বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
১১:৫৭ পি.এম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে একটি বিটুমিন উৎপাদনকারী কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের কারণে দুই শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে, গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বিশ্বনাথপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ছুনু মণ্ডলের ছেলে শাওন মণ্ডল (১৬) এবং গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সামসুদ্দিনের ছেলে মো. সোহেল রানা (২৪)।
জানা গেছে, কারখানায় পুরোনো গাড়ির টায়ার পুড়িয়ে বিটুমিন উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। এই সময় বয়লারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলে হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দুই শ্রমিক গুরুতরভাবে দগ্ধ হন।
স্থানীয়দের সহায়তায়, প্রথমে তাদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে, তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনা শুনে, গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রযোজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের আঘাত হানার কিছুক্ষণ পরেই জাপানে ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, জাপানে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৯। তবে এ বিষয়ে কোনো ধরনের সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
এদিকে, জাপানের উত্তর-পূর্বে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সরকারকে ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জরুরিভাবে মূল্যায়ন’ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্য মন্ত্রিসভা সচিব মিনোরু কিহারা বলেন, এই ভূমিকম্প থেকে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। এই মুহূর্তে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন অব্যাহত রাখব। পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর থেকেও কোনো অস্বাভাবিকতার খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পটি কুজি থেকে ৩৫ কিলোমিটার (বা প্রায় ২১ মাইল) উত্তর-পূর্বে ৫১.৭ কিলোমিটার (বা প্রায় ৩২ মাইল) গভীরে আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর জেআর ইস্ট নামে পরিচিত ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি, জাপানের মূল দ্বীপের উত্তর প্রান্ত শিন-আওমোরি এবং টোকিওর মধ্যে তাদের বুলেট ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করে।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমেরিকা এবং ইসরায়েলের দীর্ঘকালীন অটুট সম্পর্কের ভিত্তি এখন ধীরে ধীরে নড়বড়ে হয়ে উঠছে। গত কয়েক দশক ধরে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরায়েলপন্থী শক্তির যে অবস্থান ছিল, তা এখন পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সামাল দেওয়া ইসরায়েলের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওয়াশিংটন থেকে ইসরায়েলকে পাঠানো আশ্বাসবাণীগুলো এখন অনেকাংশে প্রথাগত বা আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। ‘সম্পর্ক অটুট’ কিংবা ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতি ইস্পাতকঠিন’; এই ধরনের বাক্যগুলো বারবার উচ্চারিত হচ্ছে, তবে বাস্তবে ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আমেরিকার নীতিতে বড় ধরনের ভিন্নতা ধরা পড়ে। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে যখনই মার্কিন এবং ইসরায়েলি স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে, আমেরিকা শেষ পর্যন্ত নিজের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। সেই সময় থেকেই ইসরায়েলকে একটি শিক্ষা নিতে হয়েছে যে, পৃষ্ঠপোষক আমেরিকার সঙ্গে যখন উদ্দেশ্য মিলে না, তখন ইসরায়েলকেই ছাড় দিতে হয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ব্যবধান আরও প্রকট হচ্ছে। আমেরিকা বর্তমানে তার মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দিকে দিচ্ছে, যেখানে তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে চীনকে মোকাবিলা করা। পেন্টাগনের কৌশলগত পরিকল্পনা থেকে পরিষ্কার যে, মধ্যপ্রাচ্যের অশেষ সংঘাত এখন আমেরিকার কাছে মূল লক্ষ্যের চেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার শক্তির ব্যবহার এখন আর কেবল ইসরায়েলের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং আরব দেশগুলোর সঙ্গে নতুন সম্পর্ক স্থাপনের দিকে ঝুঁকছে ওয়াশিংটন।
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে অনীহা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে দ্বিদলীয় ঐক্যের ভিত্তিতে কয়েক দশক ধরে এই সম্পর্ক টিকে ছিল, তা এখন বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ২০২৮ সালে যখন সামরিক সহায়তার নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে, তখন মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে থাকবে। সেখানে করদাতাদের অর্থ বিদেশি রাষ্ট্রে দেওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে পারে।
সূত্র: এশিয়া টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির জন্য ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচটি তুলনামূলকভাবে চাপমুক্ত অবস্থায় রয়েছে। নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ায় তারা এই ম্যাচে বলের দখল ধরে রাখা, কৌশলগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং মূল খেলোয়াড়দের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি থেকে দূরে রাখার সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে, ইকুয়েডরের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। তাদের সামনে কার্যত ‘করো অথবা মরো’ সমীকরণ রয়েছে, কারণ দুই ম্যাচে তারা মাত্র এক পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হার এবং কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র তাদের নকআউট পর্বে একটি কঠিন পথ তৈরি করেছে। তাই পরবর্তী পর্বের আশা টিকিয়ে রাখার জন্য জার্মানির বিপক্ষে জয় করা অপরিহার্য।
বিশেষ করে, কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ইকুয়েডরের জন্য হতাশাজনক ছিল। ৭৪.৬ শতাংশ বলের দখল, ২৭টি শট য其中 ১৫টি লক্ষ্যে এবং ৯টি কর্নার আদায় সত্ত্বেও তারা জালের দেখা পায়নি। সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হলেও শেষ মুহূর্তে তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়াটাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা।
তবে, জার্মানির বিপক্ষে একই ধরনের সুযোগ পাওয়া সহজ হবে না। শক্তিশালী রক্ষণভাগের কারণে পেনাল্টি বক্সে স্থান তৈরি করা কঠিন হবে, এবং প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানোর চাপও অনেক বেশি থাকবে।
জার্মানির আক্রমণভাগে রয়েছে একাধিক কার্যকর বিকল্প। মুসিয়ালার ড্রিবলিং, উইর্টজের সৃজনশীলতা, সানের গতি এবং হ্যাভার্টজের বহুমুখী ভূমিকা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। এছাড়া বদলি হিসেবে নেমে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করা দোকনিজ উন্দাভও প্রমাণ করেছেন, সুযোগ পেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে তিনি সক্ষম।
এখানেই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। ইকুয়েডর যেখানে এখনও টুর্নামেন্টে তাদের প্রথম গোলের অপেক্ষায়, সেখানে জার্মানি দুই ম্যাচেই মোট ৯ গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। এমনকি বেঞ্চের খেলোয়াড়দের নিয়েও তারা শক্তিশালী একাদশ নামাতে সক্ষম।
সম্ভাবনা রয়েছে যে, ইকুয়েডর শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে। কিন্তু ম্যাচের পুরো সময় এই চাপ ধরে রাখা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে বা দ্বিতীয়ার্ধের মধ্যে গোল ব্যতীত থাকলে তাদের আরও ঝুঁকি নিতে হবে, যা পাল্টা আক্রমণে জার্মানির জন্য সুযোগ তৈরি করবে।
ম্যাচের প্রথম গোলটি তাই হতে পারে নির্ধারক। ইকুয়েডর যদি আগে এগিয়ে যায়, তাহলে লড়াই জমে উঠবে, তবে জার্মানি যদি প্রথম গোল করে, তাহলে দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে মানসিক চাপ অনেক বেড়ে যাবে।
সবশেষে, ইকুয়েডরের লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপে টিকে থাকার শেষ সুযোগ তারা হাতছাড়া করতে চাইবে না। তবে, আক্রমণে নির্ভুলতার ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে না পারলে, শুধু দৃঢ়সংকল্প দিয়ে জার্মানির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারাদেশের অন্যান্য এলাকার মতো আগামী ২৮ জুন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় একযোগে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ১৪৫টি কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনের আওতায় বাবুগঞ্জ উপজেলায় মোট ২০ হাজার ৫০৪ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী ২ হাজার ৩৮৮ শিশু একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল এবং ১ বছর থেকে ৪ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী ১৮ হাজার ১১৬ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে এলাকার শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম চলবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ব্যাপক প্রচার কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। উপজেলা মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৫৮ জন বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুল ইসলাম বলেছেন, "বাংলাদেশের অনেক শিশু এখনও ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতিতে ভুগছে। এর অভাবে শিশুরা জেরোফথ্যালমিয়া বা রাতকানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে।" এছাড়া হাম ও নিউমোনিয়ার মতো রোগের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভিটামিন ‘এ’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও বলেন, "শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তাই অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ে শিশুদের ক্যাম্পে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা মন্তব্য করেন, "আগামী ২৮ জুন উপজেলার নির্ধারিত বয়সী প্রতিটি শিশু যেন ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল গ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।" উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শতভাগ বাস্তবায়নের ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা প্রকাশ করছে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে উপজেলায় শতভাগ শিশু এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ