সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৪ পি.এম
বাংলাদেশের স্কুলছাত্রী মেহজাবিন মৌশি কুইন্স কমনওয়েলথ রাইটিং কম্পিটিশনে গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার অর্জন করেছে। রয়্যাল কমনওয়েলথ সোসাইটি ইমেইলের মাধ্যমে তাকে এই পুরস্কারের বিষয়টি জানায়। পূর্ববর্তী প্রতিযোগিতায় এই স্কুলছাত্রী ব্রোঞ্জ পুরস্কার জিতেছিল।
মেহজাবিন মৌশি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের রেবতী মোহন পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি ‘দ্য স্টোরি অফ রুটস’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখে এই পুরস্কার লাভ করেছেন। এই প্রবন্ধটি বাংলাদেশি সংস্কৃতি, অতিথি আপ্যায়ন এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যের একটি অসাধারণ সম্মিলন তুলে ধরেছে। একটি ছোট ও আকস্মিক ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গভীর দিকগুলো প্রকাশ পেয়েছে।
প্রবন্ধটিতে বাঙালি অতিথিপরায়ণতা, জাতীয় সংগীতের আবেগ ও দেশপ্রেম, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয়, পরিবেশ সচেতনতা এবং শুভ বুদ্ধির উদয় অত্যন্ত সচেতনতার সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
১৮৮৩ সাল থেকে রয়্যাল কমনওয়েলথ সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত ‘কুইন্স কমনওয়েলথ রাইটিং কম্পিটিশন’ স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন আন্তর্জাতিক লেখালেখি প্রতিযোগিতা।
গত ২২ অক্টোবর সোসাইটি কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। এ বছরের বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ইতুমেলেং ম্লংগো, ভারতের আরভ রায়, কানাডার এমা কাই, সাইপ্রাসের লিডিয়া সিকিং এবং নিউজিল্যান্ডের কাংউ মুন। রয়্যাল কমনওয়েলথ সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই প্রতিযোগিতায় ৫৪টি দেশ থেকে মোট ৫৩,৮৪০টি লেখা জমা পড়েছিল। এবারই প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথভুক্ত পাঁচটি অঞ্চল—আফ্রিকা, এশিয়া, ক্যারিবীয় ও আমেরিকা অঞ্চল, ইউরোপ এবং প্যাসিফিক অঞ্চল—থেকে আলাদাভাবে আঞ্চলিক বিজয়ী নির্বাচন করা হয়েছে।
মেহজাবিন মৌশি সাংবাদিক মেরাজ শাকিল এবং আবৃত্তি শিল্পী শারমিন ইসলামের কন্যা। পড়াশোনার পাশাপাশি আবৃত্তি, উপস্থাপনা, অভিনয়, বিতর্ক, লেখালেখি, ইংরেজি ভাষা, গবেষণা এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মতো নানা ক্ষেত্রে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। অল্প বয়সেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সে একাধিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে নিজের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে বহুমুখী দক্ষতা গড়ে তুলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ফোর-জি সেবা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে চীনা প্রতিষ্ঠান জেডটিই’কে কার্যাদেশ (নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড-নোয়া) প্রদান করেছে।
আজ এই কার্যাদেশটি ‘প্রকিউরমেন্ট অব ফোর-জি অন ৭০০ মেগাহার্টজ’ শীর্ষক ক্রয়ের জন্য দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে এবং গ্রাহকদের উন্নত মানের টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা প্রদানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, প্রত্যন্ত ও নেটওয়ার্ক সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় মোবাইল সংযোগ সম্প্রসারণে এ উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের উপস্থিতিতে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী জেডটিই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাও জুনইয়ংয়ের হাতে কার্যাদেশ তুলে দেন।
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে মন্ত্রীর দপ্তরে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড চালু করা টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ ব্যান্ড ব্যবহার করে দেশের গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিধি বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। শহর এলাকায় ভবনের ভেতরে নেটওয়ার্কের সংযোগের মানও উন্নত হবে। ফলে গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত টেলিযোগাযোগ সেবা পাবেন।
৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ফ্রিকোয়েন্সি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এর রেডিও সিগন্যাল বেশি দূর পর্যন্ত যেতে সক্ষম এবং ভবনের ভেতরে নেটওয়ার্ক সংযোগ উন্নত করতে সহায়তা করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য মোবাইল সংযোগ ও ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর হিসেবে, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত টেলিযোগাযোগ সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম চালুর এই উদ্যোগ কোম্পানির নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাবুগঞ্জে একটি ভাড়া বাসা থেকে মোসা. তাহমিনা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার নতুনহাট এলাকার ওই বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
তাহমিনা বেগম ছিলেন উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ হাওলাদারের কন্যা এবং মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। তার সন্তানরা ঢাকায় পরিবারসহ বসবাস করে, কিন্তু তিনি নতুনহাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একা থাকতেন।
তথ্য অনুযায়ী, তাহমিনা বেগমের দুই ছেলে সুমন ও আওলাদ এবং দুই মেয়ে মুক্তা ও মনি রয়েছে। তারা সকলেই পরিবার নিয়ে ঢাকায় বাস করেন। বড় ছেলে সুমনের উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে তাহমিনা বেগম ভাইয়ের সহযোগিতায় নতুনহাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে একা বসবাস করছিলেন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।
স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তার সঙ্গে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। এরপর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। রোববার সকালে বাসা থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীরা স্বজনদের খবর দেন। পরে তারা দরজা খুলে খাটের ওপর তাহমিনা বেগমের পচাগলা মরদেহ দেখতে পান।
ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় ও কারণ জানা যায়নি।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ি দেওয়ালিয়াবাড়ী এলাকায় একটি পানি ফ্যাক্টরি ও ঝুট গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের শুরু হয়। খবর পাওয়ার পর, কোনাবাড়ি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরে সারাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের আরও ২টি ইউনিট তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোনাবাড়ি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আইয়ুব আলী জানান, ‘আমরা বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাই। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের স্টেশন থেকে ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে সারাবো ফায়ার সার্ভিস থেকে আরও ২টি ইউনিট এসে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের মোট ৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।’
তবে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংস্কৃতিক কর্মীদের আয়োজিত একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল ঢাকায়।
সোমবার বিকেলে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে একদল লোক মানববন্ধন করার জন্য জড়ো হন। এ সময় পুলিশ সেখানে থেকে দুজনকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সম্প্রতি এই স্থানে একদল জনতা মানববন্ধন করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছিল। ঘটনার দিন দীপক শীল নামের এক ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। জানা গেছে, তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি। এক পর্যায়ে পুলিশ তাঁকে আটক করে গাড়িতে তুলে নেয়।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান বলেন, "আমরা তাঁদের উসকানিমূলক স্লোগান ও কথা বলতে নিষেধ করলে তাঁরা পাল্টা প্রশ্ন করেন যে 'জয় বাংলা' স্লোগান নষ্ট হয়ে গেছে কি না।" পরে বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একজনকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়েছে।
মানববন্ধনের অন্যতম আয়োজক ফারুক এইচ খান বলেন, "সারাদেশেই বাউল ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চলছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।" পুলিশের বাধায় পণ্ড হওয়ার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মানববন্ধনকারীরা ওই এলাকা ত্যাগ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ