০৬:২০ পি.এম
রাজশাহীর সাহেববাজারে জাল নোটের মাধ্যমে স্বর্ণের চেইন হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকার খিলক্ষেত থেকে। এ সময় রাজশাহীতে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া স্বর্ণের চেইনসহ বগুড়ায় একই কৌশলে আত্মসাৎ করা আরও একটি চেইন উদ্ধার করা হয়।
বুধবার আরএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারে অবস্থিত ‘আশা জুয়েলারি স্টোরে’ এক ব্যক্তি নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পরিচয় দিয়ে যান। তিনি এক কর্মকর্তার মেয়ের বিয়ের জন্য গয়না কেনার কথা বলে ৭০০ টাকায় একটি নাকফুল কেনেন। পাশাপাশি আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর ওই ব্যক্তি দোকানে এসে চেইনটি নিতে চান।
দোকানে চেইন না থাকায় পাশের দোকান থেকে ২২ ক্যারেটের আট আনা এক পয়েন্ট ওজনের একটি চেইন এনে তাঁকে দেওয়া হয়। চেইনটির বাজারমূল্য ছিল এক লাখ পনেরো হাজার টাকা। এর বিপরীতে তিনি এক হাজার টাকা মূল্যমানের ১১৫টি নতুন নোট দেন। দোকানমালিকের বাবা নোটগুলো যাচাই করতে পাশের দোকানে গেলে সেগুলো জাল বলে শনাক্ত হয়। পরে দোকানে ফিরে ওই ব্যক্তিকে আর পাওয়া যায়নি। এভাবেই জাল নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইনটি নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনার তদন্তে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএমের নির্দেশনায় বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ও আরএমপির সিসি ক্যামেরা দল কাজ শুরু করে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশে প্রস্তুত, শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষা মাউশি
এর ধারাবাহিকতায় গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার খিলক্ষেত থানার জামতলা মোড় এলাকা থেকে মো. রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার উত্তর মারাবাটি গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার খিলক্ষেত টানপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজুল স্বীকার করেন, প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া চেইনটি তিনি জামতলা মোড় এলাকার ‘মা জুয়েলার্স’-এর মালিক মো. রোমানের কাছে বিক্রি করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে রোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় রাজশাহীর দোকান থেকে নেওয়া স্বর্ণের চেইনটি উদ্ধার করা হয়। তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পারে, একই কৌশলে গত ৬ অক্টোবর বগুড়ার নিউ মার্কেটের স্বর্ণপট্টিতে অবস্থিত ‘তামান্না জুয়েলার্স’ থেকে এক লাখ ২২ হাজার টাকার জাল নোট দিয়ে আট আনা তিন রতি তিন পয়েন্ট ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন হাতিয়ে নেন রিয়াজুল।
বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ওই চেইনটিও উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া রিয়াজুলের কাছ থেকে একটি মুঠোফোন ও নগদ ১৪ হাজার ৯৭২ টাকা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, রিয়াজুল একই কৌশলে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে রংপুরের বদরগঞ্জ থানা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) খিলক্ষেত থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুর: জামায়াতের ৭ দিনের আলটিমেটাম জড়িতদের গ্রেপ্তারে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন