ্গে, চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে, এবং ১০ জনের খালাস ঘটেছে।
গত সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেছেন।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
রায়ে, মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে দুজনের। এরা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা এবং ওই একই মাদরাসার ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীম।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া ৪ জন হলেন সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, নুর উদ্দিন এবং উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন।
এদিকে, খালাস পাওয়া ১০ জনের মধ্যে আছেন কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।
এর পূর্বে, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিবসটি নির্ধারিত করা হয়েছিল। গত ২৮ জুলাই, মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়।
আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল, আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যাওয়ার সময় পরিকল্পিতভাবে নুসরাত জাহান রাফিকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল। গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে পূর্বে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।
এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল, নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষ করে ওই বছরের ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার নৃশংস এই ঘটনায় পুরো দেশ ফুঁসে উঠেছিল। ঘটনার মাত্র সাত মাসের মধ্যে, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর, ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।
নিম্ন আদালতের সেই সাজার পর, আইনের পুনরাবৃত্তি অনুসরণ করে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলা নথি হাইকোর্টে আসে। দীর্ঘ আইনি লড়াই, রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে, সোমবার উচ্চ আদালত মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও একই মাদরাসার ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। একদিকে, মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে চার জনকে যাবজ্জীবন দেয় এবং খালাস দেয় ১০ আসামিকে। রায় প্রণয়ন কালে, নিম্ন আদালতে ঢালাও ফাঁসি দেয়ার বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য
নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। যাবজ্জীবন প্রাপ্ত চার আসামিকে কনডেম সেল থেকে সাধারণ জেলখানায় স্থানান্তর করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন