মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২৪ পি.এম
পাকিস্তানের মুলতানে, শের শাহ সেতুর নিকটে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রেহমান বাবা এক্সপ্রেস ট্রেনের ১৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ এবং উদ্ধারকর্মীরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জিও টিভি এই খবর প্রকাশ করে।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য মুলতানের নিশতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে ১৩টি বগি থেকে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বাকি একটি বগিতে উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।
এক যাত্রীর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে ঘটেছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রেনটি করাচি থেকে পেশোয়ারের দিকে যাচ্ছিল।
এক যাত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পূর্বে রোহরির কাছে ট্রেনের নয় নম্বর বগির নাট-বল্টু মেরামত করা হয়েছিল। তবে ওই মেরামতের সঙ্গে দুর্ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দুর্ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন। তিনি আহত যাত্রীদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়াও, আহত ব্যক্তিদের যেন বিলম্ব ছাড়াই সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান উল্লেখ করেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, সরকারের সব স্থাপনা বা সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হবে। তিনি বলেন, হাসিনা আমলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে শূন্য করে দেওয়ার জন্য স্থাপনার সম্পদগুলো পরিত্যক্ত রেখে কিংবা বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত ছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠান ‘ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ এর ১০ একর সম্পত্তি ও পরিত্যক্ত কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, যেহেতু আমাদের সরকার একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার, তাই মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তিগুলোর সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার কারণে এই ইস্টার্ন কেমিক্যালের ১০ একর জায়গায় রাষ্ট্রের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের এমন ক্ষতি আর হতে দেওয়া হবে না। এখানে বড় প্রজেক্টের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য। ঢাকায় গিয়ে আলোচনা করে এলাকার জন্য সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
পরিদর্শনকালে সফরসঙ্গী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জানান, ইস্টার্ন কেমিক্যালের এই পরিত্যক্ত জায়গা ও কারখানা প্রজেক্টের মাধ্যমে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা আমরা দেখছি। তিনি জানান, দুদিনের চট্টগ্রাম সফরে ট্রাস্টের অন্যান্য সম্পত্তিও আমরা একইভাবে সরেজমিনে পরিদর্শন করব।
এই পরিদর্শনের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জে আলোচিত শাহনাজ পারভীন জোৎস্না হত্যা মামলায় আসামি জিতেশ চন্দ্র গোপকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লা এই রায় দেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নিখোঁজ হন প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জোৎস্না। পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি, স্থানীয় একটি ফার্মেসির ভেতর থেকে তার মরদেহের ৬ টুকরো উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, জগন্নাথপুরের একটি ফার্মেসিতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন শাহনাজ। পরে তার স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে ওই ফার্মেসিতে গিয়ে তার মরদেহের ৬টি টুকরো দেখতে পান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই হেলাল আহমদ বাদী হয়ে জিতেশ চন্দ্র গোপসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে সোমবার আদালত প্রধান আসামি জিতেশ চন্দ্র গোপকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম শেফু বলেন, "আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। আদালত দ্রুততম সময়ে আলোচিত মামলাটির রায় দিয়েছেন। এখন দ্রুত রায় কার্যকর করা উচিত।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বলিপাড়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ছাত্রবিক্ষোভের ফলে পুরো দেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সমর্থনে সেলিব্রিটিদের পক্ষ থেকে ব্যাপক সমর্থন দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। বেশিরভাগ তারকা বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে, কিছু সংখ্যক তারকা তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। এর ফলে বলিউডের মধ্যে একটি আড়াআড়ি বিভাজন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনে ছাত্রদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে একাধিক তারকা প্রকাশ্যে এসেছিলেন। দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভের পর, দেশের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিয়েছিলেন।
এখন সেই আন্দোলনের মূল কেন্দ্র ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আবারও দেশজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছে। তাদের দাবি, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। এই দাবি শুধু সিজেপির বিক্ষোভেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দলও নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও বিক্ষোভ ও আন্দোলন থামানোর জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সিজেপির বিক্ষোভের ডাকের সমালোচনা করেছেন অভিনেতা রণবীর শৌরে। তিনি বলেন, "নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে রাস্তায় বিক্ষোভের বদলে আদালত, সংসদসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া উচিত।"
রণবীর আরও বলেন, "রাস্তা নিজেদের দখলে নিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করা এবং সরকারি পরিকাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়াই আসলে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’।" এই আন্দোলনকে সমালোচনা করে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত বিক্ষোভকারীদের ‘দেশবিরোধী’ তকমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিনেতা বিজয় ভার্মা ও অভিনেত্রী হুমা কুরেশি আন্দোলনের পক্ষে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। বিজয় সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট রি-শেয়ার করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে— জ্ঞানেশ কুমারের গদি বাঁচাতে কেন্দ্রীয় সরকার অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। হুমা কুরেশি আবার বিক্ষোভ করতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিসহ দেশের একাধিক জায়গা থেকে আন্দোলনকারীদের ধরপাকড়ের খবর আসছে। এই প্রেক্ষিতে হুমা বলেছেন, ‘বিশ্বের সব থেকে বড় গণতন্ত্রে নিজেদের দাবি সামনে রেখে বিক্ষোভ করাটাও কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার।’ স্বানন্দ কিরকিরেও প্রায় একই ধরনের বক্তব্য রেখেছেন।
এদিকে, অভিনেতা আমির খানের ভাইঝি জেন মেরি খানের পোস্ট নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি হাতে–পায়ে একাধিক কালশিটের দাগ দেখিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় মুম্বাই পুলিশ তাকে আটক করেছিল এবং ধাক্কাধাক্কির ফলে তার চোট লেগেছে। তাকে ছাড়াও অভিনেতা ইমরান খান ও তার গার্লফ্রেন্ড লেখা ওয়াশিংটনকেও আটক করা হয়েছিল মুম্বাই পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ