ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ


বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ

বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তন করে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস’ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এই তথ্য জানায় কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তিনি এ কথা বলেন, যখন কারা অধিদফতর একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে-পরে দেশের বিভিন্ন কারাগারে যে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, সেই সম্পর্কে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হামলা, ভাঙচুর ও বিদ্রোহের সুযোগে পাঁচটি কারাগার থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় ২ হাজার ২৪৭ বন্দি। এ সময় বিপুলসংখ্যক গুলি ও আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে নরসিংদী কারাগার থেকেই পালিয়ে যায় ৮২৬ বন্দি।

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে খুলছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দ্বিতল সড়ক, টোল নির্ধারণ

কারা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ৬৬০ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এখনো শনাক্ত করা যায়নি ১৬৬ জন বন্দিকে। কারাগারের বন্দি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও নেত্রীদের ফোনে কথা বলা এবং বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ মেনে কারা মহাপরিদর্শক জানান, কোনো বন্দিকে আলাদাভাবে সুবিধা দেয়া হচ্ছে না।

এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলেই উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে কারা মহাপরিদর্শক এ কথাও বলেন, পলাতক বন্দিদের অবস্থানের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জনবল সংকটও কারাগারের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবেলার জন্য নতুনভাবে প্রায় ১ হাজার ৮৯৯টি পদ অনুমোদন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিএসসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগের গুঞ্জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


পিএসসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগের গুঞ্জন

গুঞ্জন উঠেছে যে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশনের একজন সদস্যের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে, মঙ্গলবারই চেয়ারম্যান পদত্যাগপত্র পাঠাবেন।

পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে ওই সদস্য বলেন, ‘স্যার পদত্যাগপত্র জমা দিলে তখন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’

অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমের মন্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি, এমনও উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর পিএসসির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা পদত্যাগ করেন।

এরপর পরের দিন, ৯ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৯০ এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৩ পি.এম


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৯০ এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মোট ৪৯০টি ক্যামেরা ও অটো ফাইন সিস্টেমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে কেউ স্পিড ব্রেক করলে, স্পিড লিমিট ক্রস করলে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, উল্টো পথে যাত্রা কিংবা ওভারটেকিং করার ক্ষেত্রে অর্থাৎ এককথায় যেখানে যে সাইন সিগন্যাল দেওয়া রয়েছে তা অমান্য করলে তার উপর জরিমানা আরোপ করা হবে।’

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাটস্থ হাইওয়ে পুলিশ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল মনিটরিং সেন্টারে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জরিমানার তথ্য অটোমেটিক বিআরটিএর কাছে চলে যাবে। আর এটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন থাকা মালিকের কাছে মেসেজ পৌঁছে যাবে। পরবর্তীতে গাড়ির মালিক ইচ্ছে করলেই মোবাইল মনিটরিং কিংবা সিস্টেমের মাধ্যমে ফোনেই জরিমানা আদায় করতে পারবেন।’

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাইওয়ে ও বাংলাদেশ পুলিশের পত্রিকা আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের কাছে মেসেজ পৌঁছে দেবে। যাতে জনগণ জানতে পারে এবং সচেতন হয়ে ওঠে। আমরা বিশ্বাস করি এটি যুগান্তকারী ফল হবে।’

হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সভাপতি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতই কি তবে মিসরের মক্কা চুক্তিতে না থাকার কারণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৬ পি.এম


ভারতই কি তবে মিসরের মক্কা চুক্তিতে না থাকার কারণ?

ভারত ও মিসরের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘকালীন ইতিহাসে গড়ে ওঠা। এই সম্পর্কের ফলে সামরিক, বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে একটি গভীর ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয়েছে।

মিসরকে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোট 'মক্কা চুক্তি'তে যোগ দিতে না দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে এই সম্পর্ক।

১৯৫৬ সালে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সুয়েজ খালের দিকে সামরিক অভিযানে ভারত তীব্র নিন্দা জানায় এবং মিসরের নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করে। পাঁচ বছর পরে, ১৯৬১ সালে ভারত পর্তুগালের উপর সামরিক অভিযান চালায় এবং মিসর তখন ভারতকে সমর্থন দেয়।

এই ঘটনাগুলো ভারত ও মিসরের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উদাহরণ। ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর, দুই দেশ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে, ভারত ও মিসরের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, বিশেষত বাণিজ্য ও মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে।

এই দীর্ঘ ইতিহাস মিসরের নতুন সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। চলতি মাসের ৭ আগস্ট, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি ত্রিপাক্ষিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার নাম 'মক্কা চুক্তি'।

এই চুক্তির নামকরণ করা হয়েছে ইসলামি ন্যাটো হিসেবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মিসরকে জোটের 'স্বাভাবিক অংশীদার' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি, আফ্রিকার শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অধিকারী মিসরকে পরবর্তী সদস্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে, মিসর একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দেশের সেনাবাহিনী ৪ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি সদস্য ধারণ করে এবং এটি শত শত আধুনিক ট্যাংক এবং যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার মাধ্যমে পেয়েছে। সুয়েজ খাল মিসরের নিয়ন্ত্রণে, তাই বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেছিলেন, কায়রো মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি 'গুরুতরভাবে বিবেচনা করছে'। কিন্তু মিসরের কর্তব্য কিভাবে পালন করতে হবে, সে সম্পর্কে সাংবিধানিক ও আইনগত পর্যালোচনা করতে হবে।

তুরস্কের আগ্রহ থাকলেও সৌদি আরব মিসরকে মক্কা চুক্তিতে নিতে বিশেষ আগ্রহী নয়। সৌদি আরবের হতাশা বাড়ছে, যেহেতু তারা এর জন্য প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু দাবী অনুযায়ী রিয়াদ প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায়নি।

মিসরেরও ইয়েমেনে সৌদি আরবের দীর্ঘ সামরিক অভিযানে জড়িত নেই। ইতোমধ্যেই সৌদি আরব মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়েও সতর্ক। গত ২০১৫ সালে সৌদি আরব ইয়েমেনে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে এবং মিসর এখানে খুব সীমিত ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে, মিসরের কূটনীতিক এবং বিভিন্ন সূত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, কায়রো সকল পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাইছে। সংবাদমাধ্যম মাদা মাসরের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, কায়রো 'সব পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক' রাখতে আগ্রহী।

মিসরের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থাকবে, একটি নতুন সামরিক জোটে যোগ দিয়ে তারা কোন ফায়দা পাবে।

অন্যদিকে, ভারত-মিসরের মধ্যে দুর্দান্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬৫০ কোটি ডলারে পেঁৗছেছে। দুই দেশের মধ্যে মিসরে প্রায় ৭০০ ভারতীয় কোম্পানি নিবন্ধিত রয়েছে এবং প্রায় ৪০ হাজার মিসরীয় নাগরিক ভারতীয় কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন।

নিশ্চিতভাবেই, কায়রো মক্কা চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের অথরিটি প্রভাবিত করতে চাইছে। তবে, বিষয়টি হতে পারে ভারতের কৌশলগুলির প্রভাবিত। ভারত এবং মিসরের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি এবং সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতি আনতে চায় বাংলাদেশ-ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতি আনতে চায় বাংলাদেশ-ভারত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিল্প সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণরূপে কাজে লাগাতে প্রয়োজন বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, ভিসা প্রক্রিয়াকে সহজ করা এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব বক্তব্য তুলে ধরেন।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সিআইআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আয়তন, জনসংখ্যা এবং অর্থনীতির আকারে পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান উভয় দেশের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

দেশগুলোর কৌশলগত অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা বলে তিনি জানান।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হলেও আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্যের হার এখনও তুলনামূলক কম।

এ সম্পর্কে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি করতে পারলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বাণিজ্যকে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য গঠনমূলক আলোচনার প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাবে।

বৈঠকে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের ভিসা জটিলতা নিয়েও আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য প্রতি কিছু মাস পর পর নতুন ভিসা আবেদনের বিষয়টি বাস্তবসম্মত নয়।

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও সহজতর ভিসা ব্যবস্থার জন্য কার্যকর সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, সিআইআই বাংলাদেশে অবকাঠামো ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।

এগুলোর মধ্যে একটি টাস্কফোর্স অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে কাজ করার জন্য গঠন করা হবে। অন্যটি সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন হাইড্রোজেন, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং ডাটা সেন্টারের মতো ভবিষ্যতে কার্যকর শিল্প খাতে সহযোগিতার পথ খুঁজবে।

সিআইআই প্রতিনিধিরা জানান, ভারতে গত বছর অবকাঠামো খাতে প্রায় ২৫ লক্ষ কোটি রুপি বিনিয়োগ হয়েছে, যার বড় অংশ এসেছে বেসরকারি খাত থেকে।

তাদের মতে, ভারতীয় অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে।

বৈঠকে স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না।

স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়বে।

এনার্জিপ্যাকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে একজন প্রতিনিধি বলেন, দেশে উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো অনেক পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে।

স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগায় উৎপাদন ব্যয় ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ঘটলে এসব চ্যালেঞ্জ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এফএমসিজি খাতেও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিআইআই।

প্রতিনিধিদল ঢাকার আশপাশে সাবান, হোম কেয়ার পণ্য, ইনসেক্টিসাইড এবং ফ্র্যাগ্রেন্সসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের জন্য আধুনিক সমন্বিত শিল্প কারখানা স্থাপনের আগ্রহের কথা জানায়।

পাশাপাশি বাজারে অনিবন্ধিত ও নিম্নমানের পণ্য নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শিল্পে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান সিআইআই প্রতিনিধিরা।

তাদের স্টিম-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক ও খাদ্য শিল্পে ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব। তবে শুল্ক বৈষম্যের কারণে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো সীমিত।

এছাড়া বাংলাদেশের তরুণদের জন্য ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলী এই অঞ্চলে তৃতীয় দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা নিরসনে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই মত প্রকাশ করে যে, আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, ব্যবসায়ী পর্যায়ের নিবিড় সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর, গতিশীল ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%