০৪:১৪ পি.এম
গাজীপুর-১ আসনের এমপি মোঃ মজিবুর রহমান শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর আহত শ্রমিকদের পাশে ছিলেন।
সকালে তিনি প্রথমে গাজীপুর তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহত শ্রমিকদের বেডের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের খোঁজখবর নেন। তিনি জানতে চান, কার চিকিৎসা কেমন চলছে এবং কার কি প্রয়োজন। এরপর তিনি হাসপাতাল থেকে সরাসরি বিভিন্ন ওয়ার্ডের শ্রমিকদের বাসভবনে ছুটে যান। একে একে আহত শ্রমিকদের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন।
এ সময় তার সাথে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মোঃ শাহাবুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক, শ্রমিকদল, কোনাবাড়ী থানা ছিলেন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা আহত শ্রমিকদের দেখলে বুকটা হাহাকার করে ওঠে। কেউ ব্যথায় কাতরাচ্ছে, কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না। যে ব্যক্তি সকাল হলেই কারখানায় যেতো এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতো, আজ সে হাসপাতালের বেডে অসহায় হয়ে পড়ে আছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে শনিবার ৬ ঘণ্টা টোল মুকুটে থাকবে
বাড়িতে গিয়ে দেখা গেলো আরও হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ঘরের এক কোণে শুয়ে আছে আহত শ্রমিক। পাশে বসে আছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী এবং ছোট ছোট সন্তান। মায়ের চোখে পানি, স্ত্রীর মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। ছোট বাচ্চাটা বাবার দিকে তাকিয়ে আছে - বাবা কবে উঠে দাঁড়াবে, কবে আবার তাকে কোলে নেবে।
একজন আহত শ্রমিকের স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, "সংসারটা এখন কিভাবে চলবে জানি না। মানুষটা ঘরে ফিরলেই আমাদের শান্তি।"
আরেক বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আহত শ্রমিক ব্যথার যন্ত্রণায় ঠিকমতো বসতে পারছে না। তবুও এমপি সাহেবকে দেখে মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছে। সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে কত কষ্ট, কত না বলা যন্ত্রণা।
আহত শ্রমিকরা এমপিকে নিজেদের বাড়িতে পেয়ে আনন্দের জোয়ার অনুভব করেন। অনেক শ্রমিক আনন্দের সাথে বলেন, "এমপি মজিবুর রহমান হচ্ছে মানবতার এমপি। বিপদের সময় যিনি শ্রমিকের বাড়িতে ছুটে আসেন, তিনিই সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি।"
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন
এত কষ্টের মধ্যেও এমপিকে দেখে তাদের মুখে যেন একটু স্বস্তির হাসি ফুটলো। মনে হলো, আমরা একা নই, আমাদের পাশে একজন আছে।
আহত শ্রমিকদের মধ্যে ছিলেন জসিম, জহিরুল ইসলাম জহির, রবিউল আলম রবি সহ অন্যান্যরা। রবিউল আলম রবি স্বেচ্ছাসেবক দল কোনাবাড়ী মেট্রো থানার সদস্য সচিব।
এমপি আহতদের চিকিৎসাসহ সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সাহস দেন, বলেন - "ভেঙে পড়বেন না, আমি আপনাদের পাশে আছি।"
শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, এমপি নিজে এসে খোঁজ নেওয়ায় তাদের মনোবল অনেক বেড়ে গেছে। এত বড় নেতা আমাদের এই ছোট ঘরে আসবেন, এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। তিনি এসে আমাদের বুকে জড়িয়ে নিলেন, এটাই আমাদের বড় পাওয়া। আহতদের চোখের পানি মুছে দিয়ে এমপি যখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান, তখন পেছনে থেকে যায় একটাই দোয়া - আল্লাহ যেন এই মানবতার এমপিকে ভালো রাখেন, আর আমাদের আহত ভাইদের দ্রুত সুস্থ করে দেন।
আরও পড়ুন: আটঘরিয়ায় শিমের বেচাকেনা জমজমাট, তবে লোকসানে আড়তদার ও কৃষক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন