ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জজ-ব্যারিস্টার, ডিসি-এসপি হলেও নৈতিকভাবে গরিব হচ্ছি: হুইপ নিজান


জজ-ব্যারিস্টার, ডিসি-এসপি হলেও নৈতিকভাবে গরিব হচ্ছি: হুইপ নিজান

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান মন্তব্য করেছেন যে, "আমরা বড় হচ্ছি, জজ-ব্যারিস্টার, ডিসি, এসপি ও সচিব হচ্ছি। কিন্তু আমরা নৈতিকভাবে দিনদিন গরিব হয়ে যাচ্ছি। এখানেই বাংলাদেশের সমস্যা।"

তিনি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার রামদয়াল বাজার আবদুল হাদী কলেজ অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন।

এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান আরও বলেন, "এ সমাজে ধনি লোকের কদর বেশি। সে কি ঘুষ খায়? না ডাকাতি করে, না ইয়াবার ডিলার? এদেশে ইয়াবার ডিলার কিন্তু এমপি হয়েছে। ওই যে, কক্সবাজারের টেকনাফের বদি। আর আমরা মুসলমানরা, মসজিদের ইমাম সাহেবরা এসব খারাপ লোকগুলো মসজিদে গেলে তাদেরকে জায়নামাজ পর্যন্ত এগিয়ে দিই। কারণ তার টাকা আছে, ক্ষমতাও আছে।"

আরও পড়ুন: দিরাইয়ের পূর্বাঞ্চলে চ্যাপ্টিয়ার হাওরের পানি কমে বিপাকে যাত্রী ও কৃষক, দুশ্চিন্তায় বোরো চাষিরা

তিনি বলেন, "আমরা হৃদয় আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলকে ধারণ করার পর আমাদের যা করা উচিত, আমরা তা করি না। হিন্দু ভাইয়েরা তারা তাদের ধর্ম ঠিকমতো পালন করে না। একজন হিন্দুর পরনেও ধুতি পাবেন না। পূঁজার দিনেও তারা পরে না। আমরা ধর্মটা যদি সঠিকভাবে পালন না করি, তাহলে নৈতিক হব কীভাবে?"

হুইপ নিজান বলেন, "স্কুলের শিক্ষক, মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও কলেজের প্রিন্সিপাল তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের কমপ্লেন পাওয়া যাচ্ছে। তারা তো আমাদের আইডল। একসময় আমাদের শিক্ষকরা আমাদেরকে বেত দিত। এখন তো ধমক দিলেই আপনারা মিছিল করে ফেলবেন। আমরা বড় হচ্ছি, জজ-ব্যারিস্টার, ডিসি, এসপি ও সচিব হচ্ছি। কিন্তু আমরা নৈতিকভাবে দিনদিন গরিব হয়ে যাচ্ছি। এখানেই বাংলাদেশের সমস্যা। এখান থেকে উত্তরণ আপনারাই পারবেন।"

"আপনারা সবসময় বলেন, যদি একজন সৎ প্রধানমন্ত্রী পেতাম। এখন তো একজন সৎ প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন, তারেক রহমানকে। জামায়াত, এনসিপি, শিক্ষক সবাই বলেন তারেক রহমান সৎ। কিন্তু ওনার সহযোগীরা আমরা কিন্তু অসৎ। আমরা সবাই একটু করে সৎ হয়ে এগিয়ে আসলেই দেশ এগিয়ে যাবে।"

আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, "এই যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়ে গেল। আমরা ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। কত জেল-জুলুম, খুন, গুম সহ্য করে যখন আমরা অনেকটা হাল ছেড়ে দিয়েছি। তখন আমার ছাত্র ভাইয়েরা একটা অভ্যুত্থান করে দিল। জুলাইয়ের সে আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। এখনো যদি ইউএনও অফিসে সেবা না পায়, ওসি সাহেব, এসিল্যান্ড, তহশিলদার ও এমপি সাহেবের কাছে গিয়ে সেবা না পায়, তাহলে শহীদরা আমাদেরকে ক্ষমা করবে না। এখন না পারলে আগামী ৫০ বছরেও পারব না। কারণ এমন একটা প্রধানমন্ত্রীও আমরা আর পাব না। এমপি হবে অনেক, মন্ত্রী হবে অনেক, কিন্তু মানুষের মতো মানুষ হওয়া খুব কঠিন ব্যাপার। এর জন্য আমাদের ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে। না হলে দেশের পরিবর্তন হবে না। আপনাদেরকে আওয়াজ তুলতে হবে, কথা বলতে হবে। আমি দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। দেখবেন তখন সুন্দর বাংলাদেশ কায়েম হবে।"

আরও পড়ুন: সাজেকের সমস্যা সমাধানে আলোচনা অব্যাহত: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডাক্তার জামাল উদ্দিন, রামগতি পৌরসভার সাবেক মেয়র সাহেদ আলী পটু ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজ উদ্দিনসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন পেশার নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশি শিক্ষার্থীদের লাগাম টানছে অস্ট্রেলিয়া, বন্ধ হচ্ছে পরিবার আনার সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৪ পি.এম


বিদেশি শিক্ষার্থীদের লাগাম টানছে অস্ট্রেলিয়া, বন্ধ হচ্ছে পরিবার আনার সুযোগ

অস্ট্রেলিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসন কমানোর উদ্দেশ্যে নতুন বিধি-নিষেধ কার্যকর করতে যাচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গী এবং সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে দেশটিতে থাকার সুযোগ হারাতে পারেন। একইসঙ্গে, অস্থায়ী অভিবাসীদের ভিসা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও আরো কঠিন করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এই পরিবর্তনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সংবাদটি প্রকাশিত হয়।

আরো পড়ুন

বার্সেলোনার রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিক, আরেকটি গোলোৎসব

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় নিট বিদেশি অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ।

ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ।

আরো পড়ুন

স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে উৎসবের আমেজ, গণসংযোগে ব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের স্বামী, স্ত্রী বা সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে থাকতে পারেন এবং কাজও করতে পারেন। তবে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার কোর্সের ধরন অনুযায়ী তাদের কাজের অনুমোদিত সময় ভিন্ন হয়ে থাকে। এছাড়া, ১৮ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল সন্তানদেরও অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে।

এই নতুন উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে, কট্টর ডানপন্থী ওয়ান নেশন পার্টি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দলটি চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, তারা তিন বছরে অস্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমিয়ে অস্ট্রেলীয়দের জন্য ‘স্বস্তির জায়গা’ তৈরি করতে চায়।

আরো পড়ুন

“ডিসেম্বরে ’৮৬ বা ’৯৬-এর রাখিবন্ধন ঘটছে কিনা”

‘অস্ট্রেলিয়া ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ওয়ান নেশন প্রাথমিক তিন বছরের মধ্যে নিট বিদেশি অভিবাসন বছরে ১ লাখ ৩০ হাজারে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দলটির প্রস্তাবিত কর্মসূচি প্রতিবছর পর্যালোচনা করা হবে। তাদের কিছু নীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির তুলনা করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার এবং অস্থায়ী দক্ষ কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় দুই বছর পর কোভিড-১৯ সংক্রান্ত সীমান্ত বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার পর দেশটি পুনরায় সীমান্ত খুলে দেয় এবং অভিবাসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

আরো পড়ুন

নৌকাবাইচে মাতল হাওর, দর্শনার্থীদের ঢল

তবে গত দুই বছর ধরে এই সংখ্যা কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সময়ে সমালোচকরা দাবি করে আসছেন যে, অভিবাসীদের বড় প্রবাহ দেশটির আবাসন ও অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে এবং সামাজিক সংহতিতেও চাপ সৃষ্টি করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া বছরে অস্ট্রেলিয়ার নিট বিদেশি অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার। এর অর্ধেকেরও বেশি ছিলেন বিদেশি শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে, নিট অভিবাসন সর্বোচ্চ ৫ লাখ ১৮ হাজারে পৌঁছেছিল।

সূত্র : রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রকৃতি রক্ষা করতে গিয়ে কলম্বিয়া ও ব্রাজিলে সর্বাধিক প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ পি.এম


প্রকৃতি রক্ষা করতে গিয়ে কলম্বিয়া ও ব্রাজিলে সর্বাধিক প্রাণহানি

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া আবারও বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থানে পরিণত হয়েছে, যা ভূমি ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মীদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা ‘গ্লোবাল উইটনেস’-এর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১২৪ জন পরিবেশ আন্দোলনকর্মীকে হত্যা করা হয়, যার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৩৯ জন কলম্বিয়ায় প্রাণ হারিয়েছে। ব্রাজিলে ২৬ জন এবং ফিলিপাইনে ১২ জন পরিবেশকর্মীও হত্যার শিকার হয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে নথিভুক্ত মোট হত্যাকাণ্ডের ৮৫ শতাংশ লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে ঘটেছে। ২০১২ সাল থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর থেকে এই অঞ্চলটি পরিবেশ রক্ষাকারীদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। অধিকাংশ মৃত্যুর কারণ জমিসংক্রান্ত বিরোধ, যা বাস্তবায়নে জড়িত ছিল ভাড়াটে খুনি ও সংগঠিত অপরাধী চক্র।

কলম্বিয়ায় নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য এবং ক্ষুদ্র কৃষক ছিলেন। অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মাদক চাষ বা অবৈধ খনি সম্প্রসারণে বাধা দেওয়ায় প্রায়ই তাদের ওপর হামলা চালায়। সম্প্রতি কলম্বিয়ার কাউকা অঞ্চলে আদিবাসী রক্ষীবাহিনীর সদস্য জ্যাকব গুয়াচেতা জামব্রানোকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে, যা ওই এলাকার চরম নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরেছে।

গ্লোবাল উইটনেস সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪৬টি হত্যাকাণ্ডের তুলনায় ২০২৫ সালে নিহতের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও প্রকৃত সংখ্যা হয়তো আরো বেশি হতে পারে। কারণ দূরবর্তী বা দুর্গম অঞ্চলে ঘটে যাওয়া অনেক হুমকি, গুম ও হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ না পেয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে, ব্যয় ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ পি.এম


সরকার ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে, ব্যয় ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা

সরকার ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে স্থানীয়ভাবে এ মসুর ডাল কেনা হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে টিসিবি কাজ করবে। স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর তিনটি প্রস্তাবই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরো পড়ুন

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সভা আজ, আসছে বড় পরিবর্তন

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড, খুলনা থেকে সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতা হিসেবে মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৭৯ পয়সা দরে এসব ডাল কেনা হবে। এর ফলে প্রতি টনের দাম হবে ৭৬ হাজার ৭৯০ টাকা। ১০ হাজার টনের মোট মূল্য ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টি এই অর্থের জন্য থাকবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ২০ হাজার টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে। নতুন করে ১০ হাজার টন কেনার ফলে চলতি অর্থবছরে টিসিবির কেনা মসুর ডালের পরিমাণ ২৭ হাজার ৫২৮ টনে দাঁড়াবে।

টিসিবি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হার নয়, মেয়েদের ফুটবলে সংকটটা আরো গভীরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ পি.এম


হার নয়, মেয়েদের ফুটবলে সংকটটা আরো গভীরে

উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলের পরাজয়কে কেবল একটি ম্যাচের ফল হিসেবে দেখা হলে ভুল হবে। এশিয়ান গেমসের মতো বিশাল মঞ্চে এই ব্যবধান বাংলাদেশের নারী ফুটবলের বাস্তব চিত্রকে উন্মোচন করেছে। তাই প্রশ্নটি কেবল কোচ কে, একাদশে কে খেলেছে বা কৌশল কী ছিল—এর চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমরা আসলে এই দলটিকে কিভাবে তৈরি করছি?

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা হলো—প্রতিযোগিতামূলক ঘরোয়া লিগের অভাব। প্রতিবছর যে লিগ অনুষ্ঠিত হয়, সেটি কার্যত নামকাওয়াস্তে। ফলে জাতীয় দলের প্রস্তুতি অনেকটাই নির্দিষ্ট একটি খেলোয়াড় গোষ্ঠী, ক্যাম্প এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার জন্য নিয়মিত প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে না। একজন খেলোয়াড়ের জায়গা নেওয়ার জন্য অন্য একজনকে যদি নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে জাতীয় দলের জায়গার জন্য লড়াই কিভাবে তৈরি হবে?

নতুন খেলোয়াড়দের আনার প্রধান পথ বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দল। কিন্তু সেখান থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়দের সিনিয়র পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য নিয়মিত মঞ্চ নেই। তাই একই খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে জাতীয় দলের আশপাশে রাখা অস্বাভাবিক নয়।

সমস্যা কেবল মাঠের নয়। খেলোয়াড়দের থাকা-খাওয়ার পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বাফুফে ভবনে সাত-আটজন খেলোয়াড়কে একটি কক্ষে গাদাগাদি করে থাকার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। জীর্ণশীর্ণ ও অস্বস্তিকর পরিবেশে থেকে এশিয়ান কাপ বা এশিয়ান গেমসের মতো আসরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করার প্রত্যাশা কতটা বাস্তবসম্মত?

উচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে অনুশীলনের পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, বিশ্রাম, পুনর্বাসন এবং চিকিৎসা-সহায়তা। একজন খেলোয়াড়ের উন্নয়নকে কেবল মাঠের অনুশীলন দিয়ে বিচার করা যায় না। সে কোথায় থাকছে, কী খাচ্ছে, কিভাবে বিশ্রাম নিচ্ছে—এসবও পারফরম্যান্সের অংশ।

এখানেই একটি কাঠামোবদ্ধ নারী লিগের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। ১০ দলের একটি প্রতিযোগিতামূলক লিগ হতে পারে সেই পথের সূচনা। প্রতিটি দলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের সংখ্যা সীমিত রাখা গেলে ক্লাবগুলোকে তরুণ খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। ফলে জায়গা পাওয়ার লড়াই বাড়বে। জাতীয় দলের কোচের হাতে তৈরি হবে বড় খেলোয়াড় পুল।

আর্মি, পুলিশ এবং বিকেএসপির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে নারী ফুটবলার তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এগুলোকে একটি সুসংগঠিত উন্নয়ন-ব্যবস্থার অংশ করা গেলে জাতীয় দলের জন্য নিয়মিত খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব। একজন খেলোয়াড় জাতীয় দলের ক্যাম্পে আসার পর তাকে তৈরি করার চেয়ে ক্লাব পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে গড়ে তোলা অনেক বেশি কার্যকর।

সমস্যা কেবল খেলোয়াড় তৈরিতেই নয়, কোচিং কাঠামোতেও প্রশ্ন রয়েছে। লাইসেন্স পাওয়ার পর একজন কোচ দীর্ঘদিন মাঠে কাজ না করেও একই অবস্থায় থাকবেন—এমন ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেটিও ভাবার সময় এসেছে। কোচদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স উন্নয়ন, মাঠে অনুশীলন পরিচালনা এবং ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়নের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

সবচেয়ে বড় কথা, নারী ফুটবলের উন্নয়ন কোনো এক ব্যক্তি, একটি বয়সভিত্তিক দল কিংবা শুধু জাতীয় দলের ক্যাম্পের ওপর নির্ভর করে হতে পারে না। দরকার একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন-ধারা—স্কুল ও একাডেমি থেকে খেলোয়াড় উঠে আসবে, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ পেরিয়ে সিনিয়র ক্লাব ফুটবলে খেলবে, সেখান থেকে জাতীয় দলে জায়গার জন্য লড়াই করবে।

উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলের পরাজয় সেই কাঠামোর দুর্বলতাগুলো আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। কোচ বদলালে একাদশ বদলাবে, কৌশল বদলাবে। কিন্তু খেলোয়াড় তৈরির ব্যবস্থা, প্রতিযোগিতামূলক লিগ, কোচিং কাঠামো এবং খেলোয়াড়দের জীবনযাপনের মৌলিক পরিবেশ না বদলালে এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমানো কঠিন হবে।

বাংলাদেশ নারী ফুটবলকে তাই কেবল পরের ম্যাচের জন্য নয়, পরের প্রজন্মের জন্যও প্রস্তুত হতে হবে।

এবং সেই প্রস্তুতির প্রথম শর্ত হতে পারে—নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক নারী লিগ এবং খেলোয়াড়দের জন্য একটি সম্মানজনক জীবনযাপনের পরিবেশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%