ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬’ উদযাপন নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায়


‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬’ উদযাপন নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায়

‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে।

আজ সোমবার, ২২ জুন, দিবসটি উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ-বানৌজা ঢাকা’র মাল্টিপারপাস হলে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান

এতে বলা হয়েছে, ‘আয়োজিত সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি প্রধান অতিথি এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও, সেমিনারে সমুদ্র বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাগণ, হাইড্রোগ্রাফি ও ওশানোগ্রাফি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং গবেষণা সংস্থার ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

‘সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদানের ধারণায় আমূল পরিবর্তন’ এ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে এবারের ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬’ পালিত হচ্ছে।

প্রতিপাদ্য বিষয়টির মাধ্যমে সমুদ্র সংক্রান্ত তথ্যের আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় হাইড্রোগ্রাফির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সমুদ্রে দেশি-বিদেশি জাহাজসমূহের নিরাপদ চলাচল, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, ব্লু ইকোনোমির বিকাশ এবং সমুদ্রভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা সমুদ্র সম্পর্কিত তথ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদের নিরাপদ, টেকসই ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া, সামুদ্রিক গবেষণা, পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় উন্নয়ন, মেরিন ডাটা ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্ত সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও খনিজ সম্পদ আহরণ, উপকূলীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ এবং সামুদ্রিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

আরও পড়ুন: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ

আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্রসমূহ সমুদ্র অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, টেকসই ও উৎপাদনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

বাংলাদেশ ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার (আইএইচও) এর ৭০তম দেশ হিসেবে সদস্যপদ লাভ করে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৯৮৩ সাল হতে দেশের সমুদ্র অঞ্চল ও সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন নদীপথে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নটিক্যাল চার্ট প্রকাশের দায়িত্ব পালন করে আসছে।

কাগজে মুদ্রণের পাশাপাশি এসব চার্ট বর্তমানে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতেও প্রকাশিত হচ্ছে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জাহাজসমূহের নিরাপদ চলাচলে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে।

আরও পড়ুন: আইফোনের জন্য বন্ধুকে খুন করেছে সায়েল মিয়া

বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৭ মেয়াদে নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন (এনআইওএইচসি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

গত মে ২০২৬ মাসে কমিশনটির ২৫তম সম্মেলন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য হতে অত্যাধুনিক সমুদ্র জরিপ ও গবেষণা জাহাজ ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা দেশের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, সমুদ্র গবেষণা ও সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

আরও পড়ুন: বৃষ্টি বলয়ের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


সিলেটের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করায় সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ ‘সাদাপাথর’ পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত করা হয়েছে।

একদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকে স্পটটি চালু হওয়ায় সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ঢল নেমেছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঢলের পানি নেমে যাওয়ার ফলে বর্তমানে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

এর আগে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলস্বরূপ পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে পানি কমে যাওয়ায় এবং পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পুনরায় পর্যটকদের জন্য পর্যটন কেন্দ্রটি উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পর্যটকবাহী নৌকা চলাচল এবং ভ্রমণ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও নদীতে এখনও স্রোত রয়েছে। তাই ভ্রমণের সময় সবাইকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। নৌযানে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতের মধ্যে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, সতর্ক সংকেত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


রাতের মধ্যে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, সতর্ক সংকেত

দেশের ৯ জেলার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, এই তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একইসাথে এই সকল এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, পাবনা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই সময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা বিদ্যমান। সুতরাং, এই সকল এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের জন্য নির্দেশিত করা হয়েছে।

এদিকে, অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে যে, সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সাথে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী এবং অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েক দিন ঝড়বৃষ্টি এবং ভারী বর্ষণের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফর করছেন। এ সফরের ফলে সরকার এবং ব্যবসায়ী মহলে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। বিশেষত, বাণিজ্য, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

বাংলাদেশ এবং চীনের সম্পর্ক ইতিমধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন ও উৎপাদন খাতে গভীরভাবে জড়িত। পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে চীনা অংশগ্রহণ বাংলাদেশকে উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে গতি দিয়েছে। বর্তমানে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রধান আমদানিকারক দেশ। যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস, শিল্প কাঁচামাল ও টেক্সটাইল ইনপুটের অမျহবর অংশই দেশে আসে।

রোববার (২১ জুন) দু'দিনের মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন। এটি তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে যাবেন।

এর আগে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম গত শনিবার জানিয়েছেন, সফরে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সংযোগ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, চলমান প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়গুলো আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে।

আসাদ আলম আরও জানান, সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), চুক্তি, কর্মপরিকল্পনা ও প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরের শুরুতে দালিয়ানে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস সম্মেলনে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি 'ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ' শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা দেবেন। এরপর তিনি ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে তিনি বেইজিংয়ে গিয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি, এক্সিম ব্যাংকসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।

আগামী ২৫ জুন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত 'বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম'-এ প্রধান বক্তা হিসেবে দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ২২ থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে এ বাণিজ্যের কাঠামো প্রধানত আমদানি নির্ভর হওয়ায় বাংলাদেশের রফতানি অংশ তুলনামূলকভাবে কম।

তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের রফতানি বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করেন।

বাংলাদেশ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে চীন বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও জিডিআই এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিবদ্ধ কাঠামো নয় বরং একটি বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, এ উদ্যোগগুলোর আওতায় প্রযুক্তি স্থানান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, চীনের বিনিয়োগ শুধু অবকাঠামোয় সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদন শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, হালকা প্রকৌশল ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে সম্প্রসারিত হলে কর্মসংস্থান ও রফতানি আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

তার মতে, চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের শিল্প, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কৃষিখাতে দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহ দেখালেও কাঙ্খিত মাত্রায় বিনিয়োগ আসেনি।

মোহা. খোরশেদ আলম আরও বলেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চীনের দীর্ঘমেয়াদি পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বাংলাদেশে কাজে লাগানো গেলে পুঁজিবাজার আরও গভীর ও স্থিতিশীল হতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও শিল্প সহযোগিতা বাড়লে উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ টানতে হলে সুস্পष्ट নীতি, দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। চীনের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল বিবেচনায় নিয়ে ধারাবাহিকতা বজায় না থাকলে বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশি টাকা ও চীনা ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। তার মতে, এতে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং লেনদেনের ব্যয় হ্রাস পাবে।

চীনের অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি সিসিইসিসির দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক ইউসেফ জানান, চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। তার মতে, এ উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত 'বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম'-এ চীনা ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করবেন এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেবেন।

ব্যবসায়ীদের মতে, আগামী দিনে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতি নির্ভর করবে তিনটি মূল বিষয়ের ওপর বিনিয়োগ বাস্তবায়ন, রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর। এই তিন ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি ঘটলে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। সূত্র বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গম সীমান্তাঞ্চলে অসহায় মানুষের পাশে বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


দুর্গম সীমান্তাঞ্চলে অসহায় মানুষের পাশে বিজিবি

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ হরিণা জোন (১২ বিজিবি)। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে জোনটি।

সোমবার (২২ জুন) হরিণা জোনের উদ্যোগে সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অসহায় পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

হরিণা জোন সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে স্থানীয় জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি ও নদীবেষ্টিত অঞ্চলে বসবাসরত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরিণা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইফফাল কায়েস মেহেদী।

তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করাও বিজিবির অন্যতম দায়িত্ব। সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জোনের আওতাধীন ভুষণছড়া ইউনিয়নের একটি কুরআন নুরানী মাদ্রাসাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এলাকার অসহায় মানুষের বসতঘর মেরামতের জন্য ৩০টি পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। এছাড়া দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা, ৪টি সেলাই মেশিন এবং ১টি পরিবারকে সোলার প্যানেল ও ফ্যান দেওয়া হয়।

হরিণা জোন সূত্রে জানা গেছে, এ কর্মসূচির আওতায় মোট অনুদানের পরিমাণ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকার বেশি। এতে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মোট ১৫টি পরিবার সরাসরি উপকৃত হয়েছে।

সহায়তাপ্রাপ্ত’রা এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে হরিণা জোনের এ ধরনের কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতেও বিজিবি এই ধরণের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%