বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১১:২১ এম
যদি কোনো ব্যক্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শনের ক্ষতিসাধন করেন, তাকে অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। সেই সঙ্গে, জাদুঘরের যদি কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার বা নষ্ট করা হয়, সেক্ষেত্রে দণ্ড হিসেবে তিনি অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন- ২০২৬' এর মাধ্যমে অবশ্যই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে আইনটি প্রণীত হয়েছে।
২ autোকাল ঘটনা হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল আইনটি প্রণীত হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেন। পরবর্তী দিনে, সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক জাদুঘর উন্মুক্ত করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইনের ৪ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় ঢাকার গণভবনে থাকবে। আর ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে গোপন কারাগারে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করার অধিকার জাদুঘরের থাকবে। যদি কোনো গোপন কারাগার কোনো সংস্থার অধীন থাকে, তাহলে সেই সংস্থাকে তা যে অবস্থায় রয়েছে সেই অবস্থাতেই জাদুঘরের নিকট হস্তান্তর করতে হবে। মানবতাবিরোধী কারাগারসমূহকে জাদুঘরের শাখা জাদুঘর হিসেবে পরিগণিত ও পরিচালিত করা হবে।
আইনের ৫ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই জাদুঘরের কার্যাবলির মধ্যেই রয়েছে- জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও পলায়ন সংক্রান্ত ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্ন, পূর্ববঙ্গের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে নিদর্শন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিরোধী কার্যক্রম ও ফ্যাসিবাদের উত্থান সম্পর্কিত স্মৃতিচিহ্ন, প্রামাণ্য দলিল, সংশ্লিষ্ট বস্তু ও নিদর্শন অনুসন্ধান, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শন।
আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, জাদুঘর পর্ষদের সুপারিশ ও সরকারের অনুমোদনক্রমে প্রদর্শন ও সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বা অন্য কোনো জাদুঘর বা ব্যক্তি সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের নিদর্শন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিনিময় করা যাবে। তবে এই স্থায়ী বা অস্থায়ী বিনিময়, উপহার প্রদান বা গ্রহণের জন্য চুক্তি করতে হবে।
আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত কোনো নিদর্শন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী উক্ত স্থান পরিদর্শন করতে পারেন এবং এই আইন বা এর অধীনে প্রণীত বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
জাদুঘরে প্রবেশাধিকার যুক্ত আইনের ১৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত প্রবেশ মূল্যের বিনিময়ে জনগণের জন্য জাদুঘরে প্রবেশাধিকার থাকবে।
আইনের ২২ ধারায় স্থাবর নিদর্শন ধ্বংস বা বিনষ্টের দণ্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শন বা তার অংশবিশেষ ধ্বংস, বিনষ্ট বা পরিবর্তন করে, তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এজন্য তাকে অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
আইনের ২৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, বিনষ্ট অথবা ক্ষতিসাধন করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এজন্য তিনি অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
অন্যদিকে ২৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের সংগৃহীত বা নিবন্ধিত নিদর্শনের উপর খোদাইকরণ, লিখন, লিপি উৎকীর্ণ বা স্বাক্ষর করলে, সেটি অপরাধ হবে এবং এজন্য তাকে অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এদিকে আইনটির ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, জাদুঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উল্লিখিত ধারায় অপরাধসমূহের জন্য অভিযুক্ত হলে প্রচলিত দণ্ডের পাশাপাশি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে। এক্ষেত্রে আদালতে মামলা চলমান থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুই ফিলিস্তিনি পরিবারকে গত কয়েক দিন ধরে তাদের নিজস্ব বাড়ির ভেতরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা ঘটেছে নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামে।
পরিবার দুটির সদস্যরা জানাচ্ছেন, বসতি স্থাপনকারীরা তাদের বাড়ির বাইরের গেটে প্রবেশের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তারা তাদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। খাবার এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তাদের বাড়িতে প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। অধিকার কর্মীরা বলছেন, পরিবার দুটিকে দ্রুত নিরাপত্তা দেওয়া প্রয়োজন এবং তাদের বাড়ির আশপাশ থেকে বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে নিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের উচিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় বসতি স্থাপনকারীরা আবু রিদি পরিবারের বাড়ির সামনে থাকা একটি দেয়াল ধ্বংস করছে। পরে ওই ধ্বংস হওয়া দেয়ালের পাথর ব্যবহার করে বাড়ির সামনে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে ওই পরিবারের দুই শিশুসহ সাতজন বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। অন্যান্য ফিলিস্তিনিরাও তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
পরিবার দুটি পশ্চিম তীরের ‘বি’ এলাকায় বসবাস করছে। এই এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে থাকলেও নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে রয়েছে। আবু রিদি পরিবারের সদস্য কুসাই আবু রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, তাদের অবস্থার অবনতির জন্য তারা খুবই উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে যখন তারা পুরোপুরি বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, তারা নিজস্ব বাড়ি এবং নিজেদের জমিতে বসবাস করতেই চাইছেন।
নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য তারা আর কিছু চান না। অন্যদিকে, অন্য পরিবারটির সদস্য আয়েশা হাসান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা তাদের বাড়ির ফটক ভাঙার চেষ্টা করেছিল। তারা পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ে এবং গালাগাল ও অপমানজনক কথা বলে। আয়েশা জানান, তার পরিবার ভয়ে রয়েছে এবং তারা অত্যন্ত আতঙ্কিত।
পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ জানানোর পর ঘটনাস্থলে সেনারা গেলে, তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফিলিস্তিনি বাড়ির মালিকদের অভিযোগ, প্রথমে ঘটনাস্থলে যাওয়া কয়েকজন ইসরায়েলি সেনাকে বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে নামাজ পড়তে দেখা গেছে। সোমবার ইসরায়েলের বামপন্থী সংবাদপত্র হারেৎসের সাংবাদিকরা ওই ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বসতি স্থাপনকারীরা তাদের বাধা দেয়। সাংবাদিকরা দাবী করেন, তাদের গাড়ি প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা ইসরায়েলি সেনাদের সহায়তা চাইলে তারা তা করেননি। সাংবাদিকদের বলা হয়, এলাকাটি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত একটি বন্ধ এলাকা। তবে বসতি স্থাপনকারীদের ক্ষেত্রে একই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পর ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ইয়েশ দিন জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। সংগঠনটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধানের কাছে আবেদন করে। সংগঠনের দাবি, অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়া, বসতি স্থাপনকারীদের অবৈধ ঘাঁটি সরিয়ে দেওয়া এবং সেখানে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মঙ্গলবার রাতে অবশেষে একটি ফিলিস্তিনি অ্যাম্বুলেন্স পরিবার দুটির কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাদের জন্য খাবার আনা হয় এবং একটি শিশুকে চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীও নতুন করে গড়ে ওঠা বসতি স্থাপনকারীদের ওই ঘাঁটির সমালোচনা করেছে। বাহিনীটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে ঢুকে সেগুলো দখল করা ‘অবৈধ, নিন্দনীয় এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’। বুধবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। এরপর ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা আরেকটি ভিডিও প্রকাশ হয়। এই ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনা এবং সীমান্তরক্ষী পুলিশের সঙ্গে একটি দল বসতি স্থাপনকারীর সংঘর্ষ হচ্ছে। ভিডিওতে নিরাপত্তা বাহিনীকে কাঁদানে গ্যাস এবং শব্দবোমা ব্যবহার করতে দেখে যায়।
অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বসতি স্থাপনকারীরা যে ছাউনিতে অবস্থান করছিলেন, ইসরায়েলি বাহিনী সেটি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে তাদের অন্য কিছু সামগ্রী সেখানে রেখে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তরক্ষী পুলিশ ছাউনিটিকে সরিয়ে দিয়েছে এবং সেখানে থাকা বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল। বাহিনীটি আরো জানায়, গত কয়েকদিন আগে ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী যে ভিডিওতে ধরা পড়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কুসরা গ্রামের মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি বিবিসিকে বলেছেন, স্থানীয় বাসিন্দারা গত কিছুদিন ধরে গ্রামটিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক এবং স্পষ্ট হামলার ঘটনা লক্ষ্য করছেন। তিনি জানান, গত মাসে গ্রামে নতুন নির্মিত একটি মসজিদে অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। কাছের একটি দেয়ালে হিব্রু ভাষায় লেখাও দেখা যায়।
আগের ঘটনাগুলির সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায়, পাশের তাল এলাকায় একটি হামলার পর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যায়, স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান। ওই ঘটনায় ছয়জন নিহত হন, তাঁদের মধ্যে চারজন ফিলিস্তিনি এবং দুইজন ইসরায়েলি সেনা ছিলেন। নিহত দুই ইসরায়েলি সেনার একজনের দায়িত্ব ছিল কাছের একটি ইসরায়েলি বসতির নিরাপত্তা সমন্বয়ক হিসেবে। জুলাই মাসে কুসরার কাছের জালুদ গ্রামে বসতি স্থাপনকারীরা একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঘিরে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বাড়ির মালিকরা সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। বসতি স্থাপনকারীরা বাড়িটি দখল করে নেয় এবং এখনো সেখানেই অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
কুসরার এই ঘটনা ঘটে যখন পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার উপসমন্বয়ক রামিজ আলাকবারভ মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বলেছিলেন, পশ্চিম তীর ‘ভেঙে পড়ার পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নাবলুস প্রদেশ বিশেষভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছে বলেও তিনি জানান। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ৭৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৮টি শিশু রয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পশ্চিম তীরে এক ফিলিস্তিনির চালানো কথিত গাড়ি হামলায় তিন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে পশ্চিম তীরের ১২৭টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি সম্প্রদায়ের সব বাসিন্দাকেই এলাকা ছাড়তে হয়েছে, ফলে ৬ হাজার ৩৯০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব মতে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের প্রায় অর্ধেকই শিশু। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া এবং উচ্ছেদের কারণে এসব মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন ইসরায়েলি বসতিগুলো শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বাধা—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, এসব বসতি থাকবে এবং আরো সম্প্রসারিত হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ওই ভূমির ওপর ইসরায়েলের বাইবেলভিত্তিক, ঐতিহাসিক এবং আইনগত অধিকার রয়েছে। ড্যানন নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছিলেন, তাদের একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা উচিত- ইসরায়েল কোথাও চলে যাচ্ছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বে জলাবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়নমূলক কাজ চলানোর কারণে দিন দিন বায়ুদূষণ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বায়ুদূষণের তালিকায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা অবস্থান করছে ২৩তম।
ঢাকার বায়ুমান স্কোর ৭৯। বাতাসের এই অবস্থার মানকে মাঝারিমানের বলা হয়।
বায়ুদূষণের বিষয়টি সম্পর্কে আরো জানা গেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে।
এই সূচক অনুযায়ী, বিশ্বে বায়ুদূষণের তালিকায় ১৯৬ স্কোর নিয়ে দূষণের শীর্ষে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুচিং শহর, যার স্কোর ১৮৭। তৃতীয় অবস্থানে পাকিস্তানের লাহোর, যার স্কোর ১৭৯। এরপরের অবস্থান গৃহীত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, ইন্দোনেশিয়া জাকার্তা, সৌদি আরবের রিয়াদ এবং কাতারের দোহার মতো শহরগুলো।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘অনেক ভালো’ বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে বায়ুর মান ‘মাঝারি বা সহনীয়’ ধরা হয়। আর ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে রাখা হয়। অন্যদিকে ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে মনে করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের ছয় জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার জন্য বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছেল সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে উল্লিখিত তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া সহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের তারকা হামজা চৌধুরী এবার নতুন এক পরিবর্তনের সাক্ষী হতে পারেন।
হামজার ক্লাব লেস্টার সিটি বর্তমানে বিক্রির জন্য বাজারে তুলেছেন তাদের থাই মালিক স্রিভাদ্ধনপ্রভা পরিবার।
পুরো ক্লাব এবং এর সঙ্গে থাকা বিভিন্ন সম্পদের জন্য তারা প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার (৩ হাজার ৬৯৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা) চাচ্ছেন।
দ্য অ্যাথলেটিক জানাচ্ছে, সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে লেস্টার সিটি ও তাদের সংশ্লিষ্ট সম্পদ বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ ব্যাংক সিটি গ্রুপ একটি বিক্রয় নথি তৈরি করেছে, যার নাম রাখা হয়েছে প্রজেক্ট লাইনআপ।
হামজার ফুটবল ক্যারিয়ারের জন্য লেস্টার সিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ক্লাবটির সঙ্গে তার ২১ বছরের একটি সম্পর্ক বিদ্যমান। লেস্টারের একাডেমি থেকে উঠে এসে মূল দলে জায়গা করে নিয়েছেন হামজা। ক্লাবটির হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলেছেন তিনি। এই কারণে ক্লাবটির মালিকানা পরিবর্তনের খবরটি বাংলাদেশের ফুটবল অনুসারীদের জন্য বিশেষ আগ্রহের বিষয়।
দীর্ঘ ব্যবধানের পরেও হামজা চৌধুরী খেলতে পারেন চ্যাম্পিয়নস লিগে।
তবে লেস্টার সিটি এখন আর আগের অবস্থানে নেই। ২০১৫-১৬ মৌসুমে তারা অবিশ্বাস্যভাবে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল, কিন্তু বর্তমানে ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তর লিগ ওয়ানে নেমে গেছে ক্লাবটি। আর্থিক সংকট এবং মাঠের ব্যর্থতার কারণে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ক্লাবটির অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটেছে।
২০২১ সালের পর প্রকাশিত সর্বশেষ চারটি অর্থনৈতিক হিসাব অনুযায়ী, লেস্টার সিটির লোকসান হয়েছে যথাক্রমে ৯ কোটি ২৫ লাখ, ৮ কোটি ৯৭ লাখ, ১ কোটি ৯৪ লাখ ও ৭ কোটি ১১ লাখ পাউন্ড। ২০২৪-২৫ মৌসুমে দলের অবনমন ঘটেছে প্রিমিয়ার লিগ থেকে।
পরে তারা আবার চ্যাম্পিয়নশিপ থেকেও নেমে যায় লিগ ওয়ানে।
এই পরিস্থিতিতে মালিকপক্ষ ৩০ কোটি ডলার চাইলেও সম্ভাব্য ক্রেতারা তার চেয়ে কম দাম প্রস্তাব করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটি ডলারে (২ হাজার ৪৬৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা) বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
থাই মালিকরা লেস্টার সিটির পুরুষ ও নারী দল এবং একাডেমির পাশাপাশি কিং পাওয়ার স্টেডিয়াম, সিগ্রেভ প্রশিক্ষণকেন্দ্র, বেলভয়ার ড্রাইভ এবং বেলজিয়ামের ক্লাব ওএইচ লুভেনকেও বিক্রির প্যাকেজের মধ্যে রেখেছেন।
এদিকে, হামজার লেস্টারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার খবরও শোনা যাচ্ছে। আজারবাইজানের ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অফসাইডপ্লাস সম্প্রতি দাবি করেছে, তিনি দেশটির ক্লাব সাবাহ এফকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ