ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ১০ কনটেইনার আটক করল কাস্টমস গোয়েন্দারা


চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ১০ কনটেইনার আটক করল কাস্টমস গোয়েন্দারা

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে সমুদ্রপথে আসা ১০টি কনটেইনার আটক করেছে।

এই কনটেইনারগুলোর মধ্যে ১৫০ মেট্রিক টন কাঁচা তামাকের চালান ছিল। গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেডের বন্ড সুবিধায় আমদানি করা এই তামাক দিয়ে প্রায় ৪৯৪ কোটি টাকা মূল্যের সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

কাস্টমস গোয়েন্দা বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন: খুলনায় রফিক বাহিনীর প্রধানের খামার থেকে পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আটক তামাক দিয়ে আনুমানিক ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা প্রিমিয়াম সিগারেট উৎপাদন সম্ভব। এসব সিগারেটের সম্ভাব্য খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ৪৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। প্রাথমিক পর্যালোচনায় চালানটির আমদানি মূল্যেও উল্লেখযোগ্য অসংগতি দেখা গেছে। একই এইচএস কোডের পণ্য প্রতি কেজি ৫ দশমিক ১০ মার্কিন ডলার দরে শুল্কায়ন করা হলেও, এই চালানে প্রতি কেজি কাঁচা তামাকের ঘোষিত মূল্য ১ দশমিক ৪৫ মার্কিন ডলার হিসেবে দেখানো হয়েছে। পূর্ববর্তী আমদানি মূল্য বিবেচনায়, চালানটির আমদানি পর্যায়ে প্রায় ২১ কোটি ১২ লাখ টাকার রাজস্ব জড়িত রয়েছে।

কাস্টম গোয়েন্দা মনে করছে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা তামাকের প্রকৃত ব্যবহার এবং তা দিয়ে উৎপাদিত পণ্যের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা না হলে, আমদানি থেকে শুরু করে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ, সব পর্যায়েই শুল্ক-কর ফাঁকির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাওয়া ঘাট ও পদ্মাসেতুতে সন্ধ্যা ৬টার পর পর্যটক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


মাওয়া ঘাট ও পদ্মাসেতুতে সন্ধ্যা ৬টার পর পর্যটক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তের শিমুলিয়া ঘাট ও পদ্মা সেতুর সংলগ্ন নদী এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর পর্যটকবাহী সকল ধরনের নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তটি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা জোরদারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে পদ্মা সেতুর ৩, ৪ ও ৫ নম্বর পিলার সংলগ্ন নদীপথ এবং শিমুলিয়া ঘাটের সার্বিক নৌ-নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু এই ঘোষণা দেন।

পরিদর্শনের সময় পদ্মা সেতুর পিলার ও মাওয়া ঘাট এলাকায় পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু ও শিমুলিয়া ঘাটে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। বিশেষ করে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও স্পিডবোটে করে পর্যটকরা সেতুর খুঁটির কাছাকাছি চলে যান, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নদীপথে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে লৌহজং ইউএনও ফারজানা ববি মিতু জানান, মাওয়া ও শিমুলিয়া ঘাট নদীভিত্তিক পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সন্ধ্যা ৬টার পর নদীপথে সকল ধরনের ট্রলার ও বিনোদনমূলক নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই বিষয়ে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির লৌহজং উপজেলা প্রকৌশলী শান্তনু ঘোষ সাগর, বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা নেওয়াজ মোহাম্মদ খান, নৌ-পুলিশের পরিদর্শক মো. মালেক খসরু, ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন এবং শিমুলিয়া ট্রলার ঘাটের ইজারাদার মো. কাওছারসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পেল সৌদির ১৫১ গবেষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পেল সৌদির ১৫১ গবেষক

সৌদি আরবের কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ১৫১ জন গবেষক ২০২৬ সালের বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের সর্বাধিক উদ্ধৃত বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণার বিস্তার ও প্রভাব বৃদ্ধির প্রতিফলন এটি নির্দেশ করে।

এই অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে প্রতিভাত হচ্ছে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এই তালিকা তৈরি করেছেন। শিক্ষাবিষয়ক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার তাদের সহযোগিতা করেছে। স্কোপাস ডেটাবেইসের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই র‍্যাঙ্কিংয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণাকর্মের প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়।

মূল্যায়নের আওতায় রয়েছে একক বছরের গবেষণার প্রভাব সংক্রান্ত একটি বিভাগ, যেখানে ২০২৫ সালে গবেষকদের কাজ কতবার উদ্ধৃত হয়েছে, তা বিবেচনা করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে নিজের গবেষণাকর্ম উদ্ধৃত করার সংখ্যা বাদ দিয়ে অন্যান্য উদ্ধৃতির হিসাব, গবেষণাপত্র প্রকাশে লেখক হিসেবে গবেষকদের ভূমিকা এবং বৈজ্ঞানিক প্রভাব পরিমাপের জন্য তৈরি একটি সমন্বিত সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে শুধুমাত্র প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা নয়, বরং গবেষণার প্রকৃত প্রভাবও মূল্যায়নের গুরুত্ব পায়।

এই র‍্যাঙ্কিংয়ে বিজ্ঞানের ২০টি প্রধান ক্ষেত্র এবং ১৭৪টি উপক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করা গবেষকদের একটি বিস্তৃত কাঠামোর আওতায় তুলনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন জায়েদ আল-ওথমান এই অর্জনের পেছনে বৈজ্ঞানিক দক্ষতা, বিভিন্ন বিষয়ের গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক গবেষণার অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোই বিশ্ববিদ্যালয়টির একমাত্র লক্ষ্য নয়। বরং এমন একটি টেকসই গবেষণার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব সৃষ্টিকারী গবেষণাকর্ম তৈরি হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের বিকাশে সহায়তা করা যাবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক ও গবেষকেরাও গবেষণার মান, বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সহযোগিতা এবং বৈজ্ঞানিক উন্নয়নে ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতির তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকদের সংখ্যা বৃদ্ধি বিশ্ব গবেষণাঙ্গনে এর অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে। পাশাপাশি সৌদি আরবের বৃহত্তর ‘ভিশন ২০৩০’ লক্ষ্য বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা ও উদ্ভাবন বাড়ানো এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ ঘটানো।

সূত্র: আরব নিউজ ও মুসলিম নেটওয়ার্ক টিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলাউড়ার পূর্ব মনসুরে কালভার্ট এখন ম"র"ণফাঁ"দ, ঝুঁ"কি'তে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আহমেদ আক্তার রানা কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


কুলাউড়ার পূর্ব মনসুরে কালভার্ট এখন ম"র"ণফাঁ"দ, ঝুঁ"কি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ৬ নং কাদিপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের পূর্ব মনসুর এলাকায় আশরাফিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা সড়কে মৃত আরমান মিয়ার বাড়ির সামনের সড়কের ছোটো কালভার্টটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় এ সড়কে চলাচলকারী শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২৬)

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়ার উত্তর মাগুরা হয়ে পূর্ব মনসুরে যাওয়ার এ সড়কের কালভার্টটি প্রায় দুই মাস ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ সময়ে কালভার্টটিতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দিন দিন এর অবস্থা খারাপ হওয়ায় সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চার চাকার যানবাহন চলাচল করতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পূর্ব মনসুর আবদুল মহীন চৌধুরী দাওয়াতুল কোরআন মহিলা এতিমখানা মাদ্রাসা ও আশরাফিয়া এতিমখানা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। এ ছাড়া মহাদেবের মন্দিরে বিভিন্ন দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষও এই সড়ক ব্যবহার করেন। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্টটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কালভার্টটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও।

এ অবস্থায় জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কালভার্টটি পরিদর্শন করে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্টটির স্থায়ী সমাধান করবে এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমাই পাহাড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংরক্ষণের তাগিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


লালমাই পাহাড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংরক্ষণের তাগিদ

কুমিল্লার লালমাই-ময়নামতি পাহাড়শ্রেণি, যা প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ, এর সংরক্ষণে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কুমিল্লাবাসী প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে যদিও প্রশাসন ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের মাটি কাটার ঘটনা ঘটছে, যা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নির্মাণ, সড়ক সম্প্রসারণ, ইট ভাটার মাটি সংগ্রহ এবং নিচু জমি ভরাটের জন্য হচ্ছে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা, পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান এবং জরিমানা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটার অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায়, পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ২০১৫ সালে প্রকাশিত ময়নামতি-লালমাই বিষয়ক বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা শহর থেকে ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত লালমাই-ময়নামতি পাহাড় শ্রেণির আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার। এই পাহাড়টির সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় ৫৫ মিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এর উত্তর প্রান্তে রানী ময়নামতির প্রাসাদ এবং দক্ষিণ প্রান্তে প্রাচীন চণ্ডীমুড়া মন্দির অবস্থিত।

সদর দক্ষিণ উপজেলা ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, লালমাই পাহাড় ও টিলা শ্রেণির ২,১২১ একর ৫০ শতাংশ জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন। সরকারি এক নম্বর খাস খতিয়ানে ১০৩ একর ২৫ শতাংশ এবং বন বিভাগের পাঁচ নম্বর খতিয়ানে ১৮৩ একর ১২ শতাংশ জমি রয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫১ সালে কুমিল্লা সেনানিবাস প্রতিষ্ঠার জন্য ১,৮৫৪ একর ৯৩ শতাংশ জমি হুকুমদখল করা হয়। ১৯৫৯ সালে ১৫৬ একর জমিতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) প্রতিষ্ঠিত হয়। কোটবাড়ীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সেক্টর সদর দপ্তর ও সংরক্ষিত এলাকার জন্য প্রায় ১০০ একর পাহাড়ি জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

১৯৮৩ সালে ৫২ একর জমিতে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০০৬ সালে ৫০ একর পাহাড়ি জমিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। পরে ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য ২০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে ১৩১ একর পাহাড় ও টিলা শ্রেণির জমি রয়েছে। সেখানে কয়েকটি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক সালমান চৌধুরী শাওন জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বড় ভবন নির্মাণের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে তিনি মনে করেন, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা (ইআইএ) প্রতিবেদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আবেদন এখনও অনুমোদন পায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম শহিদুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাহাড়ে ভবন নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। অনুমোদনের বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম এম শরীফুল করীম জানান, তিনি চলতি বছরের মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির পর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় নির্মাণ কাজের শুরুতে পাহাড় কাটা হয়েছিল কি না, তা তার জানা নেই।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি পাহাড়ি জমিতে ২০১৪ সাল থেকে বেসরকারি সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সিসিএন মডেল কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম চৌধুরী দাবি করেন, তারা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছেন এবং ভবন নির্মাণে পাহাড়ের ক্ষতি হচ্ছে না।

সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর, সালমানপুর ও জামমুড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কেটে রিসোর্ট, বিনোদন কেন্দ্র এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের চিত্র দেখা গেছে।

বড় ধর্মপুর এলাকায় ২০২১ সালে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের সময় পাহাড়ের এক লাখ ১৪ হাজার ঘনফুটের বেশি মাটি কাটার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর এনফোর্সমেন্ট মামলা করে।

একই এলাকায় ‘প্রবাসী পর্যটন ও বোটানিক্যাল গার্ডেন’ নির্মাণের জন্য একটি পাহাড় স্টিলের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

এলাকাটির কাছেই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছপালা কেটে চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ দেখা গেছে।

অন্যদিকে ময়নামতি জাদুঘরের পশ্চিমের সড়কের দুই পাশে ‘নীলকুঞ্জ’ ও ‘কাশবন’ নামে দুটি রিসোর্ট রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পাহাড় কেটে নির্মিত রিসোর্ট দুটি প্রায় এক যুগ ধরে চলছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে সালমানপুর এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’ নামে একটি বিনোদন পার্ক নির্মাণের কাজ ২০১৯ সালে শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেখানে প্রায় ৫০ একর পাহাড়ি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ক্ষতিসাধন করে রিসোর্ট, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জামমুড়া এলাকায় টিলা কেটে ‘ডাইনোসর পার্ক’ নির্মাণ করা হয়েছে। একই এলাকায় পাহাড় সমতল করার দৃশ্যও দেখা গেছে। বড় ধর্মপুর চৌধুরী চা প্রকল্পের পাশেও পাহাড় কাটার চিহ্ন রয়েছে।

লালমাই-ময়নামতি পাহাড় প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই অঞ্চলে অন্তত ছয়টি রাজবংশের ৩৪ জন রাজার শাসনামলের বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৫ সাল থেকে এখানে নিয়মিত প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি প্রত্নস্থল শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শালবন বিহার, রূপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, আনন্দ বিহার, কোটিলা মুড়া, চারপত্র মুড়া এবং রানী ময়নামতির প্রাসাদ ও মন্দির উল্লেখযোগ্য।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, পাহাড় জুড়ে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। প্রতিবছর খননে নতুন নিদর্শন উন্মোচিত হচ্ছে। অবাধে পাহাড় কাটা ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে অনেক নিদর্শন অনাবিষ্কৃত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশকে লালমাই পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় পাহাড়ি এলাকায় ঘন গাছপালা, বাঁশঝাড় ও বুনো লতা ছিল। বন্য শূকর, মেছোবাঘ, বুনো বিড়াল, শিয়াল, হনুমান, সজারু, খরগোশ ও বাদুড়সহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী এবং নানা প্রজাতির পাখির বিচরণ ছিল। নির্বিচারে পাহাড় কাটা, গাছপালা উজাড় ও বসতি সম্প্রসারণের ফলে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ কমে যাচ্ছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

পাহাড় কাটা বন্ধে ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি লালমাই পাহাড় ও অন্যান্য পাহাড়ে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) করা রিটের শুনানি শেষে আদালত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসহ কয়েকটি পক্ষের বিষয়ে এ নির্দেশনা দেন।

সামাজিক বন বিভাগ কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নূরুন্নাহার বলেন, লালমাই পাহাড়ে বন বিভাগের বেদখলে থাকা জমি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে থাকা তিন একর জমি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ বি এম মশিউজ্জামান বলেন, যদিও অধিকাংশ পাহাড় ব্যক্তিমালিকানাধীন, আইন অনুযায়ী পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ। কোথাও পাহাড় কাটার খবর পেলেই প্রশাসন অভিযান চালায়। তার দাবি, প্রশাসনের অভিযানের কারণে পাহাড় কাটা অনেকটা কমে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%