বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩৩ পি.এম
গাজা শহরে বোমা হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সাততলা ভবন রাতের মধ্যে ধসে পড়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০০ মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। বুধবার সকালে উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করেন। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, এ ঘটনায় ১৪ জন আহত হয়েছেন।
ধসে পড়ার আগে ভবনটিতে অন্তত ১০টি পরিবার বসবাস করত। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের খুঁজে বের করার জন্য ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ অব্যাহত রেখেছেন। রয়টার্সের কাছে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া দেয়ালের নিচ থেকে দুজনকে বের করার চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র মাহমুদ বাসালকে একটি ছোট মেয়েকে কোলে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়, যার গায়ে রক্তমাখা একটি স্কার্ফ ছিল। গাজা শহরের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের পরিচালক রায়েদ আল-দাহশান জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো মানুষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। তাই সেখানে আটকা পড়াদের জীবিত উদ্ধারের আশা রয়েছে। ভবনটি ঘুমানোর সময় ধসে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে।
উদ্ধারকাজে জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থার কর্মীরাও অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির গাজা কার্যালয়ের প্রধান আলেসান্দ্রো ম্রাকিচ। তবে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। মিসরের ত্রাণ সংস্থার কর্মীরাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করছেন। ম্রাকিচ বলেন, উদ্ধারকর্মীদের অনেক কাজই খালি হাতে করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় আরো প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, গাজায় প্রায় ৪০০টি ভবন এখন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সামনে শীতকাল আসায় পরিস্থিতি আরো কঠিন হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
গাজায় ভারী উদ্ধারযন্ত্রের সংকটের জন্য ফিলিস্তিনি ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা ইসরায়েলের বিধিনিষেধকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, ধ্বংসস্তূপ সরানো ও আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ইসরায়েল বলছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে এসব সরঞ্জাম যাতে না যায়, সে কারণেই এই বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনা জমেছে। এসব সরাতে সাত বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে এখনো পরিবার বসবাস করছে। রায়েদ আল-দাহশান এসব ভবন থেকে বাসিন্দাদের দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। তবে গাজায় নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গা খুবই সীমিত। এ কারণে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে যাচ্ছে। দাহশান বলেন, অনেক বাসিন্দা মনে করেছিলেন ভবনগুলো এখনো নিরাপদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ঘুমের মধ্যেই ভবন ধসে পড়েছে। গত কয়েক মাসে অনেক পরিবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ঝড়, বাতাস ও বৃষ্টি থেকে বাঁচতে তারা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। গৃহহীন মানুষের জন্য নতুন তাঁবুর সংকটও তাদের এমন ভবনে থাকার অন্যতম কারণ।
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর ফলে বড় পরিসরের লড়াই অনেকটা কমে আসে। তবে ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থায়ী শান্তির পথেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা সংঘাত বন্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেছে। ওই পরিকল্পনার মধ্যে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয় রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হামাসই লঙ্ঘন করছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ১ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একই সময়ে চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। হামাস সাধারণত তাদের যোদ্ধাদের মধ্যে কতজন নিহত হয়েছেন, সেই সংখ্যা আলাদাভাবে প্রকাশ করে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার গৌরীপুরে একটি বাসায় গ্যাস লিকেজের কারণে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তারা ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন—ফারহানা (৩৪) এবং তার দুই ছেলে ওয়ালিদ (১৪) ও খালিদ (৮)।
ডা. সুলতান মাহমুদ জানান, রাত ৩টার সময় দগ্ধ অবস্থায় একই পরিবারের তিনজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে ওয়ালিদের শরীরের ১০ শতাংশ, ফারহানার ৫ শতাংশ এবং খালিদের ৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।
দগ্ধ ফারহানার স্বামী মো. আলমগীর জানিয়েছেন, তাদের ঘরের ভেতর দিয়ে তিতাস বা লাইনের গ্যাসের পাইপ অন্য একটি ঘরে নেওয়া হয়েছিল। ওই পাইপের লিকেজ থেকে মাঝে মাঝে গ্যাস বের হতো।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গতকাল রাত ৮টার দিকে আমাদের ঘরের ভেতরে বিকট গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময় ঘরের ভেতরে থাকা মশা মারার জন্য আমার ছেলে ইলেকট্রিক র্যাকেট ব্যবহার করে। র্যাকেটের স্পার্ক থেকে মুহূর্তের মধ্যে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে যায় এবং ঘরে থাকা আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান দগ্ধ হয়।’
আলমগীর আরো জানিয়েছেন, আগুনের পর পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত ৩টার দিকে তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাদের চিকিৎসা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জবের আলী তিস্তাপারে বসবাস করেন। ২০২০ সালে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পর খিতাবখা গ্রামের জবের আলীর ভিটে তিস্তার গর্ভে চলে যায়। এরপর থেকে ৮৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ বাঁধের ধারে মাথা গুঁজে রয়েছেন।
সপ্তাহ দুয়েক আগে হঠাৎ করে তিস্তা ফুঁসে ওঠার ফলে ক্রসবাঁধের কিছু অংশ বিলীন হয়ে যায়। এরপর আতঙ্ক আবারও জবের আলীর চোখে-মুখে দেখা দেয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখার পর, এই প্রবীণ ব্যক্তি ভেবেছিলেন যে এবার খনন এবং পাড় বেঁধে তিস্তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে; যাতে তারা ভিটেমাটি সুরক্ষিত করে চাষবাস করে জীবনধারণ করতে পারেন।
কিন্তু পোড়খাওয়া এই বৃদ্ধ প্রতিশ্রুতি এবং আশ্বাসে আর ভরসা করতে পারছেন না। তিনি বলেন, "এই তিস্তা হামার দুঃখ। যখন ব্যারাজের গেট ছাড়ি দেয়, নদী পাক দেয়, ডুকরি ওঠে। হামার বুক কাঁপে। চপুর আইত নিন্দ হয় না (সারা রাত ঘুম ধরে না)। শুনি বোলে তিস্তা বাইন্ধবে। সগাই (সবাই) আশা দেয়, কাম হয় না।"
৩০ বছর আগে ভিটে হারিয়ে রাজারহাটের তিস্তাপারের রামহরি গ্রামের আব্দুল মজিদ বাঁধের ধারে বসতি গড়েছেন। তবে তিস্তার চোখ রাঙানিতে তার বসতিও বিপন্ন। ফসলি জমি তিস্তার গর্ভে চলে গেছে। মহাপরিকল্পনা তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল, কিন্তু তিনি ভরসা পাচ্ছেন না।
হতাশা নিয়ে আব্দুল মজিদ বলেন, "৩০ বছর ধরি শুনি নদী খুঁড়বে, পাড় বাইন্ধবে। সরকার আইসে, সরকার যায়—হামার আশা পূরণ হয় না।"
নির্বাচনের আগে তিস্তার পাড়ে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ নামে একটি বড় আন্দোলনে তিস্তাপারের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। মশাল মিছিল, গানের সুরে জেগে উঠেছিল তিস্তাপার। তবে সেই আন্দোলনের সফলতা নিয়ে মানুষের সংশয় কাটেনি। খিতাবখা গ্রামের গৃহবধূ মমতা বেগম তাই আক্ষেপ করে বলেন, "ভোটের আগে তিস্তা বাঁচাই। ভোট বের হইলে তিস্তা মরে।"
রাজারহাটের গতিয়াশাম, রামহরি, খিঁতাবখা, গাবুরহেলান, ডাংরা, রতি, উলিপুরের ঠুটাপাইকর, হোকডাঙা, চিলমারীর চর বজরা- এসব গ্রামে ভাঙনের আতঙ্ক বিরাজমান। এসব গ্রামের অনেকগুলো শুধু নামেই টিকে আছে, বেশিরভাগই তিস্তার গর্ভে চলে গেছে। বাকি অংশের মানুষও সব সময় ভাঙন আতঙ্কে থাকে, ঘর-বাড়ি হারানোর ভয়ে।
কয়েকদিন আগে বুড়িরহাটের ক্রসবাঁধের ৪০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। এর ফলে ভাটির দিকে ৮-১০টি গ্রামে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙা অংশ মেরামতের কাজ করছে। নাজিমখান ইউনিয়নের সোমনারায়ণ পলাশপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ ধানি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রবল স্রোতে নদীর তীর ধরে প্রবাহিত হচ্ছে। হাসারপাড় এলাকার উজান ও ভাটিতে প্রতিনিয়ত ভাঙন হচ্ছে।
তিস্তাপারের মানুষ বলছেন, দীর্ঘদিন খননকাজ না করায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। ফলে মে মাস থেকে অধিকাংশ সময় তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকে। এতে কুড়িগ্রামের অংশের ২০ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর প্রাণান্ত চেষ্টায় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। কিন্তু কোথাও কোথাও জিও ব্যাগ, ক্রসবাঁধে ধস নামায় আতঙ্ক কাটেনি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তিস্তার আরো ৫-৬টি পয়েন্ট ভাঙনপ্রবণ। অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে সেসব পয়েন্টে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর রাকিবুল আলম মামুন নামের এক শিক্ষককে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি ও নীতি-নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মামুন যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি উপজেলা নিষিদ্ধ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গড়াই সেতু এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কনটেন্ট তৈরির জন্য তিনি নিজের বাসা ও কুমারখালীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষদের নিয়ে ভিডিও তৈরি করতেন। মামুনের বিরুদ্ধে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি এবং শিক্ষকতার নীতি-নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মঙ্গলবার বিকেলে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা এনসিপির সদস্যসচিব আলামিন হোসেন আকাশ।
অভিযোগ রয়েছে যে, ভিডিও বানানোর জন্য মামুন নিজের বাসা ও কুমারখালীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষদের নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করতেন। তবে মামুনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনায় মামুনের ভূমিকা ছিল। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অশ্লীল কনটেন্ট তৈরির অভিযোগের বিষয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। মঙ্গলবার রাতে মামুনকে কুমারখালী থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকতার পাশাপাশি মামুন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন। পরবর্তীতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ নগরীর আমলাপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পড়ে লিটন (৪০) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ স্পেশালাইজড হসপিটালের পেছনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত লিটন নারায়ণগঞ্জ সদর থানার দেওভোগ পাক্কা রোডের আলম সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। তিনি চাঁদপুর সদর থানার মৃত ইউনুস মিয়ার পুত্র।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান জানান, সকালে হাসপাতালের পেছনে একটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হলে তার নাম লিটন বলে জানা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ স্পেশালাইজড হসপিটালের পেছনে আব্রাহাম ডেভেলপার কম্পানির নির্মীয়মাণ ভবনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু ঘটে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ