ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সহিংসতাকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে: ফ্রান্সে নতুন আইন


সহিংসতাকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে: ফ্রান্সে নতুন আইন

ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলাকালীন ভাঙচুর, লুটপাট ও সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধানকে আরো কঠোর করার উদ্দেশ্যে আইন প্রণেতারা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ লক্ষ্যে সিনেটে অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রস্তাবিত ‘কাস্যর-পেয়র’ বিলটি এখন কার্যকর হওয়ার পথে। প্রস্তাবিত বিধান অনুসারে, নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে সহিংস বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

ফরাসি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিলটির পক্ষে সিনেটে ২২৯টি ভোট পড়েছে এবং বিপক্ষে ১০৫ জন সদস্য ভোট দিয়েছেন। জনসমক্ষে সংঘটিত সহিংসতা ও ভাঙচুরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে, সিনেটে অনুমোদন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে বিলটি এখনই কার্যকর আইন হিসেবে গৃহীত হয়েছে। চূড়ান্ত সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এর আইনি অবস্থান স্পষ্ট হবে।

আরও পড়ুন: হুতিদের সৌদি আরবে একদিনে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি

যৌথ দায়ের বিধান নিয়ে আলোচনা

বিলটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সহিংস সমাবেশে ক্ষয়ক্ষতির জন্য শুধু সরাসরি ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের নয়, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদেরও আর্থিকভাবে দায়ী করার সুযোগ রাখা। ফলে, কেউ যদি নিজ হাতে কোনো দোকান বা সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর না করে, তবুও আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রশ্ন উঠতে পারে।

তবে, বিক্ষোভে উপস্থিত থাকা মাত্রই প্রত্যেক ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে—এমন প্রস্তাবিত ব্যবস্থা বিলটিতে নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা, সহিংস গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং প্রযোজ্য আইনি শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের পরিধি বাড়ানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামাজিক সহায়তার অর্থ থেকে পাওনা আদায়ের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পাওনা আদায় সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন উদ্যোগটির সমর্থকেরা।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল, হুথিদের হামলার প্রভাব

ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য সরকারের যুক্তি

ফ্রান্সে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক আন্দোলন, শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদে দোকানপাট, যানবাহন ও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি, জনসাধারণের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রশ্ন উঠেছে।

বিলটির সমর্থকদের মতে, সহিংসতার কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা নিরুৎসাহিত করার জন্য কার্যকর আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাঁদের যুক্তি, ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণ ও অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া শক্তিশালী হলে জনসম্পদ রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংরক্ষণ সহজ হবে।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল

অন্যদিকে, বিলটির বিরোধিতাকারীদের আশঙ্কা, যৌথ আর্থিক দায়ের বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা না থাকলে সহিংসতায় সরাসরি জড়িত নন—এমন ব্যক্তিরাও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে বড় কোনো বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আইনগত বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণের নীতি। কোনো সমাবেশে উপস্থিত থাকা এবং সেখানে সংঘটিত অপরাধে অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়। ফলে, ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা ও দায় প্রমাণের যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

তাদের মতে, জনসম্পত্তি রক্ষা ও ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্য থাকলেও, নতুন বিধানের প্রয়োগ যেন শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

আরও পড়ুন: প্রেমিককে বিয়ের দাবিতে ১০০ ফুট উঁচু টাওয়ারে উঠলেন তরুণী, বিয়ে করেই নামলেন

সিনেটে অনুমোদনের পর বিলটির পরবর্তী সংসদীয় প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদে আলোচনা ও অনুমোদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য আইনি ধাপ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত বিধানগুলোকে কার্যকর আইন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

বিলটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে ফ্রান্সে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ আদায়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে যৌথ দায় নির্ধারণ, ক্ষতিপূরণ আদায়ের সীমা এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নও আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ এম


পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থরপারকার জেলার একটি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে হাসপাতালের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকর্মীদের বরাতে জানা যায়, থরপারকারের নাগরপারকার উপজেলার দানো ধান্ধাল এলাকায় পিপলস প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইনিশিয়েটিভ (পিপিএইচআই) পরিচালিত একটি হাসপাতালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরে অক্সিজেন সিলিন্ডার সংযোগ দেওয়ার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এই দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে সাতজন মারা যান। গুরুতর দগ্ধ পাঁচজনকে চিকিৎসার জন্য মিঠিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণই আগুনের সূত্রপাতের কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত ও আহতদের মধ্যে রোগী এবং হাসপাতালের কর্মীরা রয়েছেন।

উদ্ধারকর্মীরা নিহত তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করেছেন। তারা হলেন জাসওয়ান্ত, অ্যাম্বুলেন্সচালক ইসহাক থেবো এবং পান্ধি রাজর। বাকি নিহতদের মরদেহ আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, থরপারকারে পিপিএইচআই পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, হাসপাতালগুলোর সীমিত সুযোগ-সুবিধাও এই দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিষয়টি ছাড়াও দুর্ঘটনার অন্যান্য সম্ভাব্য কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিকে ৯৩% ও মাধ্যমিকে ৫৭% বই ছাপা সম্পন্ন, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫০ এম


প্রাথমিকে ৯৩% ও মাধ্যমিকে ৫৭% বই ছাপা সম্পন্ন, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরুর পূর্বে দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের সকল শ্রেণির মানসম্মত ও আকর্ষণীয় বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তদারকি অব্যাহত রেখেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, "উপজেলা পর্যায়ে কোনো নিম্নমানের কাগজের বই সরবরাহ বরদাশত করা হবে না। সরকার বাজারদর যাচাই করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করেছে। যাতে কেউ কম মূল্যের অজুহাতে নিম্নমানের বই তৈরির সুযোগ না পায়। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে এবার কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"

এনসিটিবির সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই মুদ্রণ এবং বাঁধাইয়ের অগ্রগতি শতভাগের কাছাকাছি অর্জিত হয়েছে। ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তরে ছাপার অগ্রগতি ৫৭ শতাংশের বেশি দাঁড়িয়েছে। তবে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই মুদ্রণের কার্যক্রম কিছু প্রেসে শুরু হলেও বেশিরভাগ প্রেসে এখনও শুরু হয়নি।

এনসিটিবি জানায়, যেসব প্রেস প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরের বই ছাপার কাজ পেয়েছে; প্রাথমিকের বই ছাপা শেষে সেসব প্রেসগুলোতে মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ইবতেদায়ি, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই বেশি। পাশাপাশি কিছু ছাপাখানায় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ের ফর্মা ছাপার কাজ চলমান রয়েছে।

এনসিটিবি জানায়, সারা দেশে মোট ৬২৩টি লটে ১১৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান এবার পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের কাজ পেয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক (ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি) স্তরে মোট ৩০ কোটি ৭৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১টি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও রয়েছে। এবারের বইয়ের মুদ্রণ কাজ গত বছরের তুলনায় এক মাস আগে শুরু হয়েছে।

স্তরভিত্তিক বই মুদ্রণের চিত্র

এনসিটিবির ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই মুদ্রণের চিত্র প্রায় শতভাগ, চুক্তি অনুযায়ী তা সন্তোষজনক। প্রাক-প্রাথমিকের মোট ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি (৯৮.২১ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। এ স্তরে প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) হয়েছে ৫০ লাখ ৭০ হাজার ২৪০টি (৮৮.৪৮ শতাংশ) বই।

অন্যদিকে প্রাথমিক (১ম-৫ম) স্তরে মোট ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭৩টি (৮৭.৬৭ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। বিপরীতে পিডিআই হয়েছে ৫ কোটি ৯১ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৯টি (৭৭.৭৯ শতাংশ) বই। অর্থাৎ প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক মিলে গড়ে ৯২.৯৪ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরের সাথে ইবতেদায়ি বইয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইবতেদায়ি (১ম-৫ম) স্তরে মোট ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৮৪টি (৬৪.১৫ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। বিপরীতে পিডিআই হয়েছে ২ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪২২টি (৫১.১১ শতাংশ) বই।

অন্যদিকে মাধ্যমিক (ষষ্ঠ-দশম) স্তরে মোট ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বইয়ের মধ্যে ৯ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৬টি (৫১.১৮ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। বিপরীতে পিডিআই হয়েছে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫টি (৩৭.০৫ শতাংশ) বই। ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক মিলে গড়ে ৫৭.৬৬ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে; যা বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বইয়ের মান ও ছাপার কাজ তদারকি করছে এনসিটিবি।

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, "প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ ৯০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ইবতেদায়ি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কাজও অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। তবে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির কাজের গতি কিছুটা কম থাকায় মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এ স্তরের কয়েকটি লটে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করায় কিছুটা ধীরগতি হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "কাজের গতি কম থাকায় ৩২টি প্রেসকে কারণ দর্শানো হয়েছে। প্রয়োজনে পিছিয়ে থাকা প্রেসগুলোর কাজ বাতিল করে অন্য প্রেসগুলোকে দায়িত্ব দিয়ে কাজ সমন্বয় করা হবে। বইয়ের মান ও লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক টিম মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।"

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এনসিটিবি জানিয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিকের সব ও মাধ্যমিক স্তরের ৫০ শতাংশ বই এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পৌঁছানোর কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ মানসম্মত বই সরবরাহ নিশ্চিত করা।

নিম্নমানের ফর্মা-বই বাতিল, মান রক্ষায় নজরদারি

মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বইয়ের মান বজায় রাখতে এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রেসে মুদ্রণকৃত বইয়ের গুণগত মান যাচাইয়ে এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মোট ৫৩টি মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে। মানদণ্ড পূরণ না করায় এরইমধ্যে বিভিন্ন প্রেসের নিম্নমানের ফর্মা ও বই বাতিল করা হয়েছে।

এনসিটিবির মনিটরিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রিন্টিং প্রেসে মানদণ্ড অনুযায়ী নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ ফর্মা, বই এবং কভার বিনাশ (ডিস্ট্রয়) করা হয়েছে। মোট ৩৬টি প্রেসের ৯ লাখ ফর্মা এবং ১২ হাজার নিম্নমানের ছাপানো বই বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, "এবার বইয়ের মানের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গুণগত মান বজায় না থাকায় আমরা সাড়ে ৯ লাখ নিম্নমানের ফর্মা ও ১২ হাজারের মতো বই বাতিল করেছি। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ মানসম্মত ও নিখুঁত বই উপজেলায় পৌঁছাতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

এনসিটিবির মনিটরিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরের (অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণি) বই মুদ্রণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি কম। চুক্তি অনুযায়ী ৩ নভেম্বরের মধ্যে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির ৫০ শতাংশ বই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের কথা থাকলেও ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। পিছিয়ে থাকা প্রেসগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, "শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে বই পৌঁছে দিতে রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ চলছে। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের কাজ এ মাসের মধ্যেই ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হবে। আর মাধ্যমিকের বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি পৌঁছে যাবে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় মাঠপর্যায়ে বই সরবরাহের কোনো জটিলতা তৈরি হবে না।"

তিনি আরও বলেন, অতীতে প্রেস ও মাঠপর্যায়ে অনিয়মের সুযোগ থাকলেও এবার বই গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সরাসরি মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিসিভ করার পর বইয়ের মানে কোনো বিচ্যুতি পাওয়া গেলে গ্রহিতা কর্মকর্তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। সূত্র বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করলেন খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫০ এম


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করলেন খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পাওয়ার লক্ষণ দেখা গেলেও, তেহরান সংঘাতের সমাপ্তির জন্য তার শর্তগুলো শিথিল করবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি।

মঙ্গলবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে, খামেনি যুদ্ধের অবসানে ইরানের শর্ত পূরণের পাশাপাশি ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ এই পরিস্থিতির অবসানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইরান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।

বৈঠকের সময়, খামেনি ইরানের জনগণ ও তেহরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা করেন খামেনি এবং রেজাই। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

বুধবার প্রেস টিভিকে দেওয়া বক্তব্যে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে এবং এতে দেশের কৌশলগত দিকনির্দেশনা পরিষ্কার হয়েছে।

তিনি বলেন, খামেনির নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে তার সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাউজানে বিএনপির দুই নেতার সংঘর্ষে দুই বছরে ৩৫ জনের হত্যাকাণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫১ এম


রাউজানে বিএনপির দুই নেতার সংঘর্ষে দুই বছরে ৩৫ জনের হত্যাকাণ্ড

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে, বাড়ির সামনে, বাজারের দোকানে কিংবা ব্যস্ত সড়কে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলায় ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাদের মধ্যে ২০ জন রাজনৈতিক বিরোধের শিকার।

বিএনপির দুই নেতা সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধের পাশাপাশি বালু-মাটির ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের অভিযোগ রয়েছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সংঘাতের কারণে রক্তপাত থামছে না।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর রাউজানে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে নতুন সংঘাত শুরু হয়। নিহতদের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ১০ জন এবং গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী পাঁচজন রয়েছেন।

আমার দেশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ নিয়ে অনুসন্ধান করেছে। এতে রাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি বালু-মাটির ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং দখলদারত্বের নিয়ন্ত্রণের তথ্য পাওয়া গেছে। উপজেলায় বর্তমানে দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান আলম গ্রুপ এবং অন্যটি আজিজ বসের অনুসারী ডাকাত আলম গ্রুপ। অভিযোগ রয়েছে, উভয় গ্রুপই রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মূলত মেজর ইকবাল গ্রুপটি গোলাম আকবর খন্দকারের নিয়ন্ত্রণে এবং রায়হান গ্রুপটি গিয়াস কাদের চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণে। তবে দুজনই এসব গ্রুপ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল মান্নান হত্যার মাধ্যমে ৫ আগস্ট-পরবর্তী ধারাবাহিক প্রাণহানির সূচনা ঘটে। রাউজান পৌরসভার চারা বটতল বাজারে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর নিখোঁজের চার দিন পর উরকিরচরের মইশকরম এলাকায় আজম খানের লাশ পাওয়া যায়। ১১ নভেম্বর নিখোঁজের তিন দিনের মাথায় উদ্ধার করা হয় হাফেজ মাওলানা আবু তাহেরের রক্তাক্ত লাশ।

২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি জুমার নামাজে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত হন নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। ১৯ ফেব্রুয়ারি ঘর থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় যুবলীগ কর্মী মুহাম্মদ হাসানকে। ১৫ মার্চ হলদিয়া ইউনিয়নের আমিরহাট বাজারে ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে ব্যানার সরানো নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী যুবদল কর্মী কমর উদ্দিন (জিতু)।

এরপর ২১ মার্চ পূর্ব গুজরায় রুবেল, ৪ এপ্রিল হলদিয়ায় নূর আলম বকুল, ১৯ এপ্রিল বাগোয়ানে প্রবাসফেরত যুবদল কর্মী মানিক আবদুল্লাহ এবং ২২ এপ্রিল গাজীপাড়ায় যুবদল কর্মী মুহাম্মদ ইব্রাহিম খুন হন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ইব্রাহিমকে চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তিনটি অটোরিকশায় আসা একদল যুবক গুলি করে হত্যা করে।

৬ জুলাই কদলপুরের ঈশান ভট্টের হাটে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদলের সদস্যসচিব মো. সেলিমকে। হামলাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে রায়হানের নাম আলোচনায় আসে। এর দুদিন পর তার বন্ধু দিদারুল আলমের লাশ উদ্ধার করা হয় রাঙামাটির কাউখালীর পাহাড়ি এলাকা থেকে।

ব্যবসার নিয়ন্ত্রণেও বিরোধ

২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর হাটহাজারীর মদুনাঘাট সেতুর কাছে গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম। তার পরিবারের দাবি, তিনি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। কর্ণফুলীকেন্দ্রিক বালুমহাল ও নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কথাও সামনে আসে। এ ঘটনায় হাজি মুহাম্মদ জসিমের নাম আলোচনায় আসার পর তিনি দেশ ছাড়েন।

২৫ অক্টোবর চারা বটতল এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী আলমগীর আলমকে। ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি পূর্ব গুজরায় খুন হন যুবদলের সাবেক নেতা জানে আলম সিকদার। ২৫ ফেব্রুয়ারি অলিমিয়াহাট বাজারে নিহত হন যুবদল কর্মী মুহাম্মদ আবদুল মজিদ। ২৬ এপ্রিল একই এলাকায় খুন হন যুবদল কর্মী নাসির উদ্দিন। পরে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় নাসির হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ হাসান ওরফে রাজুও গুলিতে নিহত হন।

১৩ জুন পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে। পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের ধারণা, রাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধও এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর উরকিরচরের কেরানীহাট বাজারে খুন হন মোহাম্মদ করিম।

দুই নেতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

স্থানীয়দের মতে, রাউজানে রাজনৈতিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর প্রভাব বাড়ে। তার বিরুদ্ধে বিরোধী নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা করা এবং রাজনীতি ও ব্যবসায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ ছিল। সরকার পতনের পর সেই নিয়ন্ত্রণ ভেঙে গেলে স্থানীয় রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কর্তৃত্ব নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, সাংগঠনিক পদ-পদবি, স্থানীয় নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার নিয়েও দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অভিযোগ, গোলাম আকবর খন্দকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। তবে গোলাম আকবর খন্দকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বালু-মাটির ব্যবসা, খালের বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ, ইটভাটা, ঠিকাদারি কাজের কমিশন ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হচ্ছে। তিনি আমার দেশকে বলেন, "অপরাধী (গিয়াস কাদের) কখনো অপরাধ স্বীকার করে না। কোনো দাগি অপরাধীকে অপরাধ স্বীকার করতে দেখা যায় না।"

সংঘর্ষের পর কমিটি বিলুপ্ত, পদ স্থগিত

গত বছরের ২৯ জুলাই সত্তারহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। গোলাম আকবরের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগও ওঠে এবং তিনি নিজেও ছররা গুলিতে আহত হন। ঘটনার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে এবং গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দলীয় পদ স্থগিত করে। আরো কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবর রহমান শামিম বলেন, "দলে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের স্থান নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, "পুলিশের কাছে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়। সব হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। রায়হানসহ অন্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%