বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৮ পি.এম
অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (এএইউবি)-এর ২২তম একাডেমিক কাউন্সিল সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা ক্যাম্পাসের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এএইউবির ভাইস চ্যান্সেলর এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
সভায় ভাইস চ্যান্সেলর উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী অ্যাভিয়েশন, অ্যারোস্পেস ও স্পেস টেকনোলজির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, রোবোটিক্স এবং ডেটানির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষাকে প্রচলিত পাঠ্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গবেষণা, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অ্যাভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস প্রযুক্তির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ের ফলে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা, ডেটা লিংক, মানববিহীন আকাশযান, স্পেস সিস্টেম এবং উন্নত প্রকৌশল নকশাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
ভাইস চ্যান্সেলর আরও জানান, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধুমাত্র বিদ্যমান জ্ঞান বিতরণ করা নয়, বরং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং জাতীয় প্রয়োজনের উপযোগী সমাধান তৈরি করাও এর অন্যতম দায়িত্ব। এই লক্ষ্য সামনে রেখে এএইউবি অ্যাভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস খাতে দেশীয় সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে।
সভায় ২১তম একাডেমিক কাউন্সিল সভার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সংক্ষিপ্তসার উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং একাডেমিক মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় এএইউবির সদস্যদের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর প্রতিনিধিত্বকারী একাডেমিক কাউন্সিল সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন ‘ওয়ানএআই’ চালু করেছে। মাইজিপি অ্যাপে একটিমাত্র ইন্টারফেস ও সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে একাধিক এআই মডেল ও টুল ব্যবহার করা যাবে। গ্রামীণফোনের এই উদ্যোগ বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা এআই ব্যবহারের গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ওয়ানএআই প্ল্যাটফর্মটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যাধুনিক এআই টুলগুলোকে সহজ, সুলভ ও সাশ্রয়ী করে তুলতে চালু করা হয়েছে। এতে ব্যবহার করা যাবে চ্যাটজিপিটি, ক্লড, গ্রক, ডিপসিক, জেমিনাইসহ আরও অনেক শীর্ষস্থানীয় এআই মডেল।
একাধিক এআই প্ল্যাটফর্ম ও সাবস্ক্রিপশন আলাদাভাবে ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দূর করে ওয়ানএআই গ্রাহকদের দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনে নির্বিঘ্নে এআই ব্যবহারের সুযোগ প্রদান করবে। এর মধ্যে রয়েছে শেখা ও গবেষণা, কনটেন্ট লেখা, কোডিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, সৃজনশীল কাজ, এআই দিয়ে ছবি তৈরি, ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ ও সারসংক্ষেপ তৈরির মতো অন্যান্য এআইনির্ভর কাজ।
গ্রামীণফোনের ‘এআই অ্যান্ড আই ডে’ উপলক্ষ্যে জিপিহাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ওয়ানএআই সেবার উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান, গ্রামীণফোন ম্যানেজমেন্ট টিম ও কর্মীদের উপস্থিতিতে সেবাটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ানএআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবিরুল হক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, "আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার যে লক্ষ্য আমাদের রয়েছে, তা অর্জনে এআই-এর ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, শিল্প খাত ও সমাজব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তাই এআই-এর এই সম্ভাবনাকে গ্রহণ ও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সক্ষমতা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
রেহান আসিফ আসাদ আরও বলেন, "ওয়ানএআই-এর মতো বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এআই-কে সহজলভ্য করে তুলতে গ্রামীণফোনের এমন অগ্রণী ভূমিকা দেখে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সাশ্রয়ী উপায়ে এআই টুল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে, যা তাদের পড়াশোনা, গবেষণা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশে এআই-এর প্রসার ত্বরান্বিত করবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে, তা দেখার প্রত্যাশায় রয়েছি।"
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, "এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে গ্রামীনফোনের 'এআই অ্যান্ড আই' যাত্রার পরবর্তী ধাপের সূচনা হল। এখন আমাদের জন্য এআই আর কোনো পরীক্ষামূলক বিষয় নয়। স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্ক এবং হাইপার-পারসোনালাইজড সেবা থেকে শুরু করে এআই-ভিত্তিক গ্রাহকসেবা পর্যন্ত, আমাদের কর্মী, সার্বিক কার্যক্রম ও গ্রাহক অভিজ্ঞতার সর্বস্তরে এআই-এর প্রয়োগ প্রতিনিয়ত আরও বিস্তৃত ও সুদৃঢ় হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যৎ কেবল এআই-এর একার নয়; বরং ভবিষ্যৎ সেই মানুষদের, যারা দায়িত্বশীলতার সাথে ও ইতিবাচক উদ্দেশ্যে এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাবে। গ্রামীণফোনের ভেতরে আমরা যেমন ভবিষ্যৎ-উপযোগী সক্ষমতা তৈরি করছি, তেমনি এই লক্ষ্যকে প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ছড়িয়ে দিচ্ছি। মাইজিপি অ্যাপে ওয়ানএআই যুক্ত করার মাধ্যমে আমরা কোটি কোটি গ্রাহকের—বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের—হাতে এআই-এর সম্ভাবনা সরাসরি পৌঁছে দিচ্ছি, যা শেখা, কাজ, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের পথকে আরও সহজ করে তুলবে। পাশাপাশি, গ্রামীণফোন একাডেমি ও ফিউচারমেকার্সের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থী ও তরুণদের এআই দক্ষতা তৈরি করতে এবং তাদের উদ্ভাবনী ভাবনাকে অর্থপূর্ণ সমাধানে রূপান্তর করতে সহায়তা করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো আরও বেশি মানুষকে দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহারে সক্ষম করে তোলা, যা বাংলাদেশের জন্য একটি নিরাপদ ও স্মার্ট আগামী গড়তে সাহায্য করবে।"
গ্রামীণফোন গ্রাহকরা মাইজিপি অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি 'ওয়ানএআই' ব্যবহার করতে পারবেন এবং তাঁদের মোবাইল ব্যালেন্সের মাধ্যমে পছন্দসই বিভিন্ন প্যাকেজ কিনতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের জন্য প্যাকেজ শুরু হচ্ছে প্রতি মাসে মাত্র ৭১ টাকা থেকে; যার মাধ্যমে আনলিমিটেড এআই চ্যাটের পাশাপাশি গবেষণা, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন এবং কোডিং সহায়তার সুবিধা পাওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর তীরবর্তী টগরবন্দ, গোপালপুর, বুড়াইচ, বানা ও পাচুড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বসতবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা, সড়ক ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে অন্তত ৩০০ পরিবার ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছে। একইসাথে একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও চরম হুমকির সম্মুখীন রয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, টগরবন্দ ইউনিয়নের টিঠা-পানাইল, ইকড়াইল, কৃষ্ণপুর, শিকারপুর, চরডাঙ্গা, চাপুলিয়া ও কুমুরতিয়া; গোপালপুর ইউনিয়নের দিগনগর, চর আজমপুর, কাতলাসুর ও সাতিয়ারগাতি; বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া; বানা ইউনিয়নের পণ্ডিতের বানা ও বেল বানা এবং পাচুড়িয়া ইউনিয়নের চরনারান্দিয়া, বাঁশতলা ও চান্দ্রাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের দাবী, চলতি মৌসুমে এসব এলাকায় প্রায় ২০টি পরিবারের বসতভিটা, গাছপালা ও ফসলি জমিসহ ২০ থেকে ৩০ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, চাপুলিয়ার পাঁচটি সরকারি আশ্রয়ের ঘর নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় সেখানে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাথার উপরে পলিথিন দিয়ে বসবাস করছে কয়েকটি পরিবার, আবার কেউ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, আবার কেউ নিজের শখের ঘর ভাঙতে ব্যস্ত রয়েছেন।
শিকারপুরের বাসিন্দা মুসা মিয়া (৬৫) বলেন, “এবার নদীর ভাঙন আমাদের উঠান পর্যন্ত চলে এসেছে। তড়িঘড়ি করে ঘরবাড়ি ভেঙে সরাতে পেরেছি। তাদের দাবি আর হয়তোবা দুই এক দিন গেলে ঘরের একটুকু খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু অনেক গাছপালা নদীতে চলে গেছে। এখন ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।” একই এলাকার কাছেদ মল্লিক (৭০) বলেন, “আমরা এখন সবসময় আতঙ্কে থাকি, কখন বসতভিটাটুকুও নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ পর্যন্ত আটবার নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা পরিবর্তন করেছি। এবার ভেঙে গেলে আমাদের মাথা গোঁজার মতো আর কোনো জায়গা থাকবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল শেখ (৩৫) বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ অঞ্চলের চার থেকে পাঁচশ পরিবার মধুমতির ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে পারে।” স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোরাদ হোসেন বলেন, “প্রতি বছরই প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার এবং ২০ থেকে ৩০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রতিবছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন জানাই। তারা এসে পরিদর্শন করে আশ্বাস দেন, কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো প্রতিকার পাইনি।”
তিনি বলেন, “বাজড়া, চর আজমপুর, চাপুলিয়া, চরদনাইড়, শিকিপাড়া, শিকারপুর, কুমুরতিয়াসহ প্রায় ১০টি গ্রাম নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ গোপালপুর-চরহাঙ্গা পাকা সড়কের প্রায় ৫০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চাপুলিয়া গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ৬৫টি ঘর, বাজড়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ এবং চর আজমপুর গ্রামের প্রায় ৩০টি বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। এদিকে এখনো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এনবিডিসি আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা, দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিকারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাজড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এনবিডিসি আলহেরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুর রব বলেন, “আলফাডাঙ্গার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই দাখিল মাদ্রাসাটি নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কিছু এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলেও কোথাও কোথাও বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা না হলে প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকা বাসীর দাবি, নদীভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ মধুমতির ভাঙন থেকে রক্ষা পাবেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুতই একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানিয়েছেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমানে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৬ কোটি টাকা। এই বরাদ্দকে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘যদি আমরা এই অর্থবছরে পুরোটা দিতে না পারি, তবে আগামী অর্থবছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ আমাদের সাংবাদিক ভাই-বোনদের জন্য অনুমোদন করা যাবে।’
ডিআরইউর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি সংগঠনটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
এর আগে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ অন্যান্য অতিথিরা ডিআরইউর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বক্তব্য প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ