ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

কুমিল্লার সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি সেতুর রেলিং ভাঙার অভিযোগ


কুমিল্লার সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি সেতুর রেলিং ভাঙার অভিযোগ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাইশগাঁও বাজারে ব্যক্তিগত স্থাপনার সুবিধার্থে একটি সরকারি সেতুর রেলিং ভেঙে ফেলার অভিযোগ সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সেতুর নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাথেরপেটুয়া-হাসনাবাদ সড়কের বাইশগাঁও বাজারে অবস্থিত সরকারি সেতুটির পাশেই সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের একটি বহুতল স্থাপনা ও দোকান রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, উক্ত দোকানে ক্রেতাদের চলাচলের সুবিধার্থে এবং স্থাপনা রক্ষার স্বার্থে সেতুর রেলিংয়ের কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল বারী তুহিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা রাষ্ট্রীয় সম্পদ। কোনো জুলুমকারী বা অত্যাচারকারীর এই ধরনের কাজকে সমর্থন করা যায় না। সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

আরও পড়ুন: কাউনিয়ায় রতন হত্যা: দুই জেলা থেকে ৩ আসামি গ্রেপ্তার

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ মন্তব্য করেন, “সরকারি সম্পত্তি মানেই জনগণের সম্পত্তি। উনি কোন ক্ষমতায় এটা ভাঙছেন, উনিই ভালো জানেন। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

রেলিং ভাঙার বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, “দোকানে কাস্টমার যেন সহজে যাতায়াত করতে পারে, সে জন্য দোকানদার এটা ভেঙে ফেলেছিল। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রকৌশলী আমাকে বিষয়টি জানানোর পর আমি গতকালই সেটি মেরামত করে দিয়েছি।”

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত জাহান জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণ আদায় করে রেলিংটি মেরামত করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

উপজেলা প্রকৌশলী কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন: তাহসিফ হত্যা মামলায় দিশা রিমান্ড শেষে কারাগারে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই ব্যবহার করে সিইও সেজে ১৩০ মিলিয়ন ডলার প্রতারণার অভিযোগে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৩ পি.এম


এআই ব্যবহার করে সিইও সেজে ১৩০ মিলিয়ন ডলার প্রতারণার অভিযোগে মামলা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আইনজীবীদের কণ্ঠস্বর ও চেহারা নকল করে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, যেখানে ১ ডলার সমান ১২৪.৩৭ টাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের কেন্দ্রীয় (সরকারি) আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এই অভিযোগ প্রকাশ করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জ্যাকব সোয়াল, শ্যারন হাজান এবং গাই শিটরিট, যাদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কণ্ঠস্বর ও চেহারা নকল করে গোপন আর্থিক লেনদেনের কথা বলে কর্মীদের নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ পাঠাতে নির্দেশ দিতেন। এরপর আইনজীবী সেজে প্রতারণার বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতেন।

এভাবে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। যদি তারা দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাদের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

সূত্র: এবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কোডার্সট্রাস্টের সঙ্গে ইউপিসের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৩ পি.এম


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কোডার্সট্রাস্টের সঙ্গে ইউপিসের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটি ফর পিস (ইউপিস) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান কোডার্সট্রাস্ট।

গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ‘ট্রাম্প সেন্টারে’ এই ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, ইউনিভার্সিটি ফর পিসের ডিন প্রফেসর মিহির এবং কোডার্সট্রাস্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আজিজ আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তির আওতায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, শান্তিশিক্ষা এবং পেশাগত উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এসব কার্যক্রম অনলাইন, অফলাইন ও ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সহযোগিতার এই পরিধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, ওয়েব ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা ব্যবস্থাপনা, ফ্রিল্যান্সিং এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের মতো আধুনিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা অর্জন এবং পেশাগত জীবনে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার বিশাল কলেজ নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গ্র্যাজুয়েটদের কাছে এসব কার্যক্রম পৌঁছে দিতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করবে। অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি ফর পিস শান্তিশিক্ষা, সংঘাত নিরসন, মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে একাডেমিক জ্ঞান, প্রশিক্ষক এবং পাঠ্যবস্তু সরবরাহ করবে। এ ছাড়া ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয়ে স্বল্পমেয়াদি, পেশাগত ও সনদভিত্তিক কোর্স চালু, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, যৌথ গবেষণা এবং শিক্ষা ও গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক কনফারেন্স, কর্মশালা এবং বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমও যৌথভাবে আয়োজন করা হবে।

এই সমঝোতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিক্ষক সমাজের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি। এর মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষকেরা আধুনিক ডিজিটাল দক্ষতা, শান্তিশিক্ষা, মানবাধিকার ও সংঘাত নিরসনসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিজ নিজ পাঠদানে যুক্ত করার সুযোগ পাবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তিন প্রতিষ্ঠানের এই উদ্যোগ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) মানসম্মত শিক্ষা (এসডিজি ৪), শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (এসডিজি ৮) এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান (এসডিজি ১৬) অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটি ফর পিস কোস্টারিকাভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ এর অন্যতম স্বাক্ষরকারী (সিগনেটরি) দেশ। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী শান্তি, সংঘাত নিরসন ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে কাজ করে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারীপুরে গুচ্ছগ্রামে মানবিক সংকট: ৪০ বছরের জরাজীর্ণ ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ পি.এম


মাদারীপুরে গুচ্ছগ্রামে মানবিক সংকট: ৪০ বছরের জরাজীর্ণ ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস

ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে একসময় নির্মাণ করা হয়েছিল গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্প। উদ্দেশ্য ছিল, আশ্রয়হীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়া এবং তাঁদের জীবনমানের উন্নয়ন। কিন্তু নির্মাণের প্রায় ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক ঘরের সংস্কার হয়নি। ফলে জরাজীর্ণ ঘরে ঝুঁকি নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাসিন্দারা। কোথাও টিনের চালায় মরিচা ধরেছে, কোথাও ভেঙে গেছে বেড়া, আবার কোনো কোনো ঘরের কাঠামো হেলে পড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে চলাচলের পাকা রাস্তা ও সড়কবাতির সংকট। শুধু আবাসন নয়, অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি ঘর ও জমি জোরপূর্বক দখল কিংবা হস্তান্তরের অভিযোগও উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর পাঙ্গাশিয়া গ্রামের গুচ্ছগ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। টিনের চালা ও বেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অনেক ঘরই এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বাসিন্দারা জানান, নতুন ঘর কিংবা পুরোনো ঘর সংস্কারের জন্য জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার আবেদন করেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি তাঁরা। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁদের দুর্ভোগ কমেনি। গুচ্ছগ্রামে যাতায়াতের জন্য নেই পর্যাপ্ত পাকা রাস্তা। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানিতে চলাচল করতে হয়। অন্যদিকে সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে তৈরি হয় নিরাপত্তাঝুঁকি। স্থানীয়দের দাবি, জেলার অধিকাংশ গুচ্ছগ্রামের চিত্র প্রায় একই রকম।

এদিকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ও জমি নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। মাত্র ২০ হাজার টাকা ধার পরিশোধ করতে না পারায় কালকিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর পাঙ্গাশিয়া গ্রামের ফজিলা বেগম নামে এক বৃদ্ধার সরকারি ঘর ও জমি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০১০ সালের ওই ঘটনার পর আশ্রয় হারিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকমে জীবনযাপন করছেন তিনি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব জমি বিক্রয় বা হস্তান্তরযোগ্য না হলেও সমঝোতার মাধ্যমে জমি কেনার দাবি করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম হাওলাদার। একইভাবে পাশের বাসিন্দা কবিরের ঘর ও জমিও হায়াত নামে আরেক ব্যক্তি কিনে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১৫টি গুচ্ছগ্রাম রয়েছে। এসব গুচ্ছগ্রামে বসবাস করছে প্রায় এক হাজার পরিবার। ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের আবাসনের জন্য নির্মিত এসব প্রকল্পের ঘর দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সরকারি এই উদ্যোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সুবিধাভোগীরা। নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা চম্পা বেগম বলেন, ‘সরকার প্রায় ৪০ বছর আগে আমাদের একটি টিনশেড ঘর দিয়েছিল। সেই ঘর এখন ভেঙে গেছে, বসবাসের উপযোগী নেই। বৃষ্টি হলে ঘরের সবকিছু ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। ঝড় হলে আতঙ্কে থাকতে হয়। আমরা সবাই নতুন ঘর চাই।’

আরেক বাসিন্দা শিপন বালী বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামে বিয়ে কিংবা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ কারণে মেয়েদের ভালো জায়গায় বিয়ে দিতে সমস্যা হয়। ছেলেদের বিয়ের অনুষ্ঠানও ঠিকমতো করা যায় না। সরকার যদি জমিসহ বড় পরিসরে নতুন ঘরের ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা সবাই উপকৃত হব।’

ভুক্তভোগী ফজিলা বেগমের ছোট ছেলে মো. হান্নান সরদার বলেন, ‘আমার মা ২০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় হাকিম হাওলাদার সরকারের দেওয়া আমাদের ঘর ও জমি লিখে নেন। তিনি তখন পৌরসভায় চাকরি করতেন। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আমাদের শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের থাকার জায়গা নেই। সরকারের কাছে মায়ের জমি ফেরত চাই এবং এ ঘটনার বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল হাকিম হাওলাদার বলেন, ‘আমি টাকা দিয়ে জমি ও ঘর কিনেছি। এ বিষয় নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। পরে আমি কাগজপত্র ঠিক করেছি। ফজিলা বেগমের ঘর বা জমি জোরপূর্বক দখল কিংবা দলিল করে নিইনি।’

এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘সরকার ভূমিহীন মানুষের বসবাসের জন্য এসব ঘর ও জমি বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু এসব জমি কখনোই বিক্রয় বা হস্তান্তরযোগ্য নয়। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের জমি ফিরিয়ে দেওয়াসহ গুচ্ছগ্রামের সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

ভূমিহীন মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন নিয়ে গড়ে ওঠা গুচ্ছগ্রামগুলো আজ নানা সংকটে জর্জরিত। জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার, নতুন আবাসন নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সরকারি জমি বেদখলমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগই পারে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকলায় স্টার বাই পিএনজিও প্রকল্পের ওরিয়েন্টেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


নকলায় স্টার বাই পিএনজিও প্রকল্পের ওরিয়েন্টেশন

শেরপুরের নকলায় স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ‘স্টার বাই পিএনজিও’ প্রকল্পের প্রথম ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে নকলা পৌর শহরের ফেরুষা এলাকাস্থ স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির কার্যালয়ে এই ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫০ জন প্রশিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকগন অংশ গ্রহন করেন।

প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মো. নুর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশনে বক্তব্য রাখেন, ব্রাঞ্চ কো-অর্ডিনেটর মাজহারুল ইসলাম চঞ্চল, পিয়ার লিডার সুফিয়া আক্তার সুপ্তি, অভিভাবকদের পক্ষে আব্দুল লতিফ ও প্রেস ক্লাব নকলা’র সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-আমিন প্রমুখ।

বক্তারা স্টার বাই পিএনজিও প্রকল্পে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলেধরে বক্তব্য রাখেন। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রশিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা। এছাড়া প্রশিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশে অভিভাবকদের ভূমিকা ও সহযোগিতার গুরুত্ব উপস্থাপন করেন বক্তারা। এসময় বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%