ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঝালকাঠিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পুলিশের প্রস্তুতি, পূজা হবে ১৬০ মণ্ডপে


ঝালকাঠিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পুলিশের প্রস্তুতি, পূজা হবে ১৬০ মণ্ডপে

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঝালকাঠিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে জেলা পুলিশ। জেলার ১৬০টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ঝালকাঠি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা।
সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামুন আল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (রাজাপুর-কাঠালিয়া সার্কেল) মো. শাহ আলম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. হুমায়ুন কবির, ঝালকাঠি সদর থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম, নলছিটি থানার ওসি তৌহিদুজ্জামান, রাজাপুর থানার ওসি সুজন বিশ্বাস, কাঠালিয়া থানার ওসি নাছের রায়হায় এবং ট্রাফিক বিভাগের টিআই (অ্যাডমিন) মো. মেহেদী হাসান।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ঝালকাঠি জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অলোক সাহা, সদর উপজেলা শাখার সভাপতি দিলীপ হালদার, রাজাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি রতন দেবনাথ, নলছিটি উপজেলা শাখার সভাপতি পলাশ সজ্জন এবং কাঠালিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খগেন্দ্র ভূষণ দাসসহ সংশ্লিষ্টরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ইসলামের জন্য ক্ষমতা ছাড়তে পারি, ক্ষমতার জন্য ইসলাম নয়: ফয়জুল করীম

সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানবাহন চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সমস্যা, চাহিদা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঝালকাঠির চার উপজেলায় মোট ১৬০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দও পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: মহাঅষ্টমীতে বরিশালের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিএমপি কমিশনার, নিরাপত্তায় কঠোর নজরদারি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে সরকারি দামের চেয়ে ২০০-৩০০ টাকা বেশি দামে এলপিজি বিক্রি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ এম


ফেনীতে সরকারি দামের চেয়ে ২০০-৩০০ টাকা বেশি দামে এলপিজি বিক্রি

ফেনীতে অভিযোগ উঠেছে যে, সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ সংকটের অজুহাত তুলে কিছু ব্যবসায়ী বাড়তি দাম নিচ্ছেন। এর ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সর্বশেষ দাম নির্ধারণ অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু ফেনীর বিভিন্ন বাজারে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে কিছু ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। বাজার তদারকিতে ঘাটতির সুযোগ নিয়ে তারা অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন। এতে একদিকে সংসারের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে সিলিন্ডার না পেয়ে অনেককে একাধিক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে।

ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা আবদুর রহমান জানান, এলপিজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি অল্প বেতনে চাকরি করি। পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকি। ভেতরের বাজার থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি। এভাবে চললে আমাদের বাঁচার উপায় নেই। এগুলো কি কেউ দেখবে না?‘

শহরের একাডেমি সড়কের বাসিন্দা কানিজ ফাতেমা জানান, তার সংসার স্বামীর অল্প আয়ের ওপর নির্ভরশীল। বাসায় লাকড়ির চুলা ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফলে বাধ্য হয়েই এলপিজি কিনতে হয়। তার ভাষায়, ‘এভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ালে আমরা কীভাবে সংসার চালাব?’

ট্রাংক রোডের চা-শিঙাড়ার দোকানি মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনলেও শিঙাড়ার দাম বাড়াতে পারছেন না। কারণ দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাবে।

তিনি বলেন, ‘সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে, কিন্তু শিঙাড়া আগের দামেই ১০ টাকায় বিক্রি করছি। শিঙাড়া ১৫ টাকা করলে কেউ খাবে না। আমাদের কষ্টের কথা শোনার কেউ নেই।‘

ছাগলনাইয়ার নাছিরা দিঘী রাস্তার মাথার ব্যবসায়ী তারেকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার তিনি ১২ কেজির সিলিন্ডার পাইকারি ১ হাজার ৯০০ টাকা দরে কিনেছেন। ফলে বাধ্য হয়ে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামে দিলে তারাও কম দামে বিক্রি করতে পারতেন।

জমাদ্দার বাজারের খুচরা বিক্রেতা আবুল কাসেম জানান, গত দুই মাস ধরে বসুন্ধরা গ্যাসের সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। অন্য একটি কোম্পানির সিলিন্ডারও স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি তার।

তবে ব্যবসায়ীদের দাবির সঙ্গে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে ডিলার পর্যায়ে। ফেনীর বসুন্ধরা গ্যাসের ডিলার মেসার্স রাসেল এন্টারপ্রাইজের ক্যাশিয়ার শাহাদাত হোসেন তারেক বলেন, বিইআরসি ১২ কেজির এলপিজির দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও কোম্পানি থেকে তাদের প্রতি সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। ফলে তারা প্রায় ৫০ টাকা লাভে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন।

তিনি বলেন, ‘গ্রামগঞ্জে খুচরা দোকানদাররা যে যার মতো দামে বিক্রি করছেন। তারা প্রতি বোতলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন। আবার বাড়তি দাম দিয়েও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। দুটি কোম্পানির গ্যাস গত দুই মাস ধরে পাওয়া যাচ্ছে না। একধরনের হাহাকার তৈরি হয়েছে।‘

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ফেনী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, এলপিজি বিক্রিতে অতিরিক্ত দাম নেওয়া বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা প্রয়োজন। বর্তমানে মানুষ এমনিতেই অর্থকষ্টে রয়েছে। অতিরিক্ত ১০ টাকা দেওয়ার সামর্থ্যও অনেকের নেই।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফেনীর সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম জানান, এলপিজির দাম নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যাতে বেশি দামে বিক্রি করে ভোক্তাদের অসুবিধায় ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি রয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভোক্তাদেরও সচেতন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার বিষয়ে কোনো ভোক্তা অভিযোগ করলে প্রতিটি ঘটনা শুনানি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম যুগান্তরকে জানান, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকা দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে অভিযান চলছে। তবে ফেনীর ১৮ জন সাপ্লায়ার জানিয়েছেন, তারাই নির্ধারিত দামে এলপিজি কিনতে পারছেন না। কোথাও ১ হাজার ৯০০ টাকা বা তারও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বসেরা বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. শফিক সিদ্দিকী গবেষণায় সাফল্য অর্জন করেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ এম


বিশ্বসেরা বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. শফিক সিদ্দিকী গবেষণায় সাফল্য অর্জন করেছেন

গবেষণা ও উদ্ভাবনে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশি অধ্যাপক প্রফেসর ড. শফিক সিদ্দিকী, যিনি মালয়েশিয়ায় কর্মরত। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তালিকায় ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি ধারাবাহিকভাবে স্থান পেয়েছেন।

ড. শফিক সিদ্দিকী তার দীর্ঘ গবেষণাজীবনে ১৫০টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ১০৮টি গবেষণাপত্র উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন জার্নালে, ২২টি নন-ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্নালে এবং ২০টি নন-ইনডেক্সড প্রকাশনায় রয়েছে। তার চারটি পেটেন্ট এবং চারটি ট্রেডমার্কও রয়েছে। তিনি ৩৯টি গবেষণাপত্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় উপস্থাপন করেছেন।

ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সাবাহতে (ইউএমএস) দায়িত্ব পালনকালে, ড. শফিক মাস্টার্স ও স্নাতক পর্যায়ে ১২টি কোর্স পড়িয়েছেন। তার তত্ত্বাবধানে ২৭ জন শিক্ষার্থী পিএইচডি ও এমএসসি পর্যায়ে গবেষণা করেছেন, যাদের মধ্যে ২৫ জন ইতোমধ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। অন্যদের গবেষণা কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

গবেষণার জন্য তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৩৭টি গবেষণা অনুদান পেয়েছেন। এর মধ্যে আটটি প্রকল্প সরাসরি কমিউনিটি ও শিল্পখাতের সঙ্গে যুক্ত। গবেষণার আন্তর্জাতিক প্রভাবের সূচক সাইটেশনেও তার উল্লেখযোগ্য অবস্থান রয়েছে। বর্তমানে স্কোপাসে তার এইচ-ইনডেক্স ৩৩ এবং গুগল স্কলারে ৪০।

মালয়েশিয়ার অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ এর ২২তম আসরে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আমন্ত্রণে ‘ভিভিফাই’ ও ‘ট্রিয়াল’ নামের গবেষণালব্ধ পণ্য নিয়ে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে অংশ নেন ড. শফিক। মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের উৎসাহিত করা এবং তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরির অংশ হিসেবে তিনি এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।

মিহাসে ড. শফিক সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি তার গবেষণা ও সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তরুণ গবেষকদের উদ্দেশে বলেন, “তুমি নিজেকে যতটুকু সক্ষম বলে মনে করো, তার চেয়েও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারো। সংকল্পকে দৃঢ় করো এবং প্রচেষ্টা অবিরাম ও ধারাবাহিক রাখো। লক্ষ্যের প্রতি অটল থাকলে একদিন অবশ্যই সেখানে পৌঁছানো সম্ভব।”

বিজ্ঞান ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে, ড. শফিক বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে ২৫ বার মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য তার ঝুলিতে রয়েছে ৭০টি পুরস্কার।

এসব পুরস্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাবাহ রাজ্যের ‘এসই কিনাবালু ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড’, কোরিয়া ইনভেনশন একাডেমির ২০২০ সালের চতুর্থ আসরের বিশেষ ও স্বর্ণ পুরস্কার, জার্মানির আইইএনএ-২০২১ পুরস্কার, ২০১৫ সালের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোক্তা প্রকল্প পুরস্কার, পিইসিপিটিএ-২০১৫ ও ২০১৯ এবং আইটিইএক্স-২০১৯-এর স্বর্ণপদক।

২০১৪ সালে তিনি প্রসপার-নেট-স্কোপাস তরুণ বিজ্ঞানী পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৭ সালে আইএসআই ও স্কোপাসে সূচিবদ্ধ জার্নালে প্রকাশনা ও সাইটেশনের ভিত্তিতে সর্বাধিক প্রকাশনাসম্পন্ন শীর্ষ পাঁচ লেখকের তালিকাতেও স্থান পান তিনি।

২০২৬ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে স্কোপাস-সূচিবদ্ধ জার্নালে প্রকাশনার জন্য ইউএমএসের সর্বোচ্চ সাইটেশন পুরস্কার অর্জন করেন ড. শফিক। এর আগে ২০১২ ও ২০২১ সালে তিনি ইউএমএসের উৎকৃষ্ট সেবা পুরস্কার লাভ করেন। ২০১০ সালে ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়ায় সেরা স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর স্বীকৃতিও অর্জন করেন।

গবেষণাপত্র ও পুরস্কার অর্জনেই থেমে নেই ড. শফিকের কাজ। তিনি গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে এসে সেগুলোর বাণিজ্যিকীকরণেও কাজ করছেন। তার গবেষণালব্ধ পণ্য ইতোমধ্যে বাজারে এসেছে। গবেষণা থেকে উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবন থেকে শিল্প ও ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক অন্তর্ভুক্তি ড. শফিকের গবেষণাকর্মের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। শিক্ষকতা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং গবেষণালব্ধ পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ সব মিলিয়ে তিনি মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের অবদানের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।

ড. শফিকের গবেষণা ও উদ্ভাবন নিয়ে মালয়েশিয়ার জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল টিভি১, টিভি২ ও টিভি৭-এ প্রতিবেদন প্রচার হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সংবাদপত্রেও তার গবেষণার ফলাফল ও উদ্ভাবন গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মকসুদপুরে মাসব্যাপী কুটির শিল্প মেলা নিয়ে বিতর্ক, নেপথ্যে একাধিক মামলার আসামি আসলাম!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০১ এম


মকসুদপুরে মাসব্যাপী কুটির শিল্প মেলা নিয়ে বিতর্ক, নেপথ্যে একাধিক মামলার আসামি আসলাম!

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড়ে ‘মাসব্যাপী গ্রামীণ কুটির শিল্প ও উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬’-এর অবকাঠামো নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। "জলিরপাড় ব্রোঞ্জ ও ক্ষুদ্র কুটির শিল্প মার্কেট"-এর আয়োজনে এবং "ব্রোঞ্জ মার্কেট সমিতি"-র পরিচালনায় এই মেলা আয়োজনের কথা থাকলেও নেপথ্যে উঠে এসেছে চরম অনিয়ম ও প্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নামমাত্র স্থানীয় সমিতির ব্যানারে মেলার আয়োজন করা হলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মূল পরিচালনা হস্তান্তর করা হয়েছে দ্বিতীয় পক্ষের কাছে। আর এই দ্বিতীয় পক্ষের প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে উঠে এসেছে বরিশালের চিহ্নিত প্রতারক ও একাধিক মামলার আসামি, ‘মেলা আসলামের’ নাম।

প্রতারণার ফাঁদ ও পঁয়তাল্লিশ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা: অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল আদালতে আসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে এক ব্যবসায়ীর সাথে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক গড়ে তুলে বিশ্বাস অর্জন করার পর কোটি কোটি টাকার লেনদেন করে সে। একপর্যায়ে মোটা অঙ্কের টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ায় ব্যবসায়ী চাপ সৃষ্টি করলে, সে একটি ব্যাংকের চেক প্রদান করে। পরবর্তীতে ওই ব্যবসায়ী ব্যাংকে চেক জমা দিলে ‘অ্যাকাউন্ট ক্লোজড’ও ব্যাংকে একাউন্টের হিসাব বন্ধ থাকার কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার করে। এ ঘটনায় আসলামের বিরুদ্ধে ৪৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

সাংবাদিককে অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি ও দ্রত বিচার আইনে গ্রেপ্তার: আসলামের অপরাধের তালিকা এখানেই শেষ নয়। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি বরিশালের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে 'তালাশ বিডি'-র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলামকে বরিশাল মেডিকেলের মাঠ সংলগ্ন রাস্তায় আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এই আসলাম। পরবর্তীতে উক্ত সংবাদকর্মী বরিশাল তৃতীয় যুগ্ম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি এজাহার (FIR) হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর সনেট মিত্র দাস দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামিদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ে আসলাম। কয়েকদিন জেল খাটার পর জামিনে বেরিয়ে এসে বর্তমানে সে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে অনবরত হুমকি প্রদান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মেলা চালুর পর রাতের আঁধারে পলায়ন—অভিযোগের পাহাড়: আসলামের বিরুদ্ধে সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় মেলার নামে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার অজস্র অভিযোগ রয়েছে।

ভোলার তজুমদ্দিনের ঘটনা: কিছুদিন আগে তজুমদ্দিনে মেলা আয়োজনের নামে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিপুল অর্থ ধার নেয়। মেলা চলাকালেই রাতের আঁধারে ভোলা-লালমোহন হয়ে স্পিডবোটে বরিশাল পালিয়ে যায়। লালমোহনের স্থানীয় বিএনপি নেতা ও মেলা ব্যবসায়ী খোকন জানান, "হঠাৎ আসলাম আমার কাছে এসে স্পিডবোট ভাড়া চায়, আমি নিজ দায়িত্বে ভাড়া করে দেই। কিন্তু পরদিন জানতে পারি সে তজুমদ্দিনের মানুষের টাকা মেরে পালিয়ে এসেছে। এমনকি আমার স্পিডবোটের ভাড়াও পরিশোধ করেনি। ও একটা চিহ্নিত বাটপার ও সন্ত্রাসী।" খোকন সাহেব দেশের সকল মেলা ব্যবসায়ীদের এই প্রতারক আসলাম থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সারা দেশে প্রতারণার জাল: বরগুনা, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, দিনাজপুর এবং পিরোজপুরসহ বহু এলাকায় মেলা করার নামে স্থানীয় লোকজনকে লাভের প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যাওয়ার ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ঢাকার এক অভিজ্ঞ মেলা কমিটির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "একসময় এই আসলাম আমার মেলা কার্যালয়ে গেস্টদের চা সরবরাহ ও আনা-নেওয়ার কাজ করত। এখন সে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে মেলার অনুমতির কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলে। স্থানীয়দের সাথে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে লাভের লোভ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ ধার নিয়ে মেলা চালায়। এরপর টাকা পরিশোধের সময় হলেই রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়।"

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড়ের মেলাটি বর্তমানে এই বিতর্কিত আসলামের হাতে চলে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—সারা দেশে প্রতারণার জাল বিছানো এই আসলাম কি এবারও জলিরপাড়ের মানুষের অর্থ হাতিয়ে রাতের আঁধারে চম্পট দেবে, নাকি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে থামবে এই বাটপারি?

এ বিষয় মেলা আসলামের মুঠোফোন একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের মেয়েদের সাফল্য: পাকিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয় জয় অর্জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ এম


বাংলাদেশের মেয়েদের সাফল্য: পাকিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয় জয় অর্জন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ক্রিকেট দল পাকিস্তান সফরে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাদের দ্বিতীয় জয় অর্জন করেছে। ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলকে (৭/১২৬) ১৩ রানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা (৫/১৩৯)।

ডানহাতি পেসার ফারজানা ইয়াসমিন এই ম্যাচে ৩ উইকেট দখল করেন। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে ৩০ রানের জয় পাওয়ার পর বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে পরাজিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%