১০:৫৪ পি.এম
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সোমবার বলেছেন, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো ‘বেশ কয়েক বিলিয়ন’ ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা করবে।
এতে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখাতে চায় যে, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের প্রতিক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করার পর ট্রাম্প মঙ্গলবার ৩২ সদস্যের জোট ন্যাটোর নেতাদের সঙ্গে আঙ্কারার এ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ২২ গ্রেফতার, উদ্ধার ৪০০ গ্রাম হেরোইন ও ১৫২০ পিস ইয়াবা
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ন্যাটো সদস্যরা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার এক বছর পরেই এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আঙ্কারা থেকে এএফপি জানায়, সাংবাদিকদের রুটে বলেন, ‘মাত্র এক বছরের মধ্যেই আমরা যুগান্তকারী অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এবং কানাডা ইতোমধ্যে তাদের জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ করছে।’ একই সঙ্গে তারা কীভাবে চূড়ান্ত ৫ শতাংশ লক্ষ্যে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও তুলে ধরবে।
ট্রাম্পকে দেখাতে যে মিত্ররা এখন কথার পাশাপাশি বাস্তবেও অর্থ ব্যয় করছে, সে লক্ষ্যে শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামে একাধিক বড় অস্ত্রচুক্তি ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় সরছে, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত
রুটে বলেন, ‘আমরা কয়েক দশ বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি ঘোষণা করব, যা প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করবে।’
তিনি জানান, গত বছর ইউরোপীয় মিত্র দেশ ও কানাডা আগের বছরের তুলনায় মূল প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে।
রুটে বলেন, ‘২০২৫ ও ২০২৬ এই দুই বছর মিলিয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার)।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা নিজেদের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ করছি। আজ এবং ভবিষ্যতে আমাদের সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে যা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করছি। কারণ আমাদের সামনে থাকা হুমকিগুলো বাস্তব, বিশেষ করে রাশিয়ার দিক থেকে।’
আরও পড়ুন: সাংবাদিক সহিদুলকে প্রাণনাশের হুমকি, আদালতে মামলা
ন্যটো মহাসচিব বলেন, নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি করে নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলো এখন ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শীর্ষ সম্মেলনের একটি অংশে অংশ নেবেন।
রুটে বলেন, ‘এ মুহূর্তে ইউক্রেন তাদের সেনাদের সাহস, নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার কারণে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে। তবে তাদের আমাদের অব্যাহত সহায়তা প্রয়োজন, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেন যতদিন তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে, ততদিন ন্যাটো মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকেও নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা পাচ্ছে।’
আরও পড়ুন: আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, নতুন ভবন ৩১ একরে নির্মিত হবে
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপ ও কানাডা ২০২৬ ও ২০২৭—উভয় বছরই ইউক্রেনকে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৮ হাজার ২০০ কোটি ডলার) সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভের পর ইউরোপীয় নেতারা এ সম্মেলনে তার সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধ এড়াতে চান। কারণ, এমন কোনো বিরোধ ন্যাটোর বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কূটনীতিকদের আশা, ট্রাম্পের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সুসম্পর্ক তাকে সংযত রাখতে সহায়ক হবে।
তবে বিরোধী গণমাধ্যমকে শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে বাধা দেওয়ায় তুর্কি কর্তৃপক্ষ সমালোচনার মুখে পড়েছে।
আরও পড়ুন: মুম্বাইয়ে রুবিওর তলবে চরম বিতর্কে মোদি সরকার
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রুটে বলেন, ‘গণমাধ্যমের বিষয়ে ন্যাটোর অবস্থান স্পষ্ট। গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে গণমাধ্যমের সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন