প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার প্রস্তুতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ওপর নির্ভরশীল ছিল। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সেনারা ভুল গোয়েন্দা তথ্য, পুরোনো স্যাটেলাইট ছবি এবং এআই-এর ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়, যার ফলে ১২৩ শিশু নিহত হয়।
তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলার দিন স্কুলটিতে দুটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পেন্টাগনের কিছু কর্মকর্তা হামলাটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে অবহিত হন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ব্যাপক বিমান হামলার কারণে লক্ষ্যবস্তু চূড়ান্ত করার জন্য সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে সময় কম ছিল, যা তদন্তে উঠে এসেছে। যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র এক হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
এছাড়া, বেসামরিক নাগরিক সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং হামলার স্থান সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবও ভুল লক্ষ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছিল, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। স্কুলটি আগে একটি সামরিক স্থাপনার অংশ ছিল, কিন্তু পরে সেখানে প্রকাশ্যে স্কুল পরিচালনা করা হচ্ছিল।
তদন্তে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কিছু কর্মকর্তা বিশেষ করে প্লানতির-এর ‘Maven Smart System’-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল ছিলেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল, সিস্টেমটি পুরোনো বা অসঙ্গতিপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।
তবে প্লানতির জানিয়েছে, ব্যবহৃত মূল তথ্যের জন্য তারা দায়ী নয় এবং গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি শনাক্ত করাও তাদের সফটওয়্যারের দায়িত্ব নয়। হামলার জন্য তাদের সফটওয়্যার দায়ী ছিল—এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
এদিকে, জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন জানিয়েছে, ইরানে ফেব্রুয়ারির দুটি মার্কিন বিমান হামলায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে—এমন বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি পাওয়া গেছে।
জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে মিশনটি বলেছে, বেসামরিক মানুষের মৃত্যু, আহত হওয়া বা বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো পরিণতি ঘটানো নির্বিচার হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে—এমন বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন