ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিসাইল হামলার সতর্কবার্তায় ছাদ থেকে পড়ে সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু


মিসাইল হামলার সতর্কবার্তায় ছাদ থেকে পড়ে সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরবে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর ভবনের ছাদ থেকে দ্রুত নিচে নামার সময় সৌরভ ইসলাম (২৫) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে জেদ্দায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সৌরভ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর এলাকার আমির ইসলামের ছেলে। তিনি জেদ্দায় আলসাইন কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে সৌরভ একটি ভবনের ছাদে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার মোবাইলে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা আসে। এরপর তিনি ছাদ থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন এবং এ সময় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে।

আরও পড়ুন: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যেমন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পাশে ছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তাঁরা পাশে ছিলেন : প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর

সহকর্মীদের উদ্ধৃত করে পরিবারের সদস্যরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই সৌরভের মৃত্যু ঘটে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। সৌরভের স্বজন তৌহিদুল ইসলাম ও কামাল মিয়া জানান, মিসাইল হামলার আশঙ্কায় দ্রুত ছাদ থেকে নামার সময় তার পায়ে একটি রশি পেঁচিয়ে যায়। এর ফলে তিনি পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।

সৌদি প্রবাসী সবুজ সরকার বলেন, হুতিদের হামলার পর থেকে সৌদির বিভিন্ন শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর পাশাপাশি মুঠোফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে প্রবাসীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। তবে সতর্কবার্তা পেয়ে তাড়াহুড়ো করে নামার সময় সৌরভ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশের তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

আরও পড়ুন: মেহেরপুরে শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের ব্যস্ততা

 

জানা যায়, পাঁচ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান সৌরভ। গত বছর ছুটিতে দেশে এসে বিয়ে করেন তিনি। পরে আবার সৌদি আরবে ফিরে যান। আমির ইসলাম ও রেনু বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিলেন সৌরভ।

সৌরভের বাবা আমির ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে সৌদি আরবে তার ছেলের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি ফোন করে মৃত্যুর খবর দেন। তিনি কখনো ভাবেননি যে, একমাত্র ছেলেকে বিদেশের মাটিতে এভাবে হারাতে হবে। সৌরভের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।

নিহতের স্বজনরাও বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সৌরভের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: হিজলায় ৫১ লাখ মিটার পরিত্যক্ত জাল উদ্ধার, ২০ জেলে আটক

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, সৌদি আরবে রায়পুরার এক প্রবাসী নিহত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেনি। যোগাযোগ করা হলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পর্তুগালে অভিবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ, বদলে গেল রেসিডেন্সের নিয়ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫১ পি.এম


পর্তুগালে অভিবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ, বদলে গেল রেসিডেন্সের নিয়ম

পর্তুগালের অভিবাসন আইন পরিবর্তনের ফলে বিদেশিদের জন্য রেসিডেন্স পাওয়ার নিয়মে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শিক্ষা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক রেসিডেন্সের জন্য দেশটির অভ্যন্তরে আবেদন করার পূর্বের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং সিআইটিই শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পেতে ভিসার শর্তসহ আরও কিছু আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে।

সরকারি গেজেটে ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশের পর ১১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে পর্তুগালের অভিবাসন আইনের আর্টিকেল ৯২-এর ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুসারে, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং সিআইটিই লেভেল ৪ কোর্সের শিক্ষার্থীদের আর্টিকেল ৯২-এর আওতায় বসবাসের অনুমতি পেতে রেসিডেন্স ভিসা থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বৈধ স্বাস্থ্যবীমা তথা অন্যান্য আইনি শর্তও পূরণ করতে হবে।

এর ফলে, নির্দিষ্ট শিক্ষা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক রেসিডেন্সের জন্য পর্তুগালের অভ্যন্তরে আবেদন করার সুযোগ সীমিত হয়েছে। তবে আর্টিকেল ৯২ পুরোপুরি বাতিল হয়নি; নতুন শর্তের অধীনে এটি কার্যকর রয়েছে।

নতুন আইনে রেসিডেন্স আবেদনের সিদ্ধান্ত সাধারণত ৯০ দিনের মধ্যে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা ৩০ দিন বাড়ানো হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে, পর্তুগালে পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণের জন্য আগ্রহীদের দেশ ছাড়ার পূর্বে সঠিক ভিসা, কোর্সের ধরন এবং রেসিডেন্স পাওয়ার যোগ্যতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিজি বোর্ডেনের সঙ্গে প্রেম, নাকি শুধুই কল্পনা? ব্রিজেট সুলিভানের পরিচয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ পি.এম


লিজি বোর্ডেনের সঙ্গে প্রেম, নাকি শুধুই কল্পনা? ব্রিজেট সুলিভানের পরিচয়

১৮৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ফল রিভারে ঘটে যাওয়া একটি জোড়া হত্যা আজও রহস্যময়। কুঠারের আঘাতে প্রাণ হারান লিজি বোর্ডেনের বাবা অ্যান্ড্রু বোর্ডেন এবং সৎমা অ্যাবি বোর্ডেন। ওই দিন বাড়িতে লিজি ছাড়া আর একমাত্র উপস্থিত ছিলেন পরিবারের পরিচারিকা ব্রিজেট সুলিভান।

এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদন।

নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজ ‘মনস্টার: দ্য লিজি বোর্ডেন স্টোরি’-তে এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। সিরিজে ব্রিজেট সুলিভানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভিকি ক্রিপস। তবে বাস্তবের এই পরিচারিকাকে হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হিসেবে নয়, বরং লিজি বোর্ডেনের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রেমের সম্পর্কের গল্পও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে আলোচিত হয়েছে।

ব্রিজেট সুলিভানের জন্ম আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি কর্কে। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তিনি বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন। ১৮৯৩ সালের ৭ জুন আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি বোর্ডেন পরিবারের হয়ে প্রায় দুই বছর নয় মাস কাজ করেছেন।

তাঁর দায়িত্বের মধ্যে রান্না, কাপড় ধোয়া, ইস্ত্রি করা এবং ঘর পরিষ্কার করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। লিজি ও তাঁর বোন এমা তাঁকে ‘ম্যাগি’ নামে ডাকতেন।

১৮৯২ সালের ৪ আগস্ট সকালে তিনি বাড়ির জানালা পরিষ্কার করছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বেলা ১১টার কিছুক্ষণ পর লিজি তাঁকে চিৎকার করে নিচে আসতে বলেন। লিজি জানান, তাঁর বাবা মারা গেছেন এবং কেউ বাড়িতে ঢুকে তাঁকে হত্যা করেছে। পরে ব্রিজেটকে চিকিৎসক ডেকে আনতে পাঠানো হয়।

লিজি বোর্ডেনের বাবা ও সৎমা হত্যার মামলায় ব্রিজেট সুলিভানের সাক্ষ্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, হত্যার সময় তিনি কোনো অস্বাভাবিক শব্দ শোনেননি এবং বাড়ির আশপাশে কাউকে আসতেও দেখেননি।

লিজি বোর্ডেনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তিনি খালাস পান। হত্যাকাণ্ডের জন্য অন্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।

তবে পরবর্তী সময়ে কিছু লেখায় ব্রিজেট সুলিভানকে সম্ভাব্য সহযোগী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। কিছু তদন্তকারী মনে করতেন, তিনি আদালতে সব কথা বলেননি। এমন দাবিও করা হয়েছে যে, জানালা পরিষ্কার করার সময় তাঁর কিছু বিষয় নজরে আসার কথা ছিল।

তবে এসব দাবি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। ব্রিজেট হত্যাকাণ্ডে সহযোগী ছিলেন—এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।

 

লিজি বোর্ডেন ও ব্রিজেট সুলিভানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল—এমন ধারণা বিভিন্ন উপন্যাস, চলচ্চিত্র ও সিরিজে উঠে এসেছে। ১৯৮৪ সালের ‘লিজি’ উপন্যাস, ২০১৮ সালের একই নামের চলচ্চিত্র এবং নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজেও এই সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা হয়েছে।

তবে বাস্তবে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে সিরিজে দেখানো এই সম্পর্ককে ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়, বরং কাহিনির একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা বা নাটকীয় উপস্থাপনা হিসেবে দেখা যায়।

 

হত্যাকাণ্ডের কয়েক বছর পর, ১৮৯৭ সালে ব্রিজেট সুলিভান মন্টানার অ্যানাকোন্ডায় চলে যান। ১৯০৫ সালে তিনি জন সুলিভানকে বিয়ে করেন। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি সেখানেই কাটান।

১৯৪৮ সালের মার্চে মন্টানার বাট শহরের একটি কাউন্টি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮১ বছর।

উল্লেখ্য লিজি বোর্ডেনের পরিবারের হত্যাকাণ্ডের রহস্য আজও পুরোপুরি সমাধান হয়নি। আর সেই রহস্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ব্রিজেট সুলিভানকে ঘিরে বাস্তব ইতিহাস ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির গল্প—দুই-ই নতুন করে আলোচনায় এসেছে নেটফ্লিক্সের সিরিজে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তথ্য মন্ত্রী আন্দালিভ রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ পি.এম


তথ্য মন্ত্রী আন্দালিভ রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত হয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাক্ষাৎকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে আন্দালিভ রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

আন্দালিভ রহমান উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছরে তাদের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হয়। নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তিনি উল্লেখ করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমাগত আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং এ সম্পর্ক ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহায়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, তাদের সহায়তায় স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তার সৌন্দর্যে বয়সের রেখা টানতে পারেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


তার সৌন্দর্যে বয়সের রেখা টানতে পারেনি

চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা রুপালি পর্দায় সৌন্দর্য, অভিনয় এবং জনপ্রিয়তার প্রতীক হিসেবে কয়েক দশক ধরে প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন। চলচ্চিত্রের ভাষা পরিবর্তিত হয়েছে, নতুন প্রজন্ম এসেছে এবং দর্শকের রুচি বদলেছে। তবে, পূর্ণিমাকে ঘিরে মুগ্ধতা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। বরং সময়ের সাথে তাঁর সৌন্দর্যে পরিণত এক দীপ্তি যুক্ত হয়েছে।

তরুণ-তরুণীদের কাছে পূর্ণিমা এখনও সৌন্দর্যের একটি পরিচিত নাম। যদিও তিনি পর্দায় নিয়মিত নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি মুহূর্তেই নজর কাড়ে। নতুন ছবি প্রকাশ হলে ভক্তদের মন্তব্যের ঘর প্রশংসায় ভরে যায়। যেন বয়স তাঁর সৌন্দর্য কিংবা আকর্ষণে কোনো রেখা টানতে পারেনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিতে ফের সেই চিত্র দেখা গেছে। সাদা পোশাকের সঙ্গে কালো-সাদা চেক নকশার জ্যাকেট, খোলা সোজা চুল, স্বাভাবিক সাজ এবং মুখের মিষ্টি হাসি—সব মিলিয়ে পরিশীলিত এক লুকে ধরা পড়েছেন পূর্ণিমা।

ছবিতে সাদা ডিপ ভি-নেক টপের সঙ্গে সাদা প্যান্টে তাঁকে দেখা গেছে। এর সাথে কালো-সাদা নকশার ব্লেজার আধুনিকতার ছোঁয়া যোগ করেছে। হাতে সোনালি রঙের রিস্টওয়াচ ও সূক্ষ্ম ব্রেসলেট, পায়ে স্ট্র্যাপি স্টিলেটো হিল—সাজে ছিল আভিজাত্য, তবে কোথাও বাড়াবাড়ি ছিল না।

ছবির পাশাপাশি পূর্ণিমার লেখা ক্যাপশনও নজর কেড়েছে। জীবনের ওঠানামাকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে অভিনেত্রী লিখেছেন, “জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। তবে নিজের ভেতরের ঝড়গুলোকে কখনোই তোমার বয়ে চলা আলোর চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হতে দিও না।”

পূর্ণিমার এই বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তাঁর ভক্ত-অনুসারীরা। একজন মন্তব্য করেছেন, “ঝড় আসবেই; কিন্তু নিজের ভেতরের আলোটা যেন কখনো নিভে না যায়, এটাই জীবনের আসল শক্তি।” আরেকজন লিখেছেন, “ঠিক বলেছেন, জীবনে যা কিছু হোক থেমে থাকা যাবে না।”

পূর্ণিমার সাম্প্রতিক ছবির মন্তব্যের ঘর আবারও মনে করিয়ে দেয়—দর্শকের সাথে তাঁর সম্পর্ক কেবল পর্দার চরিত্রে সীমাবদ্ধ নয়। সময়ের সাথে সেই সম্পর্কের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু মুগ্ধতা হারায়নি।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত “এ জীবন তোমার আমার” সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে পূর্ণিমার। প্রথম ছবিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ। সেই শুরু থেকেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি।

এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে নিজের জায়গা শক্ত করেন পূর্ণিমা। মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান এবং শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সাথে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তিনি।

তবে রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির জনপ্রিয়তা ছিল আলাদা। “মনের মাঝে তুমি”, “হৃদয়ের কথা”, “আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা”সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁদের রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পায়। বিশেষ করে “মনের মাঝে তুমি” বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়।

শুধু চলচ্চিত্র নয়, ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের সাথে যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়েও টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করেছেন। “লাল নীল বেগুনী” ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকের কাছেও ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।

“ল্যাবরেটরি”, “নিলিমার প্রান্তে”, “অমানিশা”, “শঙ্খচিল”, “লাভ অ্যান্ড কোং”সহ বেশ কিছু নাটক ও টেলিফিল্মে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। বিজ্ঞাপনেও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। গ্রামীণফোন, সিটিসেল, মেরিল বেবি লোশন, বার্জার ঝিলিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের মুখ হয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াৎ পরিচালিত “ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না” সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

এ ছাড়া “মনের মাঝে তুমি” (২০০৩) এবং “হৃদয়ের কথা” (২০০৬) সিনেমার জন্য মেরিল পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

পর্দায় অনিয়মিত, আলোচনায় নিয়মিত

বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত নন পূর্ণিমা। তবে তিনি অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি। তাঁর অভিনীত “জ্যাম” এবং “গাঙচিল” সিনেমা দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমা দুটিতে তাঁর সাথে জুটি বেঁধেছেন ফেরদৌস ও আরেফিন শুভ।

বড় পর্দায় দেখা না গেলেও টেলিভিশনে মাঝে মাঝে হাজির হন পূর্ণিমা। কখনো উপস্থাপনায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠানের বিচারকের আসনে দেখা যায় তাঁকে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও তাঁর উপস্থিতি রয়েছে।

সব মিলিয়ে পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের গল্পটা যেন সময়ের সাথে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। ১৭ বছরের তরুণী থেকে আজকের পরিণত অভিনেত্রী—পথটা দীর্ঘ। বয়স, সময় এবং চারপাশের পরিবর্তন ঘটেছে। তবে দর্শকের চোখে তাঁর সেই মুগ্ধতা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

হয়তো এ কারণেই পূর্ণিমার ক্ষেত্রে বয়স সত্যিই শুধুই একটি সংখ্যা। সময় তাঁর জীবনে বছর যোগ করেছে, কিন্তু দীপ্তি কেড়ে নিতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%