রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩৭ এম
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার প্রস্তুতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ওপর নির্ভরশীল ছিল। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সেনারা ভুল গোয়েন্দা তথ্য, পুরোনো স্যাটেলাইট ছবি এবং এআই-এর ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়, যার ফলে ১২৩ শিশু নিহত হয়।
তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলার দিন স্কুলটিতে দুটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পেন্টাগনের কিছু কর্মকর্তা হামলাটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে অবহিত হন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ব্যাপক বিমান হামলার কারণে লক্ষ্যবস্তু চূড়ান্ত করার জন্য সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে সময় কম ছিল, যা তদন্তে উঠে এসেছে। যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র এক হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
এছাড়া, বেসামরিক নাগরিক সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং হামলার স্থান সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবও ভুল লক্ষ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছিল, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। স্কুলটি আগে একটি সামরিক স্থাপনার অংশ ছিল, কিন্তু পরে সেখানে প্রকাশ্যে স্কুল পরিচালনা করা হচ্ছিল।
তদন্তে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কিছু কর্মকর্তা বিশেষ করে প্লানতির-এর ‘Maven Smart System’-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল ছিলেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল, সিস্টেমটি পুরোনো বা অসঙ্গতিপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।
তবে প্লানতির জানিয়েছে, ব্যবহৃত মূল তথ্যের জন্য তারা দায়ী নয় এবং গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি শনাক্ত করাও তাদের সফটওয়্যারের দায়িত্ব নয়। হামলার জন্য তাদের সফটওয়্যার দায়ী ছিল—এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
এদিকে, জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন জানিয়েছে, ইরানে ফেব্রুয়ারির দুটি মার্কিন বিমান হামলায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে—এমন বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি পাওয়া গেছে।
জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে মিশনটি বলেছে, বেসামরিক মানুষের মৃত্যু, আহত হওয়া বা বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো পরিণতি ঘটানো নির্বিচার হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে—এমন বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে নিহত ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের বয়সের সংখ্যা তেরো, এই সংখ্যা সরকারি ভবনের কপালে কালি দিয়ে লিখে দিতে চান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
তিনি শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে দুদু উল্লেখ করেন, "অপ্রতিমের বয়স তেরো। এই সংখ্যাকে আজ আমি শহরের সব সরকারি ভবনের কপালে কালি দিয়ে লিখে দিতে চাই।"
তিনি আরও বলেন, "কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, তেরো বছর বয়সে একটি ছেলের পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল স্কুলের মাঠ, বন্ধুর মুখ, মায়ের রান্নাঘর, পরীক্ষার খাতা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অসংখ্য নির্বোধ স্বপ্ন। অথচ এই দেশ তাকে তার ভবিষ্যৎসহ গিলে ফেলেছে এবং আমরা এখন সভ্য মানুষের মতো বসে তার মৃত্যুর কারণ খুঁজছি।"
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি চালান।
প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সি দুই কিশোরকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৫২ জন, লালবাগ বিভাগে ৪৩ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৭ জন, মতিঝিল বিভাগে ৬৩ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৭৯ জন, মিরপুর বিভাগে ১৪৬ জন, গুলশান বিভাগে ৪১ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৫ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে একজন রয়েছেন।
অভিযান চলাকালে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল, ৫০০ গ্রাম গান পাউডার, ৫০০ গ্রাম ঝুট কাপড়, ২৫০ গ্রাম পেট্রোল, বিস্ফোরিত ককটেলের ৩৫ গ্রাম পেরেক, সাতটি টিনের টুকরা, ১০ টুকরা স্কচটেপ, ১০৪টি পেরেক এবং একটি বিস্ফোরিত ককটেলের টিনের অংশ বিশেষ উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, ৫৪ কেজি ২৪৫ গ্রাম গাঁজা, ৪ হাজার ১১৫ পিস ইয়াবা, ২১ গ্রাম হেরোইন ও ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময় একটি প্রাইভেটকার, তিনটি চাকু, একটি চাপাতি, একটি ছোট কাচি, একটি কাটার, ফয়েল পেপার, গ্যাস লাইট, একটি নাইলনের রশি ও ১৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে দুটি ইয়াবা তৈরির মেশিন, ২ হাজার ৬০০ গ্রাম বিভিন্ন কেমিক্যাল, ৪৫৪ গ্রাম বেনেলিয়া পাউডার, ১৩ বোতল রং, ৩৫০টি খালি বোতল ও ইয়াবা তৈরির মিশ্রিত উপাদান ১ হাজার ৫০০ গ্রাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দুইজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় আটক তুহিনের বাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, পুরো ঘটনার বিস্তারিত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। তিনি সবাইকে সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা যাওয়া কিশোরের বাড়ি থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা আইফোনটি উদ্ধার করেছেন। অপ্রতিম তার মায়ের এই আইফোন নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য ও আলামতে দেখা যাচ্ছে যে, অপ্রতিমকে ওই আইফোনের জন্যই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন বিষয় অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল। একটি ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। ওই কিশোরের বয়স অপ্রতিমের চেয়ে বেশি ছিল এবং তার মাথায় ক্যাপ ছিল। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তার গতিবিধি দেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়।
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজেও অপ্রতিমকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে ওই কিশোরকে।
পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ওই কিশোরের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ওই কিশোরের বাড়িতেও যান লাশ উদ্ধারের আগে। এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে শনিবার দুপুরে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়ি এলাকা থেকে ওই কিশোরকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত ৮টার দিকে সালমানপুর এলাকায় তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
অনুসন্ধানে তুহিনের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে থানায় মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছিল।
জানা গেছে, মো. তুহিনের বাড়ি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে তাকে আটক করে পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টাকা ও মোটরসাইকেল আত্মসাৎ, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে মো. তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে।
একটি অভিযোগপত্রে দেখা যায়, গত বছরের ২৬ এপ্রিল সদর দক্ষিণ মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সোহাগের পূর্বপরিচিত ছিলেন তুহিন। গত ২৭ মার্চ সোহাগ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার সিটি বাইক থেকে দুই লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন। পরে তুহিন মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন সোহাগ।
সোহাগের পরিবারের অভিযোগ, মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য সদর দক্ষিণ থানায় গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করে। এ ছাড়া, তৎকালীন এসআই আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে দুই দফায় মোট ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেন তারা। তবে টাকা নেওয়ার পরও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে দেওয়া হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোহাগ। তিনি বলেন, তুহিন তাকে ডেকে নিয়ে কৌশলে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশ শুধু জিডি গ্রহণ করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
সোহাগ আরও বলেন, ছোট অপরাধের বিচার না হলে অপরাধীরা পরবর্তী সময়ে আরও বড় অপরাধ করার সাহস পায়। তার দাবি, আগের অভিযোগের সময় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোটবাড়ি ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকের সঙ্গে তুহিন হোসেনের সম্পৃক্ততা ছিল। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকসহ আটক হওয়া সাত কিশোরের কয়েকজনের সঙ্গেও তার চলাফেরা ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ওই সময় কিশোরদের আটকের ঘটনায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম।
তুহিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেও তার পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কয়েকজন অপ্রতিমের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। তবে এসব পরিচয় ও যোগাযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা যায়, তুহিনকে আটকের পর শাহরিয়া আনাস নামে আরও একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। আনাসের সঙ্গে তুহিনের যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অপ্রতিমের মৃত্যুর পর নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক পোস্টে আনাস অপ্রতিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, অপ্রতিম মাঝেমধ্যে তাকে ছবি তোলার জন্য মেসেজ দিতেন।
তুহিনের বাড়ির পাশের এক নারী জানান, বাড়িতে তুহিন শান্ত থাকলেও বাইরে বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে মিশতেন। তার বিরুদ্ধে আগে বন্ধুদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
আরেক নারী জানান, বিভিন্ন কারণে তুহিনের বাবা তাকে মারধর করে শাসন করতেন।
এদিকে, খবর পেয়ে তার এক খালা দুপুরে বাড়িতে আসার কথা জানালেও তুহিনের আচরণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় সড়কের পাশে থেমে থাকা একটি মিকচার মেশিনের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় নিহত হয়েছেন রাশেদুজ্জামান নামে এক উপসহকারী প্রকৌশলী। এ ঘটনায় তার ১২ বছরের মেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁপানিয়া বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত রাশেদুজ্জামান কুড়িগ্রামের সদাগড় গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার পুত্র। তিনি তার পরিবার নিয়ে মহাদেবপুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রাশেদুজ্জামান নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র এবং নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাশেদুজ্জামান তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নওগাঁ শহরের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে তারা অটোরিকশায় কর্মস্থল মহাদেবপুরে ফিরছিলেন।
রাত ৮টার দিকে হাঁপানিয়া বাজার এলাকায় সড়কের পাশে থেমে থাকা একটি মিকচার মেশিনের পেছনে দ্রুতগতির অটোরিকশাটি ধাক্কা দেয়। এই সংঘর্ষে অটোরিকশার সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই রাশেদুজ্জামানের মৃত্যু ঘটে। এ সময় তার স্ত্রী ও মেয়ে আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মেয়ের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মনিরুল আলম জানান, রাশেদুজ্জামানকে রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালে আনা হয় এবং হাসপাতালে আনার সময়েই তিনি মৃত ছিলেন।
নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুলতানা খানম বলেন, রাশেদুজ্জামান শহরের একটি অনুষ্ঠানে শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মহাদেবপুরে ফিরছিলেন। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান।
নওগাঁ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, হাঁপানিয়া বাজার এলাকায় সড়কের পাশে থেমে থাকা একটি মিকচার মেশিনের পেছনে দ্রুতগতির অটোরিকশাটি ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার সামনের অংশ মিকচার মেশিনের ভেতরে ঢুকে যায় এবং দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ