বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৬ পি.এম
শিল্পীদের মানববন্ধন বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে
দেশের বিভিন্ন শিল্পী, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের প্রতি ‘মব সন্ত্রাস’ এবং হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন আয়োজন করেছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ‘আমরা শিল্পীবৃন্দ’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তারা হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দেশের শিল্পী ও সাংস্কৃতিককর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা রিয়াজুল রিজু মন্তব্য করেন, ‘আমরা শিল্পী, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের নই। দেশকে ভালোবেসে ’২৪-এর জুলাইয়ে রাস্তায় নেমেছিলাম।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু গত দুই বছরে আমাদের ওপরই বেশি হামলা হয়েছে। শোরুম উদ্বোধন করতে দেওয়া হয়নি, বিভিন্ন জায়গায় কনসার্ট বন্ধ হয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ হয়েছে। আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাস হাজার বছরের। সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ মানে দেশের ওপর আক্রমণ, অস্তিত্বের ওপর আক্রমণ।
বাঁধন সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। আমরা শিল্পীরাও তাই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময় আমরা সোচ্চার আছি, থাকব।’
সংগীতশিল্পী মুহিন খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তারা সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে মব সন্ত্রাস ঘটেছে, তা আমরা আর মেনে নেব না। দেশের কোনো অংশে এমন মব হলে আমরা বসে থাকব না।’
মানববন্ধনে বক্তারা আরো উল্লেখ করেন, কোনো শিল্পী বা সাংস্কৃতিককর্মীর ওপর হামলা কিংবা মব সন্ত্রাস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিল্পীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
এদিকে চলতি সপ্তাহে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দলের সঙ্গে অংশ নেন বাঁধন। উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক অরিজন্তি বিভাগে সিনেমাটি জায়গা পেয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।
প্রিমিয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বাঁধন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়। একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার হাত থেকে মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় বাঁধনের ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানও তার সঙ্গে ছিলেন।
বাঁধন জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তার দাবি, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এমনকি তাকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বলা হয়। সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রকাশের চেষ্টা করেন হামলাকারীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ঢাকা শুধু একটি শহর নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের ধারক। ৪১৬ বছরের ঢাকার ঐতিহ্যকে ধারণ করে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
আজ রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আয়োজিত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, চিত্রাঙ্কনসহ সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের প্রতিভাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। ‘৪১৬ বছরে ঢাকা’ ব্যানারে মাসব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নতুনভাবে ঢাকাকে মানুষের সামনে তুলে ধরায় ধন্যবাদ জানান তিনি।
এ্যানি চৌধুরী আরও বলেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সঠিক সংস্কৃতি চর্চার জন্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চারুকলা ও শিল্পকলা প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়া দুস্থ শিল্পীদের অনুদান বাড়ানোসহ সাংস্কৃতিক চর্চায় বহুমুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়া পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে সংস্কৃতি অঙ্গনের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সকল কিছু করবেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
এ সময় ঢাকার ৪১৬ বছর উপলক্ষে মাসব্যাপী আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সম্মাননা ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চারুশিল্পী অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আযহারুল ইসলাম শেখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলায় নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানের সাথে মতবিনিময় করেছে খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ। ৯ সেপ্টেম্বর-২০২৬ ইং, বুধবার দুপুর বারোটায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে উক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় নারায়ণগঞ্জের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষভাবে, বন্দরে সম্প্রতি ২৬ নং ওয়ার্ডে খেলাফত মজলিসের কর্মী শাহীন হত্যা ও ২২ নং ওয়ার্ডে যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল হত্যাকান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, কিশোরগ্যাংয়ের তান্ডব ও মাদকের ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং এসকল ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারের নিকট আবেদন জানানো হয়৷ এসময় পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খেলাফত মজলিস নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত মতবিনিময় সভায় খেলাফত মজলিস নেতৃবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আহমদ আলী, মহানগর সভাপতি হাফেজ কবির হোসেন, সহ-সভাপতি অধ্যাপক শাহ আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি নুর মোহাম্মদ খান, সদর থানা সভাপতি খন্দকার হাফেজ আওলাদ, জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শরীফ মিয়াজী, মুফতী আব্দুল গনী, ফতুল্লা থানা সভাপতি আবুবকর সিদ্দীক, বন্দর থানা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল-মামুন, মহানগর প্রচার সম্পাদক মুফতী তৌফিক বিন হারিছ, ইসলামী যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাইদুল ইসলাম, জেলা সহ-সভাপতি যোবায়ের তানভীর, ইসলামী ছাত্র মজলিসের মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ, খেলাফত মজলিস নেতা আলতাফ হুসাইন, এডভোকেট হাসান শাহরিয়ার খান আসাদ, আকিব হোসাইন রাকিব, প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশের জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে টোটাল এনার্জিস থেকে ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ)।
আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিসিইএ’র ২৮তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুই কার্গো করে এলএনজি আমদানি করবে বাংলাদেশ।
চুক্তিতে প্রয়োজন হলে উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে অতিরিক্ত এলএনজি কার্গো কেনার সুযোগ রাখার বিধানও থাকবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রস্তাবটি কমিটির কাছে উপস্থাপন করে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানির এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন মন্তব্য করেছেন যে, দেশের বিশাল জনসংখ্যা আমাদের প্রধান সম্পদ। দেশের উন্নয়নের জন্য জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরিত করার বিকল্প নেই।
এই উদ্দেশ্যে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্যারিসে ইউনেসকোর একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার থেকে বিরত থাকার সুযোগ নেই।
বিশ্বব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব সহকারে কাজ করছি। শ্রেণীকক্ষে এআইয়ের কার্যকর ব্যবহারের জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সারা বিশ্বে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ব্যক্তিদের জন্য প্রচুর চাহিদা বিদ্যমান। প্রবাসী কর্মীরা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি প্রধান উৎস। যদি আমরা তাদেরকে দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে পারি, তাহলে আমাদের অর্থনীতি আরো উন্নত হবে। এজন্য কারিগরি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও যোগাযোগ দক্ষতার উন্নয়নে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দেশের উন্নয়নের জন্য গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। কারণ ইংরেজি সারা বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ