নাজমুল হাসান নিরব, ফরিদপুর প্রতিনিধি
০৩:১৪ পি.এম
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে কৃষক ইউসুফ আলী শেখকে (৫৫) কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকে নির্দোষ দাবি করেছে তাঁদের পরিবার। এ বিষয়ে পরিবারের অভিযোগ রয়েছে যে, প্রায় এক মাস ধরে নিখোঁজ আছমা বেগমকে (৫০) খুঁজে বের করার ঘটনায় ইউসুফ আলী শেখ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতেন। তাঁকে হত্যার পর আছমা বেগমের পরিবারের সদস্যদের পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।
তবে পুলিশ বলছে, মৃত্যুর আগে ইউসুফ আলী শেখের দেওয়া কথিত ভিডিও বক্তব্যের সূত্র ধরেই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, মামলার তদন্ত এখনো চলমান এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, নিহত ইউসুফ আলী শেখ চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাঁকে কৌশলে পদ্মার চরে ডেকে নিয়ে সাত থেকে আটজন মারধর করেন। একপর্যায়ে জোর করে তাঁর মুখে কীটনাশক ঢেলে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় বশির মেম্বারের বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায় তারা।
স্বজনেরা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ইউসুফকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু তার অবস্থা অবনতি হওয়ায় শনিবার রাতেই তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার ভোরে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
নিহত ইউসুফ আলী শেখের পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তিনি তাঁর ওপর নির্যাতন এবং জোর করে কীটনাশক খাওয়ানোর ঘটনা বর্ণনা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে ওই ভিডিওতে তিনি সাত থেকে আটজনের নামও উল্লেখ করেছেন।
এ ঘটনায় ইউসুফ আলী শেখের স্ত্রী বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এরপর সোমবার সকালে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চরভদ্রাসনের গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের সত্তার শেখের ছেলে শামীম হোসেন (২৫), মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার (৩৪), পার্শ্ববর্তী ওকেল মাতুব্বরের ডাঙ্গী এলাকার আক্কাস মোল্যা (৬০) এবং তাঁর ছেলে জুলহাস মোল্যা (৩৫)।
গ্রেপ্তার ইয়াছমিন আক্তারের ছোট বোন পারুল আক্তার দাবি করেন, তাঁর ভাই শামীম ও বোন ইয়াছমিন এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তিনি উল্লেখ করেন, “বিষ প্রয়োগের পরের দিন রোববার দুপুরে জানতে পারি, কে বা কারা ইউসুফ শেখকে বিষ খাইয়েছে। এলাকার লোকজন আমার ভাই শামীম ও বোন ইয়াছমিনকে দায়ী করছেন। কিন্তু ঘটনার দিন আমরা সবাই বাড়িতে ছিলাম। আমাদের বাড়িতে থাকা সিসি ক্যামেরায় এর প্রমাণ রয়েছে।”
পারুল আক্তার আরও জানান, “আমাদের মা আছমা বেগম গত ৭ জুলাই নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আমরা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করছি। থানাই আমাদের জানায় যে, ইউসুফ শেখের সঙ্গে মায়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ হয়েছিল। এখন তাকেই বিষ খাইয়ে আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “বিষয়টি আমরা থানায় জানালে পুলিশ আমাদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, যদি আমরা জড়িত না থাকি তাহলে কোনো সমস্যা হবে না। পরদিন সকালে পুলিশ আমাদের বাড়িতে গিয়ে ইয়াছমিন ও শামীমকে আটক করে। পরে তাঁদের মামা আক্কাস মোল্যা ও তাঁর ছেলে জুলহাস মোল্যাকেও আটক করা হয়।”
পারুলের ভাষ্য হল, “পরে জানতে পারি ইউসুফ শেখ মারা গেছেন এবং মৃত্যুর আগে নাকি আমার ভাই-বোনের নাম বলে গেছেন। কিন্তু তিনি যা বলেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার ভাই ও বোন নির্দেষ। তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে। আমরা ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।”
অভিযুক্ত ইয়াছমিন আক্তারের স্বামী আরিফ হোসাইনও তাঁর স্ত্রী ও শ্যালককে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “মৃত্যুর আগে ইউসুফ শেখ যে ভিডিওটি করেছেন, সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, কেউ পেছন থেকে ইয়াছমিন ও শামীমের নাম শিখিয়ে দিচ্ছে।”
আরিফ হোসাইন আরও জানান, “আমার শাশুড়ি এক মাস ধরে নিখোঁজ। এ কারণে পরিবারে সবাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। তাঁরা এমন কাজ কীভাবে করবেন? যে সময় ইউসুফকে বিষ খাওয়ানোর কথা বলা হয়েছে, সে সময় ইয়াছমিন ও শামীমসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িতেই ছিলেন। বাড়ির সিসি ক্যামেরায় এর প্রমাণ রয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমার শাশুড়ি কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন—এটা হয়তো ইউসুফ শেখ জানতেন। তিনি হয়তো বিষয়টি প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। এ কারণেই দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করেছে বলে আমরা মনে করছি।”
ইউসুফ শেখ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এখনো পোস্টমর্টেম ও মেডিকেল রিপোর্ট পুলিশের হাতে পৌঁছেনি।
তিনি বলেন, “অভিযুক্তদের বাসা থেকে একটি সিসি ক্যামেরার ডিভিআর উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পাসওয়ার্ড না পাওয়ায় এখনো ভিডিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”
হত্যার কোনো আলামত বা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। এসআই এনামুল হক বলেন, “মামলার তদন্ত শেষ হলে সবকিছু জানানো হবে।”
ইউসুফ শেখকে চায়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে, তা নিয়ে হাজীগঞ্জ বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। হাজীগঞ্জ বাজারের চায়ের দোকানদার মমিন বলেন, “আমার দোকানে নিহত ইউসুফ আসেনি এবং তাকে কেউ ডাকেনি। অন্য কোনো দোকান হতে পারে।”
মুদি দোকানদার আলমগীর হোসেন বলেন, “আমার দোকান থেকেও ইউসুফ নামের কাউকে ডেকে নেওয়া হয়নি। তবে ইউসুফকে অসুস্থ অবস্থায় অটোরিকশায় করে নিয়ে যেতে দেখেছি।”
আরেক চায়ের দোকানদার খোরশেদ বলেন, “ঘটনার দিন ইউসুফ আমার দোকানে এসেছিল। তখন আমি দোকানে ছিলাম না, আমার স্ত্রী ছিল। তবে এখান থেকে কেউ ইউসুফকে ডেকে নেয়নি।”
হাজীগঞ্জ বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন বলেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ইউসুফকে তাঁর দোকানের সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি বলেন, “তখন ইউসুফের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। আমার দোকানের সামনে তিনি সবুজ বর্ণের বমি করেন। তাঁর অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি। তখন তাঁর সেন্স ছিল না। তাই তিনি কোনো কথা বলতে পারেননি।”
গত ৭ জুলাই আছমা বেগম (৫০) নিখোঁজ হন। তিনি চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে তাঁর পরিবার চরভদ্রাসন থানায় সাধারণ ডায়েরি করে।
পুলিশের তদন্তে আছমা বেগমের সঙ্গে ইউসুফ আলী শেখের মুঠোফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর পুলিশ ইউসুফকে থানায় ডেকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিষয়টি ফরিদপুর সার্কেল এসপির পর্যায়েও যায় এবং তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আছমা বেগমের নিখোঁজের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোজাম্মেল বলেন, “আছমাকে খুঁজে বের করতে এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তাঁর ব্যবহৃত সবগুলো নম্বর ট্র্যাক করে তদন্ত চলছে। তাঁর সঙ্গে যারা কথা বলতেন, তাঁদেরও নম্বর বন্ধ রয়েছে।”
ইউসুফ হত্যা ও আছমা নিখোঁজের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আছমাকে খুঁজে পেলেই আসল ঘটনা জানা যাবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় নেতা বলেন, “আছমা নিখোঁজের ব্যাপারে ইউসুফ জানত। এ জন্যই হয়তো তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। তবে কে বা কারা মেরেছে, তা আমরা জানি না। আমরা চাই সত্যটা বেরিয়ে আসুক।”
আছমা বেগমের ছোট ছেলে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে ফরিদপুর শহরে বসবাসরত তাঁর বড় বোন ইয়াছমিন আক্তারের বাসায় ওঠেন। কয়েক দিন পর পরিবারের সদস্যরা সদরপুরে ইয়াছমিনের স্বামীর বাড়িতে একটি মিলাদ অনুষ্ঠানে যান। সেখানে থেকে গত শনিবার (১ আগস্ট) তাঁরা সবাই মিলে তাঁদের পৈতৃক নিবাস গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুরে যান। সেখানে আবারও আছমা বেগমকে খুঁজতে থাকেন তাঁরা। ওই রাতে দুই বোন, বড় ভাইয়ের স্ত্রী, সন্তান ও ছোট ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে সেখানে অবস্থান করেন।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফর আলী বলেন, “মৃত্যুর আগে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সূত্র ধরেই চারজনকে আটক করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।”
আছমা বেগমের নিখোঁজ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, “আছমা বেগম হারিয়ে যাননি। এর আগেও তিনি কয়েকবার এভাবে চলে গেছেন এবং পরে একাই ফিরে এসেছেন। এবার আসছেন না—এটাই ভাবার বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “ইউসুফের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। ইউসুফ মারা যাওয়ার আগে বলে গেছে, আছমা বেগমের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল এবং সে তাঁর বিষয়ে জানত। তাঁকে হত্যার পেছনে এ বিষয়টি রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।”
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারের নির্দোষ দাবির বিষয়ে ওসি সফর আলী বলেন, “তদন্তে সবকিছুই বেরিয়ে আসবে।”
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ইউসুফ আলী শেখকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারের দাবি, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তাঁদের নির্দোষ স্বজনদের মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
একদিকে মৃত্যুর আগে ইউসুফের দেওয়া কথিত ভিডিও, অন্যদিকে অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া কিন্তু পাসওয়ার্ডের কারণে এখনো খোলা সম্ভব না হওয়া সিসি ক্যামেরার ডিভিআর—দুটি বিষয়ই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে আছমা বেগমের নিখোঁজের ঘটনা এবং ইউসুফের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়টিও রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।
পুলিশ বলেন, পোস্টমর্টেম ও মেডিকেল রিপোর্টসহ তদন্তের অন্যান্য তথ্য হাতে পাওয়ার পর বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হবে। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর দাবি, ইউসুফ আলী শেখের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি আছমা বেগমের সন্ধানও দ্রুত নিশ্চিত করা হোক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেই জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। তিনি জানান, এই খাতে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে।
তিনি সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস (১৮০ দিন) পূর্তির উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, আমাদের জ্বালানি খাত মূলত আমদানিনির্ভর। খনিজ সম্পদের উন্নয়নে জিয়াউর রহমান বাপেক্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, কিন্তু বিগত ১০-১৫ বছরে এ প্রতিষ্ঠানটিকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি সমস্যার সমাধান রাতারাতি করা যায় না, তবে সরকার পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আনার চেষ্টা করছে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এ খাতে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে, এটি আমাদের দেশের জন্য অনেক বড় একটি ব্যাপার।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই সনদের যে ডকুমেন্টস দেওয়া হয়েছিল, তা আমরা প্রতিটি দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। সেখানে সংবিধান সংস্কারের জন্য 'সংশোধন' করার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু এখন সংশোধন শব্দটি মানা হচ্ছে না।
তিনি জানান, জুলাই সনদে বলা আছে- যারাই ক্ষমতায় যাবে, তারা নির্বাচনের আগে নিজেদের 'নোট অব ডিসেন্ট' জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। সেই অনুযায়ী জনগণ যাদের রায় দেবে, তারা নিজেদের মতো করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। প্রধানমন্ত্রীর সংসদে জানানো হয়েছে, বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। গণতন্ত্রে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার ধারণ করেই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি যেন সেখানে কোনো আইনি সুবিধা না পান, সে বিষয়ে দেশটির সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকার তাকে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
সরকারের ছয় মাসের অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ছয় মাসে সরকার যা করতে পেরেছে, তা হয়তো খুব বেশি কিছু নয় তবে একেবারেই কমও নয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারকে সহযোগিতা করেছেন। যারা বিরোধিতা করেছেন, তারা হয়তো সহযোগিতার অংশ হিসেবেই তা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান, প্রেস সচিব ও কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাম্প্রতিক সময়ে স্কুল প্রাঙ্গণে জাদুঘর স্থাপন নিয়ে গ্রেগরিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাথে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে টিজিএস।
“রক্ষা এবং সংরক্ষণ” -স্লোগানকে ধারণ করে সেন্ট গ্রেগরি স্কুলের অমূল্য ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দি গ্রেগরিয়ান সোসাইটি-টিজিএস। এটি দেশের কোনো বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম জাদুঘর তৈরি করার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
একদল নিবেদিত সাবেক গ্রেগরিয়ানদের অনেকদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ গড়ে উঠেছে গ্রেগরিয়ান জাদুঘর।
নির্মাণাধীন জাদুঘরটি স্কুল প্রাঙ্গণে থাকবে এবং এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামী ১৩ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
সম্প্রতি, টিজিএস জাদুঘর নির্মাণের লক্ষ্যে গ্রেগরিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাথে একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন টিজিএসএর সহ-সভাপতি, ১৯৭৪ ব্যাচের রিজওয়ান খাইর এবং সেন্ট গ্রেগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রাদার প্লাসিড পিটার রেবেইরো সিএসসি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১৯৮২ ব্যাচের মো. হাফিজ, ১৯৮৭ সালের রিচার্ড গোমেজসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ, স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ এবং টিজিএস-এর অন্যান্য সদস্যগণ।
দি গ্রেগরিয়ান সোসাইটির সদস্যবৃন্দ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থেকে জাদুঘর নির্মাণে অবদান রেখেছেন। শত বছরের পুরোনো স্কুলটির ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অর্জনকে আগামী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে তারা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তাদের বিশ্বাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ১৬ থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, যদি এই সময়ের মধ্যে মাদকসেবীরা আত্মসমর্পণ না করেন, তবে ১৮ আগস্টের পর তিতাসে কঠোর মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায়, তিতাস থানার উদ্যোগে ‘নেশা ছেড়ে কলম ধরো, জীবনকে সুন্দর করো’ স্লোগানে একটি মাদকবিরোধী শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া এসব কথা বলেন।
তিনি আবারও বলেন, ‘১৬ থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। যদি এর মধ্যে মাদকসেবীরা আত্মসমর্পণ না করেন, তাহলে ১৮ আগস্টের পর থেকে তিতাসে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
সমাবেশে বক্তারা মাদকাসক্ত ও মাদকসেবীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে গুরুত্ব দেন। বক্তারা তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার এবং শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওসমান গনি ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া ও তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক।
এ সময় তিতাস উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাজী মো. আলী হোসেন মোল্লা, সহসভাপতি এমদাদ হোসেন আকন্দ, মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক তন্ময় হাসান কাজলসহ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেছেন, ‘আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি মাত্র পাঁচ মাস আগে। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যে ইতিমধ্যেই দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি। দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। এসব ষড়যন্ত্রগুলোর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
সোমবার দুপুরে সরকারি মার্চেন্ট ওয়ার্কার্স কলেজের ছয়তলা অ্যাকাডেমিক ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় তিনি এ কথা বলেন।
এমপি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর কাছে আমি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছি। বর্তমানে ৫০ শয্যার হাসপাতালে অনুমোদন হয়েছে। এই হাসপাতালটি কোথায় এবং কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে আমি কাজ করছি। সিদ্ধিরগঞ্জে খেলার মাঠ, কবরস্থান এবং ঈদগাহের প্রয়োজনীয় জায়গার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছি।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজে বাস এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য মাইক্রোবাসের যে দাবি উঠেছে, সেটির বাস্তবায়নও পর্যায়ক্রমে করার জন্য চেষ্টা করব।
আজহারুল ইসলাম মান্নান উল্লেখ করেন, ‘দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার কাজ করছে। নতুন গ্যাসের উৎস এবং সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপনারা কিছুটা ধৈর্য ধরুন, ইনশাআল্লাহ, পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান হবে।’
সভার সভাপতিত্ব করেন সরকারি মার্চেন্ট ওয়ার্কার্স কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ছোলাইমান খন্দকার। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক আয়েশা সাখাওয়াত দিনা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই রাজু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক টিএইচ তোফা, বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান মাসুম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. সাখাওয়াত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. মাহবুব হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ