ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং
সালমান-আনিসুলের মামলা

‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ’ মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা


‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ’ মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা

‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’—এই মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জেরা চলাকালীন প্রসিকিউশনের একজন সদস্যের দ্বারা করা হয়েছিল, যা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী মন্তব্যটিকে একপর্যায়ে ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল উভয়পক্ষকে সতর্ক করেন।

রোববার (৮ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৩ নম্বর সাক্ষীকে জেরা করার সময় এই ঘটনা ঘটে।

আসামিপক্ষে সাক্ষীকে জেরা করছিলেন আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়। তার সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী এবং অন্যান্য আইনজীবীরা। প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, গাজী এমএইচ তামিম এবং সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যান্যরা।

আরও পড়ুন: কাতারএনার্জি আগামী বছর ৪০ কার্গোর ২৬টি সরবরাহ করবে

জেরার এক পর্যায়ে সাক্ষীর কাছে ২০২৪ সালের হাইকোর্টের একটি রায় সম্পর্কে জানতে চান আইনজীবী পলাশ। সাক্ষী জানান, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২০২৪ সালের ৯ জুলাই অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আন্দোলনকারী ছাত্রদের একটি প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি দিয়েছিল কি না, তা তার জানা নেই। একই তারিখে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে একটি আবেদন করা হলেও সেটি ছিল তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের একটি ‘মনভোলানো কৌশল’। পরবর্তীতে উক্ত মামলার শুনানির তারিখ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাক্ষী জানান যে তা তার মনে নেই।

এরপর আরও কিছু প্রশ্ন করা হলে প্রসিকিউশন থেকে আপত্তি তোলা হয়। এ সময় আসামিপক্ষের সারিতে বসা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী প্রসিকিউশনের উদ্দেশে বলেন, প্রসিকিউশনই জেরা করুক, আমরা বসে যাই। ট্রাইব্যুনাল মুনসুরুল হককে ডায়াসে এসে কথা বলতে বললে তিনি অভিযোগ করেন, প্রসিকিউশন থেকে কেউ দাঁড়িয়ে গেলে সাক্ষীর মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায় এবং তিনি সতর্ক হয়ে যান, যার ফলে সত্য বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে সম্পর্কিত আইন পড়ে শোনান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

আইন পড়া শেষে পুনরায় জেরা শুরু হলে কাঠগড়ায় বসা সাক্ষীকে উদ্দেশ্য করে আসামিপক্ষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রসিকিউশনের দিকে মুখ ফিরিয়ে জবাব দিন। সাক্ষী ‘ঠিক আছে, তাহলে আমি সরে যাই’ বলে তার চেয়ার ঘুরিয়ে নেন। সাক্ষীর এমন আচরণ দেখে প্রসিকিউশনের একজন সদস্য বলেন, ‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’।

এতে ডায়াসে দাঁড়ানো আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় আপত্তি জানিয়ে বলেন, তাহলে আমার জেরা করা ঠিক হবে না, এটি এক ধরনের থ্রেট। এ নিয়ে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে ট্রাইব্যুনাল হস্তক্ষেপ করে দুই পক্ষকেই শান্ত ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: শেয়ারের নামে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধ হোক : রিহ্যাবের দাবি

পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর আইনজীবী পলাশ আবার জেরা শুরু করে ৯ জুলাই কোনো সহিংসতা হয়েছিল কি না জানতে চান। সাক্ষী জানান, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহিংসতা হয়নি; তবে বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছিল।

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫টি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ আদালত আমলে নেন।

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রথমটিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে মূল নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন সালমান ও আনিসুল। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই ফোনালাপে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আন্দোলনকারীদের আজ রাতেই কারফিউ জারির মাধ্যমে শেষ করে দেওয়ার কথা বলেন। তাদের প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের কারণে বহু ছাত্র-জনতা প্রাণ হারালেও নির্যাতন বন্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, তাদের প্রত্যক্ষ জানা ও উসকানিতে ২৩ জুলাই রাজধানীর মিরপুরে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা।

আরও পড়ুন: বরিশালে দুই অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিলো পরিবেশ অধিদফতর, বাধা দেয়ায় আটক ১

তৃতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বরে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন এই দুই প্রভাবশালী। চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, কারফিউ জারি করে মারণাস্ত্র ব্যবহারের উসকানি ও প্ররোচনায় ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এ আকাশ, সেতু ও আলভীসহ মোট ১২ জনকে হত্যা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

আর পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ব্যর্থ করতে পরিকল্পনা করেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। তাদের নির্দেশে প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের হামলায় মিরপুর-২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আল-আমিন, আশরাফুল, সাব্বির ও রিতাসহ ১৬ জন হত্যার শিকার হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী নির্বাচনে বিজেপি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে: ককরোচ প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


আগামী নির্বাচনে বিজেপি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে: ককরোচ প্রধান

ভারতের ২০২৯ সালের পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে, এমন মন্তব্য করেছেন তরুণ নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি দেশের সাধারণ মানুষকে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই-এর বরাতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) কেরালার কোচিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা জানান, গণতান্ত্রিক উপায়ে কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। তিনি দেশে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সিজেপির বিশেষ প্রচারণা কর্মসূচি ‘যন্তর মন্তর অ্যাট কোচি’-র অংশ হিসেবে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে অভিযোগ তুলে অভিজিৎ দিপকে বলেন, ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকার দেশের তরুণ সমাজের বিরুদ্ধে একপ্রকার ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অসৎ উদ্দেশ্যে রক্ষা করতে সরকার মরিয়া মন্তব্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করা কেন কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

বক্তব্যের সময় জাতীয় পতাকা হাতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন করতে গিয়ে দলের অন্যান্য নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কারের সঙ্গে নিজের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনার কথা স্মরণ করেন তিনি। দিপকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেকোনো মূল্যে তাঁরা জাতীয় পতাকাকে সমন্নত রাখবেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'কেবল জাতীয় ত্রিবর্ণ পতাকা প্রদর্শন ও গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলার জন্য আমাকে ও আমার দুই সহযোদ্ধা সৌরভ ও আশুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ভারতে এমন নজিরবিহীন দমনপীড়ন কেবল ব্রিটিশ শাসনামলেই দেখা গেছে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে লাশ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে লাশ উদ্ধার

ঢাকা, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : দুই সপ্তাহ আগে রোমানিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি জাহাজে মানুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মেরামতের জন্য জাহাজটি বুলগেরিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছিল।

শনিবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির কৌঁসুলিরা।

বুলগেরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর ভারনার সরকারি কৌঁসুলি কার্যালয় একটি বিবৃতিতে জানায়, জাহাজের ধ্বংসাবশেষ অপসারণের সময় লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

সোফিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানায়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লাশগুলোর পরিচয় শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৌঁসুলিরা জাহাজটির নাম প্রকাশ করেননি। তবে তারা জানিয়েছেন, এটি সান মারিনোর পতাকাবাহী ছিল। এই তথ্যের সঙ্গে ‘ওয়াইন ট্রেডার’ নামের একটি রাসায়নিকবাহী ট্যাংকারের মিল রয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর দানিউব নদীর মোহনায় সুলিনার প্রায় ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে জাহাজটিতে ড্রোন হামলা হয়েছিল।

বুলগেরিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, লাশগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে সঠিকভাবে মৃতদেহের সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার ধারণা, মৃতের সংখ্যা সম্ভবত ছয়।

হামলার পর জাহাজটির ১২ জন ক্রুর মধ্যে সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বাকি পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

অক্টোবরের শুরু থেকে রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলে অন্তত নয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩৪ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইহুদিদের পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইহুদিদের পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান

ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে গত কয়েক দশক ধরে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কৌশলগত, কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। তবে সম্প্রতি ইসরায়েলি-আমেরিকান রাব্বি ইউসেফ মিজরাহি এই সম্পর্ককে কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হলে ইহুদিদের উচিত ভারতের পরিবর্তে পাকিস্তানকে সমর্থন করা।

একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে রাব্বি মিজরাহিকে ভারত ও হিন্দুধর্মের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে দেখা যায়। তিনি যুক্তি দেন, ইহুদি ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী মূর্তিপূজকদের বর্জন করে একেশ্বরবাদীদের পক্ষ নেওয়া উচিত।

গত ৩ নভেম্বর প্রদত্ত ‘নির্বাচন ও বর্তমান ঘটনা’ শীর্ষক এক লেকচারে তিনি তোরাহ ও অন্যান্য ইহুদি শাস্ত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন যে মূর্তিপূজকদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। তাই, ইহুদিদের পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া উচিত। তিনি স্বীকার করেন যে পাকিস্তানের সাথে ইসরায়েলের বৈরী সম্পর্ক রয়েছে, তবে ধর্মের স্বার্থের কাছে রাজনৈতিক বা কৌশলগত মিত্রতা গৌণ হওয়া উচিত।

তার ভাষায়, “যদি ইহুদিদের ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হয়, তবে পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া উচিত। এটি পাকিস্তান ইসরায়েলকে সমর্থন করে বলে নয়, বরং মূর্তিপূজা বনাম বিশুদ্ধ একেশ্বরবাদের ধর্মীয় নীতিগত পার্থক্যের কারণে।”

মিজরাহি এমন সময়ে এই বক্তব্য দিয়েছেন যখন গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে চাপের মুখে রয়েছে এবং ভারত তার সমর্থন বজায় রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্য ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অনেক ভারতীয় ব্যবহারকারী ইসরায়েলের সাথে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তুলেছেন, “এটি কেমন বন্ধুত্ব?” তবে অনেকেই একে কেবল “একজন কট্টরপন্থীর” ব্যক্তিগত মতবাদ হিসেবে দেখছেন এবং গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

রাব্বি ইউসেফ মিজরাহি যে এবারই প্রথম হিন্দুধর্মের কুসংস্কার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন তা নয়। গত মাসেও তিনি হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস ও গো-পূজা নিয়ে চরম তুচ্ছতাচ্ছিল্য মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটিতে মিজরাহিকে তাঁর ফেসবুক পেজে কাজ করা এক ভারতীয় হিন্দু ব্যক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তি ইহুদি ধর্ম (জুডাইজম) গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেই ব্যক্তির পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি বর্ণনা করতে গিয়ে মিজরাহি হিন্দুদের বিতর্কিত গো-সেবা ও শ্রদ্ধার সংস্কৃতি নিয়ে চরম উপহাস করেন। তার উপহাসমূলক বক্তব্যের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ভারত ও ইসরায়েলসহ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

তিনি দাবি করেন, কিছু হিন্দু পরিবার তাদের শোবার ঘরে গরু ঢুকতে দেয় এবং তারা মেঝে থেকে গোমূত্র চেটে পান করে। এমনকি ভারতীয় ফার্মেসিগুলোতে ওষুধ হিসেবে গোমূত্র বিক্রি হয় উল্লেখ করে তিনি তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, এসব আচার-অনুষ্ঠান যারা মেনে চলেন তাদের মধ্যে চিকিৎসকও রয়েছেন।

দিল্লির রাস্তায় গরু বসে থাকার দৃশ্য এবং যানজট নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করার পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশ ছিল, যখন তিনি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন—“ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে ভারতীয়দের মতো বানাননি।”

সর্বশেষ ৩ নভেম্বরের বক্তব্যে তিনি ভারতের সাথে ইসরায়েলের বিশাল অস্ত্র চুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও ধর্মীয় নীতিকে সব ধরনের রাজনৈতিক বন্ধুত্বের ঊর্ধ্বে রাখার কথা জোর দিয়ে বলেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে দুই অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিলো পরিবেশ অধিদফতর, বাধা দেয়ায় আটক ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


বরিশালে দুই অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিলো পরিবেশ অধিদফতর, বাধা দেয়ায় আটক ১

বরিশালের উজিরপুরে পরিবেশ অধিদফতরের একটি অভিযানে দুটি অবৈধ ইটভাটার স্থাপনা গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছে। অভিযানের সময় বাধা প্রদান ও মব সৃষ্টির অভিযোগে রাজিব (৩৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (৮ নভেম্বর) শিকারপুর ইউনিয়নে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নুরুর ইটভাটা (এসএসবি) এবং মক্কা ব্রিকসের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।

পরিবেশ অধিদফতরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আকতারের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল জেলা পুলিশের বিশেষ টিম এবং উজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ সাদিয়া আকতার জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় কয়লার পরিবর্তে লাকড়ি ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে দুটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও মব সৃষ্টির অপরাধে একজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে যে, একটি দালালচক্রের মাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি এবং পরিবেশ অধিদফতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। তাদের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের সহযোগিতায় অবৈধ ইটভাটাগুলো নির্বিঘ্নে চলছিল। তারা এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%