ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশের সাংস্কৃতিক চর্চা সংকুচিত, বিশিষ্টজনদের উদ্বেগ প্রকাশ


দেশের সাংস্কৃতিক চর্চা সংকুচিত, বিশিষ্টজনদের উদ্বেগ প্রকাশ

দেশের সাংস্কৃতিক চর্চায় ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিকীকরণের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, সংস্কৃতির চর্চা সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং সংস্কৃতির সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সমাজের অস্থিরতা দূর করা এবং সংস্কৃতির বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ অত্যন্ত জরুরি।

নাট্যসংগঠন ‘নাট্যকেন্দ্র’-এর তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তৌকীর আহমেদ। প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন সংগীতা চৌধুরী। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন নাট্যকেন্দ্রের সদস্য ইকবাল বাবু।

আরও পড়ুন: তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনারের সাক্ষাৎ

আলোচনায় নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ মন্তব্য করেন, সরকারের অবস্থানে সংস্কৃতির বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে; এমনকি কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীদের সঙ্গেও নয়। সমাজ ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, অথচ সেখানে সংস্কৃতির আলো পৌঁছাচ্ছে না। নাচ, গান ও কবিতার প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ জরুরি।

মোহাম্মদ বারী বলেন, দেশ বর্তমানে ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপনের ঘটনাও তাদের প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষদের অনেক ক্ষেত্রে শুধু ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে।

নাট্যকার মাসুম রেজা বলেন, ইউনূসের সময়েও মবের বিরুদ্ধে থিয়েটারের মানুষেরা প্রতিবাদ করেছেন। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপন করা হয়েছে, কিন্তু আরেকজন রিকশাচালক পানি এনে সেই মুখ পরিষ্কার করেছেন। কুষ্টিয়ায় হারমোনিয়াম বাজছে, গানও হচ্ছে; তবে এখন অনেক ক্ষেত্রে তা গোপনে করতে হচ্ছে। ফলে সংস্কৃতি থেকে মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে কিংবা সাংস্কৃতিক চর্চা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটা বলা যায় না।

বাবুল বিশ্বাস বলেন, প্রথমে রাষ্ট্র ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। এরপর করপোরেট ও এনজিও সংস্কৃতি মানুষকে নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে। এর ফলে মানুষের সঙ্গে সংস্কৃতির সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: মকবুল হত্যা মামলায় সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত

কচি খন্দকার বলেন, সংস্কৃতি যখন রাজনীতির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন বিপর্যয় ঘটে। এর ফলে মানুষের সঙ্গে সংস্কৃতির বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এই দাগ আমাদের গায়েও এসে লেগেছে।’

আলোচনায় আখতারুজ্জামান বলেন, তারা এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। কী লেখা যাবে আর কী লেখা যাবে না, তা ভাবতেই অনেক সময় চলে যায়। আগে প্রতিদিন সন্ধ্যায় নাটক নিয়ে আড্ডা হতো। কিন্তু অনিশ্চয়তার কারণে এখন সেই পরিবেশও আর আগের মতো নেই। তার ভাষায়, ‘পাগল হয়ে যাওয়া কেবল বাকি আছে।’

মূল প্রবন্ধে তৌকীর আহমেদ দেশের সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার নানা দিক তুলে ধরেন। সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা এবং সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ফজলুল কবির তুহিন, আশীষ খন্দকার, ঠাণ্ডু রায়হান, আলোক বসু, অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক, অপূর্ব কুমার কুণ্ডু ও ড. ইসলাম শফিকসহ নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা মোশাররফ করিম।

আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনা মূল্যে চশমা বিতরণ শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৬ পি.এম


ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

স্বামীর বিরুদ্ধে ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ করা হয়েছিল যে, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় স্ত্রীকে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করেন তিনি। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিম্ন আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ডও দিয়েছিল। তবে আপিলের শুনানিতে সাক্ষ্য ও চিকিৎসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, ব্যবসার জন্য টাকা চাওয়াকে যৌতুক দাবি হিসেবে প্রমাণ করা যায়নি। পাশাপাশি নির্যাতনের অভিযোগে গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি পাওয়া গেছে।

এ পরিস্থিতিতে নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ড বাতিল করে মো. রাসেল উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত মামলাটিকে সাজানো ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

রবিবার (১১ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সেলিমের একক বেঞ্চ এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম আইন অনুযায়ী মো. রাসেল উদ্দিন ও ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর, ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের বাইতুশ শরফ মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন স্ত্রী।

বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, ওই দিন রাসেল উদ্দিন ব্যবসার কাজে ব্যবহারের জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা চান। স্ত্রী টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাকে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা করেন ইসমত আরা বেগম।

মামলাটির বিচার শেষে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ রাসেল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন রাসেল উদ্দিন।

আপিলের শুনানিতে মামলার সাক্ষ্য, নথিপত্র ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেন হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, টাকা চাওয়ার কারণ হিসেবে বাদী ও সাক্ষীরা ব্যবসার কথা বলেছেন। অর্থাৎ বিয়ের শর্ত হিসেবে কিংবা বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিনিময়ে ওই অর্থ দাবি করা হয়েছিল, এমন প্রমাণ মামলার নথিতে পাওয়া যায়নি।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ২(ঞ) ধারায় যৌতুকের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে আদালত বলেন, শুধু টাকা চাওয়ার ঘটনা দিয়ে সেটিকে যৌতুক দাবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। অভিযোগের ক্ষেত্রে অর্থ দাবির উদ্দেশ্য ও প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।

এই মামলায় ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা চাওয়ার বিষয়টি সাক্ষীদের বক্তব্যে উঠে এলেও তা বিয়ের শর্ত বা বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিনিময়ে দাবি করা হয়েছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে যৌতুক দাবির অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন হাইকোর্ট।

শুধু যৌতুক দাবির অভিযোগ নয়, স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রেও সাক্ষ্য-প্রমাণে অসংগতি খুঁজে পান আদালত। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বাদী তার জবানবন্দিতে লাঠির আঘাতে ডান কাঁধ ও পিঠে আঘাত পাওয়ার কথা বলেন। অন্যদিকে, চিকিৎসকের সাক্ষ্য ও হাসপাতালের মেডিক্যাল সনদে বাঁ কাঁধে আঘাতের কথা উল্লেখ ছিল।

আঘাতের স্থান নিয়ে বাদীর বক্তব্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথির এই পার্থক্যকে গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি হিসেবে বিবেচনা করেন হাইকোর্ট। আদালতের মতে, মৌখিক সাক্ষ্য ও চিকিৎসা-প্রমাণের মধ্যে এমন বৈপরীত্য থাকলে নির্যাতনের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণের বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়ে।

মামলার সামগ্রিক সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ও চিকিৎসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করেন। একই সঙ্গে মো. রাসেল উদ্দিনকে খালাস দেন।

এ রায়ে আদালতের মূল বিবেচ্য বিষয় ছিল, ব্যবসার প্রয়োজনে অর্থ দাবি করাকে যৌতুক হিসেবে গণ্য করার মতো প্রমাণ রয়েছে কি না এবং নির্যাতনের অভিযোগ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না।

অর্থাৎ স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়ার ঘটনা থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যৌতুকের অভিযোগে পরিণত হয় না। আইনের নির্ধারিত সংজ্ঞা, অর্থ দাবির প্রেক্ষাপট এবং মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই বিষয়টি বিচার করতে হবে—এ মামলার রায়ে সেই পার্থক্যটি গুরুত্ব পেয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে বিট মিটিং।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৭ পি.এম


বাকেরগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে বিট মিটিং।

মাদক, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, সাইবার অপরাধ ও জঙ্গিবাদমুক্ত নিরাপদ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নে বিট মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভরপাশা ইউনিয়নের আতাকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এ বিট মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।

বিট অফিসার এনামুল হকের সভাপতিত্বে ও ভরপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন সিকদারের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন তালুকদার শাহিন, বিএনপি নেতা ওয়াহিদুল ইসলাম স্বপন সিকদার,

সভায় বক্তব্য রাখেন ওসি (তদন্ত) পলাশ চন্দ্র, রুহুল আমিন জোমাদ্দার, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, ভরপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সিকদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল আহবায়ক মাহমুদ খান সুমন ও যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা মাসুদ রানা প্রমূখ।

বিট মিটিংয়ে মাদক, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, সাইবার অপরাধ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমনে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বক্তারা নিরাপদ সমাজ গঠনে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ধরনের বিট মিটিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির সভাপতি লাবিব, সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৭ পি.এম


জবি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির সভাপতি লাবিব, সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম

হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটির (এইচআরডিএস) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার নতুন কমিটি ২০২৬–২৭ সেশনের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে। ২৬ সদস্যের এই নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুহার আলমাস লাবিব। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম।

রোববার (১১ অক্টোবর) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক সিফাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।

কমিটিতে সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাকেরুল ইসলাম এবং প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের নুরে হাসানা ও আসাদুল্লাহ ওয়াকিফ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন একই বিভাগের নিলাঞ্জলা হালদার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মোস্তাফিজুর রহমান এবং আইন বিভাগের মো. সাখাওয়াত হোসেন। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থনীতি বিভাগের মিনহাজুর রহমান।

এছাড়া কর্মসূচি সম্পাদক হিসেবে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের হাসিব সরদার নির্বাচিত হয়েছেন, যুগ্ম কর্মসূচি সম্পাদক হয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. ফারহান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের নুসরাত আফিন নাফিয়া এবং ডকুমেন্টেশন সম্পাদক হয়েছেন একই বিভাগের মো. সাবিক। সংখ্যালঘুবিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সুজন প্রামাণিক।

অন্যান্য পদে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. সাইফুল ইসলাম রিয়ন, নারী ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের খাদিজা আক্তার ঈশিতা এবং দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের মো. সিদ্দিকুর রহমান সায়েদ। আইনি সহায়তা ও ভুক্তভোগী সহায়তা সম্পাদক হয়েছেন আইন বিভাগের মো. লিমন মিয়া এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক হয়েছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শরীফ উদ্দিন সিয়াম।

যুগ্ম আইনি সহায়তা ও ভুক্তভোগী সহায়তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের রাফিয়া রাইহানা রিশা। গবেষণা ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মো. মাহমুদুর রহমান এবং তথ্য অনুসন্ধান ও তদন্ত সম্পাদক হয়েছেন সমাজকর্ম বিভাগের মো. মানিক চৌধুরী। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন দর্শন বিভাগের ফাহিমা আক্তার, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শাজিয়া খান, অর্থনীতি বিভাগের অন্তরা আক্তার নদী এবং বাংলা বিভাগের বিন ইয়ামিন।

নবনিযুক্ত সভাপতি জুহার আলমাস লাবিব মন্তব্য করেন, "বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়, বরং মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চারও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।" তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিরাপদ, মানবিক ও বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করবেন। অন্যায়, অবিচার ও হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি, ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের আইনি ও সামাজিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, "আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিফলন।" তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অধিকারবঞ্চিত মানুষের সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনকল্যাণমুখী করে তুলতে সবার সহযোগিতায় এইচআরডিএসকে মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী ও অনুকরণীয় সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্ত, নিরাপত্তা বাহিনীর জরুরি বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৮ পি.এম


পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্ত, নিরাপত্তা বাহিনীর জরুরি বৈঠক

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই তথ্যের ফলে দেশটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) হুমকির তথ্য পাওয়ার পরপরই পোলিশ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একটি জরুরি ও বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে পুলিশ, স্টেট প্রটেকশন সার্ভিস এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা (এবিডব্লিউ) একত্রে এই হুমকি মোকাবিলায় কার্যক্রম শুরু করেছে।

বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র জাচেক দোব্রজিনস্কি জানান, তদন্তের স্বার্থে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে সরকার এই হামলার হুমকিকে অত্যন্ত মারাত্মক ও বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করছে।

মুখপাত্র আরও জানান, এই হামলার হুমকি কেবল একটি ফাঁকা আওয়াজ নয়। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই হামলার সফল হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত উচ্চ।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কারোলিনা গালেকা জানান, মন্ত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্টেট প্রটেকশন সার্ভিস একটি ইমেইলের মাধ্যমে এই হামলার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানতে পারে। এরপর তারা দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে ফরওয়ার্ড করে।

পোল্যান্ডে সাধারণত বড় ধরনের সহিংস অপরাধ বা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড খুব একটা ঘটে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।

এছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে পোল্যান্ডের সামগ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। এর আগে চলতি বছরের আগস্ট মাসে দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের হত্যার উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী টাস্ক সতর্ক করেছিলেন, ইউক্রেনকে সমর্থন করার কারণে ন্যাটো জোটের পূর্ব সীমান্তে পোল্যান্ডসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতে রাশিয়া তাদের হাইব্রিড ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%