ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লালমনিরহাটে উদ্‌যাপিত জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব


লালমনিরহাটে উদ্‌যাপিত জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং বিভিন্ন আধ্যাত্মিক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে লালমনিরহাটে উদ্‌যাপিত হয়েছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব-২০২৬। শ্রীশ্রী রাধাগিরিধারী মন্দির ও ইসকন, বানিয়ারদিঘীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই দিনব্যাপী মহোৎসবে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্ত অংশগ্রহণ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা শহরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট মাঠ থেকে উল্টো রথযাত্রার শোভাযাত্রা শুরু হয়। হরিনাম সংকীর্তন, উলুধ্বনি এবং বাদ্যযন্ত্রের সুরে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। সুসজ্জিত রথটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বানিয়ারদিঘী ইসকন মন্দিরে গিয়ে যাত্রা শেষ করে। বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে নানা বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

এর আগে সকালে জেলা পরিষদের পুরাতন মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মহোৎসবের ১৪তম বর্ষের উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটিতে পবিত্র গীতা পাঠ, বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা এবং ভক্তিমূলক কীর্তন পরিবেশিত হয়।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন/ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা, কার ওপর আস্থা রাখছেন ভোটাররা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান। উদ্বোধক ও প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আশীর্বাচন প্রদান করেন শ্রীমৎ ভক্তিবিনয় স্বামী মহারাজ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক একে এম মমিনুল হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাদ আহম্মেদ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রথযাত্রা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধাণ ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে। জগন্নাথদেবের কৃপায় বিশ্ববাসীর শান্তি, কল্যাণ ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

মহোৎসবকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সব কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন: বরিশালে ডিএইচএমএস ভর্তি পরীক্ষা: সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দিল বিএমপি

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই বানিয়ারদিঘী ইসকন মন্দির থেকে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা শুরু হয়। রথটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কালেক্টরেট মাঠে অবস্থান করে। সাতদিন পর বৃহস্পতিবার উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে রথটি পুনরায় বানিয়ারদিঘী ইসকন মন্দিরে ফিরে গিয়ে এ বছরের রথযাত্রা মহোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুধু ২০২৬ নয়, ২০১৪ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালেও আর্জেন্টিনার অন টার্গেট শট নেই!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ এম


শুধু ২০২৬ নয়, ২০১৪ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালেও আর্জেন্টিনার অন টার্গেট শট নেই!

বিশ্বকাপের মতো মহৎ মঞ্চের ভাগ্য অনেক সময় একক একটি সুযোগ কাজে লাগানোর উপর নির্ভর করে। আর এ নির্মম সত্যটি বারবার আর্জেন্টিনা টের পেয়েছে। পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯৬৬ সালের পর থেকে আলবিসেলেস্তেরা বিশ্বমঞ্চের তিনটি ফাইনালে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পর্যন্ত পরীক্ষা করার মতো একটি শটও তারা লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। প্রতিবারের ফলাফল এসেছে হুবহু ১-০ গোলের পরাজয়। প্রতিপক্ষ এবং সালগুলো যেন একই ট্র্যাজেডির ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়। ১৯৯০ সালে জার্মানি, ২০১৪ সালে সেই জার্মানি এবং সবশেষে ২০২৬ সালে স্পেনের কাছে হার। ক্রীড়া তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা সোফাস্কোরের ডেটাসেট অনুযায়ী, এই তিনটি মেগা ফাইনালেই বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার শটস অন টার্গেটের খাতায় জমা হয়েছিল এক অলস শূন্য। সংখ্যার হিসাবটা যেমন সরল, তেমনি নির্মম। যখন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে সামান্যতম পরীক্ষায় ফেলা যায় না, তখন ভুলের মাশুল দেওয়ার সুযোগও শূন্যে নেমে আসে। ১৯৯০ সালে রোমে জার্মানির বিপক্ষে ১-০ হার, ২০১৪ সালে রিও ডি জেনিরোতে একই প্রতিপক্ষের কাছে ১-০ ব্যবধানে স্বপ্নভঙ্গ এবং ২০২৬-এ স্পেনের কাছে ১-০ গোলের সেই একই তিক্ত অভিজ্ঞতা। প্রতিটি ম্যাচেই চিত্রনাট্য ছিল একই রকম। বিভিন্ন প্রজন্ম, আলাদা ট্যাকটিক্স আর ভিন্ন খেলোয়াড়দের যুগেও পরিসংখ্যানের এই ট্র্যাজেডি যেন এক সুতোয় গাঁথা। সাধারণত বিশ্বকাপ ফাইনাল হাই-স্কোরিং ম্যাচ হয় না, সেখানে একটি নিখুঁত ও লক্ষ্যভিত্তিক শটই পুরো ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই তিনটি ফাইনালে প্রতিপক্ষকে সেই ভীতির মুখে ফেলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন আলবিসেলেস্তে ফরোয়ার্ডরা। একটি বিশ্বকাপ মৌসুমে দলের সার্বিক সাফল্য বিচার করা হয় শেষ ম্যাচটি দিয়েই। ১৯৯০, ২০১৪ ও ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান অন্তত আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য এই তেতো সত্যিটাই মনে করিয়ে দেয়। রক্ষণভাগ যতটাই লড়াই করুক না কেন, আক্রমণের ধার ছাড়া সোনালী ট্রফিতে চুমু আঁকা অসম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুপার দাম কমল, ভরিতে কত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


রুপার দাম কমল, ভরিতে কত?

দেশের বাজারে রুপার দাম স্বর্ণের সাথে কমানো হয়েছে। এখন থেকে ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে বাজুসের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) দাম কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতির সাথে মিল রেখে ভ্যাটসহ এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়বে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস আরও জানিয়ে দিয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম বজায় থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুসারে মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।

অন্যদিকে, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি, ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম কার্যকর থাকবে।

তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত ২২ জুলাই রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই দামও ওইদিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর ছিল।

এখন পর্যন্ত চলতি বছর দেশের বাজারে ৫৮ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে দাম ২৯ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং কমানো হয়েছে অন্য ২৯ দফা। ২০২৫ সালে মোট ১৩ দফা রুপার দাম সমন্বয় হয়েছে। এর মধ্যে ১০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, আর কমানো হয়েছে মাত্র ৩ বার।

অন্যদিকে, বাজুস জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এখন অব্দি চলতি বছর দেশের বাজারে ৯৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে দাম ৪৫ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ৪৮ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছিল; সেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তি চরম পর্যায়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ এম


গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তি চরম পর্যায়ে

 

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে রাজধানীজুড়ে তীব্র সিএনজি সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে, যা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে।

এর ফলে ঢাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভয়াবহ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালক, গণপরিবহন খাতের কর্মী এবং যাত্রীরা। এই সংকটের প্রভাব পড়েছে চালকদের আয়-রোজগারের উপরও।

রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গেলে দেখা যায়, গ্যাস সংগ্রহের জন্য দিনরাত দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন চালকেরা। অনেক পাম্পে রাত থেকেই গাড়ির লাইন শুরু হয়ে যায়।

একাধিক সিএনজি চালিত গাড়ির চালক বলেছেন, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে তাদের দিনের বড় একটি সময় পাম্পেই কাটছে, যা স্বাভাবিক আয়কে ব্যাহত করছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চালকেরা। এই সব চালক, যারা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড-শেয়ারিং সেবায় কর্মরত, তারা জানান, সময়মতো গ্যাস না পাওয়ার কারণে যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। এর ফলে তাদের দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

কিছু চালক অভিযোগ করেছেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, অতীতেও জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে সংকট দেখিয়ে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যা তাদের আশঙ্কার জন্ম দেয়।

অন্যদিকে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকরাও। তারা দ্রুত এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করে সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদির নতুন বার্তা ও শিক্ষাসচিব অপসারণ, কোনদিকে গড়াচ্ছে ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


মোদির নতুন বার্তা ও শিক্ষাসচিব অপসারণ, কোনদিকে গড়াচ্ছে ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলন?

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে গঠিত তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত ও বিচারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান এ আন্দোলন ইতোমধ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। তবে, মাঝপথে এসে আন্দোলনে লক্ষ্য করা যাচ্ছে একটি নতুন মোড়।

গভীর রাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে একটি নতুন বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। সেইসঙ্গে রাতেই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বিনীত জোশীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের বিধান এবং কঠোর শাস্তির প্রস্তাবসহ একটি খসড়া বিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া পোস্টে মোদি লিখেন, আগামীকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।

তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি জানি, প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় একাধিক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। দায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হতে না দেওয়া। তাই অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে এবং সম্প্রতি ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে।

মোদি আরও বলেন, আমরা এখানেই থেমে থাকছি না। আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। তারা রাতভর কাজ করে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। এতে দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আগামীকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে এটি নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি জানান, মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামত যুক্ত করে বিলটির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে এবং সংসদের চলতি অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই এটি দ্রুত পাস করানোর চেষ্টা করা হবে।

মোদির প্রতিশ্রুতির পরে ২৭ দিনের মাথায় হাসপাতালের খাটে বসেই অনশন প্রত্যাহার করেছেন ওয়াংচুক। ওই সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমো। হাসপাতালে গিয়ে ওয়াংচুকের অনশন ভাঙান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহ। অনশন প্রত্যাহারের পরে ওয়াংচুকের সম্মানে হাসপাতাল উপস্থিত বেশ কিছু ব্যক্তি তাকে উত্তরীয় পড়িয়ে সম্মান জানান।

সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পোস্টে তিনি সোনম ওয়াংচুকের চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলতে এবং দ্রুত তার পুরোনো স্বাস্থ্য ও ওজন ফিরে পেতে সুস্থতা কামনা করেছেন।

শুধু তাই নয়; কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আমলা বিনীত জোশীকে সরিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নরেশ গাঙ্গোয়ার। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তবে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এখনও বহাল তবিয়তে আছেন। আর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অন্যতম দাবি হলো তাকে অপসারণ করতে হবে। তাই দাবি সম্পূর্ণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তারা এখনও অটল রয়েছে।

তবে, আন্দোলনকারীদেরকে আলোচনায় বসানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে মোদি সরকার। সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার পর সেখান থেকে সেই আলোচনার পথ এখন অনেকটা সহজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে মোদির সব প্রতিশ্রুতিকে ভণ্ডামি বলে আখ্যা দিয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন ও পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ করে তার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগের দাবি তুলেছে কংগ্রেস ও বিরোধী অন্য কয়েকটি দল। গত মঙ্গলবারের এ ঘটনার পর রাহুল গান্ধী এমনও দাবি করেছেন, পুলিশ সদস্যরা তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তার কানে কানে সরকার পতনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তরুণদের শিক্ষা সংস্কারের আন্দোলনে ঢুকে রাহুল গান্ধীর এসব ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছেন আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদাতা সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের জবাবে রাহুল গান্ধীর আকস্মিক বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই পরিবেশ আন্দোলনকর্মী।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করে গীতাঞ্জলি বলেন, ২১ জুলাইয়ের এই আন্দোলন ছিল কেবল ‘অসৎ ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা। রাজনীতিকরণ না করে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের পাশে এসে সরাসরি দাঁড়ানো উচিত ছিল কংগ্রেস নেতাদের।’

গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেন, রাজনীতিবিদরা এখন ওয়াংচুক ও তার সুনামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সাধারণ জনগণ ও তরুণ সমাজকে আর বোকা বানানো যাবে না।

সব মিলিয়ে ভারতে চলমান আন্দোলনে দ্বিধাবিভক্তির ইঙ্গিত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আন্দোলনে নিজের অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছেন ওয়াংচুক। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় তাকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এতে অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সিজেপি এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড়। সম্পূর্ণ দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তরুণদের এই প্লাটফর্ম। আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও দেশের জনগণের সমর্থনও চেয়েছে তারা। ফলে, কেন্দ্রের আলোচনার আহ্বান ও সংসদে আলোচনা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা এলেও এখনও মোদি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসেনি আন্দোলন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%