১০:২৫ পি.এম
দেশের সাংস্কৃতিক চর্চায় ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিকীকরণের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, সংস্কৃতির চর্চা সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং সংস্কৃতির সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সমাজের অস্থিরতা দূর করা এবং সংস্কৃতির বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ অত্যন্ত জরুরি।
নাট্যসংগঠন ‘নাট্যকেন্দ্র’-এর তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তৌকীর আহমেদ। প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন সংগীতা চৌধুরী। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন নাট্যকেন্দ্রের সদস্য ইকবাল বাবু।
আরও পড়ুন: তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনারের সাক্ষাৎ
আলোচনায় নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ মন্তব্য করেন, সরকারের অবস্থানে সংস্কৃতির বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে; এমনকি কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীদের সঙ্গেও নয়। সমাজ ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, অথচ সেখানে সংস্কৃতির আলো পৌঁছাচ্ছে না। নাচ, গান ও কবিতার প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ জরুরি।
মোহাম্মদ বারী বলেন, দেশ বর্তমানে ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপনের ঘটনাও তাদের প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষদের অনেক ক্ষেত্রে শুধু ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে।
নাট্যকার মাসুম রেজা বলেন, ইউনূসের সময়েও মবের বিরুদ্ধে থিয়েটারের মানুষেরা প্রতিবাদ করেছেন। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপন করা হয়েছে, কিন্তু আরেকজন রিকশাচালক পানি এনে সেই মুখ পরিষ্কার করেছেন। কুষ্টিয়ায় হারমোনিয়াম বাজছে, গানও হচ্ছে; তবে এখন অনেক ক্ষেত্রে তা গোপনে করতে হচ্ছে। ফলে সংস্কৃতি থেকে মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে কিংবা সাংস্কৃতিক চর্চা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটা বলা যায় না।
বাবুল বিশ্বাস বলেন, প্রথমে রাষ্ট্র ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। এরপর করপোরেট ও এনজিও সংস্কৃতি মানুষকে নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে। এর ফলে মানুষের সঙ্গে সংস্কৃতির সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: মকবুল হত্যা মামলায় সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত
কচি খন্দকার বলেন, সংস্কৃতি যখন রাজনীতির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন বিপর্যয় ঘটে। এর ফলে মানুষের সঙ্গে সংস্কৃতির বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এই দাগ আমাদের গায়েও এসে লেগেছে।’
আলোচনায় আখতারুজ্জামান বলেন, তারা এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। কী লেখা যাবে আর কী লেখা যাবে না, তা ভাবতেই অনেক সময় চলে যায়। আগে প্রতিদিন সন্ধ্যায় নাটক নিয়ে আড্ডা হতো। কিন্তু অনিশ্চয়তার কারণে এখন সেই পরিবেশও আর আগের মতো নেই। তার ভাষায়, ‘পাগল হয়ে যাওয়া কেবল বাকি আছে।’
মূল প্রবন্ধে তৌকীর আহমেদ দেশের সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার নানা দিক তুলে ধরেন। সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা এবং সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ফজলুল কবির তুহিন, আশীষ খন্দকার, ঠাণ্ডু রায়হান, আলোক বসু, অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক, অপূর্ব কুমার কুণ্ডু ও ড. ইসলাম শফিকসহ নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা মোশাররফ করিম।
আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনা মূল্যে চশমা বিতরণ শুরু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন