মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
০৬:৩০ পি.এম
শেরপুরের শ্রীবরদীতে সেতুর নিচে প্লাস্টিকের ড্রামে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় শনাক্তসহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিবিআইয়ের দাবি, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ওই নারীকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও ঘটনা আড়াল করতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শেরপুরের শ্রীবরদীতে লাশ ফেলে যায় আসামিরা।
রোববার (১ নভেম্বর) পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএমের প্রেস বিফ্রিং এ দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত নারীর নাম ঝিনুক আক্তার (২৬)। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় বসবাস করতেন এবং একটি পার্লারে কাজ করতেন।
পিবিআই জানায়, গত ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে ড্রাম খুলে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার পর পিবিআই শেরপুরের ক্রাইমসিন দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় নিহতের ফুফু শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে ঝিনুকের স্বামী মো. সাইফুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ২৩ অক্টোবর দায়ের করা হয়। পরে পিবিআই শেরপুর ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং মামলার তদন্তভার পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুর রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে প্রথমে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার দিঘলগ্রাম থেকে নুর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪) নামের একজনকে ২৯ অক্টোবর হেফাজতে নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে সজল (৪৪) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই এলাকা থেকে নুর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমাকে (৪৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর ঝিনুক আক্তার ঢাকার উত্তরখান এলাকায় কবিরশাহ মাজারের কাছে আসেন। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাঁকে দক্ষিণখান থানার মৌশাইর এলাকার একটি নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁকে দৈহিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঝিনুক চলে যেতে চাইলে তাঁকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি আরও টাকা দাবি করলে মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমার সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফাতেমা বটি দিয়ে ঝিনুককে এলোপাতাড়ি কোপান বলে পিবিআই জানায়। পরে অন্যরা তাঁর হাত-পা চেপে ধরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাত একটি গাড়িতে করে শেরপুরের শ্রীবরদীর কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নুর ইসলাম ওরফে বাবু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএম বলেন, এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের মামলা। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে পিবিআইয়ের সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করে অল্প সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, অপরাধীরা অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করলেও অপরাধ কখনো চাপা থাকে না। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্মার্ট হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নতুন সারফেস মাউন্ট টেকনোলজি (এসএমটি) লাইন চালু করেছে, যা স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোনের মাদারবোর্ড উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হবে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে অনার ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন উৎপাদন করে।
এসএমটি লাইনে বিশেষায়িত যন্ত্রের মাধ্যমে সরাসরি স্মার্টফোনের মাদারবোর্ডে ইলেকট্রনিক উপাদান বসানো সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে, স্মার্টফোন উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এখন বাংলাদেশে সম্পন্ন করা যাবে। এতে আমদানি করা যন্ত্রাংশ ও উপাদানের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোন উৎপাদনের এই পরিবর্তন এবং এর রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করতে সিঙ্গাপুরের নানিয়াং বিজনেস স্কুলের এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রামের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্মার্ট হাইটেকের কারখানা পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে স্মার্টফোন উৎপাদন কীভাবে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে পারে, সে বিষয়েও কাজ করছে।
নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্প্যান ক্যাপস্টোন কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত নয় মাসের প্রকল্প ‘প্রজেক্ট স্মার্টঅ্যাসেন্ড’-এর অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে স্মার্টফোন উৎপাদন বাড়ানো এবং রপ্তানির বাজার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে।
প্রতিনিধি দলটি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্মার্ট হাইটেকের কারখানায় নতুন উৎপাদন লাইনসহ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিদর্শন করে। এছাড়া, স্মার্টফোনের স্থানীয় বাজার, প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় কার্যালয় ও অংশীদার দোকানগুলোও তারা পরিদর্শন করে। সফরের সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা স্মার্ট হাইটেকের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, "এ সফরের মাধ্যমে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আমাদের উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও বাজার পরিস্থিতি সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়েছেন।"
তিনি আরও বলেন, "এই কারখানা চালুর সময় আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশেই বিশ্বমানের ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরি করা সম্ভব। নতুন এসএমটি লাইন সেই লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে। আমরা শুধু ফোন সংযোজন করছি না, ফোন তৈরি করছি। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য রপ্তানি। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে “মেড ইন বাংলাদেশ” স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে চাই।"
নানিয়াংয়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা গ্লেন লিম বলেন, কারখানা পরিদর্শন ও স্থানীয় বাজার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দলের সদস্যরা স্মার্টফোন শিল্প সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, "আমাদের কারখানা পরিদর্শনের সুযোগ করে দেওয়ায় স্মার্ট হাইটেকের সবাইকে ধন্যবাদ।"
স্মার্ট হাইটেক ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে কারখানাটি চালু করে। সেখানে উৎপাদিত প্রথম অনার স্মার্টফোন ছিল অনার এক্স৬সি, যা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচয়ে বাজারে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) মাস্টারকার্ডের সাথে যৌথ উদ্যোগে গুগল পে সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যা ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড মাস্টারকার্ড কার্ডহোল্ডারদের জন্য প্রযোজ্য। এই সেবার ফলে গ্রাহকেরা উপযোগী অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহার করে দ্রুত, নিরাপদ এবং সহজে কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প সৃষ্টি হবে। এমটিবি মাস্টারকার্ড কার্ডহোল্ডাররা গুগল পে অ্যাপে তাঁদের কার্ড যুক্ত করে বিশ্বজুড়ে লাখো মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানে কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট করতে সক্ষম হবেন। পাশাপাশি, তাঁরা ঘরে বসেই অনলাইনে ও বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে নিরাপদে কেনাকাটার পেমেন্ট করতে পারবেন।
গুগল পে উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা যেমন টোকেনাইজেশন, ডিভাইস-লেভেল এনক্রিপশন এবং বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন ব্যবহার করে প্রতিটি লেনদেনকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে। এটি পেমেন্টের প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলে।
রাজধানীর পুলিশ প্লাজায় সেবাটির ব্যবহারিক কার্যক্রম সরাসরি তুলে ধরে এমটিবি ও মাস্টারকার্ড। সেখানে অতিথিরা বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সফটপজ (ঝড়ভঃচঙঝ) সমাধান মুঠোপে ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারী মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানে গুগল পে-এর মাধ্যমে পেমেন্টের অভিজ্ঞতা গ্রহণ করেন। মুঠোপে চলতি বছরের শুরুতে চালু করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান; মাস্টারকার্ডের ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার ডিভিশন প্রেসিডেন্ট গৌতম আগারওয়াল; শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালে মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সান্দুন হাপুগোদা; মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “গুগল পে চালু করার লক্ষ্যই হলো নিরাপদ ও গ্রাহককেন্দ্রিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা, যা এমটিবির দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে আমাদের মাস্টারকার্ড কার্ডহোল্ডাররা দৈনন্দিন লেনদেনে আরও বেশি স্বাধীনতা ও সুবিধা পাবেন। একইসাথে, তাঁদের পেমেন্টের অভিজ্ঞতা হবে আরও উন্নত। এই উদ্যোগ বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার যাত্রায় আরও বেশি গতি সঞ্চার করবে।”
মাস্টারকার্ডের ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার ডিভিশন প্রেসিডেন্ট গৌতম আগারওয়াল বলেন, “দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে আমরা লক্ষ্য করছি, সহজে ব্যবহার করা যায়, নিরাপদ ও প্রয়োজনের সময় হাতের নাগালে থাকে এমন ডিজিটাল পেমেন্টের চাহিদা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। স্থানীয় গ্রাহকদের কাছে বৈশ্বিক পেমেন্ট উদ্ভাবন পৌঁছে দিতে অংশীদারত্বেবর ভূমিকা কী, সেক্ষেত্রে আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো এমটিবি মাস্টারকার্ড কার্ডহোল্ডারদের জন্য গুগল পে চালু করার মাধ্যমে। উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নির্বিঘ্ন ডিজিটাল অভিজ্ঞতা; এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা বাংলাদেশের বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করছি।”
এই উদ্যোগের মাধ্যমে এমটিবি ও মাস্টারকার্ড বাংলাদেশে পেমেন্ট ব্যবস্থায় উদ্ভাবন এবং নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ আরও বিস্তৃত করার অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড-৮-এর মাধ্যমে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (ইউসিবিআইএল) সফলভাবে ৫০০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। এই লেনদেনে প্রতিষ্ঠানটি লিড অ্যারেঞ্জার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশোধিত মূলধনসংক্রান্ত নীতিমালা (Revised Regulatory Capital Framework) ও ব্যাসেল-৩-এর আওতায় ট্রাস্ট ব্যাংকের টিয়ার-২ মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। এর ফলে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রক মূলধনের চাহিদা পূরণে সহায়তা পাওয়া যাবে।
লেনদেনটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ঢাকায় ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একটি সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান জামান চৌধুরী এবং ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজিম আলমগীর।
এছাড়াও, উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এই লেনদেন ঋণভিত্তিক মূলধন বাজারে অর্থায়নের কাঠামো তৈরি ও লেনদেন বাস্তবায়নে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্টের সক্ষমতার প্রতিফলন। গত ছয় বছরে প্রতিষ্ঠানটি ৬৬টি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
এসব লেনদেনের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য ২১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি মূলধন সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিনিয়োগ ব্যাংকিংয়ে অভিজ্ঞতা ও গ্রাহকদের চাহিদাভিত্তিক সেবার মাধ্যমে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়ন সহজ করতে কাজ করছে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট।
ঋণ ও ইক্যুইটি মূলধন বাজার, স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্স, একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ (এমঅ্যান্ডএ), ব্যবসায়িক মূল্যায়ন এবং পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ ব্যাংকিং ও পরামর্শ সেবা প্রদান করে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট। এসব সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থায়নের চাহিদা পূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকায় ‘আমেরিকা ইন কালার’ শীর্ষক শিল্প প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ২৯ জন তরুণ শিল্পীর ৩০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এসব শিল্পকর্মের মাধ্যমে স্বাধীনতা, সংস্কৃতি, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শিল্পীদের ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ও তার স্ত্রী ডিয়েন ডাও। তারা শিল্পকর্মগুলো ঘুরে দেখেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে অংশ নেওয়ার জন্য শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ডেপুটি এনগেজমেন্ট ডিরেক্টর (কালচারাল) চার্ড এ ব্রুনার প্রদর্শনী সম্পর্কে বলেন, এখানে নতুন ও তরুণ শিল্পীদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ শিল্পীদের কাজও স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পীদের কাজ তুলে ধরতে পেরে তারা আনন্দিত। নতুন শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং তাদের কাজ দর্শকদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ দেশটিকে কীভাবে দেখেন, সে বিষয়ে তাদের ভাবনা জানতে চেয়েছে দূতাবাস। শিল্পকর্মের মাধ্যমে সেই দৃষ্টিভঙ্গির কিছু অংশ তুলে ধরতেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
‘আপনার চোখে ২৫০ বছরের আমেরিকা কেমন?’—এই প্রতিপাদ্যে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শিল্পীদের কাছ থেকে মৌলিক শিল্পকর্ম আহ্বান করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ আহ্বানে ৯০ জন শিল্পী ১৩০টি শিল্পকর্ম জমা দেন। সেখান থেকে ৩০টি কাজ প্রদর্শনীর জন্য বাছাই করা হয়। নির্বাচিত কাজের মধ্যে রয়েছে চিত্রকর্ম, বস্ত্রশিল্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও স্বাধীনতাকে ঘিরে নানা সৃজনশীল উপস্থাপনা।
প্রদর্শনীতে নিজের কাজ স্থান পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী সজল জামাদ্দার। তিনি জানান, উদ্ভাবন ও মানুষের স্বাধীনতার বিষয় নিয়ে তৈরি তার শিল্পকর্মটি নির্বাচিত হওয়ায় তিনি খুবই খুশি। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আয়োজনে নিজের ছবি প্রদর্শনের সুযোগ পাওয়াকে আনন্দের বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ফ্রিল্যান্স শিল্পী তানজিলা সুমাইয়া সিদ্দিকী বলেন, ‘বিয়ন্ড বাউন্ডারি’ শিরোনামের কাজের মাধ্যমে নিজের আবেগ প্রকাশের চেষ্টা করেছেন তিনি। বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে শিল্পের আদান-প্রদান বা ক্রস-কালচারাল কাজের সুযোগ পেলে তিনি আনন্দিত হন। স্বাধীনতা বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষকে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে হয়েছে। সেই আবেগই নিজের শিল্পকর্মে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ