ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিউইয়র্কে বিনা খরচে ট্যাক্স ফাইলিং, বাংলায় সহায়তা পাবেন যেভাবে


নিউইয়র্কে বিনা খরচে ট্যাক্স ফাইলিং, বাংলায় সহায়তা পাবেন যেভাবে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসকারী বা কর্মরত যোগ্য ব্যক্তিরা বিনা খরচে ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করার সুযোগ পাচ্ছেন। এনওয়াইসি ফ্রি ট্যাক্স প্রেপ কর্মসূচির আওতায় আইআরএস-সার্টিফায়েড স্বেচ্ছাসেবকরা এই সেবা প্রদান করেন। বাংলাদেশিরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশনের (ডিসিডব্লিউপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আয়ের ওপর ২০২৬ সালে রিটার্ন ফাইল করার জন্য যোগ্য সন্তান বা নির্ভরশীল ব্যক্তি থাকলে বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ ৯৭ হাজার ডলার হতে হবে। যদি তাদের না থাকে, তাহলে একক ব্যক্তি বা বিবাহিত দম্পতির জন্য আয়সীমা ৬৮ হাজার ডলার নির্ধারিত হয়েছে।

রিটার্ন জমা দেওয়ার সাধারণ সময়সীমা ছিল ১৫ এপ্রিল ২০২৬। তবে, সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কিছু সাইটে বিনা খরচে ট্যাক্স ফাইল ও পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের ট্যাক্স মৌসুমে নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে ১৪০টির বেশি ভলান্টিয়ার ইনকাম ট্যাক্স অ্যাসিস্ট্যান্স (ভিটা) ও ট্যাক্স কাউন্সেলিং ফর দ্য এলডারলি (টিসিই) সাইটে এই সেবা প্রদান করা হয়েছে। কাছের চালু সাইট ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য জানতে ৩১১ নম্বরে ফোন করে ট্যাক্স প্রিপারেশন সহায়তা চাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

বাংলায় সহায়তা প্রয়োজন হলে আগে থেকেই ভাষাসেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক। সব সাইটে বাংলাভাষী কর্মী উপস্থিত নাও থাকতে পারে, তবে এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের অংশগ্রহণকারী সাইটে প্রয়োজন অনুযায়ী ফোন দোভাষীর ব্যবস্থা রয়েছে।

সেবা গ্রহণের জন্য ফটো আইডি, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড বা আইটিআইএনসংক্রান্ত নথি, ডব্লিউ-২ ও প্রযোজ্য ১০৯৯ ফরম, আগের বছরের ট্যাক্স রিটার্ন এবং ব্যাংকে রিফান্ড পাওয়ার জন্য রাউটিং ও অ্যাকাউন্ট নম্বর সঙ্গে রাখতে হবে। কিছু সাইটে সশরীরে, ড্রপ-অফ বা ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সেবা পাওয়া যায়।

এই কর্মসূচিতে যোগ্যতা অনুযায়ী আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট, চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট ও চাইল্ড কেয়ার ট্যাক্স ক্রেডিট দাবি করতেও সহায়তা করা হয়। তবে বিনা খরচে রিটার্ন ফাইল করলেই রিফান্ড নিশ্চিত নয়। ফ্রিল্যান্সার ও ছোট ব্যবসার মালিকদের এমন সাইট বেছে নিতে হবে, যেখানে স্বনিয়োজিত ব্যক্তিদের ট্যাক্স রিটার্ন তৈরির সুবিধা রয়েছে।

আরও পড়ুন: লাভরভ: ইউরোপের নেতারা রাজনৈতিক আত্মনিপীড়ক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরের গ্রিন ফিল্ড কারখানা জিতল ২০২৬ সালের রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


রংপুরের গ্রিন ফিল্ড কারখানা জিতল ২০২৬ সালের রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার

বাংলাদেশের রংপুরে অবস্থিত কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের গ্রিন ফিল্ড কারখানা ২০২৬ সালের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে। এই সাততলা কারখানাটি কর্মপরিবেশ, পরিবেশবান্ধব নকশা এবং কর্মীদের কল্যাণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে এ স্বীকৃতি লাভ করেছে।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যকর্মের মধ্যে থেকে বিজয়ী নির্বাচন করে। ১৫ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত পুরস্কার অনুষ্ঠানে গ্রিন ফিল্ড কারখানাকে ২০২৬ সালের বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিচারকমণ্ডলী সর্বসম্মতভাবে প্রকল্পটিকে নির্বাচিত করেন।

রংপুরের রবার্টসনগঞ্জে অবস্থিত এই কারখানায় প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী কাজ করেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। গালিচা ও বস্ত্র উৎপাদনের জন্য নির্মিত এই কারখানাটি প্রচলিত শিল্পকারখানার ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা ও সুস্থতার বিষয়গুলোকে নকশার কেন্দ্রে রেখেছে।

বাংলার ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রেরণা

সাততলা কারখানাটির নকশায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী বসতবাড়ির অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। ভবনের ভেতরে খোলা উঠান, বাগান, প্রশস্ত বারান্দা ও সবুজে ঘেরা জায়গা রাখা হয়েছে, যাতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস চলাচল করতে পারে।

ভবনের দক্ষিণ পাশের সবুজ দেয়াল ও গাছপালা একদিকে যেমন ছায়া তৈরি করে, অন্যদিকে পাখি ও কীটপতঙ্গের আবাস হিসেবেও ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিকভাবে ভবন ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কৌশলের ফলে যান্ত্রিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।

কর্মীদের জন্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধা

কারখানাটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো কর্মী ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য একই প্রধান প্রবেশপথ রাখা হয়েছে। সাধারণত অনেক শিল্পকারখানায় শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা প্রবেশপথ থাকে। গ্রিন ফিল্ড কারখানায় এই বিভাজন এড়িয়ে কর্মক্ষেত্রে সমতা ও মর্যাদার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

কর্মীদের সুবিধার জন্য ভবনের ছাদে শিশুদের দিবাযত্নকেন্দ্র, চিকিৎসাসেবা, ভর্তুকি মূল্যে পণ্য কেনার দোকান, যৌথ খাবার জায়গা, প্রার্থনাকক্ষ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। কারখানার ভেতরে ও আশপাশে সবুজ জায়গাও রাখা হয়েছে, যেখানে কর্মীরা বিশ্রাম নিতে পারেন।

রিবা কর্তৃপক্ষের মতে, এই প্রকল্প দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের শিল্পকারখানার নকশায় নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। কর্মীদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, সুস্থতা এবং বিশেষ করে নারী কর্মীদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কারখানাটি প্রচলিত কর্মক্ষেত্রের বৈষম্যমূলক কাঠামো বদলানোর সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান স্থপতি বায়েজিদ মাহবুব খন্দকারের ভাষ্য, কারখানাটির পরিকল্পনার সময় তারা একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে রেখেছিলেন—যারা এখানে কাজ করেন, তাদের জন্য কারখানাটি যদি প্রথমেই একটি বাড়ির মতো করে নকশা করা হয়, তাহলে কেমন হবে? সেই ভাবনা থেকেই ভবনের উঠান, বাগান, জলাধার ও ছায়াঘেরা বারান্দার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রিবা সভাপতি ক্রিস উইলিয়ামসন বলেন, গ্রিন ফিল্ড কারখানা শিল্পকারখানার স্থাপত্যকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। মানুষের কল্যাণ ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং নারী কর্মীদের সহায়তায় গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটি দেখিয়েছে, সুচিন্তিত স্থাপত্য কীভাবে সামাজিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ পুরস্কারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্থাপত্যের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন যুক্ত হলো। এর আগে ২০১৬ সালে সাতক্ষীরায় স্থপতি কাশেফ চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান আরবানার নকশায় নির্মিত ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছিল। ফলে বাংলাদেশে নির্মিত কোনো স্থাপনা দ্বিতীয়বারের মতো এ স্বীকৃতি অর্জন করল।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড আর্কিটেক্টস ডট কম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুরা বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না: ববি হাজ্জাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৩ পি.এম


শিশুরা বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘একটি শিশুও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না’। তিনি জানান, ক্লাসরুমে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং এটি যেকোনো মূল্যে অর্জন করা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কার : অগ্রগতি, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও আগামীর পথ’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, ‘২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কারিকুলামে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং নৈতিক মূল্যবোধের বিষয়গুলো বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করা হবে।’

তিনি লার্নিং উইথ হ্যাপিনেসের ধারণাকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য নতুন শিক্ষা দর্শন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘শিক্ষা কেবল মুখস্থবিদ্যা বা সার্টিফিকেট অর্জনের প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিক্ষা হবে মানুষ হওয়ার শিল্প, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণের পথ। আর সে কারণেই সরকার যুগোপযোগী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মণ্ডপে ঢাকের শোভা, উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৩ পি.এম


মণ্ডপে ঢাকের শোভা, উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে

বুড়ো আঙুল, তর্জনী এবং মধ্যমা—এই তিন আঙুলে দুই কাঠি বাজানোর সময় আঙুলগুলো প্রজাপতির ডানার মতো নড়তে থাকে। পূজার বাদ্য হিসেবে পরিচিত এই ঢাক বাজানোর প্রথা শত শত বছর ধরে একই ধারায় বজায় রয়েছে।

বাদ্যকরদের জন্য ঢাক অন্যতম প্রধান উপাদান। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ঢোল, কাঁসি, করতাল, মন্দিরা, খঞ্জনি, সানাই, বাঁশি এবং ঝনঝনি।

দুর্গাপূজার সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হলো বাদ্যযন্ত্রের দল। পূজা মৌসুমে বাদ্যকররা তাদের বাড়ি ছেড়ে মণ্ডপে ছুটে আসেন। ফলে মণ্ডপগুলো উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মণ্ডপও এর ব্যতিক্রম নয়।

দিনভর সেখানে কেউ ঢাক-ঢোল, বাঁশি, কাঁসি, ঝুনঝুনি (ঝুমুর) বাজাচ্ছেন। ছন্দ একই থাকলেও লয় পরিবর্তিত হয়—কখনো দ্রুত, কখনো মধ্য এবং কখনো আবার ধীর লয়ে।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে বাজানোর জন্য বাদ্যকররা কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। উপজেলায় এ বছর অন্তত ৪৬টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বাজানোর জন্য ৭০ থেকে ৮০ জনের বেশি ঢাকি প্রয়োজন।

সন্ধ্যায় উপজেলার উজানচর মণ্ডপে ধূপের ধোঁয়ায় ঢাকা পড়ে একদল ভক্ত দেবী দুর্গা ও তার পরিবার—গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী, সরস্বতী এবং মহিষাসুর-এর বেদির সামনে নৃত্য করছিলেন। সন্ধ্যার এই নৃত্যকে বলা হয় আরতি। সেখানে ঢাক বাজাচ্ছিলেন সমীর দাস।

ঢাকি সমীরের বক্তব্য, ‘ঢাকের এই ছন্দের মধ্যে বিশেষ কিছু রয়েছে, যা প্রত্যেক বাঙালির হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, এটা রক্তে ঢেউ তোলে।’

আরেক বাদ্যকর স্বপন দাসের ভাষ্য অনুযায়ী, পূজার এই ছন্দ ছয়-আট মাত্রার চক্রে বাজানো হয়, যা ঝুমুর তালের মতো। তিনি বলেন, ‘এটা হৃদয় ছুঁয়ে যায়, কারণ ঝুমুর তাল হলো বিশ্বের সব ধরনের লোক সংগীতের অন্তর্নিহিত মৌলিক ছন্দ। এটা এমন এক ছন্দ-কাঠামো, যার সঙ্গে গোটা বিশ্ব আত্মিকভাবে যোগাযোগ করতে পারে।’

সোমবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাঞ্ছারামপুরের জমিদার বাড়ির পূজামণ্ডপে বাজাচ্ছিল চার ঢাকির একটি দল। এই দলটি নরসিংদির মনোহরদী উপজেলার একটি গ্রাম থেকে এসেছে। ছোট দলটি বাজাচ্ছিল দুটি ঢাক, একটি ঢোল এবং একটি কাঁসর ঘণ্টা নিয়ে।

দলটির নেতা আশিষ কুমার বলেন, ‘ঢাক আর ঢোলের মধ্যে বিরাট পার্থক্য। ঢাক আকারে বড় এবং এটি শুধুমাত্র এক পাশে বাজানো হয়। ঢোল বাজানো হয় দুই পাশে। ঢাকের বোলই প্রধান ভূমিকা পালন করে; ঢোল ও কাঁসরের বোল কেবল ঢাকের সঙ্গে সংগত করে।’

আশিষ আরও বলেন, ‘দেবী দুর্গা ও কালীর পূজার সঙ্গে এটি চমৎকারভাবে মানিয়ে যায়; দুজনই শক্তি ও ক্ষমতার প্রতীক।’

কিশোর কমল দাসের হাতে ছিল ঝুনঝুনি। তার বক্তব্য, ‘আমি এটা সিজন্যাল (মৌসুম) করি। পূজো শেষে সেলুনে নাপিতের কাজে ফিরে যাব।’

উজানচরের ঢাকির দলটিকে ভাড়া করা হয়েছে ৬৫ হাজার টাকায়। ‘এই চুক্তিতে দুর্গাপূজা ও কালীপূজা দুটোতেই বাজন অন্তর্ভুক্ত। দুর্গাপূজা শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ পর কালীপূজা।’

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রতন কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর একই দল ভাড়া করি না। বাজনার মান দেখে তাদের নিয়োগ দিই।’

উপজেলার সাহা পাড়ার মন্দিরের মণ্ডপে ঢাকির আরেকটি দল শুধুমাত্র দুর্গাপূজায় বাজানোর জন্য ৪৫ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। দলের বাদ্যকর রমেশ বিশ্বাস বলেন, ‘পূজা ব্যস্ততম মৌসুম, যা আমাদের বছরের ৯ মাস ব্যস্ত রাখে। বিয়ে, জন্মদিন, খতনা, এমনকি রাজনৈতিক সমাবেশের মতো অনুষ্ঠানে আমাদের ভাড়া করা হয়। এলাকায় এদল ব্যান্ড পার্টি নামে পরিচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরীয়তপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জেলেদের হামলা, ৩৬ গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৪ পি.এম


শরীয়তপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জেলেদের হামলা, ৩৬ গ্রেফতার

শরীয়তপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানকে কেন্দ্র করে জেলেরা সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম, উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ৩৬ জন জেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে প্রায় ২ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল এবং ৩০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর এলাকায় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নদীতে অভিযান চলাকালীন জেলেদের সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা এবং উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে প্রায় শতাধিক জেলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অভিযানে থাকা কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেবকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযানে থাকা সদস্যরা পালেরচর এলাকার নদীর পাড়ে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা এসে অভিযান জোরদার করলে হামলাকারী জেলেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সেখান থেকে ৩৬ জন জেলেকে আটক করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলাকারী জেলেদের একটি অংশ কিছু সময়ের জন্য উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, পরে যৌথ বাহিনী গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, "আমরা পদ্মা নদীতে অবস্থান করে ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। যারা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।"

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব জানান, "পালেরচর এলাকায় অভিযানে যাওয়ার পর জেলেরা গ্রেপ্তারের ভয়ে ইটপাটকেল ছুড়েছিল। পরে অভিযান জোরদার করা হলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় আমরা ৩৬ জন জেলেকে আটক করি।"

শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম বলেন, "আসলে বিষয়টিকে সরাসরি আমার ওপর ব্যক্তিগত হামলা হিসেবে দেখছি না। মূলত সরকারি অভিযান প্রতিহত করতেই তারা তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%