মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২৬ পি.এম
ভারতের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বলিপাড়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ছাত্রবিক্ষোভের ফলে পুরো দেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সমর্থনে সেলিব্রিটিদের পক্ষ থেকে ব্যাপক সমর্থন দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। বেশিরভাগ তারকা বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে, কিছু সংখ্যক তারকা তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। এর ফলে বলিউডের মধ্যে একটি আড়াআড়ি বিভাজন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনে ছাত্রদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে একাধিক তারকা প্রকাশ্যে এসেছিলেন। দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভের পর, দেশের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিয়েছিলেন।
এখন সেই আন্দোলনের মূল কেন্দ্র ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আবারও দেশজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছে। তাদের দাবি, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। এই দাবি শুধু সিজেপির বিক্ষোভেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দলও নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও বিক্ষোভ ও আন্দোলন থামানোর জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সিজেপির বিক্ষোভের ডাকের সমালোচনা করেছেন অভিনেতা রণবীর শৌরে। তিনি বলেন, "নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে রাস্তায় বিক্ষোভের বদলে আদালত, সংসদসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া উচিত।"
রণবীর আরও বলেন, "রাস্তা নিজেদের দখলে নিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করা এবং সরকারি পরিকাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়াই আসলে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’।" এই আন্দোলনকে সমালোচনা করে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত বিক্ষোভকারীদের ‘দেশবিরোধী’ তকমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিনেতা বিজয় ভার্মা ও অভিনেত্রী হুমা কুরেশি আন্দোলনের পক্ষে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। বিজয় সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট রি-শেয়ার করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে— জ্ঞানেশ কুমারের গদি বাঁচাতে কেন্দ্রীয় সরকার অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। হুমা কুরেশি আবার বিক্ষোভ করতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিসহ দেশের একাধিক জায়গা থেকে আন্দোলনকারীদের ধরপাকড়ের খবর আসছে। এই প্রেক্ষিতে হুমা বলেছেন, ‘বিশ্বের সব থেকে বড় গণতন্ত্রে নিজেদের দাবি সামনে রেখে বিক্ষোভ করাটাও কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার।’ স্বানন্দ কিরকিরেও প্রায় একই ধরনের বক্তব্য রেখেছেন।
এদিকে, অভিনেতা আমির খানের ভাইঝি জেন মেরি খানের পোস্ট নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি হাতে–পায়ে একাধিক কালশিটের দাগ দেখিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় মুম্বাই পুলিশ তাকে আটক করেছিল এবং ধাক্কাধাক্কির ফলে তার চোট লেগেছে। তাকে ছাড়াও অভিনেতা ইমরান খান ও তার গার্লফ্রেন্ড লেখা ওয়াশিংটনকেও আটক করা হয়েছিল মুম্বাই পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিদেশে পাচার করা এবং দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মাধ্যমে দেশে অরাজকতা, বোমাবাজি ও নাশকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে।
তিনি উল্লেখ করেন, পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চায়। এ প্রসঙ্গে গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণকে দিন-রাত সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জনঅধিকার পার্টি আয়োজিত ‘দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তির হাতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ছিল। যদিও পাচার করা অর্থের বড় অংশ বিদেশে চলে গেছে, কিছু অর্থ দেশের ভেতরে রয়ে গেছে। সেই কালো টাকা ছড়িয়ে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। তবে বর্তমান সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা একে একে নস্যাৎ করা হচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ব্যাংক-বিমাসহ দেশের প্রতিটি খাত ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা। ঋণের নামে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা মূলত রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করেও বর্তমান সরকার দেশ পুনর্গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।
রিজভী বলেন, তরুণদের অসীম সাহসিকতার কারণেই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়েছে। তাদের এই অবদান রাষ্ট্র ও জাতি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাজার বছরের ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অপশক্তিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জনঅধিকার পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল সম্রাটের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জনতার দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুববিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জের জমি থেকে ব্যবসায়ীরা কম দামে কলা কিনছেন। কিন্তু হাতবদল হয়ে খুচরা বাজারে পৌঁছানোর পর কলার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এতে চাষিরা উৎপাদিত কলার ন্যায্যমূল্য নিয়ে চিন্তিত, এবং সাধারণ ক্রেতাদের বাড়তি দামে কলা কিনতে হচ্ছে।
জামদানী গ্রামের কলাচাষি আইয়ুব আলী মন্তব্য করেন, "আমরা জমিতে কলা চাষ করে যে দাম পাই, ব্যবসায়ীরা জমি থেকে কলা কেটে রাস্তায় তোলার পরই দাম বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষকে বেশি দামে কলা কিনতে হয়।"
কলা ব্যবসায়ী রাঙা মিয়া জানান, জমি থেকে কলা কেটে রাস্তায় তোলা, গাড়িতে বোঝাই করা এবং মোকামে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন খরচ রয়েছে। এসব খরচ বাদ দিলে লাভের মুখ দেখা ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
চেরাগপুর গ্রামের মালভোগ কলাচাষি মোতালেব মন্ডল জানান, তাঁর বাগানে বর্তমানে ৫২৫টি কলার ছড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি ছড়ি ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। অর্থাৎ প্রতিটি ছড়ির দাম পড়েছে ৮০০ টাকা। কিন্তু জমি থেকে কলা কেটে বাজারজাত করার পর বিভিন্ন পর্যায়ে এর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খুচরা বাজারে মালভোগ কলা বর্তমানে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, চাষিরা জমি থেকে ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিটি কলা ৫ টাকারও কম দামে বিক্রি করছেন। ফলে উৎপাদক থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর আগে কলার দাম কয়েক দফা বাড়ছে।
অন্যদিকে, সাগর কলার প্রতিটি ছড়ি ৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটি ছড়িতে গড়ে ১৪০টি কলা থাকলে প্রতিটি কলার ক্রয়মূল্য প্রায় ৩ টাকা। কিন্তু হাতবদলের পর একই কলা খুচরা বাজারে প্রায় ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জে ৪৩৪ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবি, চাষিরা ভালো দামে কলা বিক্রি করছেন।
চাষি ও স্থানীয়দের মতে, এ বছর কলার ফলন ও বাজারদর তুলনামূলকভাবে চাষিদের অনুকূলে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর কলার সরবরাহ কম থাকায় ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আগামী বছর ফলন ও বাজারদর কেমন হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তাও রয়েছে চাষিদের মধ্যে।
এদিকে, সার ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়লে কলা উৎপাদনের খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। তাঁদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বাড়লে বর্তমান বাজারদরেও লাভ কমে যেতে পারে।
চাষিদের প্রত্যাশা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কলার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি জমি থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবান, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : বান্দরবান পার্বত্য জেলার দুর্গম অঞ্চলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ১৮ জন নারীকে ধাত্রীবিদ্যার ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার, বান্দরবান সেনানিবাসের এমডিএস ভবনের দ্বিতীয় তলায় ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারের ব্যবস্থাপনায় এবং ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের পরিচালনায় তিন সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণের তৃতীয় দিনের ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণে বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন পাড়া থেকে আগত ১৮ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি নারী অংশগ্রহণ করছেন।
প্রশিক্ষণের তৃতীয় দিনে গর্ভাবস্থায় বিপদ সংকেত, সাধারণ শারীরিক সমস্যা ও তার প্রতিকার, ডায়রিয়া, কলেরা ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং প্রসবকালীন সময়ে গর্ভবতী মায়ের সেবা ও সাধারণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন চিকিৎসক ডা. শাহানা রহমান, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস; ক্যাপ্টেন লাবিব দাইয়ান, এএমসি এবং মেজর মোছা. শাহরীন জাহান প্রধান, এএমসি।
প্রশিক্ষণার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বান্দরবানের নিউ গুলশান এলাকায় অবস্থিত সোমাং বম হোস্টেলে। সেখান থেকে প্রশিক্ষণস্থলে যাতায়াতের জন্য ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাস ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বান্দরবান সদর হাসপাতাল পরিদর্শনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নারীরা মাতৃ স্বাস্থ্য, নিরাপদ প্রসব, নবজাতকের যত্ন এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে প্রাথমিক করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর মাধবদীতে পরকীয়া সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে স্ত্রী রেহানা বেগমকে (৩৮) হত্যার অভিযোগ স্বামী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে উঠেছে। এই ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার মহিষাসুরা ইউনিয়নের হামটি গ্রামে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী জসিম উদ্দিন পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক জসিম উদ্দিনের অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এই বিষয়টি নিয়ে তাদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে যখন তাদের দুই মেয়ে মক্তবে চলে যায়, তখন তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে জসিম উদ্দিন তার স্ত্রী রেহানা বেগমের মাথায় আঘাত করেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একটি মেয়ের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। মঙ্গলবার সকালে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন জসিম, এবং এতে ঘটনাস্থলেই রেহানা মারা যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন এখনও পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ