১১:০৯ এম
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন। এই দিনে আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। কোরআন ও হাদিসে জুমার দিনের ফজিলত এবং এ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "সমস্ত দিনের নেতা হলো জুমার দিন। আল্লাহর কাছে এ দিন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন থেকেও অধিক মর্যাদাপূর্ণ।"
আরও পড়ুন: লাকসামে লরির চাপায় মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত নিহত
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)
অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন, "যেসব দিনের ওপর সূর্য উদিত হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিন।"
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)
জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো গুরুত্বের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা।
আরও পড়ুন: স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমলো
মহান আল্লাহ বলেন,
"হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জান।"
— সুরা জুমুআহ, আয়াত: ৯
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন: জামায়াত থেকে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্তের জন্য এনসিপিকে সাদুবাদ
শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি বুঝিয়ে দিন, ইসলামের কঠোর নির্দেশ।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুন্নত অনুযায়ী গোসল করবে, পরিষ্কার পোশাক পরবে, সকালেই মসজিদে যাবে, পায়ে হেঁটে যাবে, ইমামের কাছে বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবে এবং অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকবে, তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছর নফল রোজা ও এক বছর নফল নামাজের সওয়াব লেখা হবে।
— (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)
জুমার দিনের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে হামলার কারণে ঢাকা-সৌদি রুটে ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল
১. সুরা কাহাফ তিলাওয়াত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর জ্বলতে থাকবে।"
— (সুনানে বাইহাকি, হাদিস: ৬২০৯)
২. আসরের পর বেশি বেশি দোয়া করা।
আরও পড়ুন: তাহসিফের বন্ধু দীপ নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে কল্যাণের জন্য দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন। সেই সময়টি আসরের পর দিনের শেষ মুহূর্তে অনুসন্ধান করো।"
— (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)
৩. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।
নবীজি (সা.) বলেছেন, "তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ, এ দিনের দরুদ আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।"
আরও পড়ুন: সাবিহ উদ্দিন আহমেদের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা
— (আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি, ৩/২৪৯)
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, জুমার দিনে গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, দ্রুত মসজিদে যাওয়া, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা, সুরা কাহাফ তিলাওয়াত, বেশি বেশি দরুদ পাঠ এবং আসরের পর আন্তরিকভাবে দোয়া করা—এসব আমল একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন