ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৬০-এ জাহিদ হাসান, অভিনয়ে এখনো তরুণ


৬০-এ জাহিদ হাসান, অভিনয়ে এখনো তরুণ

কখনো হাসির খোরাক দিয়েছেন, কখনো আবার কাঁদিয়েছেন। কখনো সংলাপের চেয়ে নীরব অভিব্যক্তির মাধ্যমে চরিত্রের অনুভূতি দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দক্ষতা রয়েছে তাঁর। অভিনয়ের বিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এই বিশেষ ক্ষমতাই অভিনেতা জাহিদ হাসানকে কয়েক প্রজন্মের দর্শকপ্রিয় করে তুলেছে। আজ ৪ অক্টোবর, এই অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৬৭ সালের এই দিনে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী জাহিদ হাসান ৬০ বছরে পা দিলেন।

জাহিদ হাসানের অভিনয়জীবন শুরু হয়েছিল মঞ্চ থেকে। সিরাজগঞ্জে বেড়ে ওঠার সময় নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। পরবর্তীকালে মঞ্চ থেকে টেলিভিশনে এসে নিজের অভিনয়গুণে ধীরে ধীরে পরিচিতি অর্জন করেন। নব্বইয়ের দশকে ‘জীবন যেমন’, ‘সমাপ্তি’, ‘বিচ্ছু’সহ বিভিন্ন নাটক ও ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

তবে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবেই থেমে থাকেননি জাহিদ হাসান। চলচ্চিত্রেও নিজের অভিনয়ের পরিসর বৃদ্ধি করেছেন। ১৯৮৬ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর ২০০০ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমায় অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। পরে ‘হালদা’, ‘সাপলুডু’র মতো সিনেমাতেও ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা অর্জন করেছেন।

আরও পড়ুন: স্মিতাকে স্মরণ করে রাজ বাব্বরের আবেগঘন পোস্ট

জাহিদ হাসানের অভিনয়ের বিশেষত্ব হলো তাঁর বৈচিত্র্য। কমেডি, পারিবারিক গল্প কিংবা গম্ভীর ও জটিল চরিত্রে—বিভিন্ন ধরনের ভূমিকায় নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন তিনি। শুধু অভিনয় নয়, নির্মাতা হিসেবেও কাজ করেছেন। নাটক ও ধারাবাহিক নির্মাণের পাশাপাশি অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের একটি আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন।

ব্যক্তিজীবনে জাহিদ হাসান অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌকে বিয়ে করেছেন। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পাশাপাশি পরিবারকেও বরাবর গুরুত্ব দিয়েছেন এই অভিনেতা।

ছয় দশকের জীবনে জাহিদ হাসানের ক্যারিয়ার বিস্তৃত হয়েছে নানা মাধ্যমে। মঞ্চ দিয়ে শুরু করে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র—সবখানেই কাজ করেছেন। সময়ের সঙ্গে বিনোদনের মাধ্যম বদলেছে, এসেছে ওটিটি; সেখানেও নতুন প্রজন্মের দর্শকের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করছেন তিনি।

ছয় দশকে পা দিয়েও অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইচ্ছা নেই জাহিদ হাসানের। বরং সময় ও দর্শকের রুচির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকেও বদলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করলেও তাঁর সামনে এখনো নতুন চরিত্রের সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেখানেই একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় সাফল্য—বয়স বাড়লেও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহে ভাটা না পড়া।

আরও পড়ুন: শোয়েব মালিকের সঙ্গে বিয়ের গুঞ্জনে বিরক্তি প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী ভানিজা সাত্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের আমরণ অনশনের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৭ পি.এম


ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের আমরণ অনশনের ঘোষণা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও বাদ পড়া প্রার্থীদের সংখ্যা এখনো শতাধিক রয়েছে। তারা চাকরিতে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। তবে, কী কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। নিয়োগপত্র ইস্যুর দাবিতে বাদ পড়া এসব প্রার্থী আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন।

ঘোষণা অনুযায়ী, রবিবার (৪ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে তারা আমরণ অনশনে বসবেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত এ অনশন চালিয়ে যাবেন।

নিয়োগপত্র না পাওয়াদের মধ্যে একজন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আবু তালহা। তিনি জানান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশও পেয়েছিলেন। কিন্তু নিয়োগের শেষ ধাপে এসে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েন। পরে বাদ পড়াদের নিয়োগে গত ১ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় জারি করা আদেশে গাইবান্ধার আরো ছয়জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। তবে তালহা আবারও বাদ পড়েছেন। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৯৫ জনের মধ্যে ৯৪ জন নিয়োগপত্র পেলেও একমাত্র তালহাই এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাজের পরিবেশ, দায়িত্ব ও কর্তব্যের সঙ্গে পরিচিত করানোর জন্য একটি প্রাথমিক পরিচিতিমূলক কর্মসূচি বা ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণ রবিবার শুরু হবে এবং আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। নবনিযুক্ত শিক্ষকদের জন্য পাঁচদিনের এ প্রশিক্ষণ শেষে ১১ অক্টোবর পদায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলার ইতিহাসে এক সাহসী বীর সেনাপতি জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


বাংলার ইতিহাসে এক সাহসী বীর সেনাপতি জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানী

বাংলার ইতিহাসে কিছু মানুষ তাঁদের কর্ম, সাহস ও নেতৃত্বের মাধ্যমে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকেন। জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী তাঁদেরই একজন—বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি।

১৯৭১ সালে যখন বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্য জীবন-মরণ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে, এম.এজি. ওসমানী মুক্তিবাহিনীর সামরিক নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত সামরিক কাঠামো গড়ে ওঠে। ১১টি সেক্টর, সেক্টর কমান্ডার, নিয়মিত বাহিনী এবং বিভিন্ন বিশেষ বাহিনীর সমন্বয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়।

তিনি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ ও সাহসী সামরিক কর্মকর্তা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে দীর্ঘ সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে কাজে লাগান। মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে যুদ্ধ পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশের বিজয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর নেতৃত্বের সেই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে। স্বাধীনতার পরও তিনি দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বক্স অফিসে ‘দৃশ্যম ৩’ ঝড়

মোহনলাল নয়, অজয়কেই এগিয়ে রাখছেন মালয়ালম দর্শকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৪ পি.এম


মোহনলাল নয়, অজয়কেই এগিয়ে রাখছেন মালয়ালম দর্শকরা

প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে তাণ্ডব চালাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘দৃশ্যম ৩’, যেখানে অভিনয় করেছেন অজয় দেবগন। গত শুক্রবার (০২ অক্টোবর) ছবিটি মুক্তির পর ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শুধু হিন্দিভাষী দর্শক নয়, বরং এই হিন্দি সংস্করণটি দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন মালয়ালি দর্শকরাও।

অনেকে মনে করছেন, অজয় দেবগনের হিন্দি সংস্করণটি মূল মালয়ালম সংস্করণের তুলনায় গল্প ও নির্মাণের দিক থেকে অনেক বেশি জমজমাট। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় এক মালয়ালম কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ‘দৃশ্যম ৩’ নিয়ে রিভিউ ভিডিওটি আলোচনায় এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মালয়ালি দর্শকরা হিন্দি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি খুব একটা অনুরাগী ছিলেন না। তবে ‘দৃশ্যম ৩’-এর নির্মাণ ও ইতি টানার ধরণ তাদের ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

ভিডিওতে তিনি বলেন, “হিন্দি ছবির টিম এত চমৎকারভাবে দৃশ্যমের সমাপ্তি টেনেছে যা সত্যি প্রশংসনীয়। আমি আগে হিন্দি সিক্যুয়েলগুলো দেখিনি এবং কিছুটা অবহেলার চোখেই দেখতাম। কিন্তু ৩ নম্বর পর্বটি দেখার পর আমি হাততালি দিতে বাধ্য হয়েছি। মূল মালয়ালম সংস্করণের পরিচালক জিতু জোসেফের কোনো সাহায্য ছাড়াই হিন্দি নির্মাতারা সম্পূর্ণ নতুন করে এর চমৎকার চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন।”

অনলাইনে ওই ভিডিওর কমেন্ট বক্সেও মালয়ালি দর্শকদের কাছ থেকে একই ধরণের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। সেখানে অনেক দর্শক মন্তব্য করেছেন যে, মোহনলালের নিজস্ব ‘দৃশ্যম ৩’ সংস্করণের চেয়ে অজয়ের ছবিটি তাদের কাছে শতগুণ ভালো লেগেছে। একজন লিখেছেন, “মালয়ালম সংস্করণটিকে নাটকের মতো মনে হচ্ছিল, সে জায়গায় হিন্দি ছবিটির নির্মাণ দারুণ।”

তবে মোহনলালের ভক্তরাও চুপ থাকেননি; তাদের দাবি, গল্পের টুইস্ট যাই হোক না কেন, অভিনয়ে মোহনলালকে ছাড়িয়ে যাওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, বলিউডের ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম দুটি অংশ মালয়ালম ছবির সরাসরি রিমেক হলেও এই তৃতীয় পর্বটি একেবারেই ব্যতিক্রম।

হিন্দি সংস্করণগুলোর পরিচালক অভিষেক পাঠক ও অভিনেতা অজয় দেবগন মূল গল্প থেকে বেরিয়ে নিজস্ব ও সম্পূর্ণ নতুন একটি চিত্রনাট্য দিয়ে ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজি শেষ করার পরিকল্পনা করেন। বিষয়টি নিয়ে তারা আগেই মূল অভিনেতা মোহনলালের সম্মতিও নিয়েছিলেন।

এদিকে মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে ইতিহাস গড়েছে অজয়ের ‘দৃশ্যম ৩’। ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, ভারতে প্রথম দিনেই প্রায় ৬৬.৭৫ কোটি রুপি ব্যবসা করেছে সিনেমাটি এবং বিশ্বব্যাপী এর সংগ্রহ ছাড়িয়েছে ৯৫ কোটি রুপির ঘর। আর এর মাধ্যমেই অজয় দেবগনের দীর্ঘ অভিনয় জীবনের সবচেয়ে বড় ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়ে ‘দৃশ্যম ৩’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫৫০ বছরের পুরোনো ‘হোলে সি আর্চ’ ধসে পড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৪ পি.এম


৫৫০ বছরের পুরোনো ‘হোলে সি আর্চ’ ধসে পড়েছে

প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে প্রায় ৫৫০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা হাওয়াইয়ের বিখ্যাত প্রাকৃতিক খিলান ‘হোলে সি আর্চ’ অবশেষে ধসে পড়েছে। এই প্রাকৃতিক স্থাপনা, যা আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে তৈরি হয়ে প্রায় ৯০ ফুট উঁচু ছিল, সমুদ্রের ঢেউ এবং দীর্ঘদিনের ক্ষয়ের কারণে ভেঙে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খিলানটি অক্ষত ছিল। তবে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে সেটি ধসে পড়ে।

হাওয়াই দ্বীপের হাওয়াই ভলকানোস ন্যাশনাল পার্কের চেইন অব ক্রেটার্স রোডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত এই প্রাকৃতিক বিস্ময়টি পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় স্থান ছিল। বহু বছর ধরে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করতেন, এবং খিলানটির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা ছিল তাদের অন্যতম আকর্ষণ।

ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর ট্রপিক্যাল স্টর্ম নোলোর প্রভাবে পার্কের বিভিন্ন এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পার্কের বেশিরভাগ অংশ খুলে দেওয়া হয়। তখনই জানা যায়, দীর্ঘদিনের পরিচিত হোলে সি আর্চ আর নেই। তবে এটি ঠিক কখন ধসে পড়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রায় ৫৫০ বছর আগে আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে তৈরি পাথরের স্তরে প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খিলানটির সৃষ্টি হয়েছিল। নরম ও শক্ত পাথরের অংশ সমানভাবে ক্ষয় না হওয়ায় সমুদ্রের ঢেউ ধীরে ধীরে পাথর কেটে খিলানের আকৃতি তৈরি করে। ভূতত্ত্বে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ডিফারেনশিয়াল ইরোশন’। বছরের পর বছর ঢেউ, বাতাস ও আবহাওয়ার প্রভাবে কাঠামোটি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত অবশিষ্ট অংশটুকুও ভেঙে সমুদ্রে পড়ে যায়।

খিলানটির ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বহু বছর ধরেই ছিল। ২০১৮ সালে কিলাউয়া আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ও সংশ্লিষ্ট ভূমিকম্পের ফলে আশপাশের পাথুরে এলাকায় ফাটল সৃষ্টি হয় এবং উপকূলের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে নতুন করে ফাটল ও অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুরোনো পর্যবেক্ষণ এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই বছরের মার্চে খিলান থেকে দূরে একটি নিরাপদ পর্যবেক্ষণ এলাকা তৈরি করা হয়।

২০২০ সালের পর ট্রপিক্যাল স্টর্ম ডার্বির সময় প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে খিলানটির নিচের অংশ থেকে বড় একটি পাথরের খণ্ড ভেঙে পড়ে। তখনই কাঠামোটির দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২১ সালে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসও সতর্ক করেছিল, প্রাকৃতিক ক্ষয়ের কারণে একদিন খিলানটি ধসে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিল।

‘হোলে সি আর্চ’ নামটির পেছনেও রয়েছে স্থানীয় প্রকৃতির ইতিহাস। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ‘হোলে’ স্থানীয় একটি উদ্ভিদের নাম, যার বৈজ্ঞানিক পরিচয় ওক্রোসিয়া। সেই উদ্ভিদের নাম থেকেই খিলানটির নামকরণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, সমুদ্রের ঢেউয়ে লাভার পাথর ক্ষয় হয়ে খিলানের মতো আকৃতি তৈরি হওয়ায় এর নামের সঙ্গে যুক্ত হয় ‘সি আর্চ’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের খিলান দেখতে শক্ত ও স্থায়ী মনে হলেও এগুলো প্রকৃতপক্ষে ক্ষয়শীল ভূপ্রাকৃতিক কাঠামো। সময়ের সঙ্গে খিলান ভেঙে পাথরের স্তূপ বা বিচ্ছিন্ন সমুদ্র-স্তম্ভ তৈরি হতে পারে। একই উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন খিলানও সৃষ্টি হতে পারে।

হোলে সি আর্চ ধসে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই জায়গাটির পুরোনো ছবি ও স্মৃতি ভাগ করে নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের কাছে পরিচিত এই প্রাকৃতিক দৃশ্য এখন ইতিহাসের অংশ। প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাব্দী ধরে প্রকৃতির নানা পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকা খিলানটির পতন আবারও মনে করিয়ে দিল প্রকৃতির সৌন্দর্য চিরস্থায়ী নয়; অবিরাম ক্ষয়ের কাছে একসময় হার মানতে হয় পাথরের তৈরি বিস্ময়কেও।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%