বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৫ পি.এম
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত হয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাক্ষাৎকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে আন্দালিভ রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
আন্দালিভ রহমান উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছরে তাদের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হয়। নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমাগত আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং এ সম্পর্ক ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহায়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, তাদের সহায়তায় স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা রুপালি পর্দায় সৌন্দর্য, অভিনয় এবং জনপ্রিয়তার প্রতীক হিসেবে কয়েক দশক ধরে প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন। চলচ্চিত্রের ভাষা পরিবর্তিত হয়েছে, নতুন প্রজন্ম এসেছে এবং দর্শকের রুচি বদলেছে। তবে, পূর্ণিমাকে ঘিরে মুগ্ধতা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। বরং সময়ের সাথে তাঁর সৌন্দর্যে পরিণত এক দীপ্তি যুক্ত হয়েছে।
তরুণ-তরুণীদের কাছে পূর্ণিমা এখনও সৌন্দর্যের একটি পরিচিত নাম। যদিও তিনি পর্দায় নিয়মিত নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি মুহূর্তেই নজর কাড়ে। নতুন ছবি প্রকাশ হলে ভক্তদের মন্তব্যের ঘর প্রশংসায় ভরে যায়। যেন বয়স তাঁর সৌন্দর্য কিংবা আকর্ষণে কোনো রেখা টানতে পারেনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিতে ফের সেই চিত্র দেখা গেছে। সাদা পোশাকের সঙ্গে কালো-সাদা চেক নকশার জ্যাকেট, খোলা সোজা চুল, স্বাভাবিক সাজ এবং মুখের মিষ্টি হাসি—সব মিলিয়ে পরিশীলিত এক লুকে ধরা পড়েছেন পূর্ণিমা।
ছবিতে সাদা ডিপ ভি-নেক টপের সঙ্গে সাদা প্যান্টে তাঁকে দেখা গেছে। এর সাথে কালো-সাদা নকশার ব্লেজার আধুনিকতার ছোঁয়া যোগ করেছে। হাতে সোনালি রঙের রিস্টওয়াচ ও সূক্ষ্ম ব্রেসলেট, পায়ে স্ট্র্যাপি স্টিলেটো হিল—সাজে ছিল আভিজাত্য, তবে কোথাও বাড়াবাড়ি ছিল না।
ছবির পাশাপাশি পূর্ণিমার লেখা ক্যাপশনও নজর কেড়েছে। জীবনের ওঠানামাকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে অভিনেত্রী লিখেছেন, “জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। তবে নিজের ভেতরের ঝড়গুলোকে কখনোই তোমার বয়ে চলা আলোর চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হতে দিও না।”
পূর্ণিমার এই বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তাঁর ভক্ত-অনুসারীরা। একজন মন্তব্য করেছেন, “ঝড় আসবেই; কিন্তু নিজের ভেতরের আলোটা যেন কখনো নিভে না যায়, এটাই জীবনের আসল শক্তি।” আরেকজন লিখেছেন, “ঠিক বলেছেন, জীবনে যা কিছু হোক থেমে থাকা যাবে না।”
পূর্ণিমার সাম্প্রতিক ছবির মন্তব্যের ঘর আবারও মনে করিয়ে দেয়—দর্শকের সাথে তাঁর সম্পর্ক কেবল পর্দার চরিত্রে সীমাবদ্ধ নয়। সময়ের সাথে সেই সম্পর্কের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু মুগ্ধতা হারায়নি।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত “এ জীবন তোমার আমার” সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে পূর্ণিমার। প্রথম ছবিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ। সেই শুরু থেকেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি।
এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে নিজের জায়গা শক্ত করেন পূর্ণিমা। মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান এবং শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সাথে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তিনি।
তবে রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির জনপ্রিয়তা ছিল আলাদা। “মনের মাঝে তুমি”, “হৃদয়ের কথা”, “আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা”সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁদের রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পায়। বিশেষ করে “মনের মাঝে তুমি” বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়।
শুধু চলচ্চিত্র নয়, ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের সাথে যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়েও টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করেছেন। “লাল নীল বেগুনী” ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকের কাছেও ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।
“ল্যাবরেটরি”, “নিলিমার প্রান্তে”, “অমানিশা”, “শঙ্খচিল”, “লাভ অ্যান্ড কোং”সহ বেশ কিছু নাটক ও টেলিফিল্মে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। বিজ্ঞাপনেও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। গ্রামীণফোন, সিটিসেল, মেরিল বেবি লোশন, বার্জার ঝিলিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের মুখ হয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াৎ পরিচালিত “ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না” সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
এ ছাড়া “মনের মাঝে তুমি” (২০০৩) এবং “হৃদয়ের কথা” (২০০৬) সিনেমার জন্য মেরিল পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।
পর্দায় অনিয়মিত, আলোচনায় নিয়মিত
বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত নন পূর্ণিমা। তবে তিনি অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি। তাঁর অভিনীত “জ্যাম” এবং “গাঙচিল” সিনেমা দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমা দুটিতে তাঁর সাথে জুটি বেঁধেছেন ফেরদৌস ও আরেফিন শুভ।
বড় পর্দায় দেখা না গেলেও টেলিভিশনে মাঝে মাঝে হাজির হন পূর্ণিমা। কখনো উপস্থাপনায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠানের বিচারকের আসনে দেখা যায় তাঁকে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও তাঁর উপস্থিতি রয়েছে।
সব মিলিয়ে পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের গল্পটা যেন সময়ের সাথে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। ১৭ বছরের তরুণী থেকে আজকের পরিণত অভিনেত্রী—পথটা দীর্ঘ। বয়স, সময় এবং চারপাশের পরিবর্তন ঘটেছে। তবে দর্শকের চোখে তাঁর সেই মুগ্ধতা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।
হয়তো এ কারণেই পূর্ণিমার ক্ষেত্রে বয়স সত্যিই শুধুই একটি সংখ্যা। সময় তাঁর জীবনে বছর যোগ করেছে, কিন্তু দীপ্তি কেড়ে নিতে পারেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাসি-ঠাট্টা এবং তারকাদের আড্ডা আবারও জমে উঠবে নেটফ্লিক্সে। জনপ্রিয় কমেডি শো ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’ নতুন মৌসুম নিয়ে ফিরে আসছে।
নতুন মৌসুমের ঘোষণা উপলক্ষে বুধবার অনুষ্ঠানটির টিজার প্রকাশ করা হয়েছে। আগের মৌসুমগুলোর মতো, এবারও কপিলের সঙ্গে দেখা যাবে সুনীল গ্রোভার, কিকু শারদা এবং কৃষ্ণা অভিষেককে। বিচারকের আসনে থাকবেন অর্চনা পুরান সিং এবং নভজ্যোৎ সিং সিধু।
প্রায় দুই মিনিটের টিজারটির মূল ভাবনা ‘হাসি কা ত্যোহার’, অর্থাৎ হাসির উৎসব। দীপাবলি, নবরাত্রি এবং বড়দিনের মতো উৎসবের আবহে সাজানো হয়েছে টিজারটি। সেখানে নতুন মৌসুমকে হাসি-আনন্দে ভরা একটি বড় আয়োজন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নভজ্যোৎ সিং সিধুর ঘোষণায়ও নতুন মৌসুমের ‘হাসির উৎসব’ শুরুর বার্তা এসেছে।
নেটফ্লিক্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে জানানো হয়েছে, ঢোল-নগাড়ার তালে এবার নেটফ্লিক্সে সাজবে ‘হাসি কা ত্যোহার’।
জানা গেছে, নতুন মৌসুম আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা থেকে দেখা যাবে।
এর আগে ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-এর চতুর্থ মৌসুম শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর। মার্চ পর্যন্ত চলা ওই মৌসুমে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন বলিউড এবং ক্রিকেট অঙ্গনের একঝাঁক তারকা। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার হারমানপ্রীত কৌর, জেমিমা রদ্রিগেস, কার্তিক আরিয়ান, অনন্যা পান্ডে, মাধুরী দীক্ষিত, জ্যাকি শ্রফ, শহিদ কাপুর এবং তৃপ্তি দিমরি।
২০২৪ সালের ৩০ মার্চ নেটফ্লিক্সে প্রথম মৌসুম দিয়ে যাত্রা শুরু করে অনুষ্ঠানটি। একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় দ্বিতীয় মৌসুম। এরপর ২০২৫ সালের ২১ জুন আসে তৃতীয় মৌসুম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব), যা ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে ঘটেছে।
বাহিনী প্রধান আহসান হাবীব পলাশ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নতুন নাম নিয়ে কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "এসআরবি নামে গেজেট হয়েছে। আমরা র্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি নাম দিয়ে সকল কাজ আজ থেকে শুরু করেছি।"
সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে বাহিনীটি যে লোগো ব্যবহার করেছে, সেখানে র্যাবের পরিবর্তে ‘এসআরবি বাংলাদেশ’ লেখা দেখা যাচ্ছে। তবে লোগোর নকশা অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন লোগো বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবহৃত হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে র্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারির পর এটি আইনে রূপ নেয় এবং পরদিনই বাহিনীটি নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করে।
২০০৪ সালের ২৬ মার্চ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গঠিত হয় র্যাব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সফলতার পাশাপাশি বাহিনীটির বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, যার ফলে বিলুপ্তির দাবি ওঠে।
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাব ও বাহিনীর সাত কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানায় বিএনপি গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার বিষয়ক কমিটি।
এ ধারাবাহিকতায় সরকার এবার কাঠামোগত ও কর্মপরিধি পুনর্বিন্যস্ত করে বাহিনীটিকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি নামে মাঠে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে একটি দীর্ঘকালীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জার্মানির পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জার্মানি এবং বাংলাদেশ উভয়ই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃপ্রতিম।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে শোষণের শিকার হয়েছে। পাকিস্তান আমলে গণতান্ত্রিক বৈষম্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পরও দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। গুম, খুন, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে দেশে পুনরায় গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
স্পিকার উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের বারবার উৎসর্গ করেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের দীর্ঘ লড়াই কখনো বিঘ্নিত হয়নি।
জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ পনেরো বছরের স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হয়েছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি এদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে জার্মান সরকারের সর্বোচ্চ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল জার্মানি-বাংলাদেশের সংসদীয় কমিটি গঠন, মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার, অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস কূপ অনুসন্ধান এবং সার কারখানা স্থাপনে গুরুত্বারোপ করেন।
স্পিকার এ সময় বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় এলাকার গ্যাস ও তেল সম্পদ অনুসন্ধানে জার্মানির বিশেষজ্ঞ দলকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি রাষ্ট্রদূতকে জানান, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি জ্বালানির উপর নির্ভরশীল।
এ অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ